Today 25 Sep 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

অষ্টম টরন্টো বই মেলা এবং আমার অনুভূতি

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০২/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1786বার পড়া হয়েছে।

টরন্টো বইমেলার সুভেনির এ আমার এই লেখা টি প্রকাশিত হয়েছিল। অনেক ছবি আছে বইমেলার। কিন্তু
আমি ছবি গুলি পোস্ট করতে পারছিনা। পরে একসময় ছবি সহ পোস্ট দিব আশা রাখি। সবাইকে অনেক শুভেচ্ছা ভালবাসা।
================================================================================
মূল পোস্ট
কত অজানারে জানাইলে তুমি
কত ঘরে দিলে ঠাই
দূরকে করিলে নিকট বন্ধু
পরকে করিলে ভাই।
বই হচ্ছে জ্ঞানের ধারক বাহক। বই  আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করে, চিন্তার জগত বিস্তৃত আলোকিত করে। আমাদের চিন্তা ভাবনাকে মুঠোর ভিতরে এনে দেয়। আজ যখন আলেক্স হ্যালির বই রুটস যখন পড়ি, শার্লক হোমস অমনিবাস, শীর্ষেন্দুর দুরবীন,হুমায়ুন আহমেদ এর কোথাও কেও নাই, কবি  পড়ি প্রতিটি চরিত্র কে মনে হয়  খুব আপন কাছে থেকে দেখা। ভালবাসার আপনজন। সব অজানা অনাত্বীয় মানুষ গুলো যেন এক লহমায় নিমিষে মনের মনিকোঠায় স্থান করে নেয়।
ভাবতে অবাক লাগে টরন্টো বইমেলা অবশেষে অষ্টম বর্ষে পদার্পণ করল। সেই প্রথম বছর টরন্টো পদার্পনের সময় ২০০৪ থেকে আজ পর্যন্ত সময় টাকে দেখি যখন বইমেলা তখনকার সময় এর এখনকার বইমেলা অবাক হতে হয় সত্যি। যদিও আমার প্রথম সংশ্লিষ্টতা বইমেলায় টরন্টোতে গতবছর থেকে অর্থাত সপ্তম টরন্টো বইমেলা থেকে। বলা যায় আমার লেখালিখি শুরু হয়েছে পুর্ন্য উদ্যমে আগের বছর গত বইমেলা থেকে।
লেখালিখি র প্রেরণা ও বলা যায় বইমেলা বা আরেক কথায় অন্যমেলা থেকে শুরু। অন্যমেলার থেকে বই পড়তে পড়তে পরবর্তীতে সাদী ভাই এর সাথে সংশ্লিষ্টতা থেকে আর ও লেখালিখি এবং বই মেলায় বেশী জড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলা যায়। আমার কাছে বইমেলা মানি অন্যমেলা ,অন্যমেলা বলতে বইমেলা বা বই এর মেলা হিসাবে জানি। অন্যমেলায় হিসাবে পরিচিত হয়েছি কিছু প্রিয়মুখ কিছু সাহিত্যিক দের সাথে। ঠিক পরিচিত এইভাবে না বলে বলি আমি তাদের চিনে নিয়েছি ভালভাবে।
বই মেলা আসলে কেমন জানি স্মৃতি উদ্বেলিত হয়ে পড়ি। সেই অনার্স পড়ার সময় বাবার সাথে প্রথম বইমেলায় যাওয়া। প্রথম যে বই টি কিনি মনে আছে তা ছিল শীর্ষেন্দুর সম্ভবত” কাগজের বউ ” .বাবা বলছিলেন বই মেলায় বাংলাদেশী রাইটার দের  বই কেন। তখন আসলে বাংলাদেশী রাইটার দের বই এর এত প্রচলন ছিলনা। যতটুকু মনে পড়ছে দোকানী একটা বই দিয়েছিল হুমায়ুন আহমেদ ” নন্দিত নরকে ” হুমায়ুন আহমেদ এর প্রথম বই। প্রথমে বই টি পড়েছিল আমার আরেক বই পাগল পরবর্তী ছোট বোন। সে বলল অসাধারণ বই তুমি পড়। পড়ে বাংলাদেশী রাইটারদের বই এবং বই মেলার ভালবাসায় পড়ে গেলাম।
