Today 14 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব——-৪১/২ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ২৩/০৮/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 632বার পড়া হয়েছে।

মামলা রুজ্জুর পরই আমি ঘটনা স্থলে চলে গেলাম । ঘটনা স্থল পৌঁছে বাদীর দেখানো মতে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করলাম । ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্র তৈরী করলাম । মামলার তদন্ত তদারকী করার জন্য আমার সাথে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব গিয়েছেন । তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করলেন । আমি ঘটনাস্থল চষে বেড়াতে থাকলাম বস্তুগত আলামত খুঁজে বের করার জন্য । গোপনে আশে পাশের কিছু লোকদের জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হলা যে , এই বাড়িতে আদৌ কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি । ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো । যে ১০ জনকে আসামী করা হয়েছে তাদের সাথে বাদীর জমি জমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতা আছে । ঐ সময় বিতর্কীত জমিতে সোনালী ধান স্বর্ণাভ আলো ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে । এই মূহুর্তে অপর পক্ষকে একটি মিথ্যা ডাকাতি মামলায় জড়িয়ে দিতে পারলে অতি সহজেই ধান গুলো কেটে ঘরে তোলা যাবে । এবং ঐ ধান বিক্রীর টাকা দিয়েই মামলার তদবীর করা যাবে । কিন্তু সমস্যা হলো লোকের মুখে জানা এই কথা দিয়েতো আর ঘটনা মিথ্যে প্রমান করা যাবে না । কারণ ঘটনা ঘটেনি এর সমর্থনেও যেমন সাক্ষী আছে , তেমনি ঘটনা ঘটেছে এর সমর্থনেও বাদীর তৈরী করা সাক্ষী আছে । কাজেই ঘটনা মিথ্যা এটা প্রমান করার জন্য অন্য কোন তথ্য উদ্ঘাটন করা দরকার । আর এ ক্ষত্রে বস্থুগত স্বাক্ষর চেয়ে নির্ভরযোগ্য আর কিছু নেই । ফলে আমি একবার ঘরের ভিতর, একবার ঘরের বাহির ঘুড়তে লাগ্লাম । হঠাৎ করে আমার নজরে এল , যে ঘরে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে , সে ঘরের উত্তর পাশে একটি বারান্দা আছে । বারান্দায় একটি মাত্র দরজা । বারান্দায় কিছু মালামালও আছে । কিন্তু বারান্দার দরজায় একটি পাল্লা নেই । যে দরজায় একটি পাল্লা নেই সেই বারান্দায়তো মালামাল থাকার কথা নয় । আমি বাদীকে জিজ্ঞেস করলাম —
বারান্দায় মালামাল আছে , অথচ দরজায় পাল্লা নেই কেন ? বাদী বললো—
‘ দরজায় পাল্লা ছিল স্যার । রাত্রে পাল্লা লাগানো ও ছিল । দাকাতেরা পাল্লাটি স্বজোরে লাথি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে । ‘ আমি বললাম—
পাল্লাটি কোথায় ?
‘ বাইরে , ঐ গাছের নিচে রেখেছি । ‘
চলেনতো , দরজাটি দেখি । বাদী আমাকে নিয়ে রেখে দেওয়া পাল্লার কাছে গেল । আমি পাল্লাটি ভাল করে দেখলাম । দেখা গেল , পাল্লার নিচের দিকে কোন কব্জা লাগানো নেই । উপরের পাশের কব্জাটি মোড়ানো । কব্জা মোড়ানো দেখেই আমার মনের মধ্যে সন্দেহ দানা বেঁধে উঠলো । আমি জিজ্ঞেস করলাম—-
পাল্লাটি এখানে আসলো কিভাবে ? বাদী বললো—
‘ ডাকাতেরা যাওয়ার পর আমি উটা এখানে এনে রেখেছি ।
ঠিক আছে এবার এটা নিয়ে চলুন তো দরজার কাছে । বাদী পাল্লাটি নিয়ে দরজার কাছে এলে আমি পাল্লাটি দরজার ফ্রেমের যেখানে লাগানো ছিল ঠিক সেখানে সেট করে ধরলাম । দেখা গেল—–
