Today 05 Mar 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে–( পর্ব–৪৪/৫ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ১২/১১/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 948বার পড়া হয়েছে।

আমি আমার মেয়ের বিয়েতে ভাই বোনদের দাওয়াত দেইনি । হয়তো এটা সবার দৃষ্টিতেই খারাপ লাগবে । আমার বিবেচনায় অন্য কোন রাস্তা অবলম্বন করা সম্ভব ছিল না । কারণ আমার ভাই বোনেরা আমার সাথে কি আচরণ করে তা হয়তো ইতোমধ্যে সবাই জেনে থাকবেন । আমার বোনদের সাথে আমার সম্পর্ক নেই অনেক আগ থেকেই । আর ভাইদের সাথে আমি সম্পর্কটা জোর করে ধরে রেখেছি । তাদের আচরণ এতই আপত্তিকর যে, কারও কাছে তা প্রকাশও করা যায় না । সম্পর্ক না থাকার একটি কারণ আমি তাদের টাকা দিতে পারি না , পারলে ভাল হতো , কিন্তু না দিতে পারাতেই আমি খারাপ । অবশ্য তাদের এ আচরণ নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথাও ছিল না । আমাকে নিয়ে তারা নানা স্থানে নানা ধরনের মিথ্যা বানোয়াট কথা বলে , নানা মন্তব্য করে যা মোটেই গ্রহন যোগ্য নয় । তথাপী আমি কিছুই শুনিনী ভাব করে আমার দ্বায়িত্ব আমি যতটুকু পেরেছি পালন করে এসেছি সর্বক্ষণ । কিন্তু এবারের বিষয়টি ভিন্ন । মেয়ের যখন বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন হয় , তখন আমি মিশনে যাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহন করছি টাংগাইলের মহেরা ট্রেনিং স্কুলে । হঠাৎ করে তারিখ হওয়াতে সকল মেহমানদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি । আমার ধারণা রেজিষ্ট্রেশনের সময় বয়স্কদের উপস্থিত থাকলেই ছলে যায় । সেই হিসেবে আমি আমার বর ভাই , আমার ইমিডিয়েট ছোট ভাই এবং তার ছোট জনকে দাওয়াত দিয়েছিলাম । চতুর্থ ভাই বাদে আর কেউ আসেনি । ফোনে যোগাযোগ করলে জানা যায় যে দিন সকলকে দাওয়াত দিব সে দিন আসবে । আমি তাদের বুঝানোর চেষ্টা করলাম যে, এটা তো বিয়ের অনুষ্ঠান নয় । এখানেতো আমি কোন মেহমান দাওয়াত দিচ্ছি না । বিয়ের সময় সকলকেই দাওয়াত দিব । কিন্তু কিছুতেই তারা মানলেন না । কেহই আসলেন না । এতেই তারা থেমে থাকেনি । আমার মেয়ের রেজিট্রেশনের পর আমার ভাগ্নীর বিয়ে হয়েছে ধুমদামের সাথে । কিন্তু আমাদের দাওয়াত দেয়নি । তা ছাড়া তারা মাঝে মাঝেই আমার শ্বশুড় বাড়ি গিয়ে এমন এমন কথা বলে আসছেন , যা অগ্রহন যোগ্য এবং সেই সব কথা আমার মেয়ের জামাই বা তার শ্বশুড় পক্ষ্য শুনলে সারা জীবনের মতো মন খারাপ হয়ে যাবে । যেমন বলে–টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার কোন পদ হলো ? কতো টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার আমাদের ফ্যাক্টরীতে কাজ দেই । এই রুপ নানা আপত্তিকর কথা , যে গুলোও আমি এখানেও বলতে চাই না । যাই হোক আমি চিন্তা করে দেখলাম , বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে যদি তারা পরিকল্পিত ভাবেনানা কথা বলে আমার মেহমানদের মন খারাপ করে দেয় , তা হলে যে ক্ষতি আমার হবে, তা আমি আর কোন দিন সামলে উঠতে পারবো না । যে কারণেই আমি তাদের দাওয়াত দেইনি।
