Today 14 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

হুমায়ূন স্যার স্মরণে – আমার ধারাবাহিক – শুধু একদিন ভালোবাসা

লিখেছেন: ফিদাতো মিশকা | তারিখ: ১৯/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 507বার পড়া হয়েছে।

সবাই ভালবাসতে চায়- নিখাদ ভালোবাসা কিন্তু ভালোবাসা আমাদের বিপ্রতীপ আচরনের দিকে ঠেলে দেয়। আমরা ভালোবাসা নামক অমৃতের স্বাদ নিতে গিয়ে হই বিষে আক্রান্ত ।বিশ্বাস হেরে যায় অবিশ্বাসের কাছে।এমন এক ভালোবাসা নাবাসার গল্প নিয়ে আমার প্রথম উপন্যাস লিখতে শুরু করেছি  

 

শুধু একদিন ভালবাসা


নিতুর হঠাৎ করে মাথা ঝিমঝিম করছে ।কেমন জানি গা গুলাচ্ছে,বমি বমি ভাব হচ্ছে।বাইরে দখিনা হাওয়া বইছে।হু হু বাতাস । যেকোন সময় প্রবল বৃষ্টি আসতে পারে।এ সময় প্রিয় মানুষের হাত ধরে উঁচু পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগে।আবার এই বাতাসের সময় ছয়তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্ম

হত্যা করতে ভালো লাগে।বাতাসের রকমফের থাকে।বিজ্ঞানীদের বাতাসের ভাগ করা উচিত। কোন বাতাসে আত্মহত্যা করতে ভালো লাগে।কোন বাতাসে প্রেমিকার হাত ধরে বসে থাকতে ভালো লাগে। কোন বাতাসে রাগ বাড়ে কোন বাতাসে হাসি পায় ,কোন বাতাসে বিরক্তি লাগে ।তারপর একেকটা বাতাসের একেকটা নাম দেওয়া হবে।যে বাতাসে কাঁদতে ভালো লাগে সে বাতাসের নাম কাঁদুনে বাতাস, যে বাতাসে আত্মহত্যা করতে ভালো লাগে তার নাম আত্মহুতি বাতাস,যে বাতাসে প্রেমিকার খোলা চুলে হারাতে ভাল লাগে তার নাম প্রেমা বাতাস ,যে বাতাসে রাগ লাগে তার নাম রাগি বাতাস।নিতুর মাঝে মাঝে আত্মহুতি বাতাস দেখলে ছয়তলার ছাদ থেকে লাফ দিতে ইচ্ছে হয় ।খুব সেজেগুজে ছয়তলার ছাদে যাবে তারপর জর্দা দিয়ে একটা পান খেল ,একটা সিগারেট খাওয়া যেতে পারে।তারপর মান্না দের গানটা গুনগুণ করে কিছুক্ষন গাওয়া যায়
শুধু একদিন ভালোবাসা,

মৃত্যু যে তারপর

তাও যদি পাই আমি তাই চাই

তাও যদি পাই ,

চাই না বাঁচতে আমি প্রেমহীন হাজার বছর।
তারপর ছয়তলার উপর থেকে ঝুপ করে লাফ দিয়ে পরে গেল ।কিন্তু কথা হচ্ছে ছয়তলার ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার জন্য প্রচণ্ড সাহসের দরকার ।নিতুর এতোটা সাহস নেই ।তার উপর ওদের বাসা একতলা।তাকে মরতে হবে সহজ উপায়ে ।আচ্ছা নিতু যদি হঠাৎ সত্যি সত্যি ছয়তলার উপর থেকে লাফ দেয়,তাহলে কি হবে,পেপারে কি নিউজ হবে।হবে নিশ্চয় পত্রিকা ওয়ালারা আত্মহত্যার খবর যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে ছাপায়।তার উপর আবার যুবতীর আত্মহনন হয়তো ওরা ফ্রন্ট পেইজ এ খবর টা ছাপবে ।
মালিবাগে ছয়তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে যুবতীর আত্মহনন

 
মালিবাগে গতকাল রাত আনুমানিক রাত এগারটার দিকে এক নিতু(২০) নামের এক যুবতী ২৮৯ নং বাসার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে ।আত্মহত্যা করার সময়ে তার পরনে ছিল লাল রঙ এর বেনারশী ।বিয়ের সাজে একজন যুবতীর আত্মহনন রহস্যময় ।নিতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মেধাবী মুখ।তার মৃত্যুর ব্যাপারে তার পরিবার থেকে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।তবে গোপন সুত্রে জানা গেছে যে , সহপাঠীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক থেকে নিতু প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়ে। ছেলেটি বিয়েতে রাজি না হওয়ায় নিতুকে এ মর্মান্তিক পথ বেঁচে নিতে হয়।নিতুর লাশ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ।

