Today 30 Nov 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমরা করব জয় একদিন

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ২০/০২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 944বার পড়া হয়েছে।

hiroshima

পর্ব- তের

আমরা করব জয়
আমরা করব জয়
আমরা করব জয় একদিন ।
ওহ বুকের গভীরে আমরা জেনেছি
আমরা করব জয়।

উই শ্যাল ওভারকাম
উই শ্যাল ওভারকাম
উই শ্যাল ওভারকাম সামডে
ওহ ডীপ ইন মাই হার্ট
আই ডু বিলিভ দ্যাট
উই শ্যাল ওভারকাম ওয়ানডে।

নোয়া তার ল্যাবরেটরীতে কাজ করছে আর মাথা দুলিয়ে এই গানটি গাচ্ছে।এ যেন যেই শিশু নোয়া ।আইমার মনে পড়ে গেল নোয়া এইভাবে মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে ছোটবেলায় এই গানটি গাইত।

আইমা স্বস্নেহে ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকে।মাথা দুলিয়ে গান গাওয়ার ভঙ্গিটি জেলানের মত।

নোয়া এক বিশাল মহাকাশ যান বানানোর পরিকল্পনা করছে।প্রাথমিকভাবে ছোট একটি মডেল বানাচ্ছে সে।পরিকল্পনা মাফিক সবকিছু এগোলে একবছরের এই নভোযানটি সে বানিয়ে ফেলতে পারবে আশা করছে।এই বাপারে তাকে সবরকমের সহযোগিতা দিচ্ছে নাসার বিজ্ঞান গবেষনা কেন্দ্র এবং সরকারী বিজ্ঞান অনুদান প্রকল্প।গভীর মনযোগে সে কাজ করছে।দেখে মা এসে তার দিকে হেসে তাকিয়ে আছে।

মা দেখে হাসল সে।

তোর এখন ও মনে আছে ছোটবেলার এই গান।আইমা হেসে জিজ্ঞাসা করে।

মনে আছে কেননা এ শুধু আমার জন্য গান ই না ।মন্ত্রের মত মাম্মী।

আমি সত্যি জয় করব ।আমরা জয় করব ই করব।মা আমরা হারবনা দেখে নিও।সুন্দর পৃথিবীকে হিংসা হীন ঘৃনা হীন সবুজ শ্যামলিমার পৃথিবীকে দিয়ে যাব ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে।তোমার কাছে এটা আমার প্রতিজ্ঞা মাম্মী।

নোয়ার চোখে মুখে দৃঢ় প্রত্যয়ের ছাপ ফুটে উঠল।

আইমার বুক ভরে উঠল গর্বে ভালবাসায় ছেলের জন্য।

দেখ দেখ মাম্মী এই নভোযান নিয়ে আমি সাইবর্গদের মোকাবিলা করব।পৃথিবীকে রক্ষা করব এবং অবশ্যই বাবাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসব। উত্তেজনায় তার চোখ মুখ চকচক করতে থাকে।

অবশেষে সেই প্রতীক্ষিত দিন চলে আসল।তার নভোযানটি বানানো শেষ হল আজকে।উদ্বোধনী হবে আজকে যানটির।

দীর্ঘ ছয়মাস ব্যায় করেছে যন্ত্রটির পিছনে।

সুইচটি টিপে দিলে যানটি চলতে শুরু করার কথা।তবু কেন জানি আজকে তার মনে টেনশন কাজ করছে।বারবার সে চেক করে দেখছে সবজিনিস।ইকূয়েশন ঠিক আছে ফিল্ডগুলিকে বসানো হয়েছে ঠিকমত।এখন সুত্র অনুসারে মলিকূল ভেঙ্গে যাওয়ার কথা প্রচন্ড শক্তিতে সুইচ অন করার সাথে সাথে।তাতে আলোর গতির চেয়ে দ্রুতগতিতে যানটি চলতে শুরু করবে।তার হিসাব মত মন বলছে সব ঠিক আছে।

তার পিছনে নাসার সকল কর্মকর্তা রা অপেক্ষা করতে লাগলেন যন্ত্রটির সার্বিক প্রগ্রেস দেখার জন্য।

নিশ্বাস বন্ধ করে প্রথমে বাবার মুখটা মনে করে নিল তারপর সৃষ্টিকর্তার নাম উচ্চারন করে সুইচ টিপে দিল।

প্রথম কিছুক্ষন কোন সাড়া আসলনা যন্ত্রটি থেকে।হতাশ হয়ে ভাবল সে কি হল ভাবতে ভাবতে জোরে আবার টিপে দিল সুইচ টি।

প্রচন্ড শব্দে নড়ে উঠল যানটি ।তারপর চক্রাকারে ঘুরতে লাগল।

আনন্দে সবাই হাত তালি দিয়ে উঠল।

যন্ত্রের ভিতরে কৃত্রিম আলোতে সে তৈয়ারী করল অপরুপ নকশা।তাতে লিখল বড় করে

স্বাগতম ৪০৬৮ এয়ার এক্স নভোযান আমরা করব জয় অবশ্যই।
আমাদের কেও রুখতে পারবেনা।

সবাই জোরে জোরে হাত তালি দিতে লাগল।

মঙ্কলগ্রহের সাইবর্গের স্ক্রীনে ও দেখা যাচ্ছে সেই দৃশ্য একই সঙ্গে।

অবশ্যই আমার নোয়া ।তুমি অবশ্যই পারবে বাবা।পারতে যে তোমাকে হবে মনে মনে বলছে আরিয়ান।

বাহ অপূর্ব আরিয়ান এই বালক বলল ভেন্কটেশ।এই ছেলেকে আমার চাই জীবিত।তার মস্তিষ্ক আমার দরকার।

শুনে শিউরে উঠল আরিয়ান।

তা কখন ও তোমাকে করতে দেওয়া হবেনা যদিও তুমি এখন অনেকটা আমার পালনকারী পিতার মত।আমকে নুতুন জীবন দিয়েছ।তোমার সাথে আমার বিশ্বস্ত থাকা উচিত।কিন্তু আমার ছেলের প্রসঙ্গে কার ও সঙ্গে আপোষ করতে পারবনা ভেন্কটেশ।কথাগুলি সে বলছে মনে মনে যদিও মনে হচ্ছে সাইবর্গ ভেন্কটেশ তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত।

তুমি কি কিছু বললে।জিজ্ঞাসা করল ভেন্কটেশ।

তার মুখে এক বিচিত্র হাসি ফুটে উঠল।

ঠিক তখনই আরিয়ানের ওয়াচে ট্রান্সমিটার টি বিপ বিপ শব্দ করে উঠল।

আরিয়ান চমকে দেখল নোয়ার মুখ ভেসে উঠছে স্ক্রীনে।মেসেজ লেখা :বাবা তুমি কি আমাকে দেখছ।

কিন্তু আরিয়ান তার জবাব না দিয়ে ট্রান্সমিটার টি অফ করে দিল ভেন্কটেশ সামনে থাকায়।

(চলবে)

১,০৪৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ ।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পটি ভাল লাগল আপি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top