Today 17 Jul 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে –পর্ব–৭

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ১৪/০৬/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 419বার পড়া হয়েছে।

আমরা যে এলাকার জন্য মিশনে এসেছি সে এলাকার নাম আল জেনীনা । সুদান রাষ্ট্রের দারফোর প্রদেশের একটি এলাকা । িবমান থেকে নেমে যে ট্র্যানসিট ক্যাম্পে এসেছি তার নাম নিয়ালা ট্র্যানসিট ক্যাম্প । আল জেনীনা নিয়ালা থেকে ৫ শত কি, মি, দূরে অবস্থিত । জানতে পারলাম আল জেনীনা শব্দের অর্থ সবুজ । অর্থা সমস্ত সুদান মরুভূমি তার মধ্যে দার ফোর প্রদেশের আল জেনীনা এলাকায় সবুজের সমারোহ আছে । এজন্যই এ ধরনের নাম করণ ।ভোর ৬.০০ টার মধ্যে আমাদেরকে এ ক্যাম্প ছেড়ে আল জেনীনা যাওয়ার জন্য পূণরায় নিয়ালা বিমান বন্দরে যেতে হবে । আজকের বিমান ছোট । কাজেই ৬৫ জন একত্রে যাওয়া যাবে না । যাওয়া যাবে মাত্র ৩৫ জন । কাজেই আমাকে ৩৫ জনের একটি তালিকা দিতে বলা হলো । আমি ৩৫ জনের একটি তালিকা দিয়ে দিলাম । তালিকা অনুসারে ৩৫ জনের মালামাল গাড়িতে তোলা হলো । সেখান থেকে আর একটি বিমানে আল জেনীনা যেতে হবে । ফলে ভোরে উঠলাম এবংযাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে ৬ টার মধ্যেই নাস্তা সেরে নিলাম । সকাল বেলা অভূক্ত অবস্থায় বের হওয়ার মত ভুল আর করতে চাই না । আমরা মাইক্রোবাসে এবং ট্রাকে করে নিয়ালা বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম । আমরা এক রাতের ট্র্যানসিট ক্যাম্প পিছে ফেলে নিয়ালা বিমান বন্দরের দিকে ছুটে চললাম । অল্পক্ষণের মধ্যেই নিয়ালা বিমান বন্দরে পেৌঁছে গেলাম এবং বিমানের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম । বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন লোক আমাদের নিকট থেকে প্যাসেন্জার লিষ্ট নিয়ে নিল । আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে থাকলাম । নতুন দেশ সম্পর্কে নানা কথা আলাপ আলোচনা চলতে থাকলো । আমি এবং ডাক্তার সকালে নাস্তা করে এসেছিলাম । কিন্তু অন্যদের নাস্তা করানো সম্ভব হয়নি । কাজেই তাদেরকে এম, আর ই দিয়েছে ।জানতে পারলাম এম আর ই মানেই আপদ কালীন খাবার ।২/৪/৬ ইঞ্চি মাপের একটি প্যাকেট । বিমানের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে প্রায় ১২ টা বেজে গেল । কম বেশী ক্ষুধায় আক্রান্ত হলাম সবাই । কাজেই যাদের কাছে এম আর ই ছিল তারা সকলেই এম আর ই প্যাকেট খুলে ফেললো ।ভিতরে দুটি টিনের কৌটা মাঝাড়ী াাকারের । ছোট াাকারের একটি । একটি ছোট চুলা । আগুন জালানোর জন্য তিনটি করে ট্যাবলেট । এক প্যাকেট ম্যাচ বাতি । দুই প্যাকেট বিস্কুট । দুইটি লম্বা ক্যাটবেরী চকোলেট । চা এক প্যাকেট ।