Today 06 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

হঠাৎ একদিন (গোয়েন্দা কাহিনী)

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ২৩/০৬/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 637বার পড়া হয়েছে।

sherlock holmes watson

পর্ব -ছয়

অনেকক্ষণ ধরে আলিম হাটছে আজিমপুরের কবরস্থান সংলগ্ন দক্ষিনের রাস্তাটায়। হাটতে হাটতে তার ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে উঠল। মনে হচ্ছে কেও একজন কাছে পিঠে থেকে লক্ষ্য করছে। মাথা ঘুরিয়ে পিছন দিকে তাকিয়ে সন্দেহ জনক কাওকে দেখতে পেলনা। পিছনের দোকানে দুইজন অফিস ফেরত লোক ই হবে সম্ভবত চা খাচ্ছে পিরিচে ঢেলে। এই দুইজনকে মনে হচ্ছে না তাকে নজর করছে। তাহলে কে? এদিক ওদিক মাথা ঘুরিয়ে দেখতে দেখতে একজনের সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল। কম্মিনকালে লোকটিকে দেখেছে বলে মনে করতে পারলনা। কিছুটা দুরের এক বাড়ির বারান্দা থেকে লোকটি তাকে দেখে যাচ্ছে। লোকটি বুঝতে পারেনি সে তাকে দেখেছে। সে অন্যদিকে তাকানোর ভান করে দেখছে লোকটির গতিবিধি। যদিও লোকটির অবয়ব সম্পূর্ণ পরিস্কার নয়। কিন্তু বুঝতে অসুবিধা হচ্ছেনা যে সে তার নজরদারিতে আছে।

আনোয়ার এর আসার কথা কিছুক্ষণের মধ্যে। তারপর আবার ও তারা আজ যাবে আহসান মঞ্জিলে। আসাদ সম্পর্কে কিছু খোজ খবর নেওয়ার জন্য। কি যে শখের গোয়েন্দাগিরি শুরু করলো বন্ধু কবে যে জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হয় আবার। প্রায় ঘন্টা খানিক হয়ে গেল এখন ও আনোয়ার এর খবর নেই দেখে সে হাটতে হাটতে পাশে ছোট চায়ের দোকানে ঢুকল। চা সিঙ্গারা অর্ডার করে , বন্ধুকে ফোন দিল। এখন ও ফোন বন্ধ।

আনোয়ার তাড়া করছে এক চোর কে। বাস থেকে নামতে তার পাশের পকেট মার একফাকে ওয়ালেট হাতিয়ে দৌড়। ওয়ালেট এর মায়া সে ত্যাগ করত যদি না গুরুত্বপূর্ণ দুইটা টিকিট সেখানে না থাকত। এই টিকিট এর নাম্বার মিলাতে সে কষ্ট করে গুলিস্থানের সিনেমা হল টিতে এসেছে। অনেকক্ষণ পকেটমারের পিছনে দৌড়াল। চোর পকেট মার লাপ দিয়ে সামনের বাস টিতে উঠে গেল।

যাহ !! দুইদিনের পরিশ্রম টা মাটি হল। আসাদের সঙ্গে সিনেমা হলের ব্ল্যাকার এর কি সম্পর্ক জানতে আসা। শেষ ক্লু টা মিস হল। আসাদ কে কারা অনুসরণ করে? সবসময় কেন ই বা করে। সব জানা দরকার। না হলে পুরা ঘটনা ই অন্ধকারে ই থেকে যাচ্ছে। দুইদিন হল আসাদ কে দেখতে যাওয়া হয়নি। বোকামি হয়ে গেল মনে হয়। আসাদের কাছে সার্বক্ষনিক পাহারার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। যারা একবার মারার চেষ্টা করেছে তারা আবার ও চেষ্টা করতে পারে। এই চিন্তা মাথায় আসা মাত্র দৌড় দিয়ে সামনে যে বাস পেল তাতে লাফিয়ে উঠে গেল। ভুলে গেল আলিম তার জন্য অপেক্ষা করে আছে আহসান মঞ্জিলে যাওয়ার জন্য। ক্লিনিক এর সামনে নামতে নামতে প্রার্থনা করতে থাকল

