Today 08 Aug 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমরা করব জয় একদিন

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১২/০১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 759বার পড়া হয়েছে।

solar pa

চতুর্থ পর্ব

নিঃশব্দে জেলান আস্তে আস্তে হাতের ধাক্কায় ঘুম থেকে উঠাল আইমাকে ।

চুপ” আমাদের চারিপাশে কিছুর অস্তিত্ব টের পাচ্ছি। সম্ভবত তারা সংখ্যায় অনেক।তারা হয়তবা এখন ও আমাদের দেখেনি। আগুন দেখে তারা জায়গা টা ঘিরে রেখেছে।

তারা যেখানে ঘুমাচ্ছিল অনেক অন্ধকার।গভীর রাতের কারনে কিছু চোখে পড়েনি তাদের। হয়তবা প্রানী না মানুষ এখন ও তাদের কে দেখতে সক্ষম হয়নি।শুধু আলোর ফুলকি উঠানামা দেখতে পাচ্ছে জেলান।অদ্ভুত কিছু সাংকেতিক শব্দের মত শোনা যাচ্ছে যা রেডিও ট্রান্সমিটারের শব্দের মত মনে হল জেলানের।

আইমার মুখ থেকে চিৎকার বেরিয়ে আসছিল প্রায় আতংকে ভয়ে।জেলান মুখ চেপে ধরল তার। মাথার ওইপাশ্বে কোন আলো দেখা যাচ্ছেনা।সম্ভবত ওই পাশে কেও নেই।

চল প্রথমে আমরা চেষ্টা করি শুয়ে গড়িয়ে ওপাশে চলে যাই।বলল ফিসফিসিয়ে জেলান।

সে ঠিক করল ওদের কাছে ধরা দিবে তখনই যখন নিশ্চিত হওয়া যাবে এরা কোন বিপদজনক প্রানী না।আপাতত এদের উদ্দেশ্য গতিবিধি না জানা পর্যন্ত ওদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে হবে নিজেদের যে কোনভাবে।

ভয় পেওনা সোনা হয়তবা এরা আমাদের ত্রানকর্তা হতে পারে ।আমাদের কে বাচানোর জন্য আসতে পারে।স্বান্তনার ভঙ্গিতে কাধ চাপড়ে অভয় দেওয়ার চেষ্টা করল জেলান আইমাকে।

না সেটা আগে বুঝতে হবে সতর্কভাবে বলে আইমা।

এইতো আমার বুদ্ধিমতি প্রেয়সীর কথা বুকে আকড়ে ধরে রইল কিছুক্ষন আইমাকে তার ভয় দুর করার জন্য।

অনেকটা অন্ধের মত হাতড়াতে হাতড়াতে শুয়ে গড়িয়ে এই স্থান থেকে সরে যেতে চাইল।

দুজন খুব সতর্কতার সাথে গড়িয়ে এপাশে অনেকটা দুরে চলে আসল ।এইসময়টা পরস্পর পরস্পরের হাত শক্ত করে ধরে রাখল যেন বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায় কখন ও।

মোটামুটি নিরাপদ সীমার মধ্যে এসে তারা হাফ ছেড়ে বসল।

আসার পর খেয়াল হল বিপদের দুঃশ্চিন্তা তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাগটা তারা ফেলে এসেছে।

এই যাহ ব্যাগটা ফেলে এসেছি জেলান হাহাকারের গলায় বলল আইমা।

আহ ব্যাগ আরও কিছু খাওয়ার সব নিয়ে আসতে পারলে ভাল হত ইমা।

না না আমি তোমাকে ওই জায়গায় যেতে দিবনা জেলান কিছুতে না।দুজন মরলে এখানে একসাথে মরব।ওই ব্যাগ খাওয়ার এই মূহূর্তে আমাদের দরকার নাই।শক্ত করে জেলানকে আকড়ে বসে রইল সে।

যেতে হবে আইমা ।দিনের আলো ফুটে গেলে আমরা কিছুই করতে পাবনা।এখন ই সুযোগ গিয়ে নিয়ে আসার।কাতর গলায় অনুনয় করল।

মেয়েরা কথা বলে ভাবাবেগ থেকে ।যুক্তি তর্কের ধার ধারেনা।ছেলেরা চলে বাস্তবের সঙ্গে।যদিও দুইজনের আবেগ সমান।আজকে যদিও তারা বিপদমুক্ত ওখানে না গেলে।কিন্তু কালকে আবার অনাগত জীবনের আশংকা অনিশ্চয়তা আসবেই।এইসময়ের ছেলেদের সিদ্ধান্ত হয় যৌক্তিক বাস্তব সুদুরপ্রসারী।সুতরাং জেলান রিস্ক নেওয়াটা যৌক্তিক মনে করল পরেরদিনের নিরাপত্তার জন্য ভাল থাকার জন্য।

