Today 26 May 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ২৯/০৫/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1018বার পড়া হয়েছে।

মাইক বেজে উঠলো –“ সকলে বেল্ট পরে নিন । আমরা এডেন বিমান বন্দরে আধ ঘন্টার জন্য নামবো । “তড়ি ঘড়ি করে বেল্ট পরে নিলাম এবং জানালা দিয়ে নিচে তাকিয়ে রাতের শহর দেখলাম । জানতে পারলাম এটি ইয়েমেনের একটি বিমান বন্দর । আলোক সজ্জায় মনে হলো শহরটি অনেক বড় । কিন্তু তখন গভীর রাত হওয়ায় এবং বিরতির সময় একেবারেই কম হওয়ায় বিমান থেকে নামা হলো না ।
বিমানে উঠার পর এক দফা খাবার পরিবেশন হয়ে গিয়েছে । বিমানে এ সময় নাস্তা পরিবেশন করে । তাই বলে ভাববার কোন কারণ নেই যে, নাস্তার পরিমান একেবারে কম । বাঙ্গালী খাদক আমরা , তার পরও নাস্তার সব আইটেম শেষ করা গেল না । এডেন বিমান বন্দরে আধ ঘন্টা বিরতির পর পুনরায় রান ওয়ে ধরে দেৌড়াতে শুরু করলো আমাদের বিমান । পাখা মেলে নিজেকে ভাসিয়ে দিল দৈত্যাকৃতির বিমানটি । ভেসে চললাম আমরা সুদানের পথে । পূর্ব দিগন্তে তখন সূর্য উকি মারতে শুরু করেছে । সূর্যের রক্তিম আভায় রঞ্জিত হতে শুরু করেছে পূর্বাকাশ । উদিয়মান সূর্যের রক্তিম শুভেচ্ছা গ্রহন করতে না পেরে মনটা আনচান করে উঠলো । আমাদের নিয়ে বিমানটি মেঘের ছাদ ভেদ করে উপরে উঠে গেল । পৃথিবীর নাগাল থেকে আমরা অনেক উপরে উঠে গেলাম । ধরিত্রী আমাদের ছেড়ে দিয়ে যেন হৃদয় ভারাক্রান্ত মায়ের মতো পরে রইলো ছেলে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়ে মলিন বদনে । বিমান থেকে মেঘের উপরি ভাগ দেখে মনে হচ্ছিল এটি ই যেন মরুপ্রান্তর । সূর্য তখন মেঘ স্তরের নিচে । ফলে সূর্যের আলো মেঘ স্তর ভেদ করে উপরে উঠতে না পারলেও তা মেঘ রাশিকে নিজের রঙে রাঙিয়ে দিতে কোন রুপ কার্পণ্যতা দেখায় নি । মরুভূমিতে দিনের পর দিন মরু ঝড় হয়ে হয়ে বালি কণাকে তাড়িয়ে নেওয়ার কারণে মরু পৃষ্ঠ যে রুপ উচু নিচু হয় এবং উক্ত মরু পৃষ্ঠে সূর্যের আলো পড়ে যেমন আভা ছড়াতে থাকে বিমান থেকে মেঘের উপরি ভাগ তেমনি অপরুপ সেৌন্দর্য প্রতিভাত হচ্ছিল । দৃশ্যপট অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর । ধরে রাখার লোভ সামলানো মুশকিল । ছেলের দেওয়া ক্যামেরায় বন্ধী করে নিলাম অনিন্দ্য সুন্দর দৃশ্য গুলো । বিমানে তিনজন বিমান বালা এবং তিন জন করে ক্রো দেখতে পেলাম । ইয়েমেনের এডেন বিমান বন্দরে ক্যাপটেন সহ সকল স্টাফ বদল হলো । নতুন সেট এলো, তারা সকলেই জর্দানের লোক । মুনেছি বিমান বালারা খুবই সুন্দরী হয় । ঢাকা বিমান বন্দর ইমিগ্রেশনে কর্মরত থাকা কালে কোন কোন এয়ার লাইন্সের বিমান বালাদেরকে সুন্দরী দেখেছি । কিন্তু াাজকের বিমান বালাদের সুন্দরী মনে হলো না । যদিও প্রাকৃতিক কারণেই তাদের গায়ের রং ফর্সা বটে, কিন্তু তারা সুন্দরী নয় । অবশ্য ফর্ষা হলেই যদি কোন মেয়ে মানুষকে সুন্দরী বলা হয় তা হলে আমার বলার কিছু নেই । সুন্দরীর কোন সজ্ঞা আছে কিনা তা আমার জানা নেই । এক এক জন মানুষ এক এক জনের চোখে সুন্দর ।অবশ্য সারা দুনিয়াতেই সুন্দরী প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয় । কিন্তু আমার জানা মতে ঐ সকল সুন্দরীদের সাধারন লোকেরা কোন দিনই সুন্দরী বলে পছন্দ করে না । এ প্রসঙ্গে আমাদের এলাকার এক অশিক্ষিত ব্যক্তির কথা মনে পরে গেল । সে তাদের গ্রামের এক মেয়েকে ভাল বেসে ফেললো । ছেলের বাবা এবং আমাদের দৃষ্টিতে মেয়েটি একান্তই অসুন্দরী এবং কুৎ সিত । তার বাবা বিবাহ করানোর জন্য নানা জায়গায় মেয়ে দেখতে শুরু করলন । কিন্তু কোন মেয়েই তার পছন্দ হয়না । নার্গিসকেই তার পছন্দ ।বিয়ে যদি করতেই হয় তাহলে সে নার্গিসকেই বিয়ে করবে । কোন উপাযান্তর না দেখে ছেলের বাবা শেষ পযর্ন্ত আমাদের দারস্থ হলেন । যাতে আমরা তার ছেলেকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে অন্যত্র বিয়ে করতেরাজি করাই । আমরা সকলে তাকে বুঝাতে চেষ্টা করতে থাকলাম । মেয়ের চেহারার বর্ণনা তুলে ধরেও নানা উক্তি ও যুক্তি দাঁড় করাতে থাকলাম। সত্য মিথ্যা মিলিয়ে মেয়ের বংশধরদের নিয়েও কতুক্তি করতে ছাড়লাম না । কিন্তু কোন দাওয়াইতেই কাজ দিচ্ছিল না । কিছুতেই যখন কিছু হচ্ছিলনা তখনএকদিন আমরা সকলে মিলে তাকে ধরে বললাম–
