Today 26 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

সয়ম্ভুনাথ মন্দির বা মাঙ্কি টেম্পল

লিখেছেন: রুবাইয়া নাসরীন মিলি | তারিখ: ১৮/০৪/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 921বার পড়া হয়েছে।

বুকের ভিতরটা এমন ধরাস ধরাস করছে যে নিজের হার্ট বিট নিজেই শুনতে পাচ্ছি  । একটা একটা করে পাথর কাটা সিঁড়ি বেয়ে উঠছি আর মনে মনে আল্লাহ কে বলছি এই শেষ আর আমি এই সিঁড়ি বেয়ে উঠব না ।

প্রথমবার যখন এসেছিলাম শিক্ষা সফরে তখনকার কথা আমি ভুলি নাই । তাই এবার প্ল্যান ছিল দশ বিশটা ধাপ উঠে ছবি তুলে থেমে যাব। ঝুমিকে আমার পরিকল্পনার কথা বলা মাত্র সেও রাজি হয়ে গেল । কিন্তু বিধিবাম আমাদের থেমে যেতে দেখে দৌলত জি বুঝে ফেললেন যে আমরা উপরে উঠতে চাচ্ছি না । ব্যাস অমনি শুরু করলেন উপদেশ ,এখন না পারলে আর কখন । তাড়াতাড়ি উপরে উঠ । আমি একবার মিনমিন করে বলতে চাচ্ছিলাম যে আমি তো আগেও এসেছি কিন্তু উনি কোন কথা শুনলেন না । কি আর করা নিরুপায় হয়ে তাই উঠতে শুরু করলাম সয়ম্ভুনাথ  মন্দিরের সিঁড়ি বেয়ে ।

swayambhunath-temple (1)

নভেম্বর এর শীত ,ঢাকার শীত না কাঠমান্ডুর শীত । তাপমাত্রা নয় কি  দশ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড  আর সাথে সাইবেরিয়ার হিমেল বাতাস । এর মাঝেও আমাদের কপালে দেখা দিল চিকন ঘামের রেখা । সবগুলা ধাপ যেমন তেমন শেষ কয়েকটা একেবারেই খাড়া ধাপ ।

swayambhunath-temple

যাইহোক তারপরও কষ্টেসৃষ্টে উঠে এলাম সয়ম্ভুনাথ মন্দিরের চত্বরে ।  ঘন ঘন শ্বাস ফেলছি আর ভাবছি আহ বাচলাম , এরপর শীতের পোশাক খুলে বেঞ্চিতে বসে দু দণ্ড বিশ্রাম । অল্প কিছুক্ষণের মাঝেই সব ঠিক হয়ে গেল । সকালের রোদটা বেশ লাগছিল । প্রচুর লোকজন এসছে যার মাঝে পর্যটকই বেশী ।উঠে দাড়িয়ে তাকিয়ে দেখি কাঠমান্ডু উপত্যকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাড়িঘর ।

DSC01231

 মন্দির চত্বরে  প্রচুর বানর দেখতে পেলাম ।

shutterstock_67156744

এখানে অনেক দোকানি  তাদের পশরা সাজিয়ে বসেছে ।

Swayambhunath, Shop

এই মন্দিরটি অনেক বড় । এখনে এক কাশ্মীরী ভদ্রলোক এর রেস্তরা আছে একেবারে চূড়ায় । এই মন্দির এর প্রবেশ পথ অবশ্য দুইটা । এক হল যেটা দিয়ে আমরা   উঠে এলাম ,পাহাড়ের পূর্ব দিকে এর অবস্থান  আর তিনশ পঁয়ষট্টি ধাপের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় আর একটা হল দক্ষিন পসচিম  দিকে । সেখানে গাড়ি নিয়ে অনেক দূর উঠা যায় ।মাত্র  বিশ/ বাইশটা ধাপ পেরোতে হয় ।