প্রথমত —পাল্লাটি লাগানোর পর পাল্লার উপর দিয়ে এক হাত পরিমান জায়গা ফাঁকা থাকে । যদি কেহ দরজাটি বাহির থেকে খুলতে চায় তাহলে অতি সহজেই উপর দিয়ে হাত ডুকিয়ে খুলতে পারবে । তাহলে এই দরজা দিয়ে কেহ ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে পাল্লা ভাঙ্গার কোন দরকার পরে না ।
দ্বিতীয়ত— দরজার যে পাল্লাটি তখনো ফ্রেমের সাথে লাগানো ছিল সেটির সাথে এখনো খিল লাগানো আছে । খিলটি অতিশয় দূর্বল । কাজেই কেহ যদি দরজার বাহির থেকে আঘাৎ করে তাহলে প্রথমেই খিলটি ভেঙ্গে যাওয়ার কথা । কারণ দরজার মাঝে আঘাৎ করলে সেই আঘাৎ দরজার দুই পাশের চেয়ে মাঝে চাপ দিবে বেশী । ফলে দরজার কবজা খোলার আগে খিল ভেঙ্গে যাওয়ার কথা । কিন্তু এখানে দুর্বল খিলটি পাল্লার সাথে লাগানোই আছে ।
তৃতীয়ত—- খিল যদি মজবুত হয় তাহলে যে কাঠ পিসের সাথে খিল লাগানো থাকে সেই কাঠ পিস ভেঙ্গে যাবে । কিন্তু এ দরজার দুটি পাল্লাতেই কাঠ পিস যথাযথ ভাবেই লাগানো আছে ।
চতুর্থত—- যদি বাহির থেকে স্বজোরে আঘাৎ করার ফলে দরজার পাল্লা দরজা থেকে খসে থাকে , তাহলে সরাসরি খসে আসবে । কিন্তু এই পাল্লার কবজাটি ছিল মুড়ানো ।অর্থাৎ পাল্লাটির নিচের অংশে কোন কবজা ছিল না । পাল্লার নিচের অংশ ধরে অপর পাল্লার দিকে উঁচু করার ফলে কবজা বাঁকা হয়ে মুড়িয়ে গিয়ে খসে গিয়েছে ।
পঞ্চমত—- দরজার খিল লাগানো অবস্থায় দরজার পাল্লা উপরের দিকে মুড়ানো যাবে না । একটি পাল্লা মুড়াতে হলে , প্রথমে খিল খুলতে হবে, তার পর পাল্লা মুড়ানো যাবে । পাল্লাটি মুড়িয়ে খোলার দুটি দুটি উপায় হতে পারে —-
এক—-ঘরের ভিতরের লোকেরাই ভিতির থেকে খিল খোলে তার পর পাল্লাটি মুড়িয়ে খুলেছে ‘
দুই——বাহির থেকে ডাকাতেরা দরজার উপর দিয়ে হাত দিয়ে দরজা খোলে ঘরে ডুকে পরে পাল্লাটি মুড়িয়ে খোলে রেখে যেতে পারে । এ ক্ষেত্রে দ্বিতীতায় কারণটি মোটেই গ্রহন যোগ্য নয় । কারন ডাকাতেরা যদি দরজার উপর দিয়ে হাত দিয়ে দরজা খোলে ঘরে ডুকে থাকে , তা হলে ঘরে ডুকার পর বারান্দার দরজার পাল্লা মুড়িয়ে খোলা তাদের কোন প্রয়োজনই ছিল না । তাহলে অর্থ এই দাঁড়ায় যে , ডাকাতেরা এই দরজা খোলেনি । বাদীর এজাহারে বর্ণিত লাথি দিয়ে দরজা ভেঙ্গে ফেলার ঘটনা সঠিক নয়, ডাকাতির ঘটনা মিথ্যে এবং সাজানো । দরজা ভাঙ্গার ঘটনা যদি সত্য না হয় তাহলে ডাকাতেরা ঘরে ঢুকলো কিভাবে ? অর্থাৎ বাহির থেকে কেহ ঘরে ঢুকেনি । তার অর্থ ডাকাতির কোন ঘটনাও ঘটেনি । এই মামলার ঘটনা যে মিথ্যে তা প্রমান করার মতো শক্তিশালী তথ্য আমার হাতে এসেছে , এ কথাটা তখন ও বাদীকে বুঝতে দিলাম না । আমি স্বাক্ষীদের জিজ্ঞাসা বাদ করার জন্য এক জায়গায় বসলাম । আমার এক পাশে স্থানীয় মেম্বার ও অন্য পাশে বাদীকে বসালাম ।আমাদের থেকে একটু দূরে সকল স্বাক্ষীদের একত্র করে বসালাম । তার পর সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলাম ।