Today 22 May 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব—–৪২/৩ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ১৪/০৯/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 451বার পড়া হয়েছে।

শোন , আমি নিজে গিয়ে তোমাকে দাওয়াত দিয়ে আসতে পারবো কিনা জানিনা । কারন, বুঝতেই তো পারছো , আমি একা মানুষ । তবে তোমার ঠিকানায় কার্ড পাঠিয়ে দিব । বাপ বেটাকে সাথে নিয়ে চলে আসবে । সকল খরচ আমার। আসার পরে পেমেন্ট ।
‘ আবার বাপকে বুঝা বয়ে আনতে হবে কেন ? ‘
ও মা তাও জান না ? যার জন্য আমি হৃদয় হাড়া তাকে একবার শায়েস্তা করবো না । কার্ডটা ওর নামেই পাঠাবো , তোমার নামে নয় । তোমাকে তো মুখে বললাম, আবার বলবো , বলবো শতবার । কিন্তু তাকে দাওয়াত পত্র না দিলে মনে মনে অখুশী হবে । আর তাতে করে তোমার আসাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে ।
‘ বন্ধ হয়ে যেতে পারে মানে ? সে আসতে দিতে চাইলেই আমাকে মানতে হবে নাকি ? সে আসবে কি আসবে না সেটা তার ব্যপার । আমি কি করবো সেটা আমিই বুঝবো । ‘
শোন শালিকা , জীবন মানেই সমঝোতা , জীবন মানেই সংগ্রাম । আবার জীবন মানেই সব কিছু মেনে চলা । দুজনার সমঝোতার মাধ্যমে যে সংগ্রামে জয়ী হওয়া যায় সেটাই তো সুখ । সেই প্রাপ্তিই তো আত্মতৃপ্তির প্রাপ্তি । তুমি নিজেকে তা থেকে বঞ্চিত রাখতে চাও কেন ?
‘ জানি না , এত কিছু আমার আর ভাবতে ভাল লাগে না । ভাবতে বসলে সামনে আশার আলো দেখতে পাই না । মনে হয় যেন সামনে শুধুই অন্ধকার , কৃষ্ণ গহবর । যেখানে হাড়িয়ে যেতে পারে বিশ্বের সব কিছু । ‘
আলো তাড়িয়ে বেড়ায় অন্ধকারকে । অন্ধকার অনুসরন করে আলোকে । তুমি এই আলো আধারির খেলায় হতবিহব্বল হয়ে আছ । একবার নিজেকে শক্ত করে নড়া চড়া করে দেখ , দেখবে সামনে অন্ধকার দেখলে পিছনে আলো । আর পিছনে অন্ধকার থাকলে সামনে আলো । আলোর বিপরিতেই তো অন্ধকার থাকে । আর অন্ধকারের বিপরিতেই থাকে আলো । তুমি হাল ছেড়ে দিয়ো না । এই আলো আধারির সন্ধিক্ষণ থেকে বেরুলেই দেখবে আলোর মিছিল । ডাকছে তোমায় তাদের দলে ভিড়তে , জীবনকে উপভোগ করতে । আচ্ছা তোমার পিচ্চির কি খবর , বলতো ? কেমন আছে সে ? ছেলে একখান বটে একেবারে মায়ের ডুপ্লিকেট । মায়ের কথা মনে করে ছেলেকে আদর করলেও পোষিয়ে নেয়া যায় ।
‘ আছে ভালই । কিন্তু দুঃশ্চিন্তার সময়তো এল বলে । বয়স তো পাঁচ চলছে ।
কিচ্ছু ভেব না । আরো এক বছরতো হাতে আছে । এর মধ্যে একটা ব্যবস্তা হয়ে যাবে ।
আপনি যে কোথায় এত ব্যবস্তা দেখেন বুঝিনা । আমি দেখি সামনে চিনের প্রাচীর , আর আপনি সেই প্রাচীর ডিঙ্গানোর জন্য অতি সহজেই একটা সিড়ি খোঁজে পান ।
আছে, আছে, কথায় বলেনা ‘ যত মুশকিল, তত আহসান ।বিপদ দেখে ভয় পেলেতো তা থেকে উদ্ধারের রাস্তা খোঁজে পাওয়া যায় না । বরং বিপদে ধৈর্য ধরে তাকে মোকাবেলা করাই বুদ্ধিমানের কাজ । আর হ্যা, তুমি মনে মনে রেডি থেকো । আমি দেশে ফিড়েই তোমার সাথে যোগা যোগ করবো । আজ রাখি । খোদা হাফেজ ।
খোদা হাফেজ । ভাল থাকবেন ।
সুমনার অভিমানী রাগই বলে দেয় যে, সে তার স্বামীকে খুব ভাল বাসে । ক্ষণিকের যে ঝড় তাদের জীবনে বয়ে যাচ্ছে , তা হচ্ছে এক দিকে তার আত্নীয় সজনদের বৈরী ভাব তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে । আর তার স্বামী নতুন সংসার পেতে আর্থিক টানা পোড়েনের মধ্যে পরে নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারছে না । একটু ভাল্বাসা ও একটু সহানুভূতির মাধ্যমে তাদের জীবনটা , জীবনের স্বাভাবিক স্রোতের মধ্য দিয়ে আসতে পারলেই সব ঠিক হয়ে যাবে । সুমনা তার আজন্ম অর্জিত ভাল বাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে যার ভাল্বাসাকে গ্রহন করেছিল সেই ভাল বাসা থেকে অতি সামান্য অবহেলাও তার হৃদয়টাকে দগ্ধ করে । আর তখনই পুরনো দিনের সেই বাবা মার ভালবাসা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে । কাজেই জীবনের এই সন্ধিক্ষণে তাকে পর্যাপ্ত ভালবাসা দিয়ে টিকিয়ে রাখার কোন বিকল্প নেই । তার মনের মধ্যে জাগিয়ে রাখতে হবে , সে শেষ হয়ে যায় নি । এখনো সে অনেক কিছু করতে পারে ,এখনো অনেক মানুষ তাকে ভালবাসে ।

৪৫১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল পড়ে

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য । শুভ কামনা ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top