Today 19 Jun 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমায় যখন ভূতে ধরে

লিখেছেন: সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্ | তারিখ: ০৬/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1569বার পড়া হয়েছে।

পরীাক্ষার রেজাল্ট দিবে। সাজুগুজু করে স্কুলে গেলাম। রেজাল্ট পাওয়ার আনন্দে টগবগ করছি আমরা। রেজাল্টশিটটা হাতে পেয়ে এক নজর দেখেই পাকখেয়ে পড়ে গেলাম মাটিতে।

সহপাঠীরা চিল্লাচিল্লি, হৈ-চৈ আর ছুটোছুটি করতে লাগল। কেউ পানি ঢালছে, কেউ বাতাস করছে। কেউ কান্না কান্না করে বলছে, সুমাইয়া জীবনেও গণিতে এত কম নাম্বার পায় না; সে ৩৯ পায় কিভাবে? এই নাম্বার দেখেই সে পাক খেয়ে পড়ে গেছে।

স্কুলের বৃদ্ধ দপ্তরি চাচা এসে চুপি দিয়ে জ্ঞানীর মত করে বলছে, আরে কিয়ের নাম্বারের কতা কও তোমরা, আমার তো মনে অইতাছে এই মাইয়ারে ভূতে ধরেছে, ভূতে ধরলে মানুষ এম্বায় ঠাডা মরার মতো ঝিম মাইরা পইরা থাহে, মাইয়ার লক্ষণ তো ভাল ঠেকতাছে না গো! যাই, ধর্ম স্যারকে নিয়া আসি।

ধর্ম স্যার এলেন। দেহি সরো তোমরা। কী অইছে দেকতাছি। স্যার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখলেন। তারপর বিড়বিড় করে মুখটা উপরে তুললেন। লম্বা একটা শ্বাস টেনে গাল ফুলিয়ে আমার মুখ বরাবর মারলেন জোরে ফু। এভাবে তিনবার ফু দিলেন। তার ওপর পরা পানির ছিটা। স্যারের ফু-এর সাথে পান-জর্দার ভয়ংকর গন্ধে আমার নাড়িভূড়ি ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে। হাঁচি-কাশিতে আমি ধণুকের মতো বাঁকা হয়ে গেলাম।

কয়েকজন বলছে, হায়! আয়! স্যার, দেখেন, দেখেন সে কেমন বাঁকা হয়ে গেছে, দেখছেন স্যার, দেখছেন?
স্যার একটা ধমক দিয়ে বললেন, আরে ধ্যাত, তরা চুপ কর। না বুইজ্জা আন্দাজে দেকছেন, দেকছেন করিছ না। ফু-এর এ্যাকশান তো হবায় শুরু অইছে, দেহছ না ছেরি এহন কী করে! বাঁইক্কা-বুইক্কা, মুছরাইয়া-কুছরাইয়া ঠিক অয় কেমনে, চাইয়া খালি দেক। ভূত-পেত্নী আছর করলে এহন বাপ ডাইক্কা পালাইবে। ধুনপুন মনে করিছ না, শক্ত ফু দিছি।

কতক্ষণ পরপর পানির ছিটা, নানান কথা আর জর্দার গন্ধে আমি বেহুঁশ হয়ে গেলাম। যা করবে আল্লায়, ডান বাও তাকিয়ে একটা মোচড় দিয়ে উঠে তাওড়াতে তাওড়াতে সোজা বাসায় চলে এলাম।

গভীর রাত। চিন্তায় আমার ঘুম আসছে না। গণিতে ৩৯? ছিঃ। খালি ছটফট করছি। হঠাৎ দরজা-জানালা নড়ে উঠল। একটা ভূত এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে! আমি তো ডরে লাফিয়ে উঠলাম। ভূতটা হাসি হাসি মুখে বলে, ভয় পেয়ো না, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করব না, এদিক দিয়ে যাচিছলাম তো, চুপি দিয়ে তোমার কষ্ট কষ্ট মুখটা দেখে খুব মায়া হলো আমার। তাই সোজা চলে এলাম। এতো করে কী ভাবছো তুমি? কোনো সমস্যা থাকলে বলো। দেখি, আমি তোমার কোনো উপকার নি করতে পারি।

আমি বললাম, ভূতেরা কি মানুষের উপকার করতে পারে? তোমরা তো খালি ক্ষতি করতে পার। এহ্ তুমি করবে আমার উপকার? যাও এখান থেকে।

