Today 25 May 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব—–৩৩/১ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ১৬/০৫/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 699বার পড়া হয়েছে।

আমি বললাম—আজকে কি খুব বেশী রেগে আছেন ?
“বেশী রেগে না থাকার পিছনে কোন যৌক্তিক কারণ আছে কি ? “
আমার অনাকাংখিত অপরাধের জন্য দুঃখিত ।
“আবার সরি ?”
আমি কিন্তু ‘সরি ‘ বলিনি ।
‘দুঃখিত’ আর ‘সরি’ তে কোন পার্থক্য আছে কি? কোলা কোলি করেন নি , কিন্তু আলিঙ্গন করেছেন, এই তো ? আমি বললাম—-
তাহলে কি এই অপরাধের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন উপায় নেই ?
“উপায় থাকা উচিৎ বলে কি আপনি মনে করেন?”
খুন করেও মানুষ তার শাস্তির হাত থেকে বাচতে চায় । আমিও তার বাইরে নই । তা ছাড়া প্রত্যেক ধর্মেই বলা আছে , যত ব্যড় অপরাধ ই করুকনা কেন, তা থেকে মুক্তির উপায় আছে । ইসলাম ধর্মে কাফফারা দিতে হয় ।হিন্দু ধর্মে ব্রাহ্মন খাওয়াতে হয় , আর—
“থাক, থাক , আর দরকার নেই । এবার জন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করা হউক ।“
আমি কিন্তু ধর্মের বিধান অনুসারে কাফ ফারা দিতে রাজি আছি ।
“সে আদেশ পরে জারী হবে । “
যাক এবারের মত সদস্য পদ রক্ষা পেল তাহলে । আমি তো ভেবেছিলাম , এবার বুঝি সদস্য পদ হাড়ালাম ।
“এবার বেঁচেছে বটে, কিন্তু এ রকম করলে পদ হাড়াবেন একদিন নিশ্চিত ।“
এ রকম বললেন যে, তা রকমটি কি?
“সেটাও বুঝেন নি?”
সেটা বুঝার ক্ষমতাই যদি থাকতো, তা হলে কি আর বউ বিভাগী হয়ে এই বয়সে দেশ, বিদেশে ঘুরে বেড়াই ?
“আপনি বুঝেন না, এই কথাটা এত দিন পরও আমাকে বিশ্বাস করতে বলেন ?” আমি বললাম—আচ্ছা মানুষের কি কোন সুবিধা অসুবিধা থাকতে নেই, না কি ?
“কিন্তু আপনার অসুবিধাটা কি ছিল শুনি? ভাবটা এ রকম যেন, আপনার হাত থেকে সুব্রত বাইন মোবাইল ফোনটাও কেরে নিয়েছিল । প্রাণের ভয়ে কিছু বলতেও পারেন নি, আবার আর একটি ফোন জোগার করতে না পারায় আপনি রিং করতে পারেন নি ।“
. সুব্রত বাইন আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়নি সত্য, কিন্তু আপনি ফোন না ধরাতে আমার মনে হচ্ছিল, সুব্রত বাইন বুঝি আপনাকেই কেড়ে নিয়ে গেল ।
“এই চেহারায় রুপবানের পাঠ । আমাকে কেউ ছিনিয়ে নিবে না ।“ আমি বললাম—
দেখুন তাজ মহলের রুপ কিন্তু শত বছরেও এতটুকু ক্ষুন্ন হয়নি ।
“আচ্ছা, দেশে তো মন ভুলানো স্তুতিবাক্য পাঠ দানের কোন বিদ্যালয় আছে বলে আমার জানা নেই । আপনি পড়া লেখা করেছেন কোথায় বলুন তো?”
অবোধ শিশু তার অভিমানী মাকে খুশী করার জন্য জড়িয়ে ধরে একের পর এক চুমু খেতে থাকে , এ বিদ্যা শিখার জন্য শিশুর কোন পাঠশালায় পড়ার দরকার হয় না ।
