Today 15 May 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আর নয় ভালোবাসা

লিখেছেন: কল্পদেহী সুমন | তারিখ: ০৩/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1339বার পড়া হয়েছে।

১.

আজ সময়টা খুব অন্য রকম। কেমন মৃদু বাতাস, খুব ভালোই একটা আবহাওয়া। নদীর পাড়ে নরম ঘাসে বসে বসে বেশ ভালোই একটা সময় উপভোগ করছে প্লাবন। আজ অনেকদিন পর প্লাবনের একটু ভালো লাগছে। কিন্তু মনে একটা যন্ত্রণা বয়েই বেড়াচ্ছে। প্রায় ছয় মাস হলো নিসার সাথে কথা হচ্ছে না। সেই যে নিসা চলে গেল, আর একবারও খবর নেয়নি মেয়েটা। খুব জেদি একটা মেয়ে নিসা। যেমন অহংকারী মনে হয় তেমন নিষ্ঠুর মনে হয়। আসলে নিসা অহংকারী বা নিষ্ঠুর নয়। নিসার আচরণ এরকম মনে হলেও, ও আসলে খুব নরম একটা মেয়ে। রাগ করলে অনেক নিষ্ঠুর আচরণ করে নিসা। পরে আবার ঠিক হয়ে গেলে অনেক ভালো হয়ে যায়। আর ঐ সময় নিসার নিষ্ঠুর আচরণের কথা বললে চুপ হয়ে থাকে, আর চাইতো না ঐ কথা শুনতে। অপরদিকে প্লাবন খুব নরম মনের। রাগ করলে বলবে “আমি রাগ করছি কথা বলব না আর”, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই কথা বলা শুরু করবে। প্লাবনের এই আচরণ শুধু নিসার সাথেই। এ পর্যন্ত যাদের সাথে প্লাবন রাগ করে কথা বন্ধ করছে, তাদের সাথে পুনরায় কথা বলছে এর দৃষ্টান্ত খুবই কম। প্লাবন নিজেও জানেনা, কেন নিসার সাথেই ওর এত দুর্বলতা। নিসার সাথে একটু কথা বলার জন্য আগে প্লাবন অনেক পাগলামি করত। একটু খবর পাওয়ার জন্য ছটফট করত। কিন্তু নিসা কেমন যেন সব বুঝেও চুপ থাকত। এমনকি অনেক কথাই গোপন রাখত। প্লাবনটাও কেমন যেন, নিসা ছাড়া কিছুই ভাবতে পারত না। কেন নিসাকেই এতোটাই কাছে ভাবে বুঝতে পারে না। সত্যি কথা বলতে, নিসার সাথে যখন সম্পর্ক ভালো থাকে না, নিসা যখন প্লাবনকে দূরে ঠেলে দেয় তখন প্লাবন খুব একা হয়ে যায়। যেন প্লাবনের মনটা ভেঙে দুই ভাগ হয়ে যায়। আবার যখন সম্পর্কটা ঠিক হয়ে যায়, তখন খুব ভালো লাগে প্লাবনের। কিন্তু মনে একটা রাগ থেকেই যেত। নিসার রাগ করে যে দুর্ব্যবহার করত তার জন্য প্লাবন খুব কষ্ট পেত। নিসাকে তখন খুব নিষ্ঠুর লাগে ওর। প্লাবন নিসাকে প্রথম বন্ধু হিসেবেই ভেবেছিল। কিন্তু কি এক অজানা কারণে যেন নিসাকে ভালোবেসে ফেলেছে তা প্লাবন নিজেও জানেনা। আর এই ভালোবাসাটাই নিসাকে প্লাবনের কাছ থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে। আজ তাদের মাঝে এতোটা দূরত্বের সৃষ্টি এই ভালোবাসা নামক বিষয়টির জন্য। নিসা প্লাবনকে ভালোবাসতে পারছে না, ঠিক যেমন করে প্লাবন চায়। তবে প্লাবনের প্রতি নিসার খুব মায়া হয়, খুব অনুভব করতে পারে প্লাবনের কষ্টগুলোকে। প্লাবনও বুঝতে পারে নিসা কেন প্লাবনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চাইছে না। কিন্তু মন নামক অজুহাত যেন সব কিছু ওলটপালট করে দেয় প্লাবনের। আর এ জন্য তাদের মাঝে যতসব ঝামেলা হয়।
প্লাবন ছয় মাস ধরে নিসার সাথে কথা না বলে থাকার মানুষ নয়। কিভাবে যেন ছয়টি মাস কেটে গেল ও নিজেই জানেনা। আজ ফোনটি হাতে নিল। রিং দিল নিসাকে। প্রথম রিংয়েই ধরল

