Today 10 Apr 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে -( পর্ব—–৩৯/১ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ১৪/০৭/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 539বার পড়া হয়েছে।

যারা পুলিশ বিভাগের সাব ইন্সপেক্টর পদে চাকরীর জন্য নির্বাচিত হয়ে প্রশিক্ষণের জন্য সারদা যান , তারা কিন্তু মোটেই চাকরী নিয়ে যান না । তারা সুধু মাত্র প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হন। সন্তোস জনক ভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হলে তবেই তাদের নিয়োগ পত্র প্রদান করা হয় । অর্থাৎ এই এক বৎসর তারা কর্মকর্তা বা তাদেরকে কোন বেতন প্রদান করা হয় না , ট্রেনিং ভাতা প্রদান করা হয় । ফলে তারা সব সময়ই একটু সংকোচের মধ্যে থাকে । এই জন্য পুলিশ একাডেমীর হাবিলদার সহ প্রায় সকলেই ক্যাডেটদের সাথে খুব একটা সন্তোস জনক আচরন করে না । যুগ যুগ ধরে চলে আসা নিয়ম অনুসারেই অসৌজন্য মূলক আচরণের মাধ্যমেই প্রশিক্ষণ চলছে । আমাদের সময় একটি অলিখিত নিয়ম ছিল । প্রতি মাসে কনস্টবল প্রশিক্ষনার্থী জন প্রতি ১৫/ টাকা এবং ক্যাডেট প্রশিক্ষণার্থী প্রতি মাসে জন প্রতি ২০/ টাকা হারে হাবিলদারকে দিতে হতো । সারদায় যেহেতু কিছুই বলা যাবে না সেহেতু শ্বাস বন্ধ করে সে টাকা নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছিলাম । কিন্তু সমস্যা দেখা দিল অন্যত্র । সারদায় ক্যাডেটদের নিজেদের বাজার নিজেদেরি করে খেতে হয় । সে কারণে প্রতি মাসে ম্যাচ পরিচালনার জন্য ক্যাডেটদের মধ্য থেকে এক জনকে ম্যাচ ম্যানেজার নির্বাচিত করা হতো । সে ঐ মাসের ম্যাচের সকল খাবার ব্যাবস্থাপনার দ্বায়িত্ব পালন করতো । প্রতি দিন একজন করে ম্যাচ ডিউটি থাকতো । সে বাবুর্চীদের সাথে নিয়ে বাজার করতো এবং রান্নার তদারকী করতো । এ দিন তার প্যারেডেও যেতে হতো না, ক্লাসেও যেতে হতো না । ভাতা পাওয়ার সাথে সাথেই প্রথম ঐ মাসের খাওয়ার টাকা জমা একাউনট আছে । খাওয়ার টাকা তোলার পর সেই একাউন্টে সমুদয় টাকা জমা রাখা হতো । টাকা তোলার চেক প্রদান করতেন চি,এল আই-১ । তার কাছ থেকে চেক নিয়ে ব্যাংক হতে টাকা তোলে বাজার খরচ পরিশোধ করা হতো । প্রথম তিন মাস নিরিবিলিই চলছিল । কিন্তু বিপত্তি দেখা দিল চতুর্থ মাসে গিয়ে । চতুর্থ মাসে আমি ম্যানেজার নির্বাচিত হলাম । নির্বাচিত হওয়ার পরই আগের মাসের ম্যাচ ম্যানেজার এসে জানালো —-এতোপূর্বের তিন মাসেই প্রতি মাসের জমাকৃত টাকা থেকে ৫০০/ টাকা করে হাবিলদার নিয়ে নিয়েছে । পরে দিবে বলে নেয় , কিন্তু এ যাবৎ আর ফেরত দেয়নি । আমি জানতে চাইলাম , নিল কিভাবে ? সে বললো—-
