Today 25 Jan 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে–(পর্ব–৯)

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ২৯/০৬/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 721বার পড়া হয়েছে।

ভাওয়াল মধুপুর মালভূমির গঠন প্রকৃতিই একটু অন্যরকম । এক সময় এ ই সব এলাকায় বড় বড় টিলা ছিল । হয়তো সেটা শত বছর , হাজার বছর , বা লক্ষ বছর আগেও হতে পারে । যুগের পর যুগ ধরে বৃষ্টি হতে হতে টিলা গুলির পানি দুই টিলার মাঝ খান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে স্রোতের বেগে চলে যেত সাগর পানে । আর এই স্রোতের কারণেই তৈরী হয়েছিল পাহারের পানি বাহিত নদী গুলি । ভাওয়াল মধুপুর মালভূমি এলাকায় প্রতি বছর প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি হয় । এই বৃষ্টির পানি টিলা গুলির মাটি ধুয়ে নিয়ে যায় নদীতে তথা সাগরে ।কাল ক্রমে টিলা গুলি নিচু হতে থাকে । আর পাহার ধৌত মাটিতেই গড়ে উঠে দক্ষিণ এলাকার পলি গঠিত সমতল ভূমি । বর্তমানে এই এলাকায় দুই ধরনের ভূমি । উচু ভূমি এবং উচু ভূমির মাঝখান দিয়ে ক্রমান্বয়ে ঢালু নিচু ভূমি । জরিপের কাগজ পত্রে যে জমিকে চালা ও নাল জমি বলে ্ আমাদের এলাকায় উচু ভূমিকে চালা এবং নিচু ভূমিকে বাঈদ বলে । আবার বাঈদ থেকে যে সব শাখা উঠে গেছে সে গুলোকে বলে ঘুনি । বৃষ্টির পানিতে টিলার মাটি ধুয়ে টিলা নিচু হওয়ার সাথে সাথে টিলা বিদৌত মাটি পড়ে নদী গুলি ভরাট হতে থাকে । ছোট নদী ও খাল গুলি ভরাট হয় মানুষের হাতের ছোঁয়া পেয়ে । ৩/৪ শত বছর বা তারও আগে মানুষ যখন এ এলাকায় বসবাস শুরু করে তখন দুই টিলার মাঝের বয়ে যাওয়া নালার দুই পাশ থেকে মাটি কেটে নালার খাদে ফেলে দেয় । ফলে নালার খাদ ভরাট হয়ে গভীরতা কমে কিন্তু প্রসস্থতা বাড়েএবং ঘুনি নাম ধারণ করে আবাদী জমিতে পরিনত হয় । আদি কালের কৃষকেরা এই সব নালার মাঝে মাঝে বাঁধ দিয়ে বর্ষার পানি আটকিয়ে রোপা আমন ধানের চাষ করতে শুরু করে । একই উপায়ে মাটি ধৌত হয়ে নদীতে পড়ে এবং ছোট ছোট নদী গুলো ভরাট হয়ে বাঈদ নামে রোপা আমন ধানের কৃষি জমিতে পরিনত হয় ।
যাক যে কথা বলছিলাম , ভয় না পাওয়ার কথা । আমি যখন হাই স্কুলে পড়ি , তখন আমাদের এলাকায় ঘন বন ছিল । বনের মাঝে তখন বাঘ ছিল না , তবে বাঘ থাকার প্রচারনা ছিল । হয়তো বড়রা ছোটদের একটা ভয়ের মধ্যে রাখার জন্যও এ প্রচারনা করে থাকতে পারে , অথবা দুর্বল চিত্তের কোন মানুষের দ্বারাও এ প্রচারনা হয়ে থাকতে পারে । অথবা ছেচড়া চোরেরাও তাদের নিজেদের সুবিধার জন্য এমন প্রচারনা চালিয়ে থাকতে পারে , যাতে রাত্রে কোন মানুষ ঘরের বাইরে না থাকতে পারে । এতে তাদের কাজ কর্ম চালিয়ে যাওয়ার সময় কোন মানুষের সামনে পড়তে না হয় । তখনকার বনে বাঘ ছিল না এ কথা সত্য , তবে শুকর থেকে শুরু করে অন্যান্য বন্য প্রাণীরা তখনও স্বদর্পে রাজত্ব