Today 13 Aug 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব —-৪৩ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ২০/০৯/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 761বার পড়া হয়েছে।

আমার ছুটিতে রওয়ানা হওয়ার জন্য সামনে মাত্র একদিন বাকী । তদুপরি আজ আমার নাইট পেট্রোল আছে । হিসেব মোতাবেক আজ আমার কোন ডিউটি হওয়ার কথা ছিল না । তথাপী আজ আমাকে ডিউটিতে দেওয়া হয়েছে । যেহেতু আমি ছুটি যাব সেহেতু একদিন অগ্রীম ডিউটি করে যাওয়া , যাতে অন্যান্য অফিসারদের একটু সুবিধা হয় । আগেও বলেছি , এখানকার নিয়ম কানুন গুলো একটু উলটা পালটা । আমরা যখন প্রথম এলাম তখন রাত্রী কালীন পেট্রোল করার সময় নাইজেড়িয়ানদের সাথে থাকা এডভাইজারদের নিকট থেকে হাইজাকাররা গাড়ি ছিনিয়ে নিয়ে যায় । নাইজেড়িয়ান পেট্রোল পার্টি সেটা ঠেকাতে পারেনি । ফলে তখন থেকে আদেশ হয় কোন পুলিশ পার্টি একা একা নাইট পেট্রোল করবে না । নাইট পেট্রোল যদি করতে হয় তবে কোন সেনা বাহিনীর সাথে যৌথ পেট্রোল করবে । সেই থেকে যৌথ পেট্রোল চলছিল । কিন্তু বিগত এক মাস ধরে আবার নতুন নিয়ম চালু হয়েছে । রাত ৮ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত যে পেট্রোল চলে সেটা যৌথ । কিন্তু ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত যে পেট্রোল চলে সেটা বাংলাদেশ পুলিশকে একাকী করতে হয় । কি হাস্যকর ব্যবস্থা । সন্ত্রাসীরা গাড়ি ছিনিয়ে নিতে পারে সেই ভয়ে সন্ধ্যা রাতে যৌথ পেট্রোল হয় । অথচ
যখন ভয়ের আসল সময় তখন পেট্রোল করতে হয় বাংলাদেশ পুলিশের একাকী । এই হলো এখানকার কর্তৃপক্ষের সুচিন্তিত বিবেচনা । যাই হোক এসেছি ব্যাধের দেশে গলা কাটা যাবে শেষে । কাজেই চালিয়ে যেতে হবে , যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ । সমস্যাটা সেখানে নয় । সমস্যাটা অন্য খানে । আমার সাথে যারা ডিউটিতে যায় , তাদের বক্তব্য হলো অন্য দেশের লোকদের নিকট থেকে কোন সন্ত্রাসী দল গাড়ি ছিন্তাই করতে আসলে তারা নির্দিধায় গাড়িটি দিয়ে দেয় । কোন প্রকার সংঘাতে যায় না । সেই সূত্র ধরে আমার কাছে ডিউটিরত ফোর্সদেরও দাবী আমাদের কাছেও যদি কোন সন্ত্রাসী দল গাড়ি ছিন্তাইয়ের জন্য হামলা করে , তবে বিনা যুদ্ধে বিনা প্রতিবাদে গাড়ি দিয়ে দিব । তাদের কথা বাঁধা দিতে গেলে সংঘাৎ অনিবার্্যা । তাতে প্রাণ হানি ঘটার সম্ভাবনাই বেশী । অতএব রনে ভঙ্গ দিয়ে পলায়ন বা আত্মসমর্পন । কিন্তু আমি এ পদ্ধতিতে রাজি নই । আমার সিদ্ধান্ত আমার কাছ থেকে কেহ গাড়ি নিতে চাইলে বিনা যুদ্ধে আমি গাড়ি হস্তান্তর করবো না । এত গুলো লোকের বহর , এত গুলো অস্ত্রের সমবিবাহারে যাত্রার মধ্য থেকে গাড়ি নিতে চাইলে আমার পক্ষে বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পন সম্ভব নয় । যার ফলে সঙ্গীয় ফোর্সের প্রায়ই আমাকে শুনিয়ে বলে—
