Today 23 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব———৪৪ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ১২/১০/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 487বার পড়া হয়েছে।

মেয়ের বিয়ের জন্যই মিশনে যাওয়া । আর আজ সেই বিয়ে সম্পন্ন করার জন্যই ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছি । সকালে ঘুম থেকে উঠতেই প্রতিবেশীরা অনেকেই এলো । তাদের সাথে কথা বললাম । সকলেরই সুদান সম্পর্কে জানার আগ্রহ । আমরা যতই বলি যে বিদেশী সংস্কৃতি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধবংশ করে দিচ্ছে , আমি এর বিরুধীতা না করেই বলবো ইউরোপীয়ান সভ্যতা আমাদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে ঠিকই কিন্তু আমাদের সংস্কৃতিকে সম্পূর্ণ ধবংস করে দিতে পারেনি । এক জন মানুষের মাথা যতটুকু খারাপ হলে তাকে পাগল বলা যায় না, তবে বলা যায় লোকটি আবুল তাবুল কথা বলে । আমাদের বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে এখন সেইরুপ আবুল তাবুল অবস্থা চলছে । কিন্তু পুরুপুরী পাগল হয়নি । এখনো আমাদের দেশে এক জন মানুষকে গ্রামের সকল লোকেই চিনে । একজনের প্রতি অন্য জনের হৃদ্যতা আছে । একে অপরের ভাল চিন্তা করে , মঙ্গল চিন্তা করে । আমিও সকালে উঠে প্রতিবেশীদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করলাম । তারাও আমার বাসায় এল । সারা দিন সকলের সাথে কোশল বিনীময় করতেই চলে গেল । রাতে আমার স্ত্রীর সাথে মেয়ের বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করলাম । দাওয়াতির সংখ্যা ৭০০ শত ধরা হয়েছে এবং উত্তরা ‘মমতাজ মহল’ কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করা হয়েছে । কমিউনিটি সেন্টারের দুটি ফ্লোরে এক সাথে ৩০০ শত করে মেহমান বসার ব্যবস্থা আছে । সমস্থ ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করলাম । সিদ্ধান্ত হলো পরদিন থেকে ঢাকা শহরে অবস্থান রত আমার সকল বন্ধু বান্দব্দের দাওয়াত পত্র বিতরন করা শুরু করবো । দাওয়াত পত্র বিতরন শুরু করলাম । কিন্তু ঢাকা শহরে দাওয়াত পত্র বিতরন করাই যে সবচেয়ে কষ্টকর কাজ তা আগে জানতাম না । কারণ এক বাসা থেকে আর এক বাসায় যেতেই ১/২ ঘন্টা লেগে যায় । সকালে সিদ্ধান্ত নিলাম সারা দিনে সকল দাওয়াত পত্র বিলি করবো এই ভেবে একটি সি, এন, জি চালিত অটো রিক্সা সারা দিনের জন্য ভাড়া করলাম । সকাল থেকে বেড়িয়ে রাত ১০ টার মধ্যে বাসায় ফিরে এলাম , দেখলাম মাত্র ৬ টি কার্ড বিতরন করতে পেরেছি । অথচ অটোরিক্সা ভাড়া দিতে হলো ১৫০০/ টাকা । আমি কার্ড বিতরনের অবস্থা দেখে হতাস হয়ে পড়লাম । তখন আমার বন্ধুরা আমাকে মোবাইলের মাধ্যমে দাওয়াত দিতে পরামর্শ দিল । তাদের পরামর্শ মোতাবেক আমি সকলকে মোবাইল ফোনে দাওয়াত দিতে শুরু করলাম । তাতে অভাবিত সাড়া পেলাম । প্রায় সকলেই কার্ড পৌঁছানোর কথা অপ্রয়োজনীয় বলে জানিয়ে দিল । আমার কষ্ট অনেকটাই কমে গেল । একান্তই যাদের কাছে না গেলেই নয় , বা যাদের নিকট হাজির হয়ে দাওয়াত না দিলে অপমানকর বলে মনে করবে শুধু মাত্র তাদের নিকট দাওয়াত পত্র পৌঁছে দিতে গেলাম । প্রায় সবার সাথে যোগাযোগ হলো । শুধু মাত্র বাকী আছে সুমনা ও জেড়িনা ম্যাডাম । মোবাইলে রিং করে জেড়িনা ম্যাডামের বাসার ঠিকানা নিলাম । তিনি রিং পেয়েই বললেন—কার্ড পাঠানোর প্রয়োজন নেই । কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি তাকে কার্ড দিতে যাব ,শুধু মাত্র তার বাসাটা চিনতে । কারণ তার বাসাটা চিনা আমার দরকার । যে কোন সময় তার বাসায় যাওয়ার দরকার হতে পারে । আমি মোবাইলে রিং করে আগেই সুমনার স্বামীর ঠিকানা নিয়েছিলাম ।তার নামে একটা বিয়ের কার্ড পাঠিয়ে দিলাম । পরদিন সুমনাকে রিং করলাম । সুমনা রিং ধরেই বললো—-
‘ বাংলাদেশে এসেছেন তাহলে ? ‘
‘ কেন, তুমিকি মনে কর আমার প্রেতাত্মা রিং করেছে ? ‘
‘ আমার কাছে তো তাই মনে হয় । কারন আপনাকে দেখার সৌভাগ্য আমার আর হবে কিনা তাই তো ভেবে পাই না । দিন দিন আপনি যে রুপ দুর্লভ বস্তু হয়ে যাচ্ছেন ।’
‘ বন্ধী পাখী শোন , একটু পাখা ঝাপ্টাতে শুরু করো , দেখবে শরীরটাও ভাল থাকবে , সেই সাথে মন্টাও ।’
‘ মরি না তাই জীবনটা টেনে যাচ্ছি । তার আবার ভাল মন্দ দিয়ে কি হবে । আনন্দ , হাসি, খুশীতে যাদের জীবন চলে , ভাল থাকার প্রশ্ন তো তাদের । আমার ভাল মন্দ খুঁজে লাভ কি ? তা আপনি কেমন আছেন ? অবশ্য ভাল আছেন তা জানি । কারণ আপনার তো খারাপ থাকার মতো কোন কারণ ঘটেনি । ‘
‘ হ্যা, তা যা বলেছ । খারাপ থাকার কোন কারণ নেই , সে কথা ঠিক । কিন্তু বড় আকারের পেরেশানি যে যাচ্ছে , সেটাতো মান । না, তাও মান না । ‘
‘ তা যাচ্ছে বটে । কিন্তু সেটা তো আনন্দের । সম্পদ শালী বাপ তার মেয়ে বিয়ে দিচ্ছে মহা ধুমদাম করে তার তো আনন্দে ভেসে যাওয়ারই কথা । ‘
তা যা বলেছ । সম্পদশালী হলে আনন্দটা পরিপূর্ণ হতো । সেটা না থাকায় অর্থের চিন্তায় আনন্দে একটু ঘাটতিও আছে । মেয়েতো হয়নি , তুমি বুঝবে না । আগে মেয়ে হোক তখন টের পাবে , মেয়ের বাবার পেরেশানী কত । ‘
‘ একটা জীবনই টান্তে পারছি না তার আবার মেয়ে । আপনার মতো ভাগ্য নিয়েতো আর জন্মাইনি ।একবার কাছে পেলে মেপে দেখবো , কপাল্টা কত বড় । ।
কপাল্টা মাপতে গেলে মুখ আর কপাল এতই কাছে আনতে হবে যে, তার জন্য ঈদ মোবারক করা ছাড়া উপায় নেই । তুমি কি কপাল মাপার জন্য আমার সাথে ঈদ-মোবারক করতে রাজি আছ ? যদি থাক তাহলে বলো সব কিছু ফেলে এখনি ছলে আসি । ‘
‘ আপনার দৌঁড় আমার জানা আছে । আমি একবার কেন হাজার বার রাজি থাকলেও আপনার সে ক্ষমতা নেই । শুধু মুখেই যত আত্ম তুষ্টির কথা । ‘
‘ আমিও জানি । আমাকে তোমার জানা আছে । আর আছে বলেই তো আমি আমার মিষ্টি শালীকাকে এতটা ভাল বাসি । শোন তোমার বরের নামে বিয়ের দাওয়াত কার্ড পাঠিয়েছি । এত দিনে পেয়ে যাওয়ার কথা । না পেলেও দু এক দিনের মধ্যেই পেয়ে যাবে । তুমি জান নাকি , পেয়েছে কিনা ?
‘ জানি না । এখন আমাকে সে কিছু জানায় না ।’
‘ তুমি জিজ্ঞেস করো ।’
‘ আমি জিজ্ঞেস করতে পারবো না । এখন সে যে সুন্দর আচরন করে । তাতে তাকে জিজ্ঞেস করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় । ‘

৪৮৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল পর্বটি

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য । শুভ কামনা ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top