Today 17 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

হৃদয়ের শব্দাবলি : স্বপ্নগ্রহণ

লিখেছেন: সুপণ শাহরিয়ার | তারিখ: ২৮/০১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 451বার পড়া হয়েছে।

বালকবেলা থেকেই, আমার হাতের লেখা (হস্তাক্ষর) ফাটাফাটি রকমের সুন্দর ছিলো, বর্তমানেও আছে— এখন বরং আরো সৌন্দর্য পেয়েছে সে লেখা । যদি হস্তাক্ষরের লিঙ্গভেদ থাকতো, এবং সেই হস্তাক্ষর যদি ছেলে হতো— কলেজ-য়্যূনিভার্সিটির হস্তাক্ষর-মেয়েরা সকাল-সন্ধ্যা তার বাসার গেটে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকতো, তাকে একপলক দেখার জন্যে । এবং শুধু মেয়ে হয়ে জন্মাবার অপরাধে তারা সবাই বিয়ের প্রস্তাব দিতে লজ্জা পেতো, আফসোস করে মরতো । কিংবা যদি ভাগ্যক্রমে সে মেয়ে হয়েই বসতো— নির্ঘাত তাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যেতো এলাকার যুবসমাজের মধ্যে । এ বলতো আমি বিয়ে করবো, ও বলতো ও বিয়ে করবে, সে বলতো সে বিয়ে করবে । তারপর হয়তো কোনো একদিন কোনো এক মন্ত্রী-মিনিস্টারের ছেলের বৌ হয়ে সুখে-শান্তিতে জীবন পার হয়ে যেতো তার । অথবা কপাল খারাপ হলে হয়তো কোনো বখাটে সন্ত্রাসের খপ্পরে পড়ে যেতো । তারপর কোনো একদিন ধর্ষিতা হয়ে ভ্রান্তলজ্জায় আত্মহননের রাস্তা বেছে নিতে হতো তাকে, কিংবা নির্মম অ্যাসিডে ঝলসে যেতো তার সুন্দর মুখখানা ।

হাতের লেখা সুন্দর ছিলো বলে আমার বাবা প্রায়ই আমাকে পিঠ চাপড়ে বলতেন— পড় বাপ, ভালো করে পড়— দেখবি তোর একদিন বড়ো চাকরি হবে । যে ফাইন হাতের লেখা— দেখবি তুই একদিন কোর্টের বড়ো একজন মুহুরী হবি । একনামে তোকে সবাই চিনবে ।
আমার দরিদ্র বাবা মুহাম্মদ আক্কাস আলী তার সেজোছেলেকে নিয়ে এরচে’ বড়ো স্বপ্ন দেখেন নি কখনো । অথবা দেখার সাধ থাকলেও সাধ্যের অভাবে ভয় পেয়েছেন ।

হ্যাঁ তিনি ভয়ই পেয়েছিলেন— নয়তো বড়ো স্বপ্ন কে না দেখে ?
আজ বাবা বেঁচে নেই । কিন্তু তাঁর সেই ভয়টা এখনো বেঁচে আছে । আমার মস্তিষ্কের ভেতর সর্বদাই ভয়টা তার অস্তিত্ব জানান দেয় । জীবনে বড়ো কিছু হতে চেয়ে তাই বারবার আমি হতাশ হই, থুবড়ে পড়ি ।

ক্লাস ফাইভে থাকাকালীন যখন শ্রদ্ধেয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মুখাবয়বটাকে অবিকল ফুটিয়ে তুলেছিলাম পেন্সিলে— স্বজনরা অনেকেই বলেছিলো— তুই দেখিস একদিন বড়ো একজন চিত্রশিল্পী হবি ।

সেই থেকে আমিও স্বপ্ন দেখতে লেগে গিয়েছিলাম— অবশ্যই হবো । একদিন দেশের নামকরা একজন চিত্রশিল্পী হবো আমি । তারপর দুঃসময় আর অসামর্থ্য কবে যে কোথায় নিয়ে গিয়ে ফেলেছে আমার সে চিত্রশিল্পী হবার মন, স্বপ্ন— কে বলবে !
ক্লাস সিক্স পাশ করে যখন সেভেনে উঠি— হঠাৎ করে ইচ্ছে হলো— আমি কবি হবো । শুরু হয়ে গেলো প্রচেষ্টা । তারপর বেশ অল্প সময়ের ব্যবধানেই দেখলাম একদিন সাহিত্য পত্রিকা কিশোর কণ্ঠের ছড়া পাতায় নিজের নামটা মূদ্রিত হলো । কী যে আনন্দ পেয়েছিলাম ঐদিন— কী বলবো ! পত্রিকার একটা কপি কিনে নিয়ে ছুটতে ছুটতে আমি ক্লাস না করেই বাড়ি চলে গিয়েছিলাম সবাইকে দেখাতে— দেখো পত্রিকায় আমার নাম এসেছে ! তোমাদের কারো কখনো এসেছে এমন ?
অবশ্যি, আমার লেখা আর কোনো ছড়া কিংবা কবিতা আর কোথাও ছাপা হয় নি কখনো ।

