Today 19 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব—-৪৬/৩ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ০২/০৩/২০১৬

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 409বার পড়া হয়েছে।

‘ এবার সুদান এসে জেড়িনা ম্যাডামকে একবার রিং করেছিলাম । তার পর বেশ কয়দিন পার হয়ে গিয়েছে ।কিন্তু তাকে আর রিং করা হয়নি । তার জন্য যথেষ্ট কৈফিয়ৎ দিতে হবে তা জানি । তবু আজ রিং না করলে কৈফিয়তের পরিমানটা একটু বেরে যায় না কি ? আমি ম্যাডামকে রিং করলাম । দুবার বাজতেই মোবাইল ফোন অন করে বললেন——-
‘ কি ব্যাপার হঠাৎ কোথায় গায়েব হয়ে গিয়েছিলেন ? আপনার তো কোন পাত্তাই নেই ।’ আমি বললাম—–
‘ মাফ করবেন ম্যাডাম, সেদিনের পরদিন ডিউটি ছিল এবং তার পরদিন পেলাম এক দুঃসংবাদ ।’
‘দুঃসংবাদ কেন ? কি হয়েছে ? ‘
‘ আমার কিছু হয়নি । তবে আমার ছোট শ্যালক যেটা আমার কাছে থাকতো , সে গতকাল বাস দুর্ঘটনায় পরেছিল । এই তো কয়েক মাস আগেই বিয়ে করেছে । সে গার্মেন্টস ব্যবসা করে । মাঝে মাঝে জুট কাপরের টেন্ডার ধরে । ঐ দিন ব্যাংক থেকে টাকা তোলে আব্দুল্লাহ পুর থেকে বাসে উঠছিল । হঠাৎ বাসের কন্ডাক্টর তাকে জোরে ধাক্কা দিলে সে সহ তিন জন বাসের রোড ধরে আটকাতে না পেরে নীচে পরে যায় । সাথে সাথেই গাড়ি টান দেওয়াতে বাসের পিছনের চাকা তার পায়ের পাশ দিয়ে চাপা দিয়ে যায় । তাতে তার দুই পা ই থেতলে গেছে এবং দুই পায়ের হাটুর নীচের হাড় দুটো ভেঙ্গে গেছে । সেখানে উপস্থিত এক সার্জেন্টকে পরিচয় দিলে সে আমার শ্যালককে উত্তরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় । সাথে সাথে সার্জেন্ট বাসায় রিং করলে বাসা থেকে আমার স্ত্রী ও অন্যান্য লোক জন যায় । কিন্তু অধিক রক্তক্ষরণের ফলে রক্তচাপ দ্রুত কমতে থাকায় উত্তরার কোন হাস্পাতালই তাকে রাখতে রাজী হয় না । পরে তাকে গুলশান উনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে । যার কারণে খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলাম । ।
‘ এখন কি অবস্থা ? ‘
এখন মোটামুটি ভাল । দ্রুত রক্ত দিতে পারায় রক্তচাপ বারে । এখন শংকা মুক্ত । তবে এন্টেন্সিভ কেয়ারে আছে । এই আঘাতে আপাতত মারা যাওয়ার ভয় কেটে গেছে
‘ দুশ্চিন্তা এবং দুঃখ কাউকে বললে তা ভাগাভাগী হয়ে তার চাপ একটু কমে যায় ।’
‘ তা যায় । আসলে ঘন্টায় ঘন্টায় রিং করছিলাম ঢাকায় । প্রথমে হাস্পাতালে ভর্তি করতে পারছিল না । পরে আবার রক্ত পাচ্ছিল না । ‘
‘ আপনার খুব ধকল গিয়েছে বুঝলাম । যাই হোক আল্লাহ মাফ করেছেন , তাই জীবন বেঁচে গেছে । চাঁকা পায়ে চাপ দিয়ে না গিয়ে মাথার উপর দিয়েও যেতে পারতো । ‘
আসলে ঠিকই বলেছেন । খোদা অনেক সহায় আছেন বলেই প্রাণে বেঁচে গেছে । তা আপনি কেমন আছেন ? ‘ আমি মোটামুটি ভাল আছি । সেদিন বিয়ের অনুষ্ঠানে এত লোক হয়েছিল যে , আসার সময় আর আপনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসতে পারিনি । ‘
‘ বিদায় নিয়ে আসতে পারেননি , তাতে আপনার কতটা লাভ হয়েছে তা জানি না । তবে আমি যে ঠকেছি এর মধ্যে কোন ভুল নেই । ‘
