Today 19 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে (৯-৩ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ১৬/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 914বার পড়া হয়েছে।

যাই হোক আমাদের এলাকার মাছ ধরা নিঢয় কথা হচ্ছিল । সে সময়ে আষাঢ় মাসে যখন বৃষ্টি হতো তখন উচু ভূমির পানি গড়িয়ে নেমে ঘুনি ও বাঈদ পানিতে ভরে টই টম্বুর হয়ে যেত । টিলার পানি ঘুনিতে , ঘুনির পানি বাঈদে এবং বাঈদের পানি নদীতে পড়ে সারা বাঈদ পানিতে ভরে সাগরের মতো সাদা হয়ে যেত । সেই পানিতেই নদী হতে আষাঢ় মাসের শাড়ী পরা ডিমওয়ালা মাছ গুলো উজান বেয়ে চলে আসতো ঘুনি পর্যন্ত । যখন ঘুনির পানি কমতে শুরু করতো তখন মাছেরা বিপদের গন্ধ পেয়ে স্রোতের পানির সাথে পূনরায় ভাটির দিকে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করতো । প্রত্যেক বাঈদ ও ঘুনিতে এপার উপার আইল আছে ক্ষেতের পানি আটকে রাখার জন্য । উক্ত আইলের যেখানে ভাঙ্গা আছে সেখান দিয়ে পানি ভাটির দিকে নামে ।সেই আইলের ভাঙ্গা স্থানে আমরা তিন কানি জাল দরে মাছ ধরতাম । আমাদের দেশে উক্ত তিন কানি জালিকে ঠেলা জালি বলে । সে জালি গুলো দিয়ে খাল বা নালা থেকে মাছ ধরার সময় পানির নিচ দিয়ে সামনের দিকে ঠেলতে হয় এবং কিছুক্ষণ পর পর পানির উপরে তুলতে হয়,জালে মাছ আটকা পড়েছে কিনা দেখতে । কিন্তু আষাঢ়ে ঢলের পানিতে মাছ ধরার সময় শুধু মাত্র আইলের ভাঙ্গা স্থলে যেখান দিয়ে পানি নেমে যাচ্ছে সেখানে ধরে রেখে কিছুক্ষণ পর পর উপরে তুললেই মাছ পাওয়া যায় । অবশ্য শুধুমাত্র কিছুক্ষণ পর পর তুললেই মাছ পাওয়া যেত তা কিন্তু নয় । পানির স্রোতে জালি ধরে জালির মধ্যে বাম হাতের আঙ্গুল ঠেকিয়ে রাখলে পানির সাথে মাছ এসে জালিতে ঠেকলেই টের পাওয়া যেত । আর জালিতে মাছের টোকা টের পাওয়ার সাথে সাথেই জালি তুলতে হতো , না হলে মাছ চলে যেত । কোন কোন সময় মাছে খালই ভরে যেত । সব আইলেই আবার একই রকম মাছ পাওয়া যেত না । যে সকল আইল ভাঙ্গায় মাছ বেশী পাওয়া যেত , সেই সকল জায়গার চাহিদা ছিল বেশী । কাজেই নিয়ম করা হয়েছিল , এক জন কেউ খালি জায়গা পেয়ে মাছ ধরতে শুরু করলে তাকে সেখান থেকে তুলে দেয়া যেত না । তার কারণও ছিল । কোন আইল ভাঙ্গায় জালি ধরতে হলে সেই জায়গা তৈরী করতে হতো । উক্ত আইলের অন্য যত গুলি ভাঙ্গা াাছে সব বন্ধ করতে হতো । যাতে অন্য কোন জায়গা দিয়ে মাছ বেড়িয়ে যেতে না পারে । কাজেই বুঝতেই পারছেন জালি ধরার একটি জায়গা তৈরী করতে কতটা পরিশ্রম করতে হতো । কাজেই আমরা নিয়ম করেছিলাম কেহ যদি একটি জায়গা তৈরী করে সেখানে মাছ ঘধরে এবং ঐ দিন আবার মাছ ধরার ইচ্ছে করে তবে দখল হিসেবে উক্ত স্থানে খুটি গেরে তার খালই ঝুলিয়ে রেখে আসবে । খালই ঝুলানো দেখলে অন্য কেহই আর সেখানে জালি পাতবে না । আমার মাছ ধরার কোন নেশা ছিল না । কিন্তু আমার বড় ভাইয়ের মাছ ধঘরার খুব ই নেশা ছিল । এই জালি পেতে সাধারনত ই শেষ রাতে মাছ বেশী পাওয়া যেত । কিন্তু আমার বড় ভাইয়ের সাহসের একটু কমতি ছিল । সে একা যেতে ভয় পেত । তার ধারনা ছিল একা একা মাছ ধরতে গেলে তার কাছে মেছু ভুত আসতে