Today 16 Oct 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব—-৪৫/৩ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ২০/১২/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 590বার পড়া হয়েছে।

কথায় বলে দুঃখের দিন সহজে যেতে চায়না । আর সুখের দিন কথা দিয়ে চলে যায় তা টেরই পাওয়া যায় না । আমার ছুটির সুখ কোথা দিয়ে কেটে গেল ঠিক যেন বুজতেই পারলাম না । মনে হয় যেন সেদিন বিমানে চড়ে হাওয়ায় ভেসে ভেসে দেশে ছুটে এলাম প্রিয়জনের সাথে মিলিত হওয়ার আশায় । ঘুরের মধ্যে যেন কেটে গেল দীর্ঘ একটি মাস । ঠিক যেন যে মাসে হাতের টাকা শেষ হয়ে যায় সেই মাস আর যেতে চায় না । কারণ মাস শেষ না হলেতো আর বেতন পাওয়া যাবে না । ছুটির বিষয়টিও যেন ঠিক তেমনি । আসতে আসতেই আবার যাওয়ার দিন এসে যায় । দুইদিন আগে বিমান বন্দর গেলাম টিকিট কনফার্ম আছে কিনা সেটা নিশ্চিত হতে । গিয়ে দেখি বর্ডিং পাস দেওয়া শেষ হয়ে গিয়েছে । কাতার এয়ার লাইন্সের সকল লোকজন বর্ডিং ব্রীজে চলে গেছে । অফিসে গেলাম । দেখি অফিস বন্ধ , তালা বদ্ধ । বুঝাগেল বর্ডিং ব্রীজের কাজ শেষ না হলে তারা কেঊ অফিসে ফিড়বে না । আমি তাদের অফিসের লনে দাঁড়িয়ে রইলাম । দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কোমড় ধরে এল । ঐ শিফটে আমার এক ব্যাচ ম্যান রানা ( ছদ্ম নাম ) ও, সি । সেখানে গেলে বসে রেষ্ট করে আসা যেত । কিন্তু তার রুমে আমার যেতে ইচ্ছে করলো না । সে দিন মেয়ের বিয়ের কার্ড দিতে গিয়েছিলাম । তাকে কার্ড দিলাম । সে তখনই বললো—–
‘ সে এখানকার অনেক ঝামেলায় আছে । কাজেই যেতে পারবে বলে মনে হয় না । তার কথা শুনে মনে হলো , এ যেন মাকে মামা বাড়ির গল্প শোনানোর মতো বিষয় । কারণ আমি তার আগেই উক্ত ইমিগ্রেশনে চাকরী করে এসেছি দীর্ঘ এক বৎসর । কাজেই সেখানকার কাজ কর্ম আমার নখদর্পনে । সত্যি সত্যিই সে বিয়েতে যায়নি । সে যে বিয়েতে আসবে না সেটা তার সেদিনের কথাতেই বুঝা গিয়েছিল । সব চেয়ে যে বিষয়টি আমার বেশী খারাপ লাগে , সেটি হলো , কেহ যদি অবৈধ ভাবে টাকা উপার্জন করে উক্ত টাকার জন্য গর্ব বোধ করে । রানার আচরণটা সেই রকম দেখাল । আমি তাকে দাওয়াত দিয়ে কথায় কথায় বললাম–
‘ দেখ, তোমরাতো টাকাওয়ালা মানুষ, আর আমারতো দিন আনতে পান্তা ফুড়ায় অবস্থা । কাজেই গরীবের মেয়ের বিয়েতে পারলে এস । ‘ সে বললো—
‘ গরীব আছ কেন ? ও, সি, গীরি করো নাই ? ও, সি, গীরি করে ঘোড়ার ঘাস কাঁটছ ? ‘ আমি বললাম—–
‘ কি আর করবো বলো । যার যা স্বভাব । আমিতো ও,সি, গীরি করেছি মানুষের জন্য , নিজের জন্য নয় । ‘ সে আমার কথা খুব একটা পছন্দ করলো বলে মনে হলো না । অথচ এই রানা সারদাতে এমন দুর্বল ছিল যে, প্রায়ই কান্না কাটি করতো । আমার পাশেই ছিল তার সীট । আমাদের মধ্যে একজন ক্যাডেট ছিল খুবই দুষ্ট । সে এসে রানাকে জালাতন করতো । তখন রানা কান্না কান্না ভাব করে বলতো—-
