Today 12 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

এইলোক অন্যলোক (ভৌতিক গল্প)

লিখেছেন: তাপসকিরণ রায় | তারিখ: ১৫/০১/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 774বার পড়া হয়েছে।

images

৪র্থ অংশ…

তিন দিন পরে গ্রামের লোকদের সঙ্গে ছাত্ররাও বেরিয়ে গেল ওঝার খোঁজে।তিন দল হয়ে তারা তিন দিকে রওনা হয়ে গেল। একমাত্র ভূতের ওঝারাই পারবে ভূত ছাড়াতে।

একদল মহারাষ্ট্রের চান্দা জেলায় গেল। একদল গেল বিশ কিলোমিটার দূর কোন স্থানীয় ওঝাকে আনতে। তৃতীয় দল বেরিয়ে গেল মধ্যপ্রদেশে। সেখানে নাকি কোন ছত্তিসঘরী ওঝা আছে। ভূতের ওঝা হিসাবে বেশ নাম ডাক তাঁর।

স্থানীয় ওঝা এলেন বিশ কিলোমিটার দূর থেকে। তিনি ঘরে পূজা  আচ্চা শুরু করলেন। নিয়ম অনুষ্ঠান যজ্ঞ বিধিমত শুরু হল।

অমরেশ চীৎকার করতে শুরু করলেন, মোটা মেয়েলী গলায় টেনে টেনে বলতে থাকলেন, তুই কেন এসেছিস ? আমি তোকে মেরে ফেলব! হোই হল্লা চলতে থাকলো খুব। দূর থেকেগ্রামের অনেক লোক এসে জড়ো হয়ে গেল।সবার কৌতূহল–ভূত পেত্নীর কাণ্ড কারখানা দেখতে চায় সবাই।

ওঝা সবাইকে সাবধান করে দিলেন, আপনারা কেউ এ ঘরের দশ হাত দূরত্বের মধ্যে থাকবেন না । দশ হাত পর্যন্ত জাগা আমি বেঁধে দিয়েছি–এই পেত্নী তার বাইরে যেতে পারবে না।

এবার অমরেশকে যজ্ঞের সামনে নিয়ে আসতে হবে।চার পাঁচ জন মিলে জোর করে তাঁকে যজ্ঞের সামনের আসনে বসিয়ে দিল।অমরেশ ভারী মেয়েলি কণ্ঠে ওঝাকে শাসাতে লাগলেন, তোরে আমি ছাড়ব না, তিনি ওঝাকে ধরার জন্যে ধস্তাধস্তি শুরু করলেন, চার পাঁচজন লোক মিলেও যেন তাকে আসনে বসিয়ে রাখা যাচ্ছিল না!

তারই মধ্যে ঘটনাটা ঘটে গেল।অমরেশ হঠাৎ শক্তি নিয়ে ঝাপটা মেরে উঠে পড়লেন, লোকেরা আরও জোর করে ধরার আগেই তিনি দু তিন লাফ দিয়ে ওঝার সামনে পৌঁছে গেলেন।আর সঙ্গে সঙ্গে ওঝার গলা টিপে ধরলেন।

ওঝার মুখ দিয়ে গোঁ গোঁ শব্দ হতে লাগল। এবার দর্শকজন হৈই হৈই ভিড় করে ছুটে এসে গেল ওঝার দেওয়া সীমানা লঙ্ঘন করে।অনেক কষ্টে অমরেশের হাত ছাড়ানো হল ওঝার গলা থেকে। ততক্ষণে ওঝার অবস্থা কাহিল। মুখ দিয়ে তাঁর কথা সরছিল না।অবস্থা দেখে ওঝার মাথায় জল ঢালা হল, পাখার বাতাস করা হল।আবার অমরেশকে তেমনি ভাবে বেঁধে দেওয়া হল ঘরের খুঁটিতে।

আধঘণ্টা পর ওঝা একটু সুস্থ হলেন, বললেন, বাবা সকল, একটা কথা বলি।আমায় দিয়ে এ পেত্নী ছাড়ানো সম্ভব হবে না।আমায় তোমরা বিদায় দাও!