নিসা।
হ্যালো
হুম বল
সরি! আর তোর সাথে এরকম করব না।
সত্যি বলছিস।
হুম। তোর সাথে যোগাযোগ না থাকলে ভালো লাগেনা। তুইতো একবারও ফোন দিলিনা আমাকে!
এমনি দেইনি।
তুই বলনা আগের মতো হয়ে যাবি।
তুই কই এখন?
আমার উত্তর দে!
ওফফ আবার প্যাচাল। কথা বলছি না তোর সাথে?
হুম। কিন্তু?
কি?
কেমন যেন লাগছে তোকে!
কেমন?
আগের মতো না
চুপ করত। রাখি এখন, বাই।
বাই।
নিসা এতোটাই সহজে প্লাবনের ভুল সব মাফ করে দিবে তা ও ভাবেনি। এভাবেই আবার সেই আগের হাসি খুশি প্লাবন প্রানবন্ত হয়ে ছুটা শুরু করল জীবনের নতুন রঙ্গমঞ্চে, নিসার কাছের বন্ধু হয়েই।

২.

-তোমার কি লজ্জা নেই?
-আছেতো!
-তাহলে ও এতো অপমান করে তারপরওকথা বলতে যাও কেন ওর সাথে!!
-কি করব?
-তোমার কি নিজের ওয়েট কমাইতে ভালো লাগে?
-না
-তাহলে ওকে এতো তেল মারতে যাও কেন?
-কথা না বললে যে ভালো লাগেনা কিছু
-কেন?
-খুব একা লাগে নিজেকে
-ও কি তোমাকে ছাড়া একা ফিল করে?
-না মনে হয়
-ওর তো BF আছে। ওকে নিয়ে ও খুব ভালোই আছে।
-হ্যাঁ জানি
-তাহলে আমি কি করব? আমি যে ভালো নেই!
-দেখ হয়তো তুমি ওকে অনেক ভালোবাস কিন্তু ও তো তোমাকে একটুও ভালোবাসে না। যতটুকু তোমার জন্য করে তাহল ওর সহানুভূতি। তুমিই বলো তুমি কি কারও সহানুভূতি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাও?
-না
-তাহলে আজ থেকে আর ওর সাথে কথা বলবা না
-কেন?
-ঐ যে কারও সহানুভূতি নিয়ে তুমি বাঁচতে চাও না
-ভালো লাগে না যে
-তোমার নিজের একটা মূল্য আছে সেটা কেন নষ্ট করবা?
-জানিনা
-ও যখন ওর BF নিয়ে ঘুরে তখন ও কি তোমার কথা একবারও ভাবে? ও যখন খুব আনন্দে থাকে তখন কি ও তোমার কথা একবারও ভাবে?
-জানিনা কিছু আমি
-জানবা না তো
-আমি ওর সাথে একটু ঝামেলা হলেই থাকতে পারিনা, আর কি করে কথা না বলে থাকব?
-নিজের যে একটা ব্যক্তিত্ব আছে তাকে কেন ইমোশনের কাছে বিকিয়ে দিচ্ছ। তুমি এতো বোকা কেন?
-আমি বোকা?
-হুম, অনেক বোকা
-সবাই তাই বলে আমাকে
-বোকা দেখেইতো বলে। এখন থেকে ও ডাকলেও ওকে না চিনার ভান করবা।
-ও কি ভাববে?
-তোমার এতো চিন্তা করতে হবে না। ও যা খুশি তাই ভাবুক।
-কেমন দেখাবে না
-কেমন দেখাবে আর। ও যখন তোমাকে অপমান করে তখন ও কি ভাবে এসব কিছু যে তুমি কতটুকু কষ্ট পাচ্ছ!
-আমি এমন হতে পারব না।
-পারতে হবে। নিজের ওয়েট রক্ষা করতে হলে
-চেষ্টা করি
-তুমি চেষ্টা করছ না
-করছি
-কই
-আগে ওর সাথে কথা না বলে থাকতে পারতাম না, এখন তো পারছি।
-ভালো
-খারাপ লাগে যে
-এটা সহ্য করতে হবে
-না পারলে
-তাহলে আমার সাথে আর এসব বলতে আসবে না
-এবার না আমি ওর কাছ থেকে অনেক কষ্ট পাইছি।
-কেন?
-ও এবার আমার সাথে এমন ভাবে আচরণ করছে মনে হচ্ছিল যেন আমি অনেক দূরের কেউ। আমার কিছু হলে নাকি ওর কোন যায় আসে না।
-তারপরও ওর জন্য কান্নাকাটি কর তুমি?
-করছিলাম একটু।
-পৃথিবীতে কি আর কোন মেয়ে নাই?
-আছেতো! ওর চেয়ে অনেক ভালো মেয়েও আছে
-তাহলে?
-কিন্তু আমি যে ওকে ভালোবাসি!
-ওর কাছে তো এর কোন মূল্য নেই।
-জানি
প্লাবনকে পুতুল এতো ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করছে প্লাবন যেন বুঝতেই পারছে না। কি পেল ঐ নিসার মাঝে প্লাবন। কিইবা হবে প্লাবনের পরিনতি।