আচ্ছা মিঠু ভাই আমাদের বলতো—এই মেয়ের মধ্যে তুমি কি দেখতে পেয়েছ, যার জন্য তুমি তাকে ত্যাগ করতে পারছো না ।তখন মিঠু ভাই দৃপ্ত ভঙ্গিতে বললো—
“ তোমরা তার সেৌন্দর্য খুঁজে পাওনা । আমার চোখ দুটি তোমাদের চোখে লাগিয়ে দেখ , তবেই তার সেৌন্দর্য দেখতে পাবে । “ আমরা হাল ছেড়ে দিলাম । তার বাবা তাকে ঐ মেয়ের সাথেই বিয়ে দিল । আমরা জানা মতে ঐ দম্পতি এখনও বেশ সুখেই আছে । কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কালো মেয়ের রুপ খুঁজে পেয়েছিলেন তার কালো হরিণ চোখে । কাজেই কে যে কার রুপ কোথায় খুঁেজ পায় তা বলা মুশকিল । আমি অধম সেৌন্দর্য খুঁজে বের করে উপভোগ করার ক্ষমতা আমার নেই ।তাই বিমান বালাদের মধ্যেও কোন সেৌন্দর্য আমি খুঁজে পেলাম না । কথা দিয়ে রাখলাম পরবর্তী ভ্রমন গুলোতে আমি বিমান বালাদের সেৌন্দর্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো । তবে তাদের যাত্রী সেবার কোন কমতি দেখলাম না । বিমান বালাদের যাত্রী সেবায় ইংরেজী ভাষা জানা খুবই বেশী বলে শুনেছি । কিন্তু এ বিমানের বিমান বালাদের ইংরেজী ভাষা ব্যবহারের একটি টেকনিক দেখলাম । তাতে তাদের খুব বেশী ইংরেজী ভাষা জানার দরকার আছে বলে আমার মনে হলো না ।। অন্তত: ডিউটি চালিয়ে নেওয়ার জন্যতো নয়ই । তাই বলে আমি একথা বলছি না যে , ঐ বিমানে যে সকল বিমান বালা ছিল তারা ভাল ইংরেজী জানে না । একথা ঠিক যে , ইংরেজী তাদেরও মাতৃ ভাষা নয় । ইংরেজী কম শব্দ ব্যবহার করে তাদের ডিউটি চালিয়ে নেওয়ার টেকনিকের কথা আমি বলছিলাম । ধরা যাক বিমান বালারা নাস্তা পরিবেশন করলো । তার পর নিয়ে এল তরল পানিয়ের ট্রলি । কাছে এসে জানতে চাইলো – – ড্রিংক—ইয়েস ?- নো ? সে কিছুতেই বললো না যে, ডু ইউ ওয়ান্ট ড্রিংক ? কেহ ইয়েস বললে তাকে ড্রিংক দিচ্ছে আর নো বললে –পুনরায় জিজ্ঞসে করছে জুইস, কফি, টি ?যদি কেহ বলে জুইস । তবে সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আবার বলছে জুইস ? ইয়েস ? দেখা যায় ইয়েস , নো ভেরী গুড এ কয়টি শব্দ দিয়েই কি সুন্দর ভাবে তাদের ডিউটি চালিয়ে যাচ্ছে । এবার পুনরায় ঘোসনা হলো –
“ আমরা নায়লা বিমান বন্দরে নামতে যাচ্ছি । সকলে সীট বেল্ট পরে নিন । “ আমরা যে যার মতো সীট বেল্ট পরে নিলাম ।জর্দানীয় বিমানটি দারফোর -২ দারফোর-৩ এবং সেনাবাহিনীর একটি টীম সহ প্রায় ৩০০/৩৫০ জন যাত্রী নিয়ে নায়লা বিমান বন্দরে অবতড়ন করলো ।তখন সুদানী ঘড়িতে বেলা ১০.৩০টা । আমরা দীর্ঘ ১৩ ঘন্টা পর পুনরায় পৃথিবীর মাটিতে পা রাখলাম । ।

১,০৭৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভাই ।

  2. আলতাফ হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    দুই পর্বই পড়েছি। বর্ণনা ভাল লেগেছে।

  3. গুলশনারা মন্তব্যে বলেছেন:

    মাঝে মাঝে আমাদের স্মৃতি রমান্থন করতে ভালই লাগে। সুন্দর হয়েছে।

  4. ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার লেখা নিয়মিত আশা করছি। আসুন সবাই এখানে প্রতিদিন কিছু না কিছু লিখি আর অন্য যারা লিখেন তাদের উৎসাহ দেই। ভাল থাকুন সবসময়।

  5. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর হয়েছে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top