‘ রহমান, করিম আমাকে জালাচ্ছে, তুই ওকে কিছু বলবি না ।তখন আমি করিম বলে জোরে একটি ধমক দিতাম , আর করিম দৌঁড়ে পালাতো । আমরা কখনও ভাবতামই না যে, এই রানা কোন দিন ও, সি, গীরি করতে পারবে ।
আমার তখন পটুয়াখালী জেলার দুমকী থানার ও, সি, হিসেবে পোষ্টিং । একদিন সকালে দরজায় নক করতেই আমি দরজা খোলার জন্য এগিয়ে যেতে যেতেই ইউনিফর্ম পরা একজন লোক দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে গেল । আমি ভাল করে তাকিয়ে দেখি ইউনিফর্ম পরা লোক আর কেউ নয় , আমার সেই রানা । আমি বললাম—–
‘ আরে রানা তুই ? কেমন আছিস ? কোথায় আছিস ? কোথা থেকে এলি ? সে বললো–‘ তুমি তো আর আমার খোঁজ খবর রাখনা । আমি তোমার পাশের থানা বাখের গঞ্জের ও, সি । ‘ আমি ওবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললাম——
‘ রানা তুই ও,সি ? কি করিস ?’ সে বললো——-
‘ অবাক হচ্ছো কেন ? রানা আর সেই সারদার রানা নেই । রানা এখন মাসুদ রানা হয়ে গেছে । আমি সাড়ে তিন বৎসর যাবৎ বাখেরগঞ্জের ও, সি ।’ আমি অবাক হলেও মানতেই হলো যে, রানাও ও, সি । আজ সেই রানা দীর্ঘ দিন ডি, এম, পি’র বিভিন্ন থানায় ও, সি গীরি করে স্বদর্পে বসে আছে এবং আমাকে অবজ্ঞা করার মত অহমিকা রাখে । তার বড় মেয়েটি গোছল খানায় পরে গিয়ে মারা গিয়েছে । ফলে মানসিক কষ্টে আছে । যাই হোক তাদের এই জীবন আমার কাছে খারাপ লাগলেও কি যায় আসে । হয়তো সে সুখেই আছে । তাদের সুখের সজ্ঞা তো আমার জানা নেই । তবে আমি যাদের সুখের সজ্ঞা জানি না , তাদের থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করি । ইতোপূর্বে আমি তাকে দূর থেকে কয়েকবার দেখতে পেলেও ভাল মন্দ জিজ্ঞেস করতে কাছে যাইনি । কি জানি যদি অবজ্ঞা করে । আজও সে নীতির বাইরে গেলাম না । তাছাড়া সেদিন কার্ড দিতে গিয়ে তার আচরণ আমার ভাল লাগেনি । ভাব খানা এই রকম যে , মেয়ের বিয়ের জন্য আবার সাহায্য চেয়েই বসে নাকি । অথবা কেমন অ্যারেঞ্জমেন্ট কে জানে, সেখানে গেলে আত্মসম্মান বাঁচবে কিনা । তাই দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কোমড় ব্যাথা হলেও তার অফিসে গেলাম না । কাতারের লোকজন অফিসে এল । আমি অফিসে প্রবেশ করতেই দেখি , আমরা যখন এমিগ্রেশনে ছিলাম তখন মশিউর রহমান নামে এক ভদ্রলোক ছিলেন তিনি এখনো আছেন এবং তিনিই চেয়ারে বসে আছেন । আমি ছালাম দিতেই সৌভাগ্যক্রমে তিনি আমাকে চিনতে পেরে বললেন—–
‘ আরে বস, আপনি ? ‘ আমি বললাম—-
‘ আমাকে চেনার জন্য ধন্যবাদ । আপনার কাছেই একটি কাজে এসেছি । আমি তো এখন জাতি সংঘ মিশনে সুদান আছি । সেখান থেকে এক মাসের ছুটিতে এসেছিলাম । ১২ ডিসেম্বরের রিটার্ণ টিকিট আছে । টিকিটের কনফার্মেশন ঠিক আছে কিনা সেটা যাচাই করতেই এসেছি । টিকিট তাকে দিলাম । সে টিকিট দেখে বললো–