৩.

-ও যে এতো নীচু মন মানসিকতার তা আমি ভাবতেও পারছি না। আগে ভাবতাম খুব সুন্দরী মেয়েদের চরিত্রগত সমস্যা থাকে। অথচ ও এতোটা সুন্দরী না।
-এটা ভুল ধারণা। ভালো হলে বেশি আর কম সুন্দরী কোন ব্যাপার না।
-আমার আগেই সরে আশার উচিৎ ছিলো
-এখন তো আসতেছ
-কিন্তু ওর জন্য আমার জীবনটা অনেক পিছিয়ে গেছে। আমি পড়ালেখায় অনেক পিছিয়ে গেছি। আমার সব কিছু উল্টাপাল্টা হয়ে গেছে।
-এখন তো আর আফসোস করে কি লাভ। এখন সামনের দিকে এগোও
-আচ্ছা আমার চোখের পানি গুলোর মূল্য কে দিবে? আমার সারাদিন মন খারাপ থাকার কোন মূল্যই কি নেই?
-ওর কাছে নেই
-আসলেই নেই। ওকে ভেবেছিলাম একটু হয়তো আমাকে অনুভব করে, কিন্তু ও আমাকে একটুও অনুভব করে না।
-ওর সহানুভূতি দেখে তোমার এরকম মনে হতো।
-খুব স্বার্থপর ও। নিজের সুখ ছাড়া কিছুই বুঝে না।
-এতদিনে বুঝলে!
-কি করবো? একটা অন্ধ বিশ্বাস ছিল ওর উপর। ও যা বলে তাই সত্য মন হতো
-মেয়েরা নিজের স্বার্থের জন্য অনেক মিথ্যা বলে।
-হুম। তুমিও কি মিথ্যা বলো।
-আমি হয় সত্য কথা বলব না হয় বলব না কিছু
-ও বুঝলাম
-কি বুঝলে?
-অনেক কিছু

লাইনটা কেটে গেল। প্লাবন আর ব্যাক করল না। পুতুলও করল না। প্লাবন খুব দোটানার মাঝে আছে। কি করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। খুব একাকী অনুভব করছে। নিসা যে রকমই হোক প্লাবন যেন নিসাকে কোন ভাবেই ভুলতে পারছে না। কোন ভাবেই যেন নিসাকে এড়িয়ে চলতে পারছে না। আসলে খুব ভালোবাসে বলেই নিসাকে ও আজ ঘৃণা করতে পারছে না। নিজেকেই যেন ঘৃণা করে যাচ্ছে।

৪.

