Today 08 Apr 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে -(পর্ব –১৩–১ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ১৭/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 832বার পড়া হয়েছে।

।মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেল । কারণ যারাই নতুন চাকরীতে যোগদান করে তারা স্বভাবতই মনে মনে আশা করে যে , নতুন হিসেবে তাদেরকে সবাই স্নেহ করবে , আদর করবে । কিন্তু এস পি সাহেবের কথা শুনে মনের সাঝানো আয়না অর্ধেকটা ভেঙ্গে গেল । কারণ তার বলা “ কি ছিনু কি হনু রে “ কথার অর্থ এই দাঁড়ায় , আমি একজন ফকিরের ছেলে এই চাকরী পেয়ে যেন নিজেকে গভর্নর ভাবছি । সত্যিকার অর্থে এই চাকরীর প্রতি অদ্যবধি আমার কোন আকর্ষণই জন্মায়নি ।কারণ আমি যখন চাকরীতে ইন্টারভিউ দেই তখন সাব- ইন্সপেক্টর মানে যে থানার দারোগা এ কথা আমি মোটেই জানতাম না ।নির্বাচিত হয়ে প্রশিক্ষণের জন্য যখন সারদা পুলিশ একাডেমীতে গিয়ে হাজির হলাম , তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে । চার দিক থেকে অন্ধকার যেন আমাকে আকড়ে ধরতে আসছে ।নতুন জায়গা । মনের মধ্যে একটু ভয়ও আছে আবার কৌতুহলও আছে ।রিক্সায় করে বেডিঙ পত্র নিয়ে একাডেমীর ভিতর এক বিল্ডিং এর সামনে এসে নামলাম । হঠা করে শুনতে পেলাম—একজন লোক ডাকছে –“ এই দারোগা সাহেব, এই দারোগা সাহেব “ ডাক শুনে আমি চর্তুিদক তাকাচ্ছিলাম ।তখন লোকটি আমার নিকট এসে বললেন—
“কি ব্যপার আপনাকে যে ডাকছি শুনতে পাচ্ছেন না ? “
আমি বললাম—আমাকে ডাকছেন ?
“ তাইতো মনে হয় এখানে কি আর কেউ আছে যে তাকে ডাকবো ? “ তার কথা শুনে আমার তেমন ভাল লাগল না । কেমন যেন ল্যাং মারা কথা । তিনি আবার বললেন—“ আপনি দারোগা ট্রেনিং করতে এসেছেন না ? “
আমি বললাম—না । হাবিল্দার আবার বলেন —
“ তা হলে বেডিং পত্র নিয়ে কেন এসেছেন ? “
আমি বলি সাব—ইন্সপেক্টর ট্রেনিং করতে এসেছি । তিনি হেসে দিয়ে বললেন—
“ঠিক আছে আপনি সাব-ইন্সপেক্টর ট্রেনিংই করবেন ।আপাতত এই বিল্ডিং এর তিন তলায় ইঠোন । ওখানেই আপনাদের থাকার ব্যবস্থা ।“ দুই জন কনস্টবলকে আমার বেডিং পত্রউপরে তুলে দিতে বললেন । তারা আমার বেডিং পত্র তিন তলায় তুলে দিল । সেখানে গিয়ে দেখি আমার আগেই আরো অনেকেই পৌঁছেছে । রাতে ভাবতে থাকলাম সাব-ইন্সপেক্টর মানে তাহলে থানার দারোগা ? দেশের বহু থানায় তো হাড়িকেন জ্বালিয়ে কাজ করে আমাকেও তাই করতে হবে ? আমি ভেবেছিলাম , সাব-ইন্সপেক্টর মানে বড় কোন পদ না হলেও শহরে পোষ্টিং থাকবে এবং শহরে বাস করবো এমন কোন পদ হবে ।কিন্তু রাতে আরো দু-এক জনের সাথে আলাপ করে নিশ্চিত হলাম যে সাব-ইন্সপেক্টন মানে সেই অজ পাড়াগায়ের হাড়িকেন জালানো দারোগাই ।চাকরী না করে চলে আসবো কি আসবো না এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই পর দিন সকালে আমাদের সবাইকেনিচে নিয়ে নাপিত ডেকে এমন ছোট করে চুল কেটে দিল যে , সে মাথা নিয়ে বাড়িতে আসাতো দূরের কথা একাডেমীর বাইরে বেরূতেই লজ্জা কর লাগলো । ট্রেনিং শুরু হলো । নিকট আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ করলাম । তারা বলল—
“ট্রেনিং শেষ করে আসাই ভাল । তাছাড়া ওখান থেকে পালালে তো আর কোন চাকরীও পাওয়া যাবে না । চাকরী ছেড়ে দিলে পরেও দেয়া যাবে । “ কিন্তু সে যুগে সরকারী খরচে ট্রেনিং শেষ করে চাকরী ছেড়ে দেওয়া এত সহজ ব্যপার ছিল না । সেটা পরে বুঝতে পেরেছিলাম ।যাই হোক ঐ দিন আমার পোষ্টং হলনা । তিন চার দিন পর আর, ও, সাহেব আমাকে বললেন—
“আপনার পোষ্টিং হয়েছে । সরিসাবড়ী থানায় ।“ অনেকেই বললেন—
“খুব ভাল হয়েছে । সরিষাবাড়ী থানার ও, সি, সাহেব খুব ভাল মানুষ এবং খুব কাজ জানা লোক । তা ছাড়া তিনি তো আপনার জেলার লোক । “ আমি অফিস থেকে ক্লাবে চলে এলাম ।পুলিশ ক্লাবে ান্যান্যের সাথে আলাপ করে জানলাম, ও, সি সাহেবের বাড়ি শুধু এক জেলায়ই নয় এক সময় এক থানায়ই ছিল । কল্পনায় আমি আমার আগামী দিন গুলি নিয়ে একটি ছক আকলাম । ভাবলাম এক জায়গার লোক , আমার দিন গুলো হয়তো ভালই যেতে পারে । পর দিন বিকেলে গিয়ে থানায় হাজির হলাম । থানায় একটি গেষ্ট রুম থাকতেও আমাকে সেখানে থাকতে না দিয়ে ব্যারাকের এক পাশে একটি খাটিয়া থাকার ব্যবস্থা করা হলো । এ রুপ ব্যবস্থা করায় মনে মনে অসন্তোষ্ট হলাম । আমাকে ঐ দির রাতের এবং পরদিন সকালের খাবার ও , সি সাহেবের বাসা থেকে দেয়া হলো । যাই হোক যে কারণে এই কথা গুলোর উপস্থাপনা । আমি অভ্যাস বসেই সকালে উঠে গোছল করে ইউনিফরম পরে রেডি হয়ে অফিসে গেলাম । কিন্তু অফিসে কেহ না থাকায় পুনরায় ব্যারাকে ঢুকে আমার সীটে বসে রইলাম । আধ ঘন্টা পর বকসী এসে বললো—
“ স্যার এসেছেন ।“ স্যার এসেছেন মানেই ও , সি , সাহেব অফিসে ঢুকেছেন । আমিও ব্যারাক এবং থানার সংযোগ দরজা দিয়ে অফিসে ঢুকার জন্য যেই পা দিয়েছি অমনি কঠিন স্বরে একটি শব্দ বের হলো—
“দাঁড়াও । “ আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম। ও ,সি , সাহেব তার টেবিলে রাখা অনেক ফাইল পত্র সব দেখতে থাকলেন , আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাজ্যের যত কথা সব ভাবতে থাকলাম । কি হয়েছে , কেন আমাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে, এমত হাজার ন্তিা করেও আমি কেন দাঁড়িয়ে াাছি তার কোন কারণ খুঁজে পেলাম না । সারদা পুলিশ একাডেমীর আচরণ , পুলিশ সুপার সাহেবের আচরণ এবং আজকে ও , সি , সাহেবের আচরণ সব মিলিয়ে পুলিশ বিভাগের প্রতি আমার ধারণা খুই খারাপ হয়ে গেল । দাঁড়িয়ে থাকার প্রহর আর শেষ হয় না । এক সময় ও , সি , সাহেবের টেবিলের সকল কাজ শেষ হলো । ও , সি সাহেব বললেন—
“টেবিলের সামনে এস ।“