DSC01265

এই মন্দিরকে ঘিরে আছে ইতিহাস আর  চমৎকার এক পৌরাণিক উপাখ্যান ।  পৌরাণিক উপাখ্যান । স্বয়ম্ভু মানে নিজে নিজেই সৃষ্টি অর্থাৎ যা কেউ তৈরি বা সৃষ্টি করেনি ।স্বয়ম্ভু পুরাণ অনুযায়ী এক সময় এই পুরো  উপত্যকা জুড়ে ছিল এক বিশাল হ্রদ যার মাঝে জন্মাল এক সুন্দর পদ্ম ফুল । পুরাণ অনুযায়ী মঞ্জুশ্রি ,যিনি কিনা শিক্ষা ও জ্ঞান এ বোধিসত্ত্ব ছিলেন ,তিনি এই পাহাড় উত্থিত করেন । এই পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে  সয়ম্ভুনাথ মন্দির ।

Swayambhunath_Stupa_(Népal)_(8405631416)_(2)

মঞ্জুশ্রি একবার সেই পদ্ম ফুলকে   পূজা করতে গিয়ে দেখেন এই অঞ্চল মানুসের বসতি হিসাবে গড়ে উঠতে পারে আর তাহলে এখানে এসে মানুষের পূজা করতে সুবিধা হবে । তাই সে করল কি লেক এর মাঝে একটি নালা কেটে দিলেন আর সমস্ত পানি লেকের বাইরে বের হয়ে গেল । এই লেকের  পরে গড়ে উঠল কাঠমান্ডু শহর । সেই পদ্ম টি হয়ে গেল পাহাড় আর  এই হ্রদে ছিল এক চিরন্তন শিখা যার উপর  পরবর্তীতে স্টুপা তৈরি করা হয় ।

  DSC01240

এই মন্দির মাঙ্কি টেম্পল নামেও পরিচিত আর এ নিয়েও উপাখ্যান আছে সয়ম্ভু পুরাণে ।

DSC01271

মঞ্জুশ্রি একবার চুল অনেক লম্বা করেন আর তখন তার মাথায় অনেক উকুন হয় আর সেই উকুনগুলোই পরবর্তীতে বানরে রূপান্তরিত হয় । তাই বৌদ্ধ ধর্মালম্বিরা এই শাখামৃগ দের পবিত্র বানর মনে করে ।

এত গেল পৌরাণিক গল্পগাথা কিন্তু ইতিহাস অনুযায়ী স্বয়ম্ভু নাথ নেপালের পুরাতন স্থাপনার গুলোর মাঝে অন্যতম । এই টেম্পল এর প্রধান বা বড় গম্বুজ টি সমগ্র বিশ্ব কে প্রতিনিধিত্ব করে। যখন একজন মানুষ পৃথিবীর মোহ মায়া কাটিয়ে জ্ঞানের চোখ খুলে তখন সে আলোকিত মানুষ হিসাবে গড়ে উঠে । এ জন্য তাকে তেরটি  আধ্যাত্মিক ধাপ অতিক্রম করতে করতে হয় ।

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

এই স্টুপায়  জোড়া চোখ আছে যা কিনা জ্ঞান আর সমবেদনা প্রতিনিধিত্ব করে । এর উপরে আছে তৃতীয় চোখ ।  স্বয়ম্ভু পুরাণ কাঠমান্ডু উপত্যকার উৎপত্তি এবং উন্নয়ন  সম্পর্কিত  একটি বৌদ্ধ শাস্ত্র ।

বহু আগে নির্মিত হলেও ২০১০ এর মে মাসে এই স্টুপা কে সম্পূর্ণ ভাবে সংস্কার করা হয় । এসময় এর গম্বুজ টি বিশ কেজি স্বর্ণের পাতে মোড়ানো হয় । এই স্থানকে জাতিসংঘ ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসাবে ঘোষণা করেছে ।

৯২৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি মিলি ,ভাল লাগে বই পড়তে,ঘুরে বেড়াতে আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ।
সর্বমোট পোস্ট: ৩৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৯৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৯-০৩ ১৫:৫৪:৫০ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    কিছু বেড়িয়ে এলাম কিছু জানলাম ।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভাল লাগল আপি ভ্রমন ছবি আর বর্ণনা

    থ্যাংকু

  3. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    ভ্রমনের বর্ণনার সাথে সাথে সুন্দর ছবির সমাহারে মুগ্ধ হলাম ।
    শুভেচ্ছা রইলো অফুরন্ত ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top