পারে । কাজেই তিনি আমাকে সাথে নিয়ে যেতেন । একদিন সকালে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে । বিকেলে বড় ভাই রওয়ানা হলেন জালি খালই ও দা নিয়ে একটি জায়গা ঠিক করতে । আমরা সারা বিকাল ধরে কষ্ট করে একটি আইলের সকল ভাঙ্গা স্থান গাছ কেটে পুতে দিয়ে বন্ধ করলাম । ইচ্ছে ছিল সন্ধ্যা নাগাদ খালই খানা খুটির মধ্যে ঝুলিয়ে রেখে চলে যাব । কিন্তু সমস্যা হলো সন্ধ্যা নাগাদ পানি কমে আসায় জালিতে বেশ মাছ ধরা পরতে থাকলো ।ফলে বেশ গভীর রাত পর্যন্ত আমরা মাছ ধরলাম । এখন সমস্যা হলো এই খালইতে মাছ থাকায় খালইটি ঝুলিয়ে রাখতে পারলাম না ।ভোর রাতে এসে দেখি আমাদের জায়গায় কে যেন খালই ঝুলিয়ে রেখেছে । খালই দেখেতো বড় ভাইয়ের মাথা খারাপ ।রাতে এই জায়গা থেকেই বেশ মাছ পাওয়া গিয়েছে । সকালে আরও বেশী মাছ পাওয়ার কথা । কাজেই বড় ভাইয়ের তো মাথায় হাত । কি করা যায় ? আর কোথাও কোন ভাল জায়গা এই মূহূর্তে পাওয়ার কায়দা নেই ।কারণ এখন কোন নতুন জায়গা তৈরী করে সেখান থেকে মাছ ধরতে চাইলে ততক্ষণে মাছ ধরার সময়ই পার হয়ে যাবে । মনের দু:খে বড় ভাইয়ের মুখের দিকে আর তাকানো যাচ্ছিল না । আমি কোন উপায়অন্তর না দেখে খালই সহ খুটি তোলে ছুড়ে মারলাম পানির স্রোতে ।স্রোত খুটি সহ খালই ভাসিয়ে নিয়ে গেল । বড় ভাই বললেন—
“এটা কি করলি ? “
আমি বললাম আমরা এখানে কোন খালই দেখিনি ।জায়গা খালি পেয়েছি, তাই জাল পেতেছি । আর কোন বিকল্প ব্যাবস্থা না থাকায় বড় ভাই চুপ মেরে গেলেন এবং পানিতে নেমে জাল পেতে মাছ ধরতে শুরু করলেন । ঘন্টা খানেক পর এক লোক এলেন । এসেই উক্ত স্থানে তিনি খালই বেঁধে রেখেছিলেন বলে দাবী করলেন । আমরা বললাম –আমরা এসে এখানে কোন খালই দেখিনি । মনে হয় চোরে নিয়ে গিয়েছে । খালই থাকলে তো আর আমরা এখানে জাল পাততাম না । বাধ্য হয়ে লোকটি চলে গেলেন । সকালে দেখি সেই লোক ভাটিতে কোন এক ক্ষেত থেকে তার খালই কুড়িয়ে পেয়েছেন । আমাদের নিকট এসে বললেন—“আমার খালই খুটি সহ স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ।“
আমরা নির্ঝন্জাটে মাছ ধরে বাড়ি ফিরলাম । বিষয়টির মধ্যে ছোট কাট অপরাধ ছিল বটে কিন্তু পরবর্তী সময়েএ ঘটনা বলে বেশ মজা করেছি আমরা । এ রকম হাজর ঘটনায় ভরে আছে আমাদের শৈশব , কৈশোর এবং যৌবন কাল ্

৮৯৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল লেখা রহমান ভাই। কেমন আছেন ?

    অনেক ধন্যবাদ শুভেচ্ছা জানবেন। ভাল থাকবেন।

    • এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

      ভাল আছি ।ছোট আপু ,ব্লগে আপনার আগ্রহ দেখে অবাক হই ।এত সময় ও এত প্রাণ শক্তি পান কই ? শুভ কামনা । ভাল থাকবেন ।

  2. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম —দারুণ !!

  3. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    ’এরকম হাজার ঘটনায় ভরে আছে আমাদের শৈশব, কৈশোর ও যৌবনকাল’, ভাল বলেছেন ভাই।
    অনেক ধন্যবাদ।

  4. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    শুব কামনা । ভাল থাকুন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top