আমি জানি স্বাক্ষীরা সকলেই মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে এসেছে । কাজেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিভাবে সত্য ঘটনা বেড়িয়ে আসে সেইটা দেখার জন্যই বাদী ও মেম্বাকে পাশে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলাম । জিজ্ঞাসাবাদে এক এক স্বাক্ষীরা এক এক ধরনের সাক্ষ্য দিতে থাকলো । হয়তো এক জনে বললো তার মায়ের গহনা তার সামনেই ‘ক’ নামীয় ডাকাত নিয়েছে, অন্য জনে বলছে, সে ঐ রুমেই ছিল, ডাকাত ‘খ’ তার চোখের সামনেই তার মায়ের গহনা নিয়েছে । বাদীর স্ত্রী বললো—ডাকাতেরা তার কান থেকে গহনা খুলে নেয়নি । ডাকাতেরা চাওয়ার পর তিনি নিজে হাতেই গহনা খোলে দিয়েছেন । তিনি বললেন— তার রুমে দুই জন ডাকাত ঢুকেছিল। অন্য একজন লোক বললেন– উক্ত রুমে একজন ডাকাত ঢুকেছিল । বাদীর এক ছেলে বললো তারা দুই ভাই এক রুমেই ছিল । ডাকাত এসে ঘরের দরজা ভাংলে তারা তাদের মায়ের রুমে চলে আসে । বাদীর স্ত্রী বলে ডাকাতেরা ঘরে ঢুকেই তার দুই ছেলেকে তাদের রুমে আটকে রাখে । কাজেই তারা তাদের রুম থেকে বের হতে পারেনি । কেহ বললো ‘গ’ নামীয় ডাকাত ঘরে ঢুকেছিল, কেহ বলে ‘গ’ নামীয় ডাকাত বাইরে দাঁড়িয়েছিল, ঘরে ঢুকেনি । কেহ কেহ বললো ডাকাতেরা ডাকাতি শেষে দক্ষিন দিকে চলে গেছে । কেহ কেহ বললো ডাকাতি শেষে ডাকাতেরা উত্তর দিকে চলে যায় । ভিন্ন ভিন্ন স্বাক্ষী এই রুপ ভিন্ন ভিন্ন স্বাক্ষ্য প্রদান করলো । আমি বাদী এবং মেম্বারকে বললাম — ঘটনা যদি সত্যিই ঘটে তবে সে ঘটনা যত জনেই দেখুকনা কেন সবাই একই জিনিস দেখতে পাবে । আর যদি কোন ঘটনা না ঘটে থাকে তবে সেই তৈরী করা ঘটনার বর্ণনা বিভিন্ন জনে বিভিন্ন রকমই দিবে । একের সাথে অন্যের মিল কোন দিনই হবে না । কারণ ঐ সকল বর্ণ নাতো কোন বস্তু বা সংঘটিত কোন ঘটনা দেখে বলেনা । জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা নিজেদের তৈরী করা কথা নিজের ইচ্ছে মতো বলে । আমি এক এক জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষ হলেই তাকে চলে যেতে দিলাম না । তাদেরকে অন্য এক জায়গায় বসিয়ে রাখলাম । কারণ সকল স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষ হওয়ার আগেই যাদের স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষ হয়েছে তাদের ছেড়ে দিলে স্বাক্ষ্য প্রদান করা স্বাক্ষীরা গিয়ে নতুন স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য প্রদানের বিষয়ে সচেতন করে ফেলে । স্বাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে আমি সকল স্বাক্ষীদের ডাকলাম । এলাকার কতিপয় নেতৃস্থানীয় লোকদেরো ডাকলাম । তাদের ডেকে সকলের সামনে স্বাক্ষীদের জবান বন্দীর বিষদ বিবরন দিলাম । তারা সকলেই বললো ঘটনা সঠিক নয় । তখন তাদেরকে বারান্দার দরজার কাছে নিয়ে এসে দরজার পাল্লাটি কেন ডাকাতেরা ভাঙ্গেনি সেই সম্পর্কে সকল যুক্তি তোলে ধরলাম । উপস্থিত লোকদের জিজ্ঞাসা করলাম —
আপনারাতো সব শুনলেন । এখন আপনারাই বলুন, এই দরজার পাল্লা ডাকাতেরা ভেঙ্গেছে কিনা ? সকলেই বললো —
‘ না ডাকাতেরা ভাঙ্গেনি , এই বাড়ির লোকেই ভেঙ্গেছে । তাহলে এই বাড়িতে কি কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে আপনাদের মনে হয় ? সকলেই এক বাক্যে জানালো না কোন ডাকাতি হয়নি ।এতা একটা সাজানো ঘটনা । তাদের সাথে আসামীদের জমি জমা নিয়ে মোকদ্দমা আছে সেই জন্য একটি ডাকাতির ঘটনা সাঝিয়ে বিরুধী পক্ষকে শায়েস্থা করার চেষ্টা করা হয়েছে ।এই ডাকাতির ঘটনা মিথ্যা ঘোসনা দিয়ে আমি চলে এলাম ।

৬৩২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    বরাবরের মতো ভালো লাগা জানাচ্ছি

    শুভ কামনা রইল

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল পর্বটি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top