আজ ২৬ নভেম্বর । আজ আমার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান । সকাল থেকেই ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটতে লাগলো । যদিও আমার ব্যস্ততা খুব একটা বেশী নয়। কারণ আমার ছোট শ্যালকের একটি বন্ধু মহল আছে উত্তরা ভিত্তিক । আমাদের সকল অনুষ্ঠানে তারা একে বারে নিকটআত্নীয়ের মতো পরিশ্রম করে । অনুষ্ঠান যেন নিজেদেরই । আজকের অনুষ্ঠানের জন্যও তারা শুরু থেকেই কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করা , খাবার মেনু ঠিক করা , সব কিছু তদারকী করা , মেহ্মান্দের অব্যর্থনা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ তারা করছে । আমি শুধু মাত্র মেয়ের বাবা হিসেবে গেইটে দাঁড়িয়ে মেহমানদের অভ্যার্থনা করা ছাড়া আর কিছু করছি না । আসলে আল্লাহর রহমত থাকলে অনেক কিছুই হয় । সম্ভবত আমার ইজ্জত রক্ষা করার দ্বায়িত্ব আল্লাহই নিয়েছেন । যাদের দাওয়াত দিয়েছি প্রায় সবাই এসেছেন । তাতে আমার লোক হওয়ার কথা ৭০০ বা তার কিছু বেশী । কিন্তু দিন টি শুক্রবার হওয়ার কারণেই হয়তো নামাজের পরে সব লোক একত্রে ঝাপিয়ে পরেছে । দুটো ফ্লোর ভাড়া করেছি । খাচ্ছে, উঠে যাচ্ছে । লোকে লোকারন্য । পা ফেলার জায়গা নেই । সব লোক যাওয়ার পর পরিচিত জনদের মন্তব্য জানতে চাইলে সকলেই বললো —
‘ এত ভাল অনুষ্ঠান অনেক দিন দেখিনি ।”লোক সংখ্যা সম্পর্কে তাদের মন্তব্য ১২০০/ ১৩০০ শত লোক হয়েছিল । একজন নয় , যত লোকের কাছে জিজ্ঞেস করেছি সকলেরই লোক সংখ্যা সম্পর্কে একই ধারণা । আমার এক মওলানা বন্ধু আছে , তার সাথে আলোচনা করলে তিনিও লোক সংখ্যা সম্পর্কে একই মন্তব্য করলেন । আসলে আমার মেহমান খাওয়ানোর শেষে যে খাবার বেঁচে গেছে তাতে লোক সংখ্যা ৫০০/থেকে ৬০০ শতের বেশী খাওয়ার কথা নয় । তাহলে এত লোকের ভির দেখা গেল কেন ? আমার সেই হুজুর বন্ধু মন্তব্য করলেন , মানুষের ইজ্জত রক্ষা করা ও কমানো বাড়ানোর মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা ।তিনি ইচ্ছে করলে নিজস্ব কায়দায় এক জনের ইজ্জত বহুগুন বাড়িয়ে দিতে পারেন । ইসলামের এক যুদ্ধে মুসলমান সৈন্যের চেয়ে কাফেরদের সংখ্যা ছিল তিন গুন ।কিন্তু আল্লাহর নামে যুদ্ধ যখন শুরু হলো তখন কাফেররা দেখতে পেল মুসলমান সৈন্য তাদের চেয়ে বহু গুন বেশী । তখন তারা ভয় পেয়ে পালাতে শুরু করলো । ফলে মুসলমান সৈন্যরা যুদ্ধে বিজয়ী হলো । আল্লাহ তাআলা মুসলমান তথা ইসলাম ধর্ম রক্ষা করলেন । আসলে সেখানে মুসলমান সৈন্য বাড়েনি । কিন্তু আল্লাহ তাআলা বিধর্মীদের চোখে মুসল্মস্ন সৈন্য অনেক বেশী দেখিয়েছেন । কাজেই আপনার মেয়ের বিয়েতে হিসেবে লোক সংখ্যা যাই হোক না কেন , আপনার ইজ্জত বাড়ানোর জন্য আল্লাহ তাআলাই লোক সংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়েছেন ।কাজেই সকলেই ১২০০/১৩০০ শত লোক দেখেছে। তার এ মন্তব্য হয়তো সত্যি হয়তো নয় । কিন্তু অনুষ্ঠান খুবই ভাল হয়েছে ।

৯৪৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top