‘ আপনি ঠকেছেন মানে? ‘
‘ আমি যে ঠকেছি , সেটা আমি যতটা না বুঝেছিলাম , তার চেয়ে আমি বেশী শক খেয়েছি আমার স্ত্রীর কথায় ।’
‘ কেন ? কি করেছি আমি ? ‘
‘ কি করেছেন সেটা পরে বলি । কিন্তু যা করেছেন তা আর দ্বিতীয় বার পাব না আমি । ‘
‘ এত পেছানো ছেড়ে দিয়ে আমি কি করেছি সেটা আগে বলুন । আমি টেনশনে মরে যাচ্ছি । ‘
‘ কি করেননি ? আপনি অনুষ্ঠানে এমন একটি শাড়ি পরেছিলেন , যে শাড়িতে আপনাকে এতই সুন্দর দেখাচ্ছিল যে, আমার স্ত্রী আপনাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে আর একদিন আপনাকে দেখতে চেয়েছেন । ‘
‘ বা-ব্বা । এই কথার এত ফাপর । আমি তো ভয়ে অস্থির । পারেনও আপনি । আমি আবার সুন্দর । ‘
‘ নিজের সৌন্দর্য তো আর নিজের চোখে পরে না ।নিজের সৌন্দর্য অন্যকে বিমোহিত করার জন্য । ‘
‘ আপনিও তো সেদিন দেখেছেন । কই আপনি তো মুগ্ধ হননি ? ‘
‘ আমি মুগ্ধ হইনি সেকথা জোর দিয়ে বলতে পারবো না । তবে আমি সেদিন আপনাকে মনোযোগ দিয়ে দেখতেই পারিনি ।’
‘ কেন আমি যখন গাড়ি থেকে নামলাম , তখন আপনি চোখ বন্ধ করে ছিলেন নাকি ?
‘ চোখ বন্ধ ছিল না । তবে মনের দরজা পুরুটা খোলা ছিল না সে কথাটা জোর দিয়ে বলতে পারি । সে দিন আমি এত টেনশনে ছিলাম যে সি, ও, সাহেবের সাথে তার ছেলে স্ত্রী গিয়েছিলেন , তারা কেমন তা আমি মোটেই বলতে পারবো না । ‘
‘ যাক ভাবীর মন্তব্যের জন্য ভাবীকে অনেক ধন্যবাদ । তবে আপনার স্ত্রী কিন্তু আমার চেয়ে অনেক বেশী সুন্দরী । আপনি ভাগ্যবান । যেমন স্ত্রী তেমন ছেলে মেয়ে , মেয়ে জামাইটাও হয়েছে তেমনই । ‘
‘ ভুল বললেন । আমার স্ত্রী সুন্দরী নন । তবে সুন্দরী ছিলেন এক সময় । এখন তো এমন মোটা হয়েছে যে তার চলা ফেড়া করাই কষ্টকর , বেচারী এক অসুখের কারণে ইউটেরাস কেটে বাদ দিতে হয়েছে । তার পর থেকেই এই অবস্থা । ‘
‘ তবু ছেলেদের চোখ একটু টেরাই থাকে । তারা সব সময় অন্যের বউদের সুন্দরী দেখে । আপনি আর তার ব্যতিক্রম কি হবেন । ‘
‘ আমি কিন্তু আপনাকেই দেখেছি । আপনার সৌন্দর্য দেখিওনি উপভোগও করিনি মন্তব্যও করিনি । ‘
‘ বেঁচে গেছেন । নইলে ভাবী আপনার চোখ দুটো ফুটো করে দিতেন । আমাদের মেয়েদের স্বভাবটা হলো , আমরা কোন মহিলাকে দেখে হাজার বার সুন্দরী বলবো । কিন্তু পুরুষেরা নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন মহিলাকে সুন্দরী বলতে পারবে না । বললেই মরেছে । মেয়েরা ছেলেদের মুখ দেখে অনেক কিছু বুঝে । আমাকে দেখে আপনার স্ত্রী আপনার মুখে কোন ভাবান্তর খোঁজে পায়নি বলেই নিজে বলেছে । ‘
যাক বাবা কিছু বলতে না পারুক, দেখতে তো কোন অসুবিধা নেই । ‘
‘ তা চুরি ছুচামী করে পারবে । কিন্তু মুখ একদম বন্ধ ।’
‘ ঠিক আছে, আমি শুধু দেখবো, কোন মন্তব্যই করবো না । ‘
‘ আপনি দেখবেন মানে ? ‘
‘ বারে, আমার স্ত্রী বললো একটি বিশেষ শাড়িতে আপনাকে অত্যন্ত সুন্দরী দেখা গিয়েছে । আমিও দেখেছি। কিন্তু মনের দুয়ার বন্ধ থাকায় সৌন্দর্য খোঁজতে পারিনি । তাহলে আমার আর এক দিন দেখতে হবে না সেই কাপড়ে ?’
