Today 08 Apr 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে–( পর্ব—- ৩৮/১ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ২৯/০৬/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 563বার পড়া হয়েছে।

আজ ডিউটি নেই । তাই বারবার মন দেশে চলে যাচ্ছিল । ছুটি মঞ্জুর হয়েছে । নভেম্বরের ৯ তারিখ সকালে এ সুপার ক্যাম্প ত্যাগ করবো । অবশ্য দেশে গিয়ে পৌঁছবো সম্ভবত ১২ তারিখ সকালে । আর্থাৎ আর ২০ দিন পর এখান থেকে রওয়ানা হবো । কথাটা কিন্তু বড়ই সহজ এবং সরল । কিন্তু এই ৯ তারিখ কাগজে কলমে যতবারই দেখিনা কেন , তবু গননা করতে ইচ্ছে করে উলটো দিক থেকে । গতকাল বলেছি আর মাত্র ২১ দিন আছে । আজ বলছি আর মাত্র ২০ দিন পরই বাড়ি রওয়ানা হবো । এ যেন ছোট সময়কার সুদীর্ঘ একমাস রোজা রাখার পণ করে যখন বড়দের সকল আদেশ নিষেধ অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রাণ উষ্ঠাগত প্রায় অবস্থায় রোজা রাখতাম , তখন ১৫ রোজা পার হওয়ার আগে গননা করতাম– আজ ৫ রোজা গেল , আজ ১০ রোজা গেল । আর ১৫ রোজার পর গননা করতাম– আর ১৪ রোজা আছে , আর ১০ রোজা আছে । এখান কার দিন গননাতেও সেই হিসেবই শুরু হয়েছে । কর্মক্ষেত্রে সবাই যত বড় দ্বায়িত্ববান অফিসারই হোক না কেন , ছুটির ক্ষেত্রে অথবা যদি উল্টিয়ে বলি যে, প্রিয় জনের সাথে দেখা করার ক্ষেত্রে সকলের অনুভূতিই কিন্তু একই রকম । সবাই আমার মতই দিন গুনে । কখন বাজবে সেই ঘন্টা , ছুটির ঘন্টা । যেন মহা জাগতিক বিশ্ব থেকে বিদায় নেওয়ার ঘন্টার মতো কষ্ট কর মনে হচ্ছে । যেন সেই বিদায়ের জন্য অপেক্ষা ,যেন ফিরে যাব সেই কেন্দ্রে , যেখান থেকে শুরু হয়েছিল এই যাত্রা সূর্যোদয়ের সাথে সাথে । এখন সূর্্য ঢলে পরেছে পশ্চিম গগনে । সিঙ্গা হাতে দাঁড়িয়ে আছে ইস্রাফিল । আমরা দাঁড়িয়ে আছি সেই শব্দ শুন্স্র জন্য। কখন বাজবে সেই ঘন্টা ।আমরা ফিরে যাব মায়ের কাছে , যে মা জন্ম দিয়েছে মহা বিশ্বকে ।

