Today 23 Apr 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে (-পর্ব——৪৫ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ০২/১২/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 516বার পড়া হয়েছে।

মানুষের ইজ্জত রক্ষা করা একজন মুসলমানের পবিত্র দ্বায়িত্ব হওয়া উচিৎ । আমি যদি অন্যের ইজ্জত রক্ষা করি তবে অন্যেও আমার ইজ্জত রক্ষা করবে । এটা একটা লেনদেনের মত বিষয় । কিছু দান করলে তার প্রতি দান পাওয়া যায় । সেটা সাথে সাথেই হোক বা পরবর্তী কোন সময়েই হোক । আমরা হয়তো অনেক সময় বুঝতে পারি না । যারা সৃষ্টি কর্তা বিশ্বাস করেন তাদের মতে , যে যে রকম কর্ম করেন , সৃষ্টি কর্তা তাকে তেমন ফলই দেন । মানবতাবাদীদের মতে এটা প্রাকৃতিক প্রতিদান । তা যে নীতিতেই হোক না কেন , ইট মারলে যে পাটকেল খেতে হয় , আর দান করলে প্রতিদান পাওয়া যায় এটা সর্বজন স্বীকৃত বিষয় । এ প্রসঙ্গে আমার নীজের জীবনের একটি ছোট্ট ঘটনার কথা না বলে পারছি না । সেটা প্রথম জীবনের কথা । আমি তখন ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র । আমি অনার্স পাশ করেছি করটিয়া সা’দৎ কলেজ থেকে । ভাবলাম বাইরের কলেজ থেকে অনার্স, আবার বাইরের কলেজ থেকেই যদি মাস্টার্স কমপ্লিট করই তাহলে শুনতে ভাল লাগে না । কর্মজীবনে মূল্যায়ন পাওয়া কষ্ট হয়ে যাবে । তাই সিদ্ধান্ত হলো ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি হবো ।এর মধ্যে আইন জারী হলো -ভার্সিটির অধিন বাইরের যে সকল কলেজে মাস্টার্স ডিগ্রী চালু আছে , সে সকল কলেজের ছাত্রদের বিশেষ কারন ব্যাতীত ভার্সিটিতে ভর্তী করা যাবে না । তাদের ঐ সকল কলেজ থেকেই মাস্টার্স কমপ্লিট করতে হবে । কাজেই আমাকে ভর্তি হওয়ার জন্য বিশেষ কারণের আশ্রয় নিতে হলো । এই বিশেষ কারণের আওতায় ভর্তি হতে গিয়ে আমাকে ভর্তির প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে বেশ সময় লেগে গেল । ফলে আমি যখন ভর্তি নিশ্চিত হলাম তখন এ এফ রহমান হল ছাড়া অন্য কোন হলেই আমাকে যুক্ত করা গেল না । তখন এ এফ রহমান হল ছিল টিন সেড । কাজেই সীট সংখ্যা ছিল খুবই কম । আমি ভর্তি হওয়ার আগেই সকল সীট বরাদ্ধ হয়ে গেল । তাছাড়া আমি ভর্তি হয়েছি এই অজুহাতে যে, আমার বাবা বাইরের জেলা থেকে বদলী হয়ে ঢাকা আসার কারণে আমার পক্ষে পূর্ববর্তী কলেজে পড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় । কাজেই আমাকে ক্লাশে নিয়মিত হাজিড় থাকার জন্য নানা বাহানা খোঁজতে হলো । ঐ সময় অনেকেই হলে সীট না পাওয়াতে সূর্য্যসেন হলের ডাইনিং হলে হার্ড বোর্ড দিয়ে বেড়ার ব্যবস্থা করে রুম তৈরী করে অবস্থান করতো । আমার থাকার কোন ব্যবস্থা না থাকায় আমিও সেখান কার একটি রুম দখল করলাম । মোটা মোটি আরামে না থাকলেও কোন রকম অবস্থান করে ক্লাশ চলতে থাকলো । ঢাকা ভার্সিটির হলে থাকা ফ্রি, আর খাওয়াতো নামে মাত্র টাকা দিয়েই চলে যায় । ফলে যে সকল ছাত্ররা লেখা পড়া শেষ করেছে তারাও হল না ছেড়ে ওখানে থেকেই চাকরীর সন্ধান করতো । ফলে মাঝে মাঝে হল কর্তৃপক্ষ বহিরাগতদের তাড়ানোর জন্য হলে