হেড লাইটের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। বাহিরে কেমন ঘুটঘুটে অন্ধকার। সবুজ কোথা হতে যেন ফিরছিল। হঠাৎ ব্রেক চেপে ধরলো।
-কি প্লাবন? তোমার এ কি অবস্থা!
-কি?(মাতাল মতো)
-এসব কি খেয়ে আসছ তুমি? আশ্চর্য লাগছে সব কিছু?
-কি করব? আর সহ্য হচ্ছে না কিছু। কেমন ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে সব(মাতালের মতো)
-তোমার যে এ অবস্থা আন্টি জানে কিছু?
-কি জানি (মাতালের মতো)?
-সবুজ কষে একটা চড় বসিয়ে দিল প্লাবনের গালে।
কলিং বেলের শব্দ। সবুজ ঘুম থেকে উঠে পড়ল। সবুজ চিন্তায় পড়ে গেল। ও ও কি এসব স্বপ্নের মাঝে দেখল নাকি বাস্তবে। ফোন দিল প্লাবনকে।
-হ্যালো
-হুম! কি খবর তোমার?
-এইতো?
-তো কি বুঝে ফোন করলা!
-কিছু মনে করনা। তুমি কাল বলছিলা না খুশীকে নাকি তুমি বলছিলা তোমার ড্রিংকস করার ইচ্ছে আছে।
-হ্যাঁ
-আরে মিঞা আমি একটু আগে স্বপ্নে তোমাকে দেখলাম মাতাল অবস্থায়
প্লাবন শুনে খুশী হয়ে হাসি দিচ্ছিল
-আরও কাহিনী আছে তো
-কি?
-আমি তোমাকে চড় মারসি তাই।
প্লাবনের হাসির মাত্রা আরও বেড়ে গেল।
-এতো হাসির কি পেলা?
-বললা না মদ খাইছি, আর তুমি তাই চড় মারছ আমাকে
-হুম! তো
-তো আর কি! আরও স্বপ্ন দেখো
-তোমাকে আগে থেকেই বলছিলাম নিসাকে বাদ দেও
-হুম! দিছি তো
-এতদিন লাগল! পুতুল না বললে তো দিতাই না।
-আসলেই পুতুলের মতো করে কেউ এমন করে বুঝায়নি। ও এমন ভাবে বুঝায় যেন খুব কাছ থেকে কেউ আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। ওর জন্য নিজেকে অনেক ফ্রেশ লাগছে আজ।
-আমিও তো কম বলিনি।
-হুম। ওর মতো শাসন করে বলনি যে নিসার সাথে আর কথাই বলবে না।
-বুঝছি। এখন থেকে তোমাকে সরাসরি আদেশ করতে হবে।
প্লাবন ছেলেটাই এরকম। হাজারো উপদেশ ওর কানে ডুকে না। যখনই প্লাবনকে বলা হবে “এই এই কাজটি কর,” তখনই বাধ্য ছেলের মতো কাজটি করবে।
-ঢাকা কবে আসবা?
-দেখি কবে আসা যায়!
-হুম। আসো কথা আছে।
-কি কথা?
-আসলেই বলব
-আচ্ছা। রাখি এখন।
-আচ্ছা।
প্লাবন চুপচাপ বসে পড়ল। হঠাৎ নিসার কথা খুব মনে পড়ল। মনটাকে ও যেন পাথর দিয়ে ঢেকে রাখছে, কিছুতেই নয় আর। নিসার সাথে আর কোন কথা নেই।

৫.

উচ্ছল প্রানবন্ত দুপুরে নির্মল বায়ু বইছে। আকাশে মেঘের ভীড়ে সূর্য ঢেকে যাচ্ছে, ফলে সূর্যের খরতাপ আর তেমন যন্ত্রনা দিচ্ছে না। জনশূন্য কোন মাঠে একা একা বসে থাকার জন্য যথেষ্ট একটা আবহাওয়া। অদূরে দু একটা মানুষের যদিও আনাগোনা যারা নিজেদের কর্ম নিয়েই ব্যস্ত। চৈত্রের শেষের দিকে তাই বৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস খানিকটা বোধগম্য হচ্ছিল। কখন যে ঝড় শুরু হয়ে যায় তার কোন ইয়ত্তা নেই। প্লাবন বসে বসে ভাবছে। অনেক কিছুই আজ তার মনকে ভাবিয়ে তুলছে। খুব নিবিড়ভাবে সে ভাবছে তার জীবনের ইতিবৃত্ত। খুব আনমনে হয়ে আছে সে। কখনও কখনও অতীতের কিছু কথোপকথন তার মনকে দোলা দিয়ে যাচ্ছে।
-তুই কবে আমার বন্ধু ছিলি।
-ছিলাম না।
-তোর চেয়েও অনেক পুরাতন বন্ধু আছে আমার। তুই আমার স্কুলের বন্ধুও না কলেজেরও না। ভার্সিটিতে আসার পর তোর সাথে আমার পরিচয়।
-তাহলে
-তাহলে আর কি? তোর কিছু হলে আমার তেমন যায় আসে না। তোর জন্য কখনও খারাপ লাগবে না।
-ও
-তুই যদি বন্ধুর মতো থাকতে পারিস তাহলে থাক। আর না হলে থাকিস না। আমি এখন অনেক সুখী। ও আমাকে অনেক সুখে রাখছে। আমি তোর সাথে থেকে নিজের লাইফটা অগোছালো করতে চাই না। আমাকে তুই আর তোর সাথে জড়াস না। আমাকে আমার মতোই

থাকতে দে।
-আর কি?