“আপনার স্ত্রী অনেক সৌভাগ্য বতী ।“ আমি বললাম—
এর মধ্যে আবার স্ত্রী আস্লো কিভাবে ?
“আপনার মতো স্বামী যার, তার মতো সৌভাগ্য বতী আর কেউ হতে পারে না বলেই আমার বিশ্বাস ।“
যাক তাহলে রাগ পরেছে ধরে নিতে পারি ।আমিতো হেড়ে যাওয়ার ভয়ে চতুর্দিকে তীর ছুড়ছিলাম ।
“”আপনার ধনুকের ছড়া এতই মজবুত যে, আপনার ছুড়া তীর নিশানা চ্যুত হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই ।“
আপনি বলছেন ?
“ কেন আমার কথা বুঝি আপনার বিশ্বাস হয় না ?”
না তা নয় । তবে ডাক্তারের দেহে ডাক্তারী করার মতো সাহস আমার নেই তো , তাই ।
“আমি ডাক্তার নই । তবে অভিজ্ঞ ডাক্তার চেনার মত অভিজ্ঞতা আমার আছে । তা এত দিন ডুব দিয়েছিলেন কোথায় ?”
আসলে ডুব দেইনি । এ কয়দিন আমাদের ক্যাম্পের কিছু বিষয় নিয়ে মন্টা খুব অশান্ত ছিল । আমাদের সি,ও, সাহেব নেই তো ।
“তা হঠাৎ এমন কি ঘটনা ঘটলো যে, আপনার মত লোকের মন খারাপ হয় ?”
কেন, আমার বুঝি মন খারাপ হতে নেই ?
“হতে নেই তা বলছি না । তবে আপনার স্বভাব যে রুপ সর্বসহা তাতে আপনার কখনো মন খারাপ হয় এ কথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় । তা কি হয়েছিল বলুন তো ?”
আর বলবেন না । আমাদের এডি,এস, পি, সাহেবকে নিয়ে বড়ই ঝামেলার মধ্যে আছি ।
“ও তো একটু পাগলা টাইপের ।“
পাগলা টাইপের বলছেন কি ? ৬০% ভাগ পাগল । যে কোন সময় তাকে পাবনা নিয়ে গেলেই পাগল ঘোষনা দিয়ে দিবে । যাক সে কথা আপনার ফ্লাইট কন ফার্ম হলো ?
“ হ্যা , আমার তো আগামী কাল বিকাল ৭টায় ফ্লাইট ।সব রেডি করে আমি খারতুম চলে এসেছি ।তবে আপনি থাকলে খুব ভাল হতো ।“
তা হয়তো হতো । ঐ যে আমি বললাম না, আমার অসুবিধা আছে ।
“অসুবিধা আছে তা বলেছেন , কিন্তু অসুবিধাটা কি, তা কিন্তু বলেন নি । বলুন তো আপনার অসুবিধাটা কি একবার শুনি ?”
আপনাকে তো বলা হয় নি , আমার এক ছেলে এক মেয়ে ।
“ভাল কথা , তা ছেলে মেয়েরা কি আপনাকে দেশে যেতে মানা করেছে ? না স্ত্রী লাঠি হাতে বিমান বন্দর দাঁড়িয়ে আছে ?
কোন টিই করছে না । তবে আমি এখানে আসার মাস খানেক আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি । কিন্তু অর্থাভাবে মেয়েকে তুলে দিতে পারিনি । কথা হয়েছে , এখান থেকে ছুটিতে গিয়ে অনুষ্ঠান করে মেয়ে তুলে দিব । আমার চাকরীর ন্যাচার সম্পর্কে তো আপনার জানা নেই । আমার একটা টাকাও কোথাও জমা নেই । কাজেই খালি হাতে তো আর বাড়ি যাওয়া যাবে না ।
“আপনাকে খালি হাতে বাড়ি যেতে বলেছে কে ? কত টাকা লাগবে আপনার ? দুই লাখ, তিন লাখ, পাঁচ লাখ ? আমি তো বললাম যে টাকা আমি দিব ।”