এরপরে বাংলাদেশ এ যতবার বইমেলা হয়েছে আয়োজন করে ই যেতাম আমরা সব ভাইবোন মিলে। প্রচুর বই কিনতাম বই মেলা থেকে। এরপর থেকে বাঙালি রাইটার হুমায়ুন সহ অন্য রাইটারদের বই বেশি কিনতাম বই মেলার সময় টা। বই মেলা যেন প্রতি বার এ জমজমাট আনন্দের পরিবেশ নিয়ে আসত দেশে আমাদের সবার মনে এবং আমার পরিবারে। প্রচুর বই কিনতাম প্রতিবার ই বই মেলা থেকে। কানাডায় আসার পর প্রথমে অবশ্য এই দৃশ্যপট বদলে গিয়েছিল আমার জন্য। জীবন জীবিকা সংসারে এত ব্যস্ত ছিলাম প্রথম কিছু বছর ওই সময়টা আসলে ওইভাবে বই মেলা বই এর খবর করা হয়নি। মাঝে মাঝে এ টি এন মিউসিক প্লাস থেকে বই কিনে নিয়ে যেতাম। তখন আমি ছিলাম দুরের এক এলাকায়। যার কারণে অন্যমেলা সাদী ভাই সম্পর্ক্যে ওয়াকিবহাল ছিলামনা। ২০১০ থেকে থাকতে শুরু করি টিসদেল এ। সেখানে এক ভাবীর মাধ্যমে পরিচিত হই সাদী ভাই এর সাথে। ধন্যবাদ সেই ভাবী এবং সাদী ভাই কে। ওনারা দুজন আবার  আমার সেই বর্নাঢ্য বইমেলার অতীত স্মৃতি যেমন মনে করিয়ে দিলেন তেমনি ধীরে ধীরে আবার নিমজ্জিত বই মেলা এবং বই এর আকন্ঠ ভালবাসায়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথম ২০১১ থেকে বইমেলায় যোগদান সাদী ভাই এর হাত ধরে। আমার লেখা লিখি শুরু ওখান থেকে।
এখানের বইমেলা যদিও বাংলাদেশের মত খুব জাকজমক হয়না। এ স্বাভাবিক ই বলতে হবে। এখানে মাল্টি কালচার এর দেশ সব ল্যাঙ্গুয়েজ এর মাঝখানে আমার বাংলা বইমেলা শুধু আমাদের ই প্রানের বইমেলা। আমরা বাঙ্গালীরা শুধু যোগদান করি বলে হয়ত তেমন চোখে লাগেনা। বাংলাদেশ এর ষোল কোটি মানুষের এক ভাষা একটি বইমেলা সঙ্গত কারণে ওখানে হই হুল্লোড় প্রানের আবেগ একটু বেশি। তাই বলে এখানে আমরা বাঙালীরা বসে থাকিনা। সবাই উম্মুখ হয়ে এই দিনটির জন্য ই বসে থাকি। প্রানের আবেগে উদ্দীপনায় উদ্বেল হয়ে উঠি এই দিনটিতে। দেখা যায় হয়তবা কার ও কাজ থাকে দিনটিতে। তারপর ও কাজ শেষে বিকালের সময় টিতে বাঙালী সাজে ছুটে আসে সবাই মেলার কেন্দ্র টিতে।
অনেক প্রতিবন্ধকতা প্রতিকুলতার মধ্যে ২০০৬ থেকে প্রতিবার ই বই মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। এইজন্য অকুন্ঠ প্রশংসা র দাবিদার বইমেলার আয়োজক  আমার হৃদয় থেকে জানাই ওনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। বইমেলার সাথে সংশ্লিস্ট আয়োজক সবাইকে প্রানঢালা শুভেচ্ছা এবং কৃতজ্ঞতা।
আশা করি প্রতিবারের মত সফল হবে  এবারের বইমেলা “অষ্টম টরন্টো বইমেলা।
আসুন সবাই শ্লোগান মুখরিত হয়ে বলি সফল হোক অষ্টম টরন্টো বইমেলা।