কফি এক প্যাকেট । চিনি চার প্যাকেট । লবন দুই প্যাকেট ্ মশলা দুই প্যাকেট । শরবৎ বানানোর পাউডার এক প্যাকেট পানি শোধন করার ট্যাবলেট এবং আরো অনেক কিছু । বড় আকারের কৌটা দুটি খুলে দেখা গেল – তার একটিতে খিচুড়ী, অন্যটিতে বিভিন্ন প্রকার ডাল এবং সবজি দিয়ে চটপটির মতো রান্না করা । ছোট কৌটাতে রান্না করা মাছ । অনেকেই প্যাকেট খুলে চুল্লী জ্বালিয়ে খাবার গরম করলো এবং সবার মধ্যে বিতরণ করলো । ক্ষুধা পেটে খেতে খারাপ লাগলো না । জানতে পারলাম মিশনে কর্মরত কোন গ্রেুপ যদি খোথাও আটকা পরে তবে যতক্ষণ তাদের উদ্ধার করা না যায় ততক্ষণ তাদেরকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে এই খাবার সরবরাহ করা হয় । বিপদে পড়লে যাতে এই খাদ্য খেতে অসুবিধা না হয় সে কারণে প্রতি মাসে দু দিন এই খাদ্য প্রদান করা হয় । যাতে বিপদের আগেই এই খাদ্য খেয়ে অব্যাস তৈরী করা যায় । এ জন্যই এর নাম আপদ কালীন খাবার ।
অপেক্ষা করতে করতে যখন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার যোগার হলো তখন সংবাদ এল ৩৫ জন একত্রে যাওয়া যাবে না । কারণ যে বিমানে যাওয়ার কথা ছিল , সে বিমানের উভয় পাইলটই অসুস্থ হয়ে পরেছেন । কাজেই হেলিক্প্টারে যেতে হবে । প্রথম ট্রিপে ২০ জন এবং পরের ট্রিপে ১৫ জন যেতে হবে । প্যাসেন্জার তালিকা হতে প্রথম ক্রমিকের ২০ জনের মালা মাল হেলিকপ্টারে তোলার আদেশ হলো । আমরা সিরিয়ালের প্রথম ২০ জন মালামার নিয়ে হেলিকপ্টারে উঠলাম । বাকিরা সেখানেই অপেক্ষা করতে থাকলো ।তারা একত্রে আসতে না পারায় খুবই দু:খ প্রকাশ করলো । কিন্তু আমার করার কিছুই ছিল না । সিরিয়ালের এক নম্বরে আমার নাম । কাজেই আমি প্রথম ২০ জনের মধ্যেই চলে এলাম । অবশ্য আমি ইচ্ছে করলে অন্য কাউকে পাঠিয়ে দিয়ে আমি থাকতে পারতাম । িকন্তু সমস্যা হলো , আমি ব্যক্তিগত ভাবে এক জন ইন্সুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস এর রোগী । র্দীঘ সময় খাবার না খেলে আমার সুগার ফল করে আমি বিপদজনক অবস্থায় চলে যাব । জীবণ মরণ সমস্যাও হয়ে যেতে পারে ।সব দিক চিন্তা করেই আমাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হলো । কারণ নিয়ালা বিমান বন্দরে আমাদের জন্য খাবার বলতে কিছু ছিল না । তা ছাড়া আমাকে বলা হয়েছিলএই হেলিকপ্টারই ফিরে এসে তাদের নিয়ে যাবে । শুধু সময় একটু আগে আর পরে । কিন্তু বিধি বাম । আমরা চলে আসার পর আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায় এবং আমার রেখে আসা ১৫ জন ঐ দিন আর আসতে পারেনি । তাদেরকে পূণরায় ট্র্যানসিট ক্যাম্পে ফিরে যেতে হয়েছিল । এখানকার আবহাওয়ার মর্জি বুঝার ক্ষমতা আমার কেন কারোর ই নেই । অনেকবার গল্প শুনেছি ইংল্যান্ডের আকাশ আর ইংলিশ মেয়েদের মন এক রকম । ক্ষণে ক্ষনেই রং বদলায় ।বুঝার সাধ্য কারও নেই ,কখন পাল্টাবে ।
সুদানে এসে দেখছি মরু ঝড়ের কোন নিয়ম কানুন বা পূর্বাভাস কিছু নেই । যখন তখন শুরু হয়ে যেতে পারে । বিনা মেঘে বজ্রাপাত কথাটা এখানে অত্যান্ত প্রযোজ্য । হেলিকপ্টারে উঠার পর একজন ক্রো জানিয়ে দিলেন হেলিকপ্টারে ব্রমন করা অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যাবহার করা যাবে না ।