এর পর আর কথা চলে না। এ ওঝাকে বিদায় দেওয়া হল।ওঝা আপন প্রাণ বাঁচাবার জন্যে নিজের ঘরের দিকে রওনা হলেন।

পর দিন সকালে পৌঁছলেন মহারাষ্ট্রের চাঁদা জেলার ওঝা।ইনি বাঙালী উদ্বাস্তু, চাঁদা জিলায় সরকারী পুনর্বাসন পেয়েছেন।

ওঝা তাঁর নিজের আসন পাতলেন । আবার সেই পুজা আর যজ্ঞের আয়োজন হল।

অমরেশ তেমনি তর্জন গর্জন করতে থাকলেন। আগের দিনের মত যজ্ঞের সামনে জোর করে তাঁকে বসানো হল। তেমনি পেত্নীর গলায় ওঝাকে মেরে ফেলার হুমকি দিলেন অমরেশ। এই ভাবে যজ্ঞ পূজা চলতে থাকল। ওঝা এক সময় অমরেশকে জিজ্ঞেস করল, তুই কে ?

ওঝার বেশ কয়েকবার প্রশ্ন করার পর, পেত্নীর মোটা গলার আওয়াজ আসল, তুই বল, তুই কে ? বারবার ওঝার প্রশ্নর পর এক সময় পেত্নীর জড়ানো ভারী গলায় জবাব এলো, আমি অনিমা !

গ্রামের লোকেরা চমকে উঠলো, এক বছর আগেই অনিমা মারা গেছে। এই ক্যাম্পেই সে থাকত। তার স্বামী খুব পিটাত বলে একদিন ফাঁসলটকে সে মারা যায়।অনিমার বয়স চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ ছিল।

গ্রামের সবাই জানতে পারল,পেত্নী অন্য কেউ নয়,এই ক্যাপের সেই অনিমা ! এদিকে ওঝার প্রশ্ন চলছে,তুই মাষ্টামশাইকে ছেড়ে দে !

বারবার পেত্নী একই জবাব দিয়ে যাচ্ছে,না,আমি যাবো না।

এমনি ভাবে অনেক সময় কেটে গেল।না,কে,হ্যাঁ,কোন মতেই করানো যাচ্ছে না!

ইতিমধ্যে তৃতীয় ওঝা এসে হাজির হলেন।মধ্যপ্রদেশের ছত্তিসগড়ের ওঝা।ভূতের মন্ত্রতন্ত্র ছাড়াও ইনি তন্ত্রমন্ত্র বিশারদ।

ক্রমশ…

৭৫০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নাম :তাপসকিরণ রায়। পিতার নাম : স্বর্গীয় শৈলেশ চন্দ্র রায়। জন্ম স্থান: ঢাকা , বাংলা দেশ। জন্ম তারিখ:১৫ই এপ্রিল,১৯৫০. অর্থশাস্ত্রে এম.এ.ও বি.এড. পাস করি। বর্তমানে বিভিন্ন পত্র পত্রিকাতে নিয়মিত লিখছি। কোলকাতা থেকে আমার প্রকাশিত বইগুলির নামঃ (১) চৈত্রের নগ্নতায় বাঁশির আলাপ (কাব্যগ্রন্থ) (২) তবু বগলে তোমার বুনো ঘ্রাণ (কাব্যগ্রন্থ) (৩) গোপাল ও অন্য গোপালেরা (শিশু ও কিশোর গল্প সঙ্কলন) (৪) রাতের ভূত ও ভূতুড়ে গল্প (ভৌতিক গল্প সঙ্কলন) (৫) গুলাবী তার নাম (গল্প সঙ্কলন)
সর্বমোট পোস্ট: ১১২ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৬৬৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-১১ ১৫:৪৩:৫৪ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    দাদা ভাল লাগলো আপনার ভুতের গল্প, ভাল থাকুন।

  2. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ।

  3. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগলো
    ভুতের গল্প,

  4. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্প পড়ার জন্যে ধন্যবাদ।

  5. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগতেছে। দেখ পরের পর্বতে যাই

  6. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগার কথা শুনলে লেখকের ভাল লাগে। অবশ্য আমি নিজে লেখা পড়ে মন্তব্য করে উঠতে পারি না–সে জন্যে আমি সব পাঠক তথা লেখকের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top