Today 24 Sep 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে-( পর্ব—–৪৩/২ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ২৮/০৯/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 402বার পড়া হয়েছে।

রাতে। ভাল ঘুম হয়নি । মানসিক উত্তেজনা । সেই ছোট বেলার মতো । আগেই বলেছি , আনন্দের পর্্যা য়টা কতদূর পর্যন্ত গিয়ে পৌছেছে । সন্ধ্যায় ঘুমানোর আগেই লাগেজ গুছিয়ে রেখেছি । তদুপরি বারবার মনটা খচ খচ করে উঠছিল । দরকারী কিছু রেখে যাচ্ছি নাতো ? টিকিটের মধ্যে লেখা আছে লাগেজের সাথে ২৩ কেজির বেশী মালামাল নেওয়া যাবে না । কাজেই অনেক কিছু নেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও ওজনের দিকটা সব সময় মাথায় রাখতে হচ্ছে । কারন বিমান বন্দর গিয়ে যদি লাগেজের ওজন বেশী হয় তাহলে নানা সমস্যা । তখন লাগেজ খোলে মালা মাল বের করা যেমন খারাপ দেখায় তেমনি উক্ত মালামাল গুলি ফেলে দেওয়া অথবা অন্য কোন লোক কে দিয়ে দেওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকে না । একই লাইনে ভ্রমন আথচ কেমন অনিয়ম । আমিরাত এয়ার লাইন্সের বিমানে যাত্রী প্রতি মাল নিতে দিচ্ছে ৩০ কে,জি । সে ক্ষেত্রে কাতার ইয়ার লাইন্স যাত্রী প্রতি মাল নিতে দিচ্ছে মাত্র ২৩ কে,জি । অবশ্য অনিয়টা শুধু যাত্রীদের দৃষ্টিতে । কারন বিষয়টি এয়ার লাইন্স দেখছে তাদের ব্যবসায়ীক দৃষ্টিতে , আর যাত্রীরা দেখছে তাদের সুবিধার দৃষ্টিতে । কাজেই দেখার ভিন্নতার কারনেই একই বিষয় কার ও নিকট ন্যায় আবার কারও নিকট অন্যায় হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে । আমি অবশ্য আমার লাগেজ কয়েক বার ওজন দিয়েছি , যাতে বিমান বন্দর গিয়ে কোন রকম অসুবিধায় পরতে না হয় । যদি ওজনের যন্ত্রটি খারাপ না হয়ে থাকে তাহলে আমার অসুবিধা হওয়ার কথা নয় ।সকালে উঠেই সব জিনিস পত্র ঘুছিয়ে রুম তালা বদ্ধ করে নাস্তা করতে গেলাম । নাস্তা করেই রওয়ানা হবো । দুয়ারে প্রস্তুত গাড়ি । তখন দেখা দিল এক বিপত্তি । রুমের দরজা খোলার জন্য পকেটে হাত দিয়েছি , হায় আল্লাহ , পকেটে কোন চাবি নেই । সকল পকেট তল্লাশী করছি বার বার । কিন্তু চাবি নেই তো নেই, কোথাও চাবি নেই। গাড়ির বহর রওয়ানা হওয়ার সময় হয়ে গেছে । ড্রাইবার বার বার গাড়ির হর্ণ ফুকাচ্ছে বার বার কারন আমার জন্য একটা গাড়ির অপেক্ষা করার কোন উপায় নেই । কারণটা আগেই বলেছি । এখানে স্বসস্র পাহারা ছাড়া একা কোন গাড়ি কোন দিকে যাওয়ার কোন বিধান নেই। কাজেই আমাদের যেতে হলে মর্ণিং এস্কর্টের সাথেই যেতে হবে । কাজেই আমি আরো দু-এক জনকে সাথে নিয়েচাবি খোঁজতে শুরু করলাম । আমার রুম থেকে ডাইনিং হল অনুমান দুইশত মিটার দূরে । চাবি পড়লে এর মধ্যেই থাকতে হবে । আমরা এই রাস্তা টুকু কয়েকবার তল্লাশী করে ফেললাম । কিন্তু চাবির কোন দেখা মিললো না । বিষয়টি ভৌতিক মনে হতে লাগলো । এই টুকু রাস্তা ছাড়া আমি আর কোথাও যাইনি । তা হলে চাবি যাবে কোথায় ? সবাই অবাক । কারণ চাবি না পাওয়ার পিছনে কোন যুক্তি নেই । চাবি সম্পর্কে কোন প্রকার সতর্কতা গ্রহন করা হয়নি তাও নয় । একটি একক চাবি কোথাও পড়ে গেলে সহজে দৃষ্টি গোচর হবে না ভেবে আমি উক্ত চাবির সাথে দুই ফুট লম্বা একটি লাল রঙ্গের রশি লাগিয়েছি ।যাতে সহজে না হাড়ায় । এত সতর্কতার মধ্যেও এই বিপত্তি ঘটে গেল । সকল সম্ভাব্য স্থান তন্ন তন্ন করে খোঁজা হলো । সকল স্থান খোজেছি এই জন্য যে বিপদে পড়লে তখন সব কিছুই সম্ভব বলে মনে হয় । যদি এই দুই শত মিটারের বাইরে চাবি যাওয়ার কোন উপায় নেই । কারণ আমি এর বাইরে কোথাও যাইনি । চাবি খোঁজতে খোঁতে যখন সবাই হয়রান হয়ে গেলাম তখন নিরুপায় হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম গাড়ি বহর ছলে যাবে , আমি আরো কিছুক্ষণ খুঁজে পরে তালা ভেঙ্গে মালা মাল নিয়ে বাসে করে যাব । গাড়ি বহর ছেড়ে দেয় দেয় ভাব , এমন সময় কনস্টবল এসে আমাকে গিজ্ঞেস করলো—–
‘ কি ব্যাপার স্যার, আপনি গাড়িতে উঠছেন না কেন ? যাবেন না ? আমি বললাম—-
‘ কি করে যাব বলেন ? আমার মালামাল রুমে আটকা চাবি হাড়িয়ে গেছে । তখন সে বলে—-
‘ বলেন কি স্যার, আমি তো একটু আগেই পায়খানায় যাওয়ার সময় একটি চাবি পেয়েছি । ‘ কথাটা শুনে আমি একদম চমকে উঠলাম । বললাম—-
‘ কেমন চাবি ? কই দেখান তো । সে চাবিটি বেড় করতে করতে বললো—-
‘ লাল রশি বাঁধা একটি চাবি । কথাটা শুনে আমার শরীরে যেন শীর শীর করে একটা প্রবাহ মাথা থেকে পায়ে নেমে গেল ।
‘ তা আপনি এতক্ষণ কোথায় ছিলেন ? ‘ সে বললো——
‘ চাবি পেয়ে আমি পায়খানায় ছলে গিয়েছিলাম । এখনই বেড়িয়ে এলাম ।’
‘ যাক তবু খোদার অশেষ রহমতে কোন রকম শেষ রক্ষা হলো । আমি অন্যদের সাতে মালা মাল নিয়ে বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম ।

৩৯৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    তাড়াহুড়ার সময় এমন বিপত্তিই ঘটে থাকে
    যাই হোক শেষ পর্যন্ত চাবি পেয়েছিলেন ত ভাল লাগল

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সহমর্মীত জানানোর জন্য । শুভ কামনা ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top