Today 06 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

হঠাৎ একদিন

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৮/০১/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 762বার পড়া হয়েছে।

sherlock holmes watson

পর্ব =নয়

১আসসালাতু খাইরুম মিনান্নার

আসসালাতু খাইরুম মিনান্নার  ..দুরের মসজিদ থেকে মুয়াজ্জিনের সুমধুর আজান ধ্বনি ভেসে আসছে।

আনোয়ার কিছুটা লাপ দিয়ে উঠে বসল বিছানায়। বাপস এত জীবন্ত স্বপ্ন দেখে মানুষ।ঘুম ভাঙ্গল তার হাত মুঠো করা অবস্থায়।ঘুমের মধ্যে কাওকে ঘুষি মারার প্রস্ততি নিচ্ছিল। প্রথমে কিছুক্ষন হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল নিজের হাতের দিকে।

এ যাহ এ তো স্বপ্ন মুঠো করা হাতের দিকে তাকিয়ে সে  হেসে ফেলল।

একই সময়ে আলিম তাকাল ঘুম ভেঙ্গে। এই এই দাড়া বলে চিৎকার দিয়ে উঠছিল ।সে ভাবছিল আনোয়ার তাকে ঘুষি মারতে যাচ্ছে ।

যা যা তুই ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করিনা বন্ধুর দিকে তাকিয়ে সকৌতুকে বলে। এরকম লাফায় বিছানায় ।ঘুমাতে পারিনি তোর জন্য। আজ থেকে আমার রুম থেকে গেট আউট তুই..বন্ধুরে ধাক্কা দিয়ে বলল।

কি বন্ধু মনে হচ্ছে স্বপ্নে মোলাকাত হয়েছে প্রিয় বন্ধু খুনীটার সাথে।আলিম ও জবাব দেয় হাসিমুখে।

যা চা বানা ।মেজাজ টং হয়ে আছে।

মেজাজ টং কেন?

স্বপ্নটা মনে করতে পারছিনা রে।জীবনের প্রথম রহস্য কেস এত দূর্বোধ্য হবে ভাবতে ই পারছিনা।কে খুন করল কেনই করল সব ধাধার মত মনে হচ্ছে ।হতাশ মনে হচ্ছে ওকে  এখন।

আরে দুর রিল্যাক্স হও।দুই একদিনে কিছু একটা ক্লু বের হয়ে যাবে ।ভরসার কন্ঠে বলে আলিম।

ওইদিনের প্রাচীর টপকানো লোকটাকে পাকড়াও করতে পারলে কিছু জানা যেত।

২ নামাজ শেষ করে প্রতিদিনে ছাদের খোলা বাতাসে হাটা আনোয়ারের প্রিয়  অভ্যাস। তার বিল্ডিং এর সিনিক বিউটি চমৎকার। আশে পাশের বড় গাছের সাথে দুরের বুড়িগঙ্গা নদী টা যেন শান্তির আমেজ এনে দেয় মনে।ছাদ থেকে ঝুলে আছে বাগান বিলাসের সুন্দর লতানো গাছ।আশেপাশে দেখতে অদূরে এক দোকানে দৃষ্টি চলে যায় তার ।এত ভোরে দোকান খোলেনি ।কিন্তু লোকটিকে দেখা যাচ্ছে।গভীর মনোযোগের সাথে তাদের বিল্ডিং এর দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটিকে তাকে দেখতে পেলনা ।কেননা সে আছে গাছপালার আড়ালে।

এদিক ওদিক করতে করতে পট করে তাদের বিল্ডিং এর ভিতরে ঢুকে গেল। তাদের বিল্ডিং টা তিনতলা। লোকটা এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে ছদের দিকে তাকাল।আনোয়ার ঝপ করে মাথা নামিয়ে ফেলল।

এত সকালে কার বাসায় যায়? নাকি এখানে থাকে? তবে গতিবিধি এত চোরের মত কেন?

ঠিক এইসময় আলিম ছাদে এল চা বিস্কুট নিয়ে।

আনোয়ার দৌড়ে নামা শুরু করল।

দাড়া দাড়া বলে চা হাতে নিয়ে চিৎকার করে লে ও নামতে থাকে।

পড়িমড়ি করে নীচে নেমে এল। লোকটি আবার ও উধাও হয়ে গেল।কোন ইউনিটে যে ঢুকল বোঝা যাচ্ছেনা। একটা কাজ করা যায় কিছুক্ষন নীচে দাড়িয়ে অপেক্ষা করে দেখা যাক।

একঘন্টা পার হল ।কোন মানুষ কে উপর থেকে নামতে দেখলনা।

এইসময় দোতলা থেকে কোন মানুষের চিৎকার ওর আওয়াজ পেতে চমকে তাকিয়ে দেখল বারান্দায় দুইজন মানুষ দস্তাদস্তি করছে।

এই খবরদার দাড়া  বলছি আনোয়ার চিৎকার দিয়ে উঠল।লাফিয়ে সিড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠতে শুরু করল।

দোতালার দরজায় জোরে লাথি মারতে খুলে গেল ।লিভিং রুম সংলগ্ন বারান্দাটি ।

শেষবারের মত লোকটি তাকাল তার দিকে এবং লাপ দিয়ে পড়ল নীচে ।

এই থাম থাম চিৎকার দিয়ে উঠল তারা পিছন থেকে । লোকটি সার্কাসের এর লোকের মত নিপূল দক্ষতায় দোতালা থেকে নীচে লাফিয়ে পড়ল ।শেষবারের মত তাকিয়ে দুড়দাড় করে দৌড়ে গেট দিয়ে বেরিয়ে গেল।

লোকটির চেহারা খোদাই হয়ে গেল আনোয়ারের মস্তিষ্কে। বাপরে এ কি চেহারা।

মুখ টা কি পোড়া না মুখোশে ঢাকা দূরত্বের কারনে সঠিক আন্দাজ করতে পারলনা।

বারান্দায় পড়ে আছে আহত লোকটি ।ব্যাথায় সে কাতরাচ্ছে ।বড় কোন ক্ষতি হয়নি লোকটির যা বুঝল ।শুধু ধস্তধস্তি কারনে আহত হয়েছে লোকটি।যদিও ভয়ে তার মুখ নীল হয়ে গিয়েছে।

লোকটিকে উঠিয়ে সোফায় বসানো হল। অজ্ঞাত লোকটি কে ,পরিচয় কি ? জিজ্ঞাসা করতে বলে উঠল বলছি ভাই একগ্লাস পানি দিন আগে। এখন ও সে কাপছে।

পানি শেষ করে নিজে উঠে দরজা বন্ধ করে বসল।বলতে শুরু করল তার কাহিনী।

(পরবর্তীতে)

 

৭১৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    কতদিন পর আপুর গল্প পেলাম থ্যাংকু আপি।

    কাহিনী সুন্দর আগাচ্ছ।

  2. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ আপি গল্পটি পড়ার জন্য।ভাল থেক।অনেক শুভেচ্ছা তোমার জন্য।

  3. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    http://www.somewhereinblog.net/blog/d2kshajib/30013650

  4. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    আপু,আপনার কোন সাড়াশব্দ নেই কেন ?

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top