‘ স্যার এখানে যুদ্ধ করে কি হবে ? কার জন্য যুদ্ধ করবেন ? তার চেয়ে নাইজেড়িয়ানদের মত গাড়ি দিয়ে দিলে বড় জোর দেশে পাঠিয়ে দিবে । তবু জীবনটাতো বেঁচে গেল । কিন্তু আমি কিছুতেই তা মানতে পারছি না । বিনা প্রতিবাদে গাড়ি দিয়ে দেওয়া আমার নিকট অত্যান্ত অমর্যাদা পূর্ণ কাজ । আর এই অপমান নিয়ে বেঁচে থাকা আমার পক্ষ্যে কষ্টকর । কাজেই আমি সকলকে জানিয়ে দিয়েছি , আমার সাথে যারা ডিউটিতে যাবেন তারা সতর্ক হয়েই যাবেন । আমি আক্রান্ত হলে , বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পন করবো না । আমি দুটো শব্দই শুধু জানি ‘ মরবো নয় মারবো ।’ ফলে আমার সাথে ডিউটিতে যেতে সবাই ভয় পায় । ভয় পেলেও করার কিছু নেই । বেতন যখন খাচ্ছি , তখন ডিউটিতো করতেই হবে । তাই যতটা সম্ভব মনটাকে শক্ত করেই ডিউটিতে যায় । আজ আবার যেতে হবে সেই আতঙ্কগ্রস্থ ডিউতিতে । আমার অবশ্য ডিউটির কথা তেমন মনেই হচ্ছে না । কারুণ দেহের কোথাও যদি বড় আকারের কোন ব্যাথা থাকে , তবে ছোট ব্যাথা অনুভূতই হয় না । আমার ছুটির আনন্দ আতংককে ছাপিয়ে উঠেছে । মনের মধ্যে একই চিন্তা , কখন যাব , কি ভাবে যাবো । ভাবছি যাওয়ার আগে জেড়িনা ম্যাডামকে একটা রিং করা দরকার । আসার পরে কথা হয়েছে কয়েকবার । আজ আবার রিং করলাম—– রিং বেঁজে উঠতেই মোবাইল অন করে প্রথমেই বললেন ——-
‘ বেশ উন্নতি হয়েছে তো আপনার ।
‘ হঠাৎ এ অভিযোগ কেন ? ‘
‘ কেন নয় ? এতদিন তো দিনের পর দিন চলে যেত আপনার কোন হদিস নেই । আমি রিং করেও পাইনি । শেষে অণুবিক্ষণ যন্ত্র লাগিয়ে আপনাকে খোঁজে বের করতে হয়েছে । আর এবার দেখি ফোন করার কথাটা অন্তত ভুলে যাননি । ‘
‘ যাকে স্মরণ করারই প্রয়োজন পরে না তাকে আবার স্মরণ করার প্রশ্ন উঠে কেন? ‘
‘ সেটা আবার কি রকম ?’
‘ বারে,আপনার যে দুটো হাত আছে , তা কি সব সময় স্মরন রাখতে হয় ? হয় না । তাতে করে হাত তো ছুটে কোথাও চলেও যায়না । সে তার অবস্থানে ঠিক স্থির থাকে । আর আপনিও তো তা ভুলে যান না । কাজেই যে জিনিস আপনার দেহের সাথে জোড়ে আছে তাকে স্মরণ রাখার প্র্য়োজন যেমন হয় না তেমনই ভুলে যাওয়ার ও অবকাশ থাকে না । ‘
‘ আচ্ছা , আপনার এই প্যাচ মারা সাহিত্য কবে শেষ হবে ? ‘
‘ যাকে নিয়ে সাহিত্য , সে নিজেই যেদিন সাহিত্যের উপকরণ না হয়ে সাহিত্য হয়ে যাবে , সেদিন থেকে আর সাহিত্য করবার দরকার হবে না । ডুবে যাব আকারকে নিরাকারের মাঝে খোঁজে পেতে ।’
‘ বেশ সেই আশাতেই বসে থাকুন । তা রিং করার আর বিশেষ কোন কারণ আছে কি ? ‘
‘ আপনার কণ্ঠের বাণী কর্ণে শুনি ধবনিত হোক শিড়ায় শিড়ায় । এ কারণটাই কি যথেষ্ঠ নয় ?’
‘ এ কারণ্টাই যথেষ্ট হতো , যদি এটাই এক্মাত্র কারন হতো । কিন্তু রিং করার এটাইতো এক মাত্র কারণ বলে মনে হচ্ছে না । ‘
‘ মনে না হওয়ার কারণ ? ‘
‘ ডুব দিয়ে দেখলাম জলে, অতল তলে শুধু বালি নয়, মিশে আছে আরো কিছু,অনুভূত ঝল কানিতে ।’
‘ সুস্বাগতম, সুস্বাগতম, কবিতার জগতে । তা যা বলছিলেন, আমি যে ছুটিতে যাচ্ছি তা হয়তো জানেন ।?’
‘ তবে কবে যাচ্ছেন তা জানি না ।।’

৭৬০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

১ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লাগল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top