অথচ আমরা কি পরিমান বেহায়া যে াাধ ঘন্টা চলার পর পরই আমাদের সাথের একজন ইন্সপেক্টর মোবাইল ফোনে কথা বলতে শুরু করলো । হেলিকপ্টার থেকে নামার পর আমি লক্ষ করলাম উক্ত ইন্সপেক্টর অন্যদের নিকট স্বগৌরবে বলছে যে , সে হেলিকপ্টার থেকে দেশে কথা বলেছে । ভাল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় । একজন মানুষ কতটা বেহায়া হলে একটা অপরাধ করে সেই অপরাধ জনিত কাজটার কথা নির্লজ্জের মতো অন্যের কাছে বলতে পারে । আসলে আমাদেরকে ানেক সময় বলা হয়ে থাকে যে,মানুষ শত চেষ্টা করেও তার গন্ডি থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে না । আমরা যারা নিজেদেরকে আধুনিক বা প্রগতিশীল বলে দাবী করি তারা কিন্তু মোটেই এ কথা মানতে চাই না । আমাদের বক্তব্য হলো মানুষ তার শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তার নিজের পরিবর্তন করতে পারে । একেবারে কেহই পারেনা তা
বলা ঠিক নয় । তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যে লোক দীর্ঘ দিন কোন একটা পরিবেশে বেড়ে উঠে ঐ পরিবেশের চাল চলন, কথাবার্তা স্বভাব চরিত্র তার মজ্জাগত হয়ে যায় । ফলে পরবর্তী সময়ে কোন না কোন কাজের মাঝে তার স্বভাব বেড়িয়ে আসে । আমার এই ইন্সপেক্টরের অবস্থাও হয়েছে তাই । সে কনস্টবল থেকে ইন্সপেক্টর হয়েছে বটে , কিন্তু পদ অনুসারে তার মনের বিকাশ ঘটেনি ।
হেলিকপ্টারে আসার সময় নিচের দিকে তাকিয়ে পৃথিবীর পৃষ্ঠভাগ দেখলাম । শত শত কি,মি, তার মধ্যে কোন মনুষ্য বসতির চিহ্ন নেই ।মাঝে মাঝে ছোট খাটো কুড়ে ঘরের মতো দেখা গেল । কোথাও কোথাও নদীতে স্রোত বয়ে গেলে যে রুপ দেখা যায় তেমন দেখা গেল । জানতে পারলাম আসলে ঐ গুলি নদী নয় । হয়তো শত বছর , হাজার বছর আগে নদী ছিল । পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে নদী শুকিয়ে গেছে । প্রতি বছর বর্ষার সময় এ দেশে বৃষ্টি হয় । সেই বৃষ্টির পানির সাথে হাজার হাজার টন বালি গড়িয়ে পরে নদীতে । কাল ক্রমে এক সময়কার কড়স্রোতা নদী ভরাট হয়ে মরে গেছে । বর্তমানে শুধু নদী তার স্মৃতি বুকে আগলে পড়ে আছে । হেলি কপ্টার থেকে সারা মরুভূমি জুরে ছোট খাটো গাছ গাছড়া দেখা গেল । আমরা যারা ভূপৃষ্ঠ থেকে কোন হেলিকপ্টার আকাশ দিয়ে উড়ে যেতে দেখি তখন দেখা যায় চোখের পলকে হেলিকপ্টার খানা এক এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যায় । কিন্তু হেলিকপ্টারে উঠে ব্রমন করতে থাকলে মনে হয় াামরা যেন দীর্ঘ সময় ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি । কাজেই নিয়ালা থেকে আল জনীনা পর্যন্ত আসতে বসে থাকতে থাকতে কোমর ব্যাথা হয়ে গেল । আমরা এক ঘন্টা চল্লিশ মিনিট উড়ে এসে আল জেনীনা বিমান বন্দরে অবতরণ করলাম । চলবে——

৪৫৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৮ টি মন্তব্য

  1. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম ভাইয়া । ভাষা সাবলীল । কাহিনীতেও অনেক গতি আছে । চলুক —- সাথে আছি ।

  2. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    চমত্কার স্মৃতিচারণ রহমান ভাই। আপনাদের লেখা , সবার কম্প্যানি এত মিস করছি। আমি আসলে ঘুমের সময় ও পাছিনা ইদানিং। লাইফ টা কে অস্বাভাবিক করে ফেলছি। কোন কিছু ম্যানেজ করতে পারছিনা।

  3. প্রহেলিকা মন্তব্যে বলেছেন:

    আগের পর্বগুলো পড়ে আসতে হবে। সময় করে ধীরে ধীরে পড়ে নিবো। শুভ কামনা।

  4. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বলে খুশী হলাম । শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top