Today 10 Aug 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

হারিয়ে গেছে ঐতিহ্যের কলের গান

লিখেছেন: খাদিজাতুল কোবরা লুবনা | তারিখ: ১১/১২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 817বার পড়া হয়েছে।

আগের দিনে প্রায় অভিজাত পরিবারে গান শোনার মাধ্যম ছিল কলের গান। সেই কলের গান আর চোখে পড়েনা। হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে। ঠাঁই হয়েছে জাদুঘরের চৌহদ্দিতে। ১৮৭৮ সালের কথা। টমাস এডিসন আবিস্কার করলেন ফনোগ্রাফ। তখন থেকেই সঙ্গীতটা দরবারের ঘেরাটোপ থেকে বেড়িয়ে চলে এলো সাধারণ মানুষের ঘরে। আর আল্লাদে আটখানা হয়ে এর নাম সাধারণরাই দিল কলের গান। এ যুগের প্রজম্মরা থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পড়ে গান শোনে স্মার্ট ফোনে, আইফোনে, ট্যাবে, কম্পিউটার আর এমপি থ্রি প্লেয়ারে। তারা আর কিভাবে জানবে সেই আমলের কলের গানের গল্প-কল্প কথা।
তথ্য বাতায়ন সূত্রে যতদূর জানা যায়, শব্দ সংরক্ষণর জনক টমাস এডিসন ১৪০ বছর আগে কাঠের বাক্সের উপর চোঙ্গা লাগানো এমন এক যন্ত্র আবিস্কার করলেন। সে বাক্সের মধ্যে গোলাকৃতির এক বস্তর উপরে চাকতির মধ্যে পিন লাগিয়ে ঘোরালে শব্দ হয়। নাম দিলেন ফনোগ্রাফ। তারপর মাটির রেকর্ড থেকে প্লাষ্টিকের সূতোয় ঘূর্ণন রেকর্ড। এডিসনের পোষা প্রিয় কুকুরকে গ্রামোফোনের সেই চোঙ্গার সামনে বসিয়ে মনোগ্রাম করে নামকরণ করা হলো- ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েজ’ বা এইচএমভি রেকর্ড। ১০৯৮ সালে জার্মানিতে প্রতিষ্ঠা পেল গ্রামোফোন কোম্পানির। কলকাতার বালিয়াঘাটায় এশিয়ার প্রথম ১৯০৮ সালের ১৯ জুন করের গানের কারখানা স্থাপিত হয়। সেখানে গ্রামোফোন খুচরা যন্ত্রাংশও তৈরি হত।
সঙ্গীত পিপাসুদের জন্য রবীন্দ্র, নজরুল, বাংলা গীত, নাট্য, কৌতুক সবই রেকর্ড করা হত। এমনকি কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের স্বকন্ঠের গানও রেকর্ড করা হযেছিল ৭৮ আরপিএম ( রিভলভিং পার মিনিট) রেকর্ডে। বনেদী বাবু বা সৈয়দ- খন্দকারদের বাড়ির বৈঠকখানায় এই অভিজাত্যের প্রতীক হিসাবে রাখা হতো। বিজ্ঞানের আশির্বাদে ও আকাশ সংস্কৃতির ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে কলের গান। কালের বিবর্তনে গ্রামোফোনের পাশাপাশি এলো আরপিএম রেকর্ড প্লেয়ার ( ছোট রেকর্ড)। তারপর এলো এলো অটো রেকর্ড প্লেয়ার। চলতো ব্যাটারী আর বিদ্যুতে। সেই সাথে বড় ফিতার স্পুল রেকর্ডার। বলা হতো টেপ রেকর্ডার।
আশি থেকে নব্বই দাপালো ছোট ফিতার ক্যাসেট রেকর্ডার। এসময় চলে এলো ভিডিও ক্যাসেট। তারপরের ইতিহাস ডিজিটাল। একুশ শতক পর্যন্ত টিকে ছিল ক্যাসেট প্লেয়ার। খুব দ্রুতই সুপারসনির ডিজিটাল ধাক্কায় হারিয়ে গেল কালের অতলে। এলো কম্প্যাক্ট ডিস্ক (সিডি)। তার সাথে পাল্লা দিয়ে এলো ডিজিটাল ভিডিও ডিস্ক (ডিভিডি)। গান, স্থির ছবি, চলমান ছবি সবই সংরক্ষণের সুবিধা। এবার বিবর্তনের ধারায় ছোট্ট বস্তটিও বোঝা হয়ে গেল। হাতের মুঠোয় এলো আরও ছোট পেনড্রাইভ। সেটা চালাতে লাগে কম্পিউটার। ঝামেলা মনে হলো। এত সময় কি আছে আর মানুষের। বিজ্ঞান এবার সব ঢুকিয়ে দিল হাতের মুঠোফোনে। এখন হাতের মুঠোয় বিশ্ব বাতায়ন। অন্তর্জালেই (নেট) সবকিছু। নাচ, গান, কবিতা, উপন্যাস, চারু-কারু তথ্য- উপাত্ত। চাইবেন গুগল তা দিতে বাধ্য থাকবে।

 

Callergan

৭৯৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৪৪ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৯ ১১:২৭:২৯ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. সেতারা ইয়াসমিন হ্যাপি মন্তব্যে বলেছেন:

    Informative………Nice Post

  2. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    আপু কলের গান নিয়ে লেখা ভালো লাগলো। ইদানিং ছেলেমেয়েদের যদি কলের গানের কথা বলি , ওরা বিশাস করবেনা।

  3. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    মনে ভরে যায় এমন লেখায়
    খুব ভাল লাগল ।

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    কলের গান নিয়ে পোষ্ট ভাল লাগল ধন্যবাদ আপনাকে

  5. মুহাম্মদ দিদারুল আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লেখা ভালো লাগলো। ধন্যবাদ লেখিকাকে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top