‘ না দেখতে পাবেন না । ‘
‘ কেন ? দেখতে পাবো না কেন ?’
‘ কারণ কোন মেয়ে মানুষ যদি বিশেষ কারো জন্য সাজ গুজ করে , আর যদি তাকে দেখে সে সুন্দর বলে প্রশংসা না করে তা হলে সে কতটা দুঃখ পায় তা জানেন ?
‘ তা হলে কি রাস্তা ঘাটে যাকে সুন্দর দেখা যাবে তাকেই প্রশংসা করে মন্তব্য শুনিয়ে দিব ? ‘
‘ হ্যা দিয়েন মন্তব্য শুনিয়ে জুতা পেটা হতে চাইলে । তারা সবার প্রশংসা চায় না । তারা চায় তাদের মনের মানুষেরা যেন তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করে । ‘
‘ শুনেছি, পাগল হয়ে কোন কাজ করলে নাকি আইনের দৃষ্টিতে সেটা কোন অপরাধ হয় না । তার বিচার ও হয় না । আমিতো সেদিন মোটামুটি পাগলই ছিলাম বলতে পারেন । না হলে এমন একটি দৃশ্য নজড় এড়িয়ে যায় ? সে অর্থে আমি মাফ পাওয়ার যোগ্য । ‘
‘ সে দিনের উদ্ভ্রান্তের মতো চেহারা দেখেই বুঝেছিলাম যে, ঐ চোখের পিছনে আজ মন নামীয় বস্তুটি নেই । আজ দ্বায়িত্ব নামীয় বস্তুটি সকল স্থান দখল করে নিয়েছ । ‘
‘ তাহলে আর একদিন দেখতে পাবো আশা করতে পারি । ‘
‘ বেশ তাহলে আর একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করুন । তখন ভেবে দেখা যাবে ।
‘ দেখি একটা পূণর্মিলনী অনুষ্ঠান করতে পারি কিনা । ‘
‘ সে আশার গুড়ে বালি । আচ্ছা আপনি আসার আগে আমার বাসায় গিয়েছিলেন ?