ভূতটা হেসে হেসে বলে, তোমরা আমাদের এত খারাপ ভেবো না। আসলে তোমরা আমাদের যত খারাপ মনে কর আমরা তত খারাপ না। আমরা মেলা উপকার করতে পারি। বলেই দেখো না।

আমি বললাম, আমার যে সমস্যা তুমি এর আগা মাথা কিছুই বুঝবে না। এটা লেখাপড়ার ব্যাপার। লেখাপড়া না জানলে কী উপকার করবে তুমি, হেহ্?
ভূতটা বলে, একবার হুকুম করে দেখেন, আমি কি করি।

আমি বললাম, গণিতে সবসময় আমি নাইনটি আপ নাম্বার পেয়ে থাকি। আর এবার ফাইনাল পরীক্ষায় পেলাম থার্টি নাইন। আমার রোল নম্বর কত নিচে নেমে গেছে। আমি মুখ দেখাবো ক্যামনে? তুমি কি পারবে আমার এ সমস্যার কোনো সমাধান দিতে? খালি প্যারাপ্যারি।

নো চিন্তা। আগামীকালই এর সমাধান পেয়ে যাবে তুমি। হাঃ হাঃ হাঃ করে ভূতটা লাটিমের মতো ঘুরতে ঘুরতে মিশে হয়ে গেল।

পরেরদিন স্কুলে গেলাম। সহপাঠীরা দৌড়ে এসে বলল, সুমাইয়া ধর্ম স্যারে ফু না দিলে কালকে তোমার খবর আছিল। অভিভাবক কক্ষ হতে কয়েকজন আন্টি ছুটে এসে চোখ বড় করে বলছে, তোমারে নাকি ভূতে ধরেছিল? ভূতে তোমারে নাকি খাড়াত্তে অক্করে মাটিত ফালাইয়া দিছে? আল্লারে আল্লা, কী বিপদ! ধর্ম স্যার ফু-মন্তর না করলে তো মরেই গেছিলা, লক্ষ টেকার ফু।

চারদিকে খালি ধর্ম স্যারের ফু-এর প্রসংশা। দেখি, দুই মহিলা আর এক পুরুষ লোটা, বদনা আর গ্লাস ভর্তি পানি নিয়ে ’ফু’-এর জন্যে ধর্ম স্যারের পেছনে ছুটছে। ধর্ম স্যার বিরাট ব্যস্ত।

গণিত স্যার থাপ মেরে আমার হাত ধরে বললেন, সুমাইয়া, এসো, এসো। তোমার ব্যাপারটা নিয়ে ভীষণ টেনশানে ছিলাম। বিশ্বাস করো, রাতে আমার একটুও ঘুম হয়নি। আমার বিরাট বড় ভুল হয়ে গেছে। তুমি গণিতে পেয়েছ ৯৩ আর রেজাল্টশীটে উঠেছে উল্টোটা মানে ৩৯। কিযে বিতিকিচ্ছিরি কারবার বল তো! এখন নম্বরপত্র সব ঠিকঠাক করে দিয়েছি। আমার একটু ভূলের জন্য তুমি অনেক বড় কষ্ট পেয়েছ। আই এ্যাম ভেরি সরি সুমাইয়া। দারুন রেজাল্ট করেছ তুমি। কংগ্রেটস।

আমি স্যারের দেয়া অভিনন্দন যত্ন করে তুলে রেখেছি। একটুও ঊনিশ বিশ করিনি। এ অভিনন্দন আমি ভূতকে দেব না ধর্ম স্যারকে দেব-এ নিয়ে মহা সমস্যায় আছি।