নিতুর মৃত্যু বিষয়ে ভাবতে অস্বস্তি হচ্ছে ।অস্বস্তি সঙ্ক্রামক,একবার শুরু হলে চলতে থাকে।তার প্রচণ্ড বমি লাগছে।নিতু এসেছে তার বান্ধবী নীলার বাসায়।ঘণ্টা দুই ধরে বসে আছে, নীলা বাইরে গেছে কখন ফিরে তার ঠিক নাই।নিলা মোবাইল ফোন বাসায় রেখে গেছে।নীলা আসতে এতো দেরি করছে কেন ।সে অপেক্ষা না করে চলে যেতে পারে।কিন্তু তার ঘটনাটা নীলাকে বলতে হবে ।নীলা অনেক সচেতন মেয়ে ওর মতো বোকা না। নিতুর বমির ভাব প্রবল হচ্ছে ।কিন্তু ও যেখানে বসে আছে সেখানে হুট করে বমি করা যায় না ।ঝকঝকে বিদেশি কার্পেটের উপর হুট করে বমি করে ভাসিয়ে দেওয়া যায় না।নীলারা বিরাট বড়লোক।নীলার বাবার বিরাট ব্যবসা।অথচ তিনি রিক্ত হস্তে নীলার মাকে নিয়ে পালিয়ে এ শহরে এসেছিলেন। এ বাসায় নীলা অনেকবার এসেছে।নীলাদের যে অবস্থা নিতুর মতো মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব হওার কথা না। তারপর হয়েছে।আচ্ছা নীলার সাথে ওর বন্ধুত্ব হওার আশ্চর্য ঘটনাটা কি ওর মনে আছে। ইদানিং সে অনেক কিছু ভুলে যাচ্ছে ।আচ্ছা অ্যাসপিরিন এর সংকেত কি যেন।এদের বাসার কারো সাথে কথা বলে সময় কাটাতে পারলে ভালো লাগত।কিন্তু নীলার বাবা ব্যাস্ত মানুষ।তার উপর মেজাজি ,মাঝেমাঝে খুব ভালো ব্যাবহার করেন কিন্তু মাঝেমাঝে খুব খারাপ।প্রথম যেদিন দেখা হল সেদিন ওকে বললেন,আপনি কে ,এখানে বসে আছেন কেন ?
নিতু ভয়ে ভয়ে বলল,আমি নীলার বান্ধবি
_

নীলার বান্ধবী তো এখানে কি ও তো বাসায় নেই,দুপুরে আসবে।তুমি বাসায় চলে যাও।নাকি দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য বসে আছ,আমি বারভুতে খাওয়ার জন্য কষ্ট করে এ সম্পত্তি বানাইনি।
সেই লোকই আবার মাঝেমাঝে বলবেন,নিতুমনি খেয়ে এসেছ?না খেলে চলো মা,বাপ বেটী একসাথে খাই।বিচিত্র এ পৃথিবী বিচিত্র সব মানুষের জন্ম দেয়।নীলার মা একবার এসে দেখা করে গেছেন। নীলার মায়ের বয়স হচ্ছে ৪০ বছর,কিন্তু দেখলে মনে হয় ১৫-১৬ বছর ,ক্লাস নাইন এ পড়েন। নীলার মা অতিরিক্ত রকমের সুন্দরী।হাত পায়ের শিরা দেখা যায়।এরকম একটা মহিলা নীলার বাবার মতো কালো লোকের হাত ধরে পালিয়ে আসা রহস্যময়।মানুষের মন কখন কোথায় ডিগবাজি খায় ,সে নিজেও জানে না।নীলার মাকে এখনো রাস্তায় বেরুলে ছেলেরা প্রপোজ করে।গত বছর বাংলা নববর্ষের দিন বৈশাখি মেলায় একটা ছেলে উনার পিছন পিছন অনেকক্ষন ঘোরাঘুরি করল। উনি তা দেখে ছেলেকে ডেকে বললেন ,কি ব্যাপার বাবা তোমার বয়স কত?আমি অনেকক্ষন থেকে দেখছি তুমি আমাকে ফলো করছ।তুমি জানো আমার মেয়ে ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ে ।
ছেলেটি ভ্যাবছাকা খেয়ে গেল,যেন বিশ্বাস করতে পারছে না।তিনি ছেলেটিকে আর অবাক করে দিতে বললেন,কি মেয়ে মানুষ দেখলে জল খেতে ইচ্ছে করে, চটকনা দিয়ে মাড়ির দাঁত ফেলে দিবো
ছেলেটি কোনক্রমে পালিয়ে বাঁচে ।
নিতুর বমি বমি ভাব অনেক প্রবল হয়েছে।আচ্ছা,সে যদি বমি করে পুরো রুম মাখামাখি করে ফেলে তাহলে কি হবে। বড়লোকদের শুচিবায়ু থাকে, চোট ব্যাপারে তাদের মন স্বকীর্ণ হয়।হয়ত নিতুর বাবা হাজির হয়ে নীলাকে ডেকে বলবেন,তোমার এইসব ছোটলোক বান্ধবীদের বাসায় নিয়ে আসবে না ,একেকটা উল্লুকের মতো বমি করে কারপেট নষ্ট করে।এরা কি জানে এই কার্পেট এর দাম কত?আমি সিঙ্গাপুর থেকে আনিয়েছি।
আচ্ছা নিতু এইসব কি ভাবছে, নীলার বাবা ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত মানুষ ।এতো ছোটখাট ব্যাপারে উনি নাক গলাবেন না।এগুলা দেখবে চাকরবাকর।নিতুর মাথা কি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।এলোমেলো মাথা ঠিক করার কি কোন উপায় আছে উপায় নিশ্চয় আছে’where there is a will ,there is a way.আচ্ছা শুভর সাথে কথা বললে কেমন হয়।এদের বাসার ফোন থেকে করা যায় ।ওর মোবাইল থেকে করতে পারত কিন্তু টা কিছুক্ষন আগে ওর মোবাইল এর চার্জ শেষ হয়ে গেছে।এদের বাসা থেকে কথা বললে কি এরা মাইন্ড করবে।কেউ কিছু মনে করলে করুক নিতু ফোন করবে ।নিতু শুভর নাম্বারে ডায়াল করে।তিনবারের সময় শুভ ধরে বলে
-নিতু কেমন আছ।
-ভালো,তবে আমি কথা বলার আগে তুমি কি করে বুঝলে আমি ফোন করেছি।