-কিছুই না। বন্ধু হয়ে থাকতে পারলে থাক, না হয় আমাকে আর বিরক্ত করিসনা।
প্লাবনের চোখের জল চলে আসল। এই কথোপকথনটি প্লাবন কোন ভাবেই ভুলতে পারছিল না। নিসা এরকম ভাবে প্লাবনকে কখনও দূরে ঢেলে দেয়নি। খুব নিষ্ঠুর ভাবেই বলছিল নিসা “প্লাবনের কিছু হলে তার কোন যায় আসে না “।এই কথাটি প্লাবনকে খুব আঘাত করেছিল।
হঠাৎ কেউ একজন পেছন থেকে ভউ করে প্লাবনকে ভয় দেখাল। প্লাবন লাফ দিয়ে উঠে পরল।

 

-কিরে ভয় পাইছিস নাকি?
-হুম
-ভীতু! কি করিস একা একা মাঠের মাঝখানে?
-বসে আছি
খুশির চোখ ফোলা। ওকে দেখে মনে হচ্ছে ওকে কেউ মাইর দিছে। প্লাবন তাই অবাক হয়ে খুশির দিকে তাকিয়ে ছিল।
-কি রে বোকার মতো তাকিয়ে আছিস কেন?
-তোর চোখে কি হইছে?
-আরে ঘুম থেকে উঠে দেয়ালে ধাক্কা খাইছি। রক্তও পড়ছিল।
-ডাক্তার দেখাসনি
-না
-কেন?
-এমনি ভালো হয়ে যাবে।
-কে বলছে এমনি ভালো হয়ে যাবে।
-ছাগল কোথাকার! এখনি যা
-কই যাব?
-ডাক্তারের কাছে
-বাদ দে। তোর খবর বল
-আমার আর কি খবর।
-কেন? কোন খবর নাই?
-এই যে তোর সামনে বসে আছি, দেখছিস না।
-তাতো দেখছিই.
-আর কি চাই
-তোর চোখ ভিজা ভিজা লাগছে কেন রে?
-কিছুনা, এমনি
-বুঝছি এতক্ষণ কাদঁছিলি তুই!
-কই না তো
-তুই এমন কেন রে?
-কেমন?
-মেয়েদের মতো কাঁদিস
-বললাম না কান্না করিনি (রেগে)
-আচ্ছা ঠিক আছে। তুই কান্না করিসনি।
খুশি রেগে গাল ফুলিয়ে চলে আসল। প্লাবন আর ডাকল না খুশিকে। এদিকে প্লাবনের আবার নিসার কথা মনে পড়ল। খুশির চোখ ব্যথার কথা শুনে মনে পড়ল। একদিন নিসা বলছিল ওর চোখ নাকি ফোলে লাল হয়ে গেছে। আর প্লাবন তখন বারবার নিসার খবর নিচ্ছিল।
প্লাবন তখন খুশিকে ফোন করল।
-খুশি
-কি?
-রাগ করছিস?
-করলে কি?
-তোর চোখের ব্যথার কথা শুনে নিসার কথা মনে পড়ল।
-কেন?
-জানিস! নিসাও একদিন চোখে ব্যথা পাইছিল।
-ওকে না তুই ভুলে যাবি বললি
-হুম
-তো
-কি?
-ওর নাম আর মুখে আনবিনা
-চেষ্টা করছি
-হুম। কর
-রাখি এখন
-আচ্ছা
প্লাবন মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে মাঠের সবুজ ঘাসের উপর শুয়ে পড়ল। শুয়ে শুয়ে আকাশের নীল রংয়ে মেঘের আনাগোনা দেখছিল।

৬.