‘ হ্যা ঠিক আছে । তাছারা আপনি আসলে কনফার্মেশন না থাকলেও ঠেলে বিমানে তুলে দিতাম । ‘ তিনি আমাকে চা খাওয়ার জন্য খুব তোষামোদ করলেন । কিন্তু আমি চা খেলাম না । তবে তিন বৎসর আগের পরিচয় মনে রাখার জন্য খুব ভাল লাগলো । আমাদের পুলিশেরা সার্থ ছাড়া কোন কিছু খুব একটা মনে রাখে না । আমি বাসায় চলে এলাম । সুদান যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে । ১২ তারিখ রবিবার আমাদের যেতে হবে । এর মধ্যে আমার এক সহ যাত্রী এ, এস, পি ফোন করে জানালেন বিমানের টাইম এক ঘন্টা এগিয়েছে । আমি যেন এক ঘন্টা আগেই বিমান বন্দর যাই । আমি একটু আগেই বিমান বন্দর গেলাম । আমার ছেলে, মেয়ে, মেয়ে জামাই সকলেই বিমান বন্দর এসেছে । আমার স্ত্রীকে আমি আসতে নিষেধ করেছি । কারণ সে আসলে অশ্রুভেজা চোখে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকবে এস আমি মোটেই সইতে পারি না । সেই দৃশ্য আমাকে দীর্ঘ দিন ভোগাবে । চোখ বন্ধ করলেই সেই দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠবে । তার চেয়ে সেই চোখ না দেখে আসাই ভাল । মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলাম কয়েকবার । আমি আসলে আমার স্ত্রীকে খুব ভাল বাসি । অবশ্য স্ত্রীকে সকলেই ভাল বাসে । কিন্তু সেকথা ঢোল পিটিয়ে কখনো বলিনি । আজ চুপি চুপি বলে ফেললাম । আমরা বিমানে উঠে ঊড়ে ছলে এলাম দোহা বিমান বন্দরে । আসলে বিমানের এই ট্রাঞ্জিট এই জন্য যে, দোহা থেকে সুদান যাওয়ার তেমন একটা যাত্রী থাকে না । ফলে অন্য দেশ থেকে আগত বিমান যাত্রীদের জন্যই এই অপেক্ষা । দুই ঘন্টা পর অন্য একটি বিমানে যে প্যাসেঞ্জার এল তাদের সহ আমরা সমবিভাহারে সুদানের খারতুম বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে পূণরায় উড়ে চললাম । দুই বিমানের যাত্রী একত্রে হওয়া সত্যেও বিমানের অর্ধেক সীটও পুরণ হলো না । কাজেই শোয়ে বসে আমরা খারতুম চলে এলাম । এসেই রেন্ট-এ কার-এ করে হোটেলে এসে নামার সাথে সাথেই গাড়ী ভাড়া নিয়ে গোল মাল । চালকদের অতিরিক্ত দাবী পরে দুই পাউন্ড করে দিয়ে সমাধান করা গেল । পর দিন ভোরে প্রথম ফ্লাইটেই আমাদের আলফেশার হয়ে আল জেনিনা যাওয়ার কথা । যাতে বিমানে কোন সমস্যা না হয় সেই কারনে ছুটিতে যাওয়ার দিনই মুভমেন্ট অর্ডার জমা দিয়ে রিসিভ করিয়ে নেওয়া হয়েছিল । যাতে এসেই পর দিন ফ্লাইট পেতে কোন অসুবিধা না হয় । যে ভয়ে এত কিছু করা হলো বিমান বন্দর এসে দেখা গেল সর্ব প্রকার সতর্কতা গ্রহন করা সত্যেও সে দিনের প্যাসেঞ্জার তালিকায় আমাদের নাম নেই । কেন নাম নেই জানতে চাইলে সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানালো মুভকন অফিস হতে আমাদের নামের তালিকা তাদের নিকট পাঠানো হয় নি । অতএব অদ্যকার মতো যাত্রা বিরতি । তখন মুভকন অফিসে গিয়ে অনেক জগড়া ঝাটি করে পরদিন কার জার্নি নিশ্চিত করা গেল । তখন বারবার সেনেগালের কমান্ডারের কথা মনে পড়লো । তিনি এই মিশনের লোকদের কাজ কর্মের ধরণ দেখে মন্তব্য করেছেন —
‘ এটা কোন ভদ্র লোকের মিশন নয় । এটা একটা ডংকী মিশন । ‘ আফ্রিকান দের কাজ দেখে আমারো তাই মনে হলো । এদেশে আমাদের দেশের লোকের চেয়েও দ্বায়ীত্বহীন লোক বড় বড় পদে বসে আছে । আমরা তিনটা নাগাদ আমাদের ক্যাম্পে এসে পৌঁছলাম ।

৫৮৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top