১,৭৫৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

২২ টি মন্তব্য

  1. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    আপি আপনাকে তো চিনতে পারছি না? আপনি
    কি ছবিতে আছেন। আর শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ
    । বই মেলার জন্য শুভ কামনা

  2. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    অভিজ্ঞতা অর্জন কৱা জীবনেৱ একটি শিক্ষনীয় কাজ আৱ এৱ ফলাফল আপনি বাস্তব জীবনে প্ৰয়োগ কৱতে পাৱবেন। খুব ভাল লিখেছেন দোয়া কৱি সামনে এগিয়ে যান

  3. মিলন বনিক মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভালো লাগছে..বাংলা ভাষাভাষীদের আবেগ আর অনুভূতি প্রকাশের বিশাল ক্ষেত্র…টরেন্টো বই মেলা আরও বিস্তৃতি লাভ করুক…

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      বাংলা ভাষাভাষীদের আবেগ আর অনুভূতি প্রকাশের বিশাল ক্ষেত্র…টরেন্টো বই মেলা আরও বিস্তৃতি লাভ করুক……..আমার ও একই প্রত্যাশা। ধন্যবাদ মিলনদা সুন্দর মন্তব্যের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

  4. মনির হোসেন মমি মন্তব্যে বলেছেন:

    হুম বই মেলা বাঙ্গালীর প্রান।

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      আমি অনেক ব্যস্ত। লগ ইন হওয়া হচ্ছেনা। যখন হই তখন দেখা যায় নেট টা স্লো। এইজন্য কালকে কার ও কমেন্টসের জবাব দিতে পারিনি। ধন্যবাদ মনির ভাই কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

  5. সোহেল আহমেদ পরান মন্তব্যে বলেছেন:

    দেশের বাইরে বাংলা বইয়ের মেলা হচ্ছে… এটা খুবই আনন্দের খবর।
    এগিয়ে যেতে হবে এভাবেই।
    শুভেচ্ছা জানবেন আপা । সুন্দর পোস্ট…

  6. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    আমাদেৱ কে এগিয়ে যেতে হবে সামনেৱ দিকে পাল্লা দিতে হবে তচাদেৱ সাথে

  7. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    মেলা প্রিয় বাংগালী।আর সেটা বই মেলা হলেতো আর কথা নাই।
    সারা পৃথিবীতে বাংলা ভাষার জয়গান রচিত হোক।
    লেখক আর পাঠক সমাজের প্রিয় মিলন মেলা বইমেলা।
    ধন্যবাদ আরজু মুন জারিন খবরটি শেয়ার করার জন্য।

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      ছাইফুল ভাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। সবাই অনেক সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করলেন। আমার একই বার ই সময় নেই যে যথাযথ উত্তর দিব। অনেক ব্যস্ত ছাইফুল ভাই।

  8. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    অভিনন্দন প্রিয় মুন——- !!!

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      বেশী।জসিম ভাই কোথায় গেল। আজ পোস্ট কোথায় ? কোথায় বা তোমার কমেন্টস। আমি উধাও তুমি ও উধাও। তাহলে চলন্তিকা চলবে কিভাবে ? একজনকে তো থাকতে হবে।

  9. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    সকল প্ৰসংসা মহান আল্লাহ তায়ালাৱ

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      সকল প্ৰসংসা মহান আল্লাহ তায়ালাৱ……গাস ফড়িং অনেক খুশি হলাম আপনার আন্তরিক মন্তব্যে। শুভেচ্ছা রইল অনেক বেশী বেশী।

  10. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    সফল হউক বইমেলা। আপি আমি গত বছর থেকে বইমেলায় যাই
    বেসম্ভম মজা লাগে বই কিন্তে।

    লেখা ভাল লাগল।

  11. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    আমার ও প্রিয় শখ এর মধ্যে এক হলো বই কেনা ,বই পড়া। ধন্যবাদ এই মেঘ এই রৌদ্দুর। .ছবি আপু কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা জেন। ভাল থেক।

  12. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন বই মেলা

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top