প্রতিদিন শাটল ট্রেনে করে বাড়ি ফেরা। প্রায়ই ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে যায়। যেন একটা নিয়মের শিকলে বন্দী পুতুল। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে সে। আর পরীক্ষা, সে তো লেগেই আছে। কিছুতেই যেন পিছু ছাড়ছে না।
ট্রেনে করে ষোলশহর দুই নং গেট পর্যন্ত এরপর সমুদ্রের কাছাকাছি নিজের আপন ভুবনে ফিরতে তড়িঘড়ি করে বাসে উঠতে যেয়ে হাতে চোট লাগছে। খুব ব্যথা পেয়েছে পুতুল। বাসে উঠে বসার সুযোগ পেলে পুতুল আপন মনে ফেসবুক চালানো শুরু করে। কি যেন অজানা কারণে পুতুলকে সব সময় অফলাইনে দেখায়। হঠাৎ তখন প্লাবন নক করল।
-ঐ
-কি?
-কই আছ?
-বাসে
-কেমন আছ?
-ভালো না। হাতে ব্যথা পাইছি
-কি করে?
-বাসে উঠতে যেয়ে
-কেন?
-তাড়া ছিল খুব, তাই বাসটা মিস করলে দেরী হয়ে যেত।
-অনেক ব্যথা
-হুম
-বাসায় যেয়ে ওষুধ খেয়ে নিও
-বাসায় যেতে তো হবে।
-হুম তাইতো
-এতক্ষণ যে ব্যথা পাব
-কিছু করার নাই। সহ্য করতে হবে।
-হুম। তো নিসা!!!
-কি? ওর সাথে আর কথা বলিনি
-বলো না
-ওর অনেক ছবি আমি মোবাইলের সেভ করে রাখছি, সব ডিলিট করে দিব
-আমাকে ওর একটি ছবি পাঠাবা?
-কেন?
-দেখব
-দাড়াও পাঠাচ্ছি
প্লাবন নিসার একটা ছবি পুতুলকে পাঠাল। এরপর সব ছবি মোবাইল থেকে ডিলিট করে দিল।
-আউট
-কি?
-দেখলাম
-সব ডিলিট করে দিছি। খারাপ লাগছে একটু
-স্বাভাবিক ব্যপার
-নিসাকে একদম ভুলে যাব
-তুমি মেয়েদের মতো ইমোশনাল

পুতুল প্লাবনকে মেসেজ লিখছিল আর হাসছিল। পুতুলের হাসি অনেক সুন্দর। সব সময় মুখে যেন হাসি লেগেই থাকে। প্লাবন আর পুতুল যদিও একই স্কুলে পড়ছিল। বহুদিনের ব্যবধানে দুজন আজ দুজনের কাছে অচেনা। যেন নতুন করে তারা পরিচিত হলো।

-ঐ
-হুম

-ঐ দিনই তো একটু ওর খবর পাওয়ার জন্য কতটা অস্থির থাকতাম। ওকে একবার অনলাইনে দেখার জন্য অপেক্ষা করতাম। আর আজ ওকেই ভুলে যেতে ইচ্ছে করছে। অনলাইনে দেখলে

খুব বিরক্ত লাগে।
-মানুষ এরকমই। এক সময় সব মেনে নেয়। কষ্ট নিয়ে বাঁচতে শিখে যায়।
-নিজেকে অদ্ভুত লাগছে
-কেন?
-আমি কি খুব নিষ্ঠুর হয়ে গেছি? আমি কি স্বার্থপর হয়ে গেছি খুব?
-কক্ষনো না
-জানো ওর পড়া আমি গুছিয়ে দিতাম। এখন কি হবে?
-তোমার তো আর ওকে নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।
-হুম তাইতো। ভুলে যাব ওকে
-পারবা তো
-হ্যাঁ

-দেখা যাক।
পুতুল বাসায় পৌছে গেছে। প্রায় এশার আযান এর সময় হয়ে গেছে তখন।

৭.