হ্যা আপনি বলেছেন । সেটা আপনার মহানুভবতা । কিন্তু আমি তা গ্রহন করতে পারি না ।
“অর্থাৎ আপনি আমাকে এতটুকু আপন ভাবতে পারেন নি । এই তো ?”
প্লিজ ম্যাডাম, আমাকে ভুল বুঝবেন না ।আমি আপনাকে যথেষ্ট আপন ভাবি । আর ভাবি বলেই আমি আপনার বন্ধুত্ব খোয়াতে চাই না । বিজ্ঞ লোকেরা বলেন–কারও সাথে যদি বন্ধুত্ব স্থায়ী করতে চাও , তা হলে সে বন্ধুত্বের মাঝে অর্থের অনুপ্রবেশ ঘটতে দিউ না । অর্থ ভিতর থেকে ঘুণ পোকার মতো বন্ধুত্বের সম্পর্ক খেয়ে ঝাজড়া করে দিবে । এক দিন তোমার স্বযত্নে গড়া বন্ধুত্ব বালির বাঁধের মত এক ঝাপ্টায় বিলীন হয়ে যাবে ।
“আমি তো আপনাকে দান করতে চাই চাই নি , ধার দিতে চেয়েছি । যথা সময়ে তা আবার পরিশোধ করলেই হয়ে গেল ।”
ঐ যে বললেন না , যথা সময়ে , ঐ যথা সময়ে নামের বীছাটাই একদিন অজগড় হয়ে সকল্কে গিলে খাবে । তার চেয়ে আগে থেকে সতর্ক হওয়া ভাল নয় কি ?
” জানি না , আপনার এত তাত্বিক কথা শুনার মতো মনের জোরই এখন আমার নেই । আমি আলোকে আলো, অন্ধকারকে অন্ধকার, চাঁদকে চাঁদ,এবং সূর্যকে সূর্যই দেখি । কবিদের মতো তার মধ্যে আলাদা কোন রুপ খোঁজে পাইনা । কবিরা বলেন, অন্ধকারের ও নাকি রুপ আছে । আমি কিন্তু অন্ধকারের মধ্যে ভূত ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাই না ।“
যাক , তাতে কোন অসুবিধা নেই। মানুষকে গরু ধেখেন না তো ?
“তা দেখবো কেন ? আমি কি অন্ধ নাকি ? “ আমি বললাম —
না ,তা নন । মানুষকে গ্রু দেখলে তো ভয় আমারই বেশী ছিল। আপনার সামনে গেলেই যদি পা চারটা হয়ে যেত, তা হলে কি অবস্তা হতো বলুন তো ?
“খুব ভাল হতো। আপনাকে একটা রশি দিয়ে বেঁধে রাখা যেত ।“
তা হয় তো যেত । তবে শুনেছি প্রেমাপ্লুত মানুষের চূখ নাকি অন্ধই হয়ে যায় । তারা মন্দের ভাল আর ভালর মন্দ দেখে ।
‘ হয় তো দেখে । কিন্তু আমি তো এখন ও ভালই দেখি । আপনার পা দুতোকে তো দুটোই দেখি । আবশ্য চোখ দুটোতে একটু গোলমাল গোলমাল মনে হচ্ছে । তা অবশ্য আমার ভ্রম ও হতে পারে ।”
যাক দূর দৃষ্টিতে সমস্যা হলেও নিকটতম দৃষ্টি যে ভাল আছে , শুনে নিশ্চিত হলাম । এতে ধরে নেওয়া যায় সাহেবের প্রতি আপনার ভাল বাসা একটু কমে এসেছে । এ জন্য দূরের জিনিস কম দেখতা শুরু করেছেন ।
‘আপনার পেয়ারের সাহেবকে ছাড়া আর কাউকে ভাল্বাসা যাবে না , এমন কোন বাধা ধরা নিয় আছে নাকি ।’
না মোটেই না । হাদিসে বলে খোদার দিদার যদি পেতে চাও , মানুষকে ভাল বাস আগে ।মানব সেবা পরম ধর্ম ।তা আপনি কাউকে ভাল্বাস্তে শুরু করেছেন বুঝি ?
‘কেন , আপনার কোন অসুবিধা আছে ?’
অসুবিধা থাকবে কেন ?তবে সে ভাগ্যবানের দেখা পেলে তাকে একবার সালাম করে নিজের জীবন টা সার্থক করে নিতাম ।