অনেক বোঝানোর পর অবশেষে আইমাকে রাজী করানো গেল।কাদতে কাদতে চোখের জলে জেলানকে সে বিদায় দিল।

ইস মেয়েটা কিছুক্ষনের মধ্যে আমি চলে আসতেছি তোমার কাছে ।ভয় পায়না যত্ন করে চোখের পানি মুছিয়ে দিল সে।

যতক্ষন জেলানকে দেখা যাচ্ছে তাকিয়ে রইল সে।

কিছুক্ষন পরে সে আবার দৌড়ে এসে দেখার চেষ্টা করল জেলানকে দেখা যায় কিনা।
হায় হায় আমি কেন ওকে যেতে দিলাম বোকার মত।আমার মনে হচ্ছে আমার জেলানকে হারিয়ে ফেললাম আমার নির্বুদ্ধিতার জন্য।হাহাকারের মত বারবার বলতে লাগল।

মেয়েদের অযৌক্তিক ব্যাক্তিত্বের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সময় সময় ইনটূইশন কাজ করে প্রখরভাবে।মাঝে মাঝে তাদের অমঙ্গল বিপদের আশংকা সঠিক হয়।এইক্ষেত্রে আইমার আশংকা সঠিক হল।জেলান ওখানে যাওয়ামাত্র তাদের দৃষ্টির সামনে পড়ে গেল।দৌড়ে পালাতে যাওয়ার সময় অস্রের আঘাত করল তার বাম পাজরে।মনে হল আগুনের হলকা তার ভিতরে ঢুকে গেল।অসহ্য যন্ত্রনায় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

আর্তনাদের মত বলে উঠল আইমা।আমার ইমাকে বাচাও কাকে সে বলল জানেনা বলতে বলতে চেতনার অতলে তলিয়ে গেল।অজ্ঞান হওয়ার আগের মূহূর্তে দেখতে পেল প্রানীগুলিকে।এগুলি কি রোবট না উন্নত জগতের কোন কিম্ভুতিকিমাকার প্রানী।

এদিকে দীর্ঘ ছয়ঘন্টা অপেক্ষার পর আইমা প্রায় দৌড়াতে দৌড়াতে আগের জায়গায় আসল।ওখানে সে না পেল কোন প্রানের অ্তিত্ব না কোন পদার্থ।

চারিপাশে সে দৌড়াতে দৌড়াতে দেখল কোথাও কি জেলান পড়ে আছে বা তার দেহ বা সামান্য কোন চিহ্ন।ভোজবাজীর মত যেন সব উধাও হয়ে গিয়েছে।

না না এ কিছুতে হতে পারেনা সে ডুকরে চিৎকার করে উঠল আকাশের দিকে তাকিয়ে।

এ নিষ্ঠুরতা করনা দয়াময়।এতদিন দয়া করেছ আর একটু দয়া কর।আমার জেলানকে ফিরিয়ে দাও আমার কাছে।পাগলের মত কাদতে কাদতে লাগল।একপর্যয়ে সংজ্ঞা হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল ।

সাতদিন সে মৃতের মতই পড়ে রইল।না পানি না খাওয়ার।

দিন যায় রাত আসে। ঘন্টা সময় পার হয় প্রতীক্ষায় আইমার।

একসময় টের পেল তার শরীরে এক নুতুন প্রানের এক নুতুন স্পন্দনের।

(পরবর্তীতে)

৮১৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৯ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম। বেশ ভাল লাগছে।

  2. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ আমির ভাই।এই পর্বটা এখন ও এডিট করছি।লেখাটা গোছানো হয়নি।

  3. সম্পাদক মন্তব্যে বলেছেন:

    লেখাতে গতিময়তা আসছে। তবে কাহিনীটা একটা বৃত্ততে চলে আসার চেষ্টা করছে। এটাকে আরও ছড়িয়ে দিন। ভাল হচ্ছে।

  4. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল কাহিনী । তবে বর্ণনার মধ্যে আরএকটু গাম্ভীর্যতা আসলে ভাল হয় । শুভ কামনা ।

  5. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    গাম্ভীর্য্যটা আসতে সময় নিবে।লেখায় তো এখন ও শিশু।ধন্যবাদ।

  6. জিয়াউল হক মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন হচ্ছে বড় আপু। ছোট ভাই সাথেই থাকবে।

  7. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ ছোট ভাই সাথে থাকার জন্য।

  8. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আগের পর্ব না পড়াতে সমস্যা হয়ে যাচ্ছে দেখি। আপু আপনার গল্পগুলো পড়ব আশা করছি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top