তারপর ক্লাস নাইন পার করবার পর কবি হবার পোকা মাথা থেকে কবে একদিন বেরিয়ে গেলো— আমি বুঝতেও পারলাম না । সে পোকা আর ফিরে আসে নি কখনো । ফিরে এসে কী করবে ? আমার বাপের কি টাকা-পয়সা আছে, না আমার মোটা মাথার মামা-খালু আছে, যে, সে আমাকে মাধ্যম করে এদের আশ্রয়ে নিজেকে একটু প্রকাশ করবে সর্বসমক্ষে ?
স্বপ্ন কখনো মরে যায় না— শুধুমাত্র একরূপ থেকে আরেক রূপে অন্তরিত হয় । সম্ভবত ক্লাস টেনে থাকতে হঠাৎ একদিন খেয়াল চাপলো গল্পকার হবার, বড়ো ঔপন্যাসিক হবার । শুরু হলো গল্প লেখা । পড়াশুনোর বারো বাজিয়ে একটার পর একটা গল্প লিখে চলা ।

২০০২ সনের ১৩ নভেম্বর যখন প্রথম আলো পত্রিকায় প্রথম লেখা গল্পটাই প্রথম ছাপা হলো— আমার খুশি আর দেখে কে !

এই খুশিটাও বেশি দিন স্থায়ী হলো না । দারিদ্রতা আবার আমার হাত থেকে কলম কেড়ে নিলো । থেমে গেলাম ।
ভালো গান গাইতাম বলে শাহীন আপু (যশোর ছেড়ে খুলনায় আসার পর পরিচয় । আমার সাথে রক্তের তাঁর কোনো সম্পর্ক না থাকলেও আমার বড়োবোনের চে’ কম কিছু নন তিনি) প্রায়ই চাপাচাপি করতো— চল তোকে উদীচীতে ভর্তি করে দি । তুই চেষ্টা করলে অনেক বড়ো শিল্পী হতে পারবি ।

ভেতরে প্রচন্ড ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও কখনো বলি নি— আচ্ছা চল । আমি ভর্তি হবো ।
কী হবে ওসব গান-টান শিখে ? গরীব লোকের বাচ্চাদের ওসব শিখতে নেই । ওদের সাথে ওসব গান-টান যায় না, বড়ো বেমানান ।
২০১৩ সালের ফেব্রয়ারি মাসে সহোদর ছোটোভাই তুহিন অর্ণব হঠাৎ করে আবদার করে বসলো— দাদা, তোর লেখালেখিটা আবার শুরু কর প্লীজ ! আমার বিশ্বাস, তুই আমাদের(দেশ, সমাজ)কে অনেক কিছুই দিতে পারবি ।

শুরু করলাম ব্লগিং । তারপর থেকে এখনো চলছে । এবছরের একুশের বইমেলায় একটা বই বের করার স্বপ্ন ছিলো । হলো না । টাকা নেই, পয়সা নেই; ধরা নেই, চরা নেই; পাঠক নেই, টাঠক নেই— বই বের করছে ! শখ কতো ! পুরোনো পাগলে ভাত পায় না— নতুন পাগলের আমদানী !

 

কে বলবে— হয়তো কোনোদিনই, কোনো বইমেলাতেই, কোনো বই বের করা হয়ে উঠবে না । স্বপ্নের বসত স্বপ্নেতেই রয়ে যাবে— সত্যিটা তার দেখা হবে না কোনোকালেই ।

 