৬৭৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

১২ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর ভাবনার প্রকাশ
    পড়ে ভালো লাগলো
    ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,আমার পাতায় মতামত দিলে আরো বেশি ভালো লাগতো……………………..সো নাইস লিখা

    • এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

      আমি দুঃখিত এবং লজ্জিত । সময়াভাবে মতামত দিতে পারি না । এখন থেকে চেষ্টা করবো । শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রেম প্রেম ভাব পর্ব বেশ ভাল লাগল

    শুভকামনা

  3. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার স্মৃতিময় ডায়েরী পড়ি আর ভাবি- কী সুন্দর উপস্থাপনা আপনার, কলমে সত্যি জাদু আছে!
    দু:খ লাগে যথন দেখি আপনার মত লেখকের বানান ভুল (বাচতে হাড়ালাম হাড়াবেন জোগার রুপবানের আস্লো পরেছে হেড়ে ছুড়া মন্টা গ্রহন দিউ ঝাজড়া বীছাটাই অজগড় সকল্কে রুপ খোঁজে ধেখেন গ্রু অবস্তাচূখ দুতোকে ভাল্বাসা নিয় ভাল্বাস্তে অনাকাংখিত সরি ব্যড় ব্রাহ্মন রুপবানের সর্বসহা বিভাগী)।
    বুঝতে পারি, তার কিছু বেখেয়ালে কিছু হয়তো টাইপো আর কিছু দ্বিধার কারণে। পাশাপাশি কিছু যুগ্মশব্ধ ভেঙে লিখেন(কোলা কোলি কাফ ফারা বউ বিভাগী তাজ মহলের সৌভাগ্য বতী নিশানা চ্যুত বিমান বন্দর)। আর একটু ভাল সম্পাদনা হলে খুব উন্নত সাহিত্য হয় কিন্তু।
    ভাল থাকুন সুপ্রিয় –

    • এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

      আপনার মন্তব্য একেবারে যথার্থ । আমি আসলে টাইপে দক্ষ নই । আর টাইপ করার পর আর একবার পড়ে দেখার ধৈর্‍্য থাকে না । সুন্দর মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ । শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

  4. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    দু:খিত আমার মন্তব্যে দু’টি বানান (যথন যুগ্মশব্ধ) ‘যখন যুগ্মশব্দ’ ভুল হয়েছে।
    লেখার সময় ফন্টগুলো এত ছোট ও হালকা আসে যে চোখে ধরাই পড়ে না।
    পোস্ট দেয়ার পর আবার সম্পাদনার অপশন নেই। ধন্যবাদ।

    • এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

      লেখার সময় বুঝা যায় না , কিন্তু পড়ার সময় বুঝা যায় যে কোন বানানটি অনিচ্ছাকৃত ভুল । শুভ কামনা ।

  5. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ ভালো স্মৃতির ডায়েরি পড়ছি নিয়মিত । দারুণভাবে এক একটা দৃশ্যপট যেন চোখের সামনে ভাসিয়ে তুলছেন নিজ দক্ষতায় । বানানে অনিরুদ্ধ বুলবুল ভাইয়ের কথাগুলি আমলে নিলে মন্দ হয় না ! শুভেচ্ছা জানবেন ।

  6. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ । সতর্কতা অবলম্বনের চেষ্টা করবো। শুভ কামনা । ভাল থাকুন সতত ।

  7. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালই

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top