‘ হ্যা, কেন আপনাকে বলিনি ? ‘
‘ কই , নাতো । ‘
‘ আসলে এই বিয়ের পরের এক পক্ষ্য কাল আমার জীবন থেকে ছেটে ফেলতে হবে । মেয়ের বিয়ে ছাড়া একটা কাজও ভাল মতো সম্পন্ন হয়নি । ‘
‘ তা কোন কাজে গিয়েছিলেন বুঝি ? ‘
‘ কি কাজে গিয়েছিলাম তা ছেলেরা বলেনি বুঝি ? আপনার ছেলের সাথে পরিচয় হলো । আপনি আগে চলে এলেন , আমি পরে এলাম । আমি যদি ছেলের খবর না নিয়ে আসি , তাহলে আপনি জিজ্ঞেস করলে কি বলবো ? ‘
‘ আপনার মুখে সব সময় কথা প্রস্তুত থাকে না ? ‘
‘ কেন ? ছেলেরা কি কোন অভিযোগ করেছে ? ‘
‘ আমার ছেলেরা অভিযোগ করবে আপনার নামে ? আপনি তাদের যে পানি পরা খাইয়েছেন ।’
যাক , বাঁচা গেল । আমি ওদের সাথে কঠিন বন্ধুত্ব পাতিয়েছি । ‘
‘ আমি এই সাত মাস আপনাকে দেখে যতটা আশ্চর্য হয়েছি তার চেয়ে দশ গুন আশ্চর্য হয়েছি একটি সাক্ষাতে আমার ছেলেদের মন জয় করা দেখে । ‘
‘ কেন ? আপনার ছেলেদের মন জয় করা বুঝি তার মায়ের মন জয় করার চেয়েও বেশী কঠিন ? ‘
‘ তা জানি না । তবে আপনি যে , একটি অসাধ্য সাধন করেছেন তাতে কোন ভুল নেই । ‘
‘ যাক এ তারিখের ছুটিটা বিভিন্ন দিক থেকে কাজে লেগেছে বলতে হবে । সব কাজই সফলভাবে শেষ হয়েছে । শুধু একটি বাদে । ‘
‘ সেটা আবার কি ? ‘
‘ ঐ যে , যারে দেখিবারে লাগি তৃষিত নয়ন জাগ্রত থাকে সাড়াক্ষণ , পেয়েও পাই না যারে আখি পত্র খোঁজেগো তারে , পেয়েও হাড়ালাম তারে আমি পতিত পামর । ‘
‘ বা ব বা । আপনার অবস্থা দেখি কচু গাছে ফাঁসি লওয়ার মতো । ‘
‘ তবে কি , তুমি নারী , তুমি নৃত্য পটিয়সী , তুমি হৃদয় হরিণী, বধিলে আমায় নেত্র পত্র বাণে । যাই হোক , আবেদন রইল দেবীর চরণে দর্শিতে চাই আবার তৃষিত নয়নে হৃদয় হরিণীর বসনে । এবার রাখি তাহলে । ‘
‘ বেশ রাখুন । হাওয়া হয়েন না যেন আবার । ‘
‘ চেষ্টা করবো । শোনেন, শোনেন । আমাকে শুভর ইমেল নম্বরটা দেন তো । তার সাথে স্কাইপিতে কথা বলতে হবে । কথা দিয়ে এসেছি । ‘
‘ মন্ত্র পাঠের আর ও কিছু বাকি আছে নাকি ? ‘
‘ আপনি কি ওদের সাথে আমার মেলা মেশা সত্যিই খারাপ ভাবছেন ? তাহলে ইমেল নম্বরের দরকার নেই । ‘
‘ আপনি যে কি বলেন । আপনি সে দিন আসার পরে আমি আমার শুভ কে কি যে খুশী খুশী দেখছি , যা অনেকদিন দেখিনি । নিন লিখুন —। আমি জেড়িনা ম্যাডামের নিকট থেকে শুভর ইমেল নম্বর নিয়ে ফোনের লাইন কেটে দিলাম ।জেড়িনা ম্যাডাম বুঝতে পেরেছেন যে, আমি তার ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব পাতাতে চাচ্ছি কেন । তাইতো তিনি একবার বলেছেন—-
‘ সে গুড়ে বালি , চেষ্টায় কোন কাজ হবে না । আসলে অনিরুদ্ধের মাধ্যমে আমি ম্যাডামের স্বামীর সাথে যোগাযোগ করতে চাচ্ছি , সেটা তিনি বুজেন । তবে ঘটনা কতদূর পর্যন্ত গড়িয়েছে তা না জানলে কাজে সুবিধা হচ্ছে না ।আর সেটা জানতে হলে এক্মাত্র ম্যাডামের মুখ থেকেই শুনতে হবে । আবার আলাদা আলাদা ভাবে উভয়ের মুখ থেকেও শুনতে হবে ।জেড়িনা ম্যাডামকে তবু পাওয়া যায় , কিন্তু তার স্বামীকেতো এখান থেকে পাওয়া এক রকম অসম্ভব । আর এ বিষয়ে স্মাধান করতে চাইলে যত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে ততই ভাল ফল পাওয়া যাবে । ‘

৪০৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top