করে যাচ্ছে । আমার এক চাচাতো ভাই আমার চেয়ে সাড়ে তিন বছরের বড় । কিন্তু সে আমার সাথে একই ক্লাশে পড়তো । পরীক্ষার রেজাল্টে প্রত্যেক বছরই আমি তার চেয়ে এক সিরিয়াল আগে থাকতাম । পড়ার সময় দেখা যেত সে অনবরত পড়ার উপরই আছে । সঙ্গত কারণেই আমার উপর চাপ আসতো । আমার অভিবাবকেরা বলতেন—“ ফরহাদ সব সময় পড়ে, আমি পড়িনা কেন? “ ফরহাদ আমার ক্লাশে পড়া সেই চাচাতো ভাই ।আমি কিছুতেই বুঝতে পারতামনা ফরহাদ সারা দিন এত কি পড়ে ? পরীক্ষা করার জন্য আমি রাত ১০ টা পর্যন্ত পড়ে তার পর ঘরের দরজা বন্ধ করে বেড়িয়ে পরতাম কে, কি পড়ে বিশেস করে ফরহাদ এত কি পড়ে দেখার জন্য ।গ্রাম দেশের রাত ১০ টা মানেই গভীর রাত । রাত ১০ টার পর বেড়িয়ে যেতাম বলেই ভাববেন না যে , বিষয়টি এত সহজ ছিল । এলাকায় বন্য পশুর ভয়তো ছিলই তা ছাড়া ভূতের ভয়ের প্রচারনা ছিল খুবই বেশী । বড়দের মধ্যেই অনেকে ছিল যারা প্রচার করতো , তারা নিজের চোখে ভূত দেখেছে । অমাবশ্যার রাতে অথবা বৃষ্টি ভেজা আলো আধারী জো রাতে , যাকে আমাদের এলাকায় মাইল বলে , সে সকল রাতে ঐ সকল লোকেরা দেখেছেন – এক চোখওয়ালা ভূত , নীচ কান্দা ভূত , মাইচ্ছা ভূত এদেরকে রাস্তার এপার উপার দুই গাছে দুই পা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে ।কাজেই ভয়ের বস্তুর অভাব ছিল না । তাছাড়া আমাদের এলাকায় যখন প্রথম বসবাস শুরু হয় , তখন এক এক বংশের লোকজন একত্রে এক জায়গায় বাড়ি বানিয়ে বসবাস শুরু করে । দিন যত যেতে থাকে বংশ তত বাড়তে থাকে । ফলে একত্রে বসবাস করা আর সম্ভবহয়ে উঠে না । আমার বাবাও উক্ত যৌথ বাড়ি থেকে আমাদের নিয়েপ্রায় এক কি , মি , দূরে এসে নতুন বাড়ি করে পুরাতন বাড়ি সথেকে আমাদের নতুন বাড়ির যে দূরত্ব তা ছিল ঘন বনে ঢাকা । দিনেই সে এলাকা পার হতে অনেকে ভয় পেত । আমি এই তের চৌদ্দ বছর বয়সের কিশোর একা একা গভীর রাতে ঐ বনের ভিতর দিয়ে ভূতের মতো ফরহাতদের বাড়ি চলে যেতাম । ফরহাদ যে ঘরে পড়ে সেই ঘরের বেড়ার বাইরে দাড়িয়ে শুনতাম সে এত রাত ভর কি পড়ে ? দেখা যেত রাত ভর কষ্ট করে সে যে পড়া পড়ছে , সে পড়া গুলো আমি ইতো মধ্যেই পড়ে শেষ করে রেখেছি । আমার এ কথা বলার ইদ্দেশ্য এই যে ছোট বেলাতেও আমার ভয়ের অনুভূতি তেমন ছিল না । তখন গ্রামের মানুষ গুলো ফুরফুরে মেজাজে থাকতো । এখনও পিছনের দিকে তাকালে মনে হয় , তখনকার মানুষ গুলো একে অন্যের প্রতি ছির অনেক সহসশীল । সবার সাথে সবার মনের খুব মিল ছিল । কেউ কারও ক্ষতির চিন্তা করতো না । সেই গল্পের মতো গোয়াল ভরা গরু , গোলা ভরা ধান ,ও নদী ভরা মাছ নিয়ে তখনকার লোকেরা খুবই সুখে ছিল ।চলবে——-

৭১৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    চালিয়ে যান

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ । ভাল থাকুন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top