Today 16 Oct 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব—-৩৮/ ৪)

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ০২/০৭/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 529বার পড়া হয়েছে।

‘ আমাদের কথার মাঝে আবার তৃতীয় পক্ষ টেনে আনবেন না তো । তার সাথে কথা বলার ইচ্ছে হলে তার নম্বর তো আপনার কাছে আছেই, সরাসরি রিং করে কথা বলবেন । আমার কাবাব মে হাড্ডি ঢুকাবেন না । ‘
আচ্ছা বলবো । আজ কিন্তু আমি সত্যিই ভয় পেয়েছিলাম ।
‘ কেন ? কি দেখে ভয় পেয়েছিলেন ?
তোমার রাগ দেখে আমার মনে হচ্ছিল , হায় খোদা , এবার বুঝি আমার সুমনা হৃদয়ের খাঁচা ভেঙ্গে সত্যিই পালিয়ে যায় । যাকে রেখেছিলাম বছরের পর বছর গোপনে প্রাণ মন্দিরে ।
‘ এর পর যদি কথার বড় খেলাপ হয় , তা হলে একদিন সত্যিই আমি খাঁচা ভেঙ্গে উড়ে যাব । আর খুঁজে পাবেন না কোন দিন ।’
শুন, এমন অশুভ কথা কখন ও মুখেও এন না । কবি গুরু বলেছেন না, বিপদে মোরে রক্ষা করো , এ নহে মোর প্রার্থনা / বিপদে যেন না করি আমি ভয় । তুমি তো ভয় পাওয়ার মত পাত্রী নও । তুমিতো লড়াকু মেয়ে । এত সহজেই হাল ছেড়ে দিলে তো চলবে না সুমনা ।
‘ দুলাভাই , আমি জানি না , কত দিন নিজেকে সামলে রাখতে পারব । কিন্তু দিনের পর দিন আমার জীবনটা একদম বিষিয়ে উঠেছে । ‘
আমি তোমাকে বলেছিনা যে, সব সময় মনে রাখবে , তোমার শেষ আশ্রয় স্থল একটি আছে । শত বিপদ এলেও সেখান থেকে বিতাড়িত হবে না । সব শেষ হয়ে যাওয়ার আগে সেখানে অন্তত একবার ডু মারতে হবে । কথাটা কখনো ভুলনা ।
‘ আগে মনে হয় নি । এখনতো এ কথা টুকু নিয়েই বেঁচে আছি । মনের প্রান্তরে তেজী ঘোড়ার মতো সর্বক্ষণ ছুটে বেড়ান আপনি । আমার এমন কেন হলো দুলাভাই । আমি কোথায় যাবো ? ‘
কোথাও যেতে হবে না । সব ঠিক হয়ে যাবে । তুমি সুধু মনটা একটু শান্ত রেখ এবং আমার উপর একটু ভরসা রেখ। আমি দেশে ফিরে আসি । সব ঠিক হয়ে যাবে ।
‘ আসেন ই যদি সময় থাকতে আসবেন , শব কাঁধে নিতে আসবেন না । আমি সারাক্ষণ আপনার পথ চেয়ে বসে থাকবো । ‘
আচ্ছা সুমনা , এবার তা হলে রাখি । এত দূর থেকে হয়তো প্রতিদিন রিং করতে পারবো না । মাঝে মাঝে রিং করবো । তুমি কিছুতেই ভেঙ্গে পরো না । যে যুদ্ধ তুমি শুরু করেছ , বিজয়ী তোমাকে হতেই হবে ।
‘ দোয়া করবেন, যেন, একবারের জন্য হলেও আপনাকে দেখে মরতে পারি । ‘
আমার সুমনা আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না । তবে এবার আসি । আবার কথা হবে , পরে দেখা হবে । সেই প্রত্যাশায় — খোদা হাফেজ ।
‘ ভাল থাকবেন ও রিং করবেন । খোদা হাফেজ । ‘
সুমনা মোবাইল রেখে দিল । আমি যেন অথৈ সাগরে ভাসতে থাকলাম । সুমনা এত তাড়াতাড়ি তার সংসার নিয়ে হাপিয়ে উঠলো কেন তার এই মনোকষ্টের কারণ আমি নই তো ? কিন্তু আমি তো তার ঘর ভাংতে চাচ্ছি না । বরং তার ঘরের দেয়াল আরো মজবুৎ করে দিতে চাচ্ছি । জীবনের প্রতি যাতে সে আকর্ষণ হাড়িয়ে না ফেলে , সেই জন্যি আমার এ প্রচেষ্টা । সে তার বাবা মা ভাই বোন , আত্মীয় স্বজনদের আদর স্নেহ ও ভালবাসা থেকে বঞ্চিত । আমি সবার আদর স্নেহ ও ভালবাসা দিয়ে সুমনাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই । নবীন বয়সে হয়তো সে একটা ভুল করে ফেলে থাকবে । তাই বলে সে ভুলের জন্য তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিতে হবে সেই মতবাদে আমি বিশ্বাসী নই ।সুমনা নিজেই তার ভুলের জন্য অনুতাপে দগ্ধ হচ্ছে । আর এই অবস্থায় সবাই যদি তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় , তা হলে তো তার পক্ষে বেঁচে থাকা কষ্ট কর হয়ে দাঁড়াবে । জীবনে কিছু কিছু ভুল হয় , যে সকল ভুল পরে বুঝতে পারলেও তা থেকে বেড়িয়ে আসা যায় না । সেই ভুলকে নিয়েই বেঁচে থাকতে হয় । ভুল্কে জীবনের সাথে সুমন্বয় করে সহজ ভাবে নিলে ভুল হয়তো ভুলই থেকে যায় , কিন্তু তার আঘাতের ব্যাথাটা কমে যায় অনেকটা । তাইতো আমি প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি , যাতে সুমনা তার জীবন যুদ্ধে হেড়ে না যায় । আমি চাই সুমনা এই যুদ্ধে হেড়ে না গিয়ে মাথা উচু করে দাঁড়াক বিজয়ীর বেশে ।

৫২৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    বরাবরের মতো ভালই হয়েছে
    ………………………………………

    ভালো লাগলো পড়ে

    শুভ কামনা থাকলো

  2. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি তোমাকে বলেছিনা যে, সব সময় মনে রাখবে , তোমার শেষ আশ্রয় স্থল একটি আছে । শত বিপদ এলেও সেখান থেকে বিতাড়িত হবে না । সব শেষ হয়ে যাওয়ার আগে সেখানে অন্তত একবার ডু মারতে হবে । কথাটা কখনো ভুলনা ।

    বেশ হয়েছে কবি । ভালো লাগলো স্মৃতির এ পর্বও !

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল রোমান্টিক পর্বটি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top