তল্লাশী চালাতো । এমনই এক তল্লাশীতে কথা উঠলো সূর্যসেন হলের ডাইনিং এ যারা থাকে তারা সকলেই অবৈধ । আর এই অবৈধ ছাত্রদের নিয়েতো নানা অসুবিধা । তাদের জন্যতো ডাইনিং এ রান্না হয় না । কাজেই তারা অবৈধ ভাবে খাওয়ার কারণে বৈধ ছাত্রদের খাবার কম পরে যায় । এই জন্য রেড হলো । আমি সে দিন বাড়ি গিয়েছিলাম । সূর্যসেন হলের ডাইনিং এর হার্ডবোর্ডের রুম গুলো সব ভেঙ্গে দিল । অবশ্য আমি হাজির থাকলেও কিছু করার ছিল না । কারণ আমি তো ঐ হলের ছাত্রই না । ছাত্র হিসেবে তো আমি সূর্যসেন হলে অবৈধ । কারণ এ এফ রহমানে থাকলে তবু বলতে পারতাম যে, হলে সীট পাইনি, তাই , এখানে থাকি । কিন্তু সূর্যসেনে তো কোন অযুহাত নেই । বাড়ি থেকে ফিরে গিয়ে দেখি আমার বিছানা পত্র সব পরে আছে । ডাইনিং হলের থাকার ব্যবস্থা সব বিড়ান পাথার । আমার এক ক্লাশ মিট শহীদুল্লাহ হলে সীট পেয়েছিল । ফলে কোন উপায়ান্তর না থাকায় বিছানা পত্র নিয়ে তার রুমে উঠে ডাব্লিং করতে শুরু করলাম । কিছুদিন কেটে গেল । সেই রুমে আমার ঐ বন্ধু ছাড়া দুইজন ছিল জামালপুর জেলার , অপর এক জন কোথাকার ছিল এতদিন পর এখন আর তা মনে নেই । জামালপুরের একটি ছেলে ছিল সে অংক শাস্র নিয়ে পড়তো ।তার স্বভাব ছিল একটু খিট মিটে । আমি ডাব্লিং করে থাকি এটা সে পছন্দ করতো না । কোন একটি বিষয় নিয়ে একদিন আমাদের মধ্যে খুব ঝগড়া হয়ে গেল । সে আমাকে ঐ রুমে কিছুতেই থাকতে দিবে না। আমি জোর করে থাকলে সে কি করতে পারতো সেটা তো পরের কথা । কিন্তু, যেহেতু আমি ওই হলের ছাত্র নই , সে হেতু আমার বন্ধুকে আমি কোন বিভ্রতকর অবস্থার মধ্যে রাখতে চাইলাম না ।আমি হলে নিয়মিত থাকা ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চলে এলাম । তার এক মাসের মধ্যেই আমার এই চাকরী হলো । আমি স্থায়ীভাবে শুধু হল থেকেই নয় , ঢাকা ভার্সিটি থেকেই বিদায় নিলাম । এক বৎসর সারদা ট্রেনিং এর পর আমার জামালপুর জেলায় পোষ্টিং হলো । সেখান থেকে সরিষাবাড়ি থানায় । সে কথা অবশ্য আগেই বলেছি । আমি প্রবেশনার মানুষ । একদিন এক এ,এস, আই, এর সাথে আমাকে ওয়ারেন্টের আসামী ধরতে পাঠানো হলো । একটি মামলার নতুন কিছু ওয়ারেন্ট এসেছিল । আমরা সেগুলোই তামিল করতে গেলাম । এই মামলায় ওয়ারেন্ট হয়েছে তা আসামীরা জানতো না । ফলে সকল আসামীদেরই বাড়িতে পাওয়া গেল। রাতেই সকলকে নিয়ে থানায় ফেরৎ এসে আসামীদের থানা হাজতে রাখা হলো । আমি রাত্রে সকল আসামীদের দেখিনি । আসামী যেহেতু বিশের অধিক সেহেতু ও,সি, সাহেব আদেশ করলেন একজন অফিসার সাথে যেতে হবে । কে আর যাবে আমারই সকলের চেয়ে কাজ কম । কাজেই আমার প্রতি আদেশ হলো সকল আসামীদের আমাকেই কোর্টে পৌঁছে দিতে হবে । আমি সকল আসামীদের রেডি করতে বলে ইউনিফর্ম পরে যখন অফিসে এলাম তখন দেখি আসামী নিয়ে এ,এস,আই, স্টেশনের উদ্দেশ্যে চলে গেছে । আমি তাড়া হুরা করে স্টেশনে পৌঁছে দেখি সকল আসামী নিয়ে ফোর্সেরা দাঁড়িয়ে আছে । নিকটে গিয়ে দেখি আসামীদের মধ্যে একজন সেই ছাত্র , যিনি শহীদুল্লাহ হলের রুম থেকে আমাকে চলে আসতে বাধ্য করেছিলেন । তাকে আমার ফোর্সেরা কোমড়ে রশি বেঁধেছে এবং হাতে হাত কড়া লাগিয়েছে । আমি তাকে দেখে তাড়া তাড়ি তার হাত কড়া ও কোমড়ের রশির বাধন খুলে দিলাম । তখন সে অপর একজন ব্যক্তিকে দেখিয়ে বললো-‘ওনি আমার বাবা ।’ আমি তার বাঁধন ও হাত কড়াও খুলে দিলাম । আমি তাকে বললাম—