আল্লাহ আসাদ যেন সুস্থ থাকে। আসাদ এর কেবিন সাত তালা আট নম্বর । এলিভেটর এর জন্য দাড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে। টিপাটিপির পর আসছেনা দেখে পাশে একজন কে জিজ্ঞাসা করাতে বলল দুপুর থেকে এলিভেটর নেই। জেনেরেটর এ ইমার্জেন্সি কাজ চলছে। ওয়ার্ড বয় ধরনের একজন বলল স্যার সিড়ি দিয়া চলে যান। আজকে মনে হয় এলিভেটর পাবেন না। চারতলা পর্যন্ত উঠতে হাপিয়ে উঠল। শরীর এত দুর্বল কেনরে ? মনে মনে নিজেকে বকা দিল। ডায়বেটিস হয়ে গেল নাকি অল্প বয়সে। তার পাশে দিয়ে দুরদার করে এক সিড়ি র জায়গায় তিন সিড়ি লাফিয়ে একজন নেমে যাচ্ছে।

এই কে কে বলে আনোয়ার চিত্কার দিয়ে উঠল। তার বুক ধক করে উঠল। আসাদ ঠিক আছে তো। লোকটার সার্ট ধরতে গিয়ে ধরলনা যেহেতু লোকটা কে সে জানেনা , তার উদ্দেশ্য ও জানেনা। পড়ি মড়ি করে দৌড়ে এসে আসাদের কেবিন এ ঢুকতে গেল। ঢুকার মুখে বাধা পেল।

নার্স ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। ওনার অবস্থা খুব আশঙ্কাজনক। ওনাকে আবার ও স্ট্যাব করা হয়েছে। আমরা ইমার্জেন্সি তে নিয়ে যাচ্ছি।

হতাশ হয়ে মাটিতে বসে পড়ল আনোয়ার। আর একটু আগে পৌছলে এই ঘটনা টা হতনা। তখন ই আলিম এর ফোন আসল।

আলিমকে প্রয়োজনীয় কথা বলে সে দরজার পাশে বসে রইল। তার খুব মন খারাপ লাগতে লাগল আসাদের জন্য।

মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল অবশ্যই দ্রুত এই কেসের সমাধান করব আমি।

এদিকে আলিম হাটতে হাটতে আহসান মঞ্জিলের পিছনের দরজাতে এসে দাড়ায়। কে যেন একজন তার পিছনে এসে দাড়াল। তাকানোর কোন সুযোগ পেলনা সে। পিছনের অজ্ঞাত লোকটি তার মাথায় কিছু দিয়ে বাড়ি দেওয়ায় জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে।

লোকটি অনেক ক্ষণ পকেট হাতড়িয়ে কি দেখল। তার পর ওই স্থান ত্যাগ করল।

দুইঘন্টা পরে আলিমের জ্ঞান ফিরে আসল। যা ভেবেছে হাসপাতাল এর ভিসিটার লিস্ট টা উধাও। যা অনেক কষ্ট করে টাকা দিয়ে রিসেপশনিস্ট এর থেকে আদায় করেছিল।

নাহ আনোয়ার তাহলে ঠিক। এরা বেশ বিপদজনক মনে হচ্ছে। আমাকে আর ও সাবধান হতে হবে এখন থেকে।

(পরবর্তীতে)

৭০৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

    choluk shathe achi ….

  2. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি নতুন এসেছি তাই আগের পর্ব গুলো পড়তে পারিনি। তবে এই পর্ব পড়ে যা বুঝলাম -তাতে অবশ্যই আগের পর্ব গুলো পড়া দরকার। কেননা চমৎকার রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি। ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top