১,৫৫৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্। ছাত্রী। লেখালেখি করা আমার ভীষণ পছন্দ। আমি ছড়া, গল্প লিখি। পত্রিকায় নিয়মিত লিখি। ব্লগ আমার কাছে একটা বিশাল লাইব্রেরির মতো। অনেক কিছুই শেখা যায় এখান থেকে। ব্লগ পড়তে আমার খুব ভাল লাগে। আমি পড়ালেখার ফাঁকে ব্লগ পড়ি আর মাঝেমধ্যে লিখি। আমি আশা করি যারা ব্লগে লিখেন তাঁদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পারবো। আমার প্রকাশিত বইঃ ৩টি। নামঃ ১) ছোট আপুর বিয়ে। সাহিত্যকাল প্রকাশনী থেকে ২০১২ সালে প্রকাশিত। ২) দুই বন্ধু ও মেকাও পাখির গল্প এবং ৩) ভূতের পেটে টুনির বাসা। এ দুটি প্রকাশিত হয়েছে ২০১৩ সালে সাহস পাবলিকেশান্স থেকে। শিশু অধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ (প্রিণ্ট মিডিয়া) ৪ বার জাতিসংঘ-ইউনিসেফ-এর মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ডসহ আরো কিছু পুরষ্কার পেয়েছি। প্রাপ্ত পুরস্কার ১. জাতিসংঘ শিশুতহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’ ২০১৩ (১ম পুরস্কার) ২. জাতিসংঘ শিশুতহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’ লাভ ২০০৮ (২য় পুরস্কার) ৩. জাতিসংঘ শিশুতহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’ লাভ ২০০৯ (২য় পুরস্কার) ৪. জাতিসংঘ শিশুতহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’ লাভ ২০১০ (২য় পুরস্কার) ৫. ’ডানো ভাইটা-কিডস’ মাসিক সাতরং’-ব্র্যাকগল্পলেখা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার (২০০৯) ৬. ঐতিহ্য গোল্লাছুট প্রথম আলো গল্প লেখা প্রতিযোগিতা ২০০৭-এ অন্যতম সেরা গল্পকার পুরস্কার। ৭. প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে আয়োজিত লেখা প্রতিযোগিতায় (২০০৭) অন্যতম সেরা লেখক পুরস্কার ৮. প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে আয়োজিত লেখা প্রতিযোগিতায় (২০০৮) অন্যতম সেরা লেখক পুরস্কার ৯. ’চিলড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটি-বগুড়া’ এর গল্পলেখা প্রতিযোগিতায় ২য় পুরস্কার (২০০৯) ১০. প্রথম আলোর ‘বদলের বয়ান’-এ লেখা প্রতিযোগিতায় (২০০৯) ২য় পুরস্কার ১১. আন্তর্জাতিক শিশু-কিশোর চলচ্চিত্র উৎসব ২০১০-এ গল্পলেখা পর্বে ‘অন্যতম সেরা গল্পকার’ পুরস্কার। ১২. কথাসাহিত্য কেন্দ্র পুরস্কার ২০১১ ঢাকা। ২য় পুরস্কার। ১৩. ঐতিহ্য গোল্লাছুট গল্পলেখা প্রতিযোগিতা-২০১২ অন্যতম সেরা গল্পকার পুরষ্কার
সর্বমোট পোস্ট: ১৭৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪১৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-৩০ ০৮:০৯:০৬ মিনিটে
banner

১০ টি মন্তব্য

  1. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    স্কুলের বৃদ্ধ দপ্তরি চাচা এসে চুপি দিয়ে জ্ঞানীর মত করে বলছে, আরে কিয়ের নাম্বারের কতা কও তোমরা, আমার তো মনে অইতাছে এই মাইয়ারে ভূতে ধরেছে, ভূতে ধরলে মানুষ এম্বায় ঠাডা মরার মতো ঝিম মাইরা পইরা থাহে, মাইয়ার লক্ষণ তো ভাল ঠেকতাছে না গো! যাই, ধর্ম স্যারকে নিয়া আসি।

    বেশ বলেছেন।

  2. সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্ মন্তব্যে বলেছেন:

    THANK u VERY MUCH

  3. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ধর্ম স্যার আর ভুতকে নিয়ে যে ঝামেলায় পরেছেন তার থেকে রেহাই পেতে আপনার আর এক বার অঞ্জান হওয়া দরকার বলে মনে হয় । শুভ কামনা । স্বঞ্জানে ভাল থাকুন ।

  4. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    আল্লাহ সুমাইয়া বল কি তোমার উপর ভুতের উপদ্রব হয় নাকি। ভয় পেলাম তো। দাড়াও আগে গল্প টা শেষ করি। কি লিখছ দেখি। ঝাটা আর কবিরাজ নিয়ে আসছি পরে।

  5. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    গুড স্টুডেন্ট। লেখা ভাল লেগেছে

  6. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    মানুষ এখনো ভূত, ফু বিশ্বাস করে… আজিব

  7. সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্ মন্তব্যে বলেছেন:

    azib na, ekhono tae kore oneke, thank u all

  8. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    বরাবরের মতোই ভাল লিখেছ।

  9. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Besh bhalo i to lekha ti
    bhalo laglo

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top