এখানে সকল ক্যাডেটদের মাসের খাবার টাকা তোলে ব্যাংকে জমা রাখতে হয় । টাকা ব্যাংকে জমা রাখার সময়ই ৫০০/ টাকা নিজের কাছে রেখে বাকী টাকা ব্যাংকে জমা দেয় । আমি বললাম—-আমিতো তাকে টাকা দিব না ।
‘তুমি না দিবে কি করে ? ব্যাংকে জমা রাখার আগেই তো সে ৫০০/টাকা রেখে দেয় । আমি বললাম—ব্যাংকে টাকা জমা রাখার সময় আমি তাকে নিয়েই যাব না । একাই জমা রাখবো । সে বললো —-
দেখ কি করতে পার । তোমাকে সব জানানো দরকার তাই জানালাম । আমি রাতেই সবার নিকট থেকে টাকা তোললাম । অন্য মাসে ক্লাস শেষ করে এসে টাকা জমা রাখতো । টাকা জমা রাখার সময় হাবিলদার সাথে যেত । ব্যাংকে গিয়ে ম্যাচ ম্যানেজারের নিকট থেকে টাকা নিজের কাছে নিয়ে ৫০০/ টাকা রেখে বাকী টাকা জমা দিত । আমি তাকে সে সুযোগই দিলাম না । আমি প্যারেড শেষে ক্লাসে যাওয়ার আগেই ব্যংকে গেলাম এবং একাই সব টাকা জমা রেখে আসলাম । ক্লাস শেষ করে আসলে হাবিলদার আমাকে বললো—-
‘চলেন ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে হবে । আমি কিছু না বুঝার ভান করে বললাম–
কিশের টাকার কথা বলছেন ? হাবিলদার বললেন—–
‘ কেন, আপনাদের ম্যাচের টাকা তুলেননি ?
হ্যা , তুলেছি তো ।
‘ সেই টাকা ব্যাংকে জমা রাখতে হয়, জানেন না ? ‘
হ্যা, জানি । ম্যাচের টাকাতো আমি ব্যাংকে জমা রেখে এসেছি । হাবিলদার রাগত স্বরে বললেন—
আমাকে না জানিয়ে টাকা জমা রাখলেন কেন ? আমি বললাম——
আপনি ব্যস্ত মানুষ, তাই আপনাকে ডাকিনি । তাছাড়া ব্যাংক তো আমি চিনি । সুধু সুধু আপনাকে কষ্ট দেওয়ার দরকার কি ? আমার কথা শুনে তিনি রাগে গজ গজ করতে করতে চলে গেলেন । পর দিন সকাল থেকেই শুরু হলো ক্যাডেটদের উপর দুর্বার আক্রমন , কঠিন নির্যাতন। এভাবে তিন দিন চলার পর আবস্থা সকলেরই সহ্যের বাইরে চলে গেল । সন্ধ্যায় ক্যাডেট ব্যারাকে বৈঠক হলো । সিদ্ধান্ত হলো পরদিন আমার ম্যাচ ডিউটি, অতএব আগামী কাল সকল তথ্য উল্লেখ করে প্রিন্সিপালের নিকট হাবিলদারদের বিরুদ্ধে আমিই লিখিত অভিযোগ দাখিল করবো । আমি রাতেই একটি দরখাস্থ লিখে রেডি করে রাখলাম । সকালে ম্যাচের জন্য বাজার করে এসে আমি দরখস্থ নিয়ে অফিসে চলে গেলাম । রাতেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল , যদি ঐ দিনও মাঠে ক্যাডেটদের উপর আগের মতো অত্যাচার করা হয় , তা হলে কেউ হাবিলদারের কমান্ড শুনবে না । আদেশ অমান্য করে সরাসরি মাঠে দাঁড়িয়ে থাকবে । যে হাবিলদার এ সকল কাজের জন্য দায়ী তার দেশী এক ক্যাডেট আমাদের ব্যারাকের সকল খবর গোপনে হাবিলদারের নিকট পৌঁছে দিত । সেই ক্যাডেটের সীট ছিল আমারই রুমে । আমি সারা রাত জেগে তাকে পাহারা দিলাম । সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম যে, ঐ রাতে যদি সে সংবাদ দিতে বের হয় , তাহলে তাকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে । এর মধ্যে একবার সে উঠে টয়লেটে গেল, আমিও লুকিয়ে লুকিয়ে তার পিছু নিলাম । কিন্তু কি ভেবে সে ফিরে এসে শুয়ে পরলো । আমিও এসে শুয়ে পড়লাম । তার ঠিক ঘন্টা খানেক পর আবার সে উঠে সিড়ির নিকট গেল । চতুর্দিক তাকিয়ে কেউ নেই নিশ্চিত হয়ে সিড়ির দুই ধাপ নামলো । আমি তাকে ধরার জন্য যেই বেড়িয়েছি , অমনি সে পিছন ফিরে আমাকে দেখেই টয়লেটের দিকে রওয়ানা হলো । কিছুক্ষণ পর টয়লেট থেকে ফিরে এলে যেহেতু সে আমাকে দেখে ফেলেছে , সে হেতু আমি তাকে বললাম—–
কি ব্যাপার তোমার ঘুম আসছে না বুঝি ? যাও ঘুমিয়ে পর । রাতে সিড়ির নীচে নাম্লে বিপদ হতে পারে । শুন নি এখানে ভূত আছে । আগের ব্যচের একজন ক্যাডেটকে তিন তালা থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলেছে । আমি তার মুখে ভয়ের ছাপ দেখতে পেলাম । পরে শুনেছি আমি মুক্তিযোদ্ধা শুনে সে আমাকে খুব ভয় করতো । তার ধারণা মুক্তিযোদ্ধারা খুব দুসাহসী । তারা যা ইচ্ছে তা করতে পারে । যদিও তার চিন্তা ভাবনা একেবারে অমূলক ছিল না । যাই হোক রাত পার হলো । হাবিলদাররা সতর্ক হওয়ার জন্য কোন সংবাদ পেল না । ফলে যা হবার তাই হলো । ক্যাডেটরা প্যারেড শেষ করে মাঠ থেকে ফিরার আগেই ৯ টার মধ্যে আমি অভিযোগ দায়ের করে ফেললাম । কয়েক মিনিটের মধ্যেই এ খবর একাডেমীর আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে গেল । সি এল আই-১ আমাকে ডেকে পাঠালেন । আমি হাজির হয়েই দেখি যে ইন্সপেক্টর আমার সম্বন্ধে ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন তিনিও বসা আছেন । তিনি আমাকে দেখেই বললেন—
আবার তুমি ? আমি বলেছি না তুমি পুলিশে চাকরী করতে পারবে না । ‘ আমি বললাম-
সকল অন্যায় অত্যাচার মুখ বুঝে সহ্য করে যদি পুলিশের চাকরী করতে হয় , তাহলে আমি পুলিশের চাকরী করবোনা স্যার । সি এল আই সাহেব বললেন—
আপনি যা লিখেছেন তা প্রমান করতে পারবেন তো ? আমি বললাম—-
প্রতি মাসে টাকা দিচ্ছি এটা আমরা সকলে সাক্ষ্য দিয়ে প্রমান করতে পারবো ।আর প্রতি মাসে ৫০০/ টাকা করে নিয়েছে , সেটা ব্যংক একাউন্ট চেক করলেই প্রত্যেক মাসেই ৫০০/ টাকা কম জমা পাওয়া যাবে । এর চেয়ে বেশী কোন প্রমান আমার কাছে নেই । ঠিক আছে একদিন পরই আবার ভয় পেয়ে যেয়ো না যেন । তা হলে কিন্তু তোমার চাকরী থাকবে না । তুমি এখন যাও ।

৫৩৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    দু সাহসী ছেলে ছিলেন
    ন্যায়ের জন্য লড়েছেন শুনে শান্তি পেলাম

    লেখা ভাল লাগল

  2. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    ঈদ র শুভেচ্ছা ,,,লিখা ভালো লাগলো
    শুভ কামনা থাকবে কবি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top