৮০৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৮ টি মন্তব্য

  1. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    ওমাগো কতলম্বা লেখা তবুও ভাল লাগলো

    • এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

      বড় লেখা ভয় পেয়েও পড়েছেন শুনে খুশী হলাম ।আসলে লেখার একটি পর্যায়ে না গেলেতো খন্ড করা যায় না ।এর পরের পর্ব ছোট করে েদওয়ার চেষ্টা করবো । ধন্যবাদ ।

  2. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাই প্রথম পর্বে বিদেশী কিছু স্মৃতি শেয়ার করেছিলেন। ২য় পর্বে দেশে এসে নতুন জায়গায় জয়েন করার পর—– ভাল লাগল ।

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনি বর্তমানে কি করেন। রিটায়ার্ড নাকি?
    হীবন কাহিনী ভাল লাগছে লিখে যান অবিরত।

    পরের পর্বের অপেক্ষায়।

  4. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    না , আমি বর্তমানেও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত আছি । আরো দু-বছর থাকবো । কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।

    • গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

      আপনার কর্মস্থল কোথায় ……………।। আর পুলিস নিয়ে আমার একটা স্মৃতি কথা আছে দেব পরে এখানে। পরে দেখবেন।

      পুলিস ছুলে ছত্রিশ ঘা।

  5. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    সব পুলিশ যদিও এক নয় তবু বলছি, পুলিশের কাছ থেকে আমি ভালোর চেয়ে অনেক খারাপ আচরন পেয়েছি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top