শরতের উদাস আবহাওয়ায় প্রিয় জনের মুখ খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ সব কিছুকে ছাড়িয়ে মনের স্ক্রীনে ভেসে উঠলো সেই চঞ্চলা , চপলা সুমনার মুখ । অনেক দিন তাকে রিং করা হয়নি । আসলে ঠিক অনেক দিন নয় । এখানে প্রিয়জন বিচ্ছিন্ন লোকদের কাছে একদিন তো এক মাসের মতো মনে হয় । বেশ কয়েকদিন আগে রিং করেছিলাম । আমি বিলম্বে রিং করি বলে সে আমার নম্বরে রিং করতে চেয়েছিল । আমি বলি যে, আমি রিং করলে তার মোবাইলে যে নম্বর ভেসে উঠে সে নম্বরে রিং করলে আমার কাছে আসবেনা , সুদানের নিয়ম একটু অন্য রকম । এখান থেকে যে নম্বরে রিং করি সেখানে অন্য নম্বর থ্রো করা হয় । অবশ্য সে রিং করলে আমি পাব কিনা তা আমি নিশ্চিত নই । হয়তো বা পাবো, কিন্তু আমি সে জন্য নিষেধ করিনি। নিষেধ করেছি এই জন্য যে, সে বাংলা দেশ থেকে রিং করলে যে টাকা যাবে ,সে খরচা সামাল দিয়ে সে বার বার রিং করতে পারবে না । তখন মনে মনে কষ্ট পাবে । তার চেয়ে রিং করলে পাব না এই বিশ্বাস নিয়ে থাকলে অন্তত কষ্ট টা পাবে না । আমি জানি এখন রিং করলে সুমনা রেগে আগুন হয়ে যাবে । তবু একটু বিড়তি দিয়ে রিং করাই ভাল । কারণ অতি ঘন ঘন রিং করলে হয়তো সে ভুলেই যাবে যে , সে একজনের বিবাহিতা স্ত্রী । আমি তো কিছুতেই চাইনা যে , সুমনার স্বামীর সাথে সুমনার কোন রুপ অশান্তির সৃষ্টি হোক ।আমি বরং তাদের সুখ ও শান্তি আরো ঘনিভূত করতে চাই । মানুষের সামনে যতক্ষন কিছু পাওয়ার আলোক বর্তৃকা জ্বলতে থাকে অন্তত ততক্ষণ সে সেই আশার আলোর পিছেই দৌঁড়াতে থাকে । কাজেই আমি কোন ভাবেই আশাহত হতে দিতে চাই না । আমি সুমনাকে রিং করলাম । রিং বাজতেই সুমনা মোবাইল অন করে বললো—-
‘ আপনার সাথে কথা বলবো না । আপনি লাইন কেটে দিন । নইলে কিন্তু একটা আছাড় মেরে মোবাইল ভেঙ্গে ফেলবো । ‘
শান্ত হউ শালিকা , শান্ত হউ । সুধু আমার একটা কথা শুনে তার পর মোবাইলটা ভেঙ্গে ফেল ।
‘ না আপনার কোন কথাই আমি শুনতে চাই না । ‘
বেশ আজ আমি তোমাকে কোন কথাই বলবো না । সুধু মোবাইলটা কি ভাবে ভাঙ্গতে হয় সেই কথাটা শুন ।
‘ মোবাইল ভাঙ্গার জন্য কোন দোয়া কালাম লাগে না । ‘
লাগে সুরুপা, লাগে । কারণ একটু আগেই তুমি বলেছ না ‘ একটা আছাড় দিয়ে মোবাইলটা ভেঙ্গে ফেলবো ।’ ধরো তুমি একটা আছাড় দিলে সে আছাড়ে মোবাইল টা ভাংলো না , তখন কি হবে ? তুমিতো দ্বিতীয় আছাড় দিতে পারবে না । তাহলে অবস্থা কি দাঁড়ালো । পদ্ধতি গত ভূলের কারনে তুমি মোবাইল টা ভাংতে পারলে না । রাগ ও মিটাতে পারলে না । তাই বলছিলাম কি – মোবাইল ভাঙ্গার চেষ্টার আগে অন্তত আমার একটা কথা শুনে নাও । তাতে তোমার মোবাইল ভাংতেও সহজ হবে , আর রাগ মিটে গেলে ভাংগা ঘরে চাদের আলো যেমন চুয়ে চুয়ে পরে তোমার রাগ ও তেমনি চুয়ে চুয়ে নিচে নেমে যাবে ।
‘ এত ভণিতা বাদ দিয়ে আপনার কথাটা কি সেটাই আগে বলুন ? ‘

৫৫৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    বরাবরের মতো ভালই লাগলো লিখা

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আহারে সুমনা।

    ভাল লাগল এ পর্বও

  3. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    তাই বলছিলাম কি – মোবাইল ভাঙ্গার চেষ্টার আগে অন্তত আমার একটা কথা শুনে নাও । তাতে তোমার মোবাইল ভাংতেও সহজ হবে , আর রাগ মিটে গেলে ভাংগা ঘরে চাদের আলো যেমন চুয়ে চুয়ে পরে তোমার রাগ ও তেমনি চুয়ে চুয়ে নিচে নেমে যাবে ।

    আহা ! হৃদয় একেবারে গলাইয়া দিল ! 😀 চমৎকার লাগলো এ পর্বও ।
    শুভকামনা জানবেন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top