‘ ভাই, যদি রাতে আপনাদের দেখতাম, তাহলে ছেড়ে দেওয়া যেত । কিন্তু এখন সকল প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেছে । এখন আপনাদের ছেড়ে দেওয়ার কোন কায়দা নেই ।আমার সাথে চলেন, আপনাদের কেউ হাত কড়া পরাবে না ।’
ফোর্সদের বললাম—
এই দুই জন আমার বিশেষ পরিচিত । তাদের হ্যান্ড কাফ লাগাতে হবে না ।তারা আমার দায়িত্বে যাবে ।’ তাদের আসামী হিসেবে নয় , আমার মেহমান হিসেবে ট্রেনের কামড়ায় আমার পাশে বসিয়ে নিয়ে গেলাম , আর ভাবলাম–হায়রে নিয়তি, হায়্রে আল্লাহ-তাআলার বিচার । সে আমার সাথে যে খারাপ আচরণ করেছিল , কে জান্তো যে, এমন একটি পরিস্থিতিতে পূনরায় তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হবে । আমার জীবনের প্রথম আসামী গ্রেফতার, সেও আবার সেই ব্যক্তি , যিনি এই চাকরিতে আসার মাত্র কয়েকদিন আগেই আমার সাথে খারাপ আচরণ করেছিল , আমাকে আশ্রয়হীন করেছিল । খোদা তাআলা আবার আমার হাত দিয়েই তাকে নিজের আশ্রয় থেকে সরকারি আশ্রয়ে নেওয়ালো । আমি ভাবলাম, তাকে দেখেই আমার যে রুপ সেদিনের কথা মনে পরে গেল, আমাকে দেখে তার ও কি সে দিনের কথা মনে পরছে না ? যদি মনে পরে থাকে তবে তার মনে কি প্রতিক্রিয়া হচ্ছে ? সে আমার সাথে খারাপ আচরণ করেছিল , তার বিনীময়ে আমি তার সাথে সব চেয়ে ভাল আচরণ করলাম । ভাল আচরণ দিয়ে তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলাম যে , প্রত্যেক বস্তুরই এপিঠ ওপিঠ আছে । আজকে যদি এ পিঠ দেখা যায় , তবে ঘূর্ণায়মান পৃথিবীতে পরদিন অপর পিঠ দেখা যাবেই ।কিন্তু আমরা সে কথাটি বুঝি না । যিনি পরিচালক , তিনি সবই বিঝেন সবই দেখেন । ভার্সিটির হলে সে ছিল ঐ রুমের বৈধ বর্ডার, আর আমি ছিলাম অবৈধ । তবে আমি তো ভার্সিটির ছাত্রই ছিলাম ।হয়তো যথা সময়ে আবেদন করতে না পারায় আমি সীট বরাদ্ধ পাইনি । সে ক্ষেত্রে সে আমাকে সাহায্য করতে পারতো । কিন্তু তা সে করেনি । কাজেই তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্যই হয়তো সৃষ্টিকর্তা আমাকে দিয়েই তাকে গ্রেফতার করিয়েছেন এবং আমার মাধ্যমেই তাকে কোর্টে প্রেরণ করিয়েছেন ।না হলে আমি তো তাকে রাত্রে দেখিনি । অন্যান্য দিনের মতো আসামী কোর্টে চলে গেলে হয়তো তার সাথে আমার আর কোন দিন দেখাই হতো না । আসলে আমার যাওয়ার কথা নয় । কারণ আমি সারা রাত রেড করেছি । আসামী নিয়ে যদি যেতেই হয় তাহলে অন্য কোন অফিসার যাবে । নিয়মানুসারে তাই হয় । যিনি রেড করেন , তিনি পরদিন ঘুমান । সে হিসেবে ঐ দিন আমার ঘুমানোর কথা । কিন্তু বিধির কি বিধান, সকল প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করে আমাকেই আসামী নিয়ে কোর্টে যাওয়ার আদেশ হলো । আর সেই সুবাদে আল্লাহ তাআলা আমার সাথে তার দেখা করিয়ে দিলেন ।

৫০৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top