আত্মার শব্দাবলি : ভয়
সুপণ শাহরিয়ার
মিস্ত্রীপাড়া, খুলনা

৫১৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি, প্রচন্ড আত্মহত্যাপ্রবণ একটা ছেলে। আমি আমার জীবনে অসংখ্যবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছি, কারণে-অকারণে। বালকবেলা আমার মা- রোমেছা বেগম, আমি নানাবাড়ি বেড়ানো অপছন্দ করতাম বলে ছোটোভাইটাকে নিয়ে যখন দিনের পর দিন সেখানে গিয়ে পড়ে থাকতেন, প্রতিদিন আমি স্কুল থেকে ফিরে তীব্র অভিমান বুকে চেপে চোখে জল নিয়ে বাড়ির পেছনের বাঁশবনে, মাঠে মাঠে একা একা ঘুরে বেড়িয়েছি, আর বারবার করে ভেবেছি- মা খুব খারাপ। আমি যেমন মা’র জন্যে কেঁদে বেড়াচ্ছি, মাও আমার জন্যে কেঁদে বেড়াবেন। চাচি, ফুপু, খালা- সবার নিকট থেকে প্রবোধ খুঁজে খুঁজে মা কেঁদে বেড়াবেন। কাউকে না জানিয়ে আমি টুপ করে মরে যাবো একদিন। আমার আব্বা- আক্কাস আলী মারা যাবার পর মিয়াভাই(বড়োভাই) ওমর ফারুক এবং মেজোভাই হারুন-অর-রশীদ, অর্থাভাবের কারণে হোক আর যে কারণেই হোক, যখন প্রায়ই, নানা কারণে, আমাকে অবহেলা করেছেন- আমি মরে যেতে চেয়েছি। আমার কেবলই মনে হয়েছে- এতো কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই। কলেজজীবনে মেজোবোন আফরোজা খাতুনের অস্বচ্ছল সংসারে শুধু বোঝা হয়ে পড়ে থেকেছি, তাঁর নিত্যদিনের দৈন্য দূর করবার জন্যে কিছু করতে পারি নি বলে, বড়োবোন সাবিয়া খাতুনকে তাঁর স্বামীর নানান অত্যাচারের গন্ডি থেকে বের করে আনতে পারি নি বলে থেকে থেকে শুধু মনে হয়েছে- আমার মতো অপদার্থের দ্বারা কারো জন্যে কিছু করা হবে না। এভাবে অর্থহীন বেঁচে থাকার চে’ মরে যাওয়া ঢের ভালো। সুদূর ঢাকা শহরে একাকী পড়ে থাকা ছোটোভাই তুহিন অর্ণব কদাচিৎ যখন মন খারাপ করে মেঘস্বরে ‘হ্যালো’ বলে- নিজেকে বড়ো অসহায় লাগে। আমার বেঁচে থাকাটা তখন নিতান্তই বাহুল্য বোধ হয়। নূপুর আজিজ। বাপ-মা’র অতি আল্লাদি এই মেয়েটা যখন বুঝে, না-বুঝে, আমাকে অবহেলা করে- আমি অসম্ভব কষ্ট পাই, এখনও। তখন কম্প্যুটারস্কৃনের সামনে বসে চুপচাপ আমি কাঁদি, এবং প্রায় প্রতীজ্ঞা করে মনে মনে বলি- বেয়াদব ছেম্ড়ি, তোকে আমি এমন কষ্ট দেবো- তুই মরার আগ পর্যন্ত চোখের পানি ফেলবি। তুই তোর ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাবার জন্যে আমার ক্ববরের কাছে গিয়েও দাঁড়াতে পারবি নে। আমি জাস্ট আত্মহত্যা করবো, এবং তার আগে আমার দেহটা ডোনার ক্লাব জাতীয় কোনো সংস্থায় দান করে যাবো। আমি এখনো বেঁচে আছি। যাদের জন্যে অসংখ্যবার মরতে চেয়েছি, তাঁদের কারো জন্যে কৃত স্বার্থচিন্তাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখে নি। আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে একটাই মাত্র জিনিস- লোভ। অমরত্বের লোভ। সেই ছোটোবেলা থেকে লোভটা আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে অধিকার করে বসে আছে। আমি মরে গেলে শুধুমাত্র আমার স্বজনরা কাঁদবে কেনো? আমার গ্রাম কাঁদবে, আমার দেশ কাঁদবে, সারা পৃথিবী আফসোস করবে। কে বলবে- হয়তো, কাউকেই কাঁদানো হবে না, সারাজীবনের তাবৎ ব্যর্থতা নিয়ে একদিন একা একা চলে যাবো; কোনো পত্রিকায় শিরোনাম হয়ে বের হবে না, কোনো রেডিও বা টিভিচ্যানেলে খবর শুরু করার আগে কেউ আর্দ্রকণ্ঠে বলবে না- "নন্দিত কথাশিল্পী স্বার্থক নাট্যকার প্রক্ষাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সুপণ শাহরিয়ার আর নেই"
সর্বমোট পোস্ট: ৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-০৩ ২০:৪৫:০১ মিনিটে
banner

৯ টি মন্তব্য

  1. রফিক আল জায়েদ মন্তব্যে বলেছেন:

    জীবনের গতি পথ সময়ে-অসময়ে বদলায়। আপনি চিন্তা করে দেখুন, আপনার কাছে যে মূল্যবান জিনিসগুলো আছে তা কিন্তু অর্থশালীদের কাছে নেই। আপনার পথচলা আরো শুভ হোক।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    জীবনের গল্প ভাল লাগল।

  3. আহমেদ রুহুল আমিন মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল দুই জীবনের গল্প। গল্প আরও এগুতে পারত । ধন্যবাদ।

  4. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভয়কে তাড়ান
    একদিন সব হবে
    মনো বল নিয়ে চালিয়ে যান।

    শুভ কামনা।

  5. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ছড়াটি ভাল হয়েছে । তবে মাত্রার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে । শুভ কামনা ।

  6. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    াপনার স্বপ্ন পূরণ হউক দোয়া করি

  7. আঃ হাকিম খান মন্তব্যে বলেছেন:

    শুভ কামনা ।

  8. আঃ হাকিম খান মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল দুই জীবনের গল্প।

  9. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো পড়ে

    নাইস লিখা আপনার

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top