-তুমি ছাড়া আমাকে কে ফোন দেয়।

-ঢং করবা না ঢং করলে তোমার মুখ বান্ধরের মতো দেখায়। বান্ধর মুখ দেখার ইচ্ছে আমার নাই।

-সমস্যা নাই,তুমি তো আমাকে দেখতে পাচ্ছ না ।আমার সিক্স সেন্স বলছিল ফোনটা তোমার।তা কি করো?

-কিছু না ,তবে মৃত্যু বিষয়ক ছিন্তাভবনা করি।তুমি কি করো।

-তেমন কিছু না , ভালবাসার সংজ্ঞা শিখছি আর ডিমের একটা ফাইন রেসিপি বানাচ্ছি ।শিখবা?

-না পরে শিখব ।ভালবাসার সংজ্ঞা শিখছ মানে কি?

-মানে হল ,
ভুতের বাড়ি থেকে ফিরে
বলেছি “ভালবাসি”
মন্দ বাতাসের হাতে খেয়েছি কানমলা
ভালবাসা সই সহজ ব্যাপার নয়
ভালবাসাটাসা
শতফুট কুয়ার তল থেকে
তুলে আনা শীতল জল
মিষ্টি জলের খুঁজে
নির্জন দ্বীপে অনর্থক ছুটাছুটি ।

-তোমার লেখা?

 

– না নুরুল আমিন নামক এক বিবাহিত কবি।

-তুমি ফোন রাখো ,তোমার সাথে কথা বলতে ভালো লাগছে না ।তোমার গা থেকে পেঁয়াজের গন্ধ বের হচ্ছে,আচ্ছা শুন তুমি কি ‘সলতে’ এর ইংরেজি জানো ?

-না

-খুঁজে বের করে রাখবে।

 

 

-নিতু তুমি কি অসুস্থ

নিতু খট করে ফোন রেখে দেয়।রেখেই টেলিফোন সেট এর উপর হরহর করে বমি করে ।নিতুর কেমন যেন অন্ধকার অন্ধকার লাগছে,চারপাশে এতো অন্ধকার কেন।আচ্ছা ঘুটঘুটে অন্ধকারের ইংরেজি মনে হচ্ছে না কেন? ………………………।

উৎসর্গ –  আমার বর্ষাকে যার বৃষ্টিতে আমি ভিজতে চাই

৬১৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজেকে নিয়ে কিছু বলতে বললে আমি সবসময় অপ্রস্তুত হই । পড়ছি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ,বগুড়া তেঁ ৪র্থ বর্ষ এম বি বি এস । লেখালেখি জীবনের একটা বড় স্বপ্ন । সময়ের সল্পতা এই স্বপ্নের পথের অন্তরায় । তবুও আশা রাখি ফিরে আসব একদিন স্বপ্নের আঙ্গিনায়
সর্বমোট পোস্ট: ১৪ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৬৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-০২ ১৪:৪০:১৯ মিনিটে
Visit ফিদাতো মিশকা Website.
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম,চলুক সাথে আছি ।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    সাথে আছি ।

  3. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    চালিয়ে যান।

  4. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম চালিয়ে যান।

  5. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লেগেছে খুব । ধন্যবাদ আপনাকে ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top