কখনও কখনও মানুষগুলোকে কেমন স্বার্থপর মনে হয়। খুব নিষ্ঠুর মনে হয় সময়ের এ বেমানান পথচলা। ইচ্ছে করে বাস্তবতাকে গলা টিপে হত্যা করতে। আসলে সবই উপরওয়ালার বিধি। তিঁনি যা এ কপালে লিখে রেখেছেন তাইতো হবে। কেউ পারবে না তার নিয়মকে একচুলও বদলাতে। তবুও যখন খুব হতাশা চলে আসে মনে, তখন বিধাতার কাছে প্রার্থনা যপে সবাই। হয়তো তারই কারণে দয়াময় কখনও কখনও পূরন করেন মনের সকল কামনা। কিন্তু প্রায়ই মানুষ তাদের জীবনের প্রাপ্তি নিয়ে হতাশায় ভোগেন। জীবনের চাহিদা তাদের পূরন হয়নি বলে জোড় দাবি করেন। সেই অতি চাহিদা সম্পন্ন মানুষের চাহিদা পূরন যে কখনও সম্ভব না তা ঐ বিধাতা খুব ভালো করেই জানেন বলে হয়তো তাদের চাহিদা সব অপূর্ণই রেখে দেন। আবার কখনও কখনও বিধাতা মানুষকে পরীক্ষা করেন তাদেরকে না পাওয়ার যন্ত্রনা দিয়ে। এ যন্ত্রনা সহ্য করতে পারার মতো মানুষের সংখ্যা পৃথীতে খুব কমই আছে।
এভাবে নানান ধরনের চিন্তা প্লাবনকে সর্বদা ঘিরে রাখত। কখন যে কোন কল্পনায় সে হারিয়ে যায় নিজেও বুঝতে পারত না।
হঠাৎ পিছন থেকে কেউ একজন প্লাবনকে মামা বলে ডাক দিয়ে ধরল।
-আরে মামা তুমি
-কি খবর তোমার?
-এইতো মামা, তোমার কি খবর?
-ভালোই মামা
-এতো দেরী করলা যে, তিনটায় আসবা বলে আসছ চারটায়
-সব মামা সবুজের দোষ, ঐ তো দেরী করাইলো
সবুজ কিছু না বলে হাসছিল কেবল। অনেকদিন পর আজ তারা একত্রিত হলো। ওরা ঘুরতে বের হইছে আজ। সবুজ ঢাকা আসছে গতকাল।
(সবুজ আর প্লাবনের কথোপকথন)
-কই যাবা
-তুমি যেখানে খুশি সেখানে নিয়ে যাও
-বিকাল হয়ে গেছে, আজ আর তেমন কোথাও যাওয়া হবেনা। চলো ধানমন্ডি লেকে যাই।
-আচ্ছা চল
তারা তিনজন একটা রিকশায় করে ধানমন্ডি লেকের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
(প্লাবন আর জয়ের কথোপকথন)
-মামা তিথির কি খবর?
-খুব ভালো
-মনটা খারাপ করে দিলা মামা
-কেন, মামা
-আমি তো ভালো নেই মামা
-ওর তো আগে থেকেই বিয়ে ঠিক করা মামা
-মামা, ও কি খুব সুন্দর মামা?
-হুম মামা। আমাদের ভার্সিটির সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে।
-মামা দুঃখ বাড়াই দিলা
সবুজ মুচকি হাসতেছিল। হঠাৎ বলল,
-জয় দেখি ঐ মেয়ের জন্য পাগল হয়ে গেলি
-প্লাবন মামার কথা শুনে তো তিথিকে একবার দেখতে ইচ্ছে করছে মামা
-দেখবি দেখবি, প্লাবনের সাথে ওর ভার্সিটি যাস
ইতিমধ্যে তারা ধানমন্ডি পৌঁছে গেল। তিনজন একসঙ্গে হাটছে আর লেকের আশেপাশে থাকা কাপলদের বিচরণ দেখছিল। আর জয়ের তো তখন হা হোতাশ এর মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।
-কিরে তোর কি সিঙ্গেল থাকতে ভালো লাগছে না
-নারে মামা, এসব দেখে কষ্ট হচ্ছে।
প্লাবন জয়ের এই প্রলাপ দেখে কেবল হাসছে।
-মামা তোমার নিসার খবর কি?
-আরে বাদ ও
-কেন মামা?
-ওর কথা আর জিজ্ঞেস করো নাতো মামা আর
সবুজ তখন জয়কে বলল,
-নিসার কথা জিজ্ঞেস করিসনা তো প্লাবনকে
-ঠিক আছে মামা
তখন প্লাবন বলে উঠল,
-হুম মামা
-মামা বুঝি সব
-মামা, যার কাছে আমার কোন মূল্যই নেই। আমার কোন কিছুতেই যার কোন যায় আসেনা তাকে কেন আগলে রাখতে যেয়ে বারবার কষ্ট পাব?
-এইতো মামা লাইনে আসছ
-নিজের মূল্য রাখতে হয় মামা
সবুজ কিছু বলছিল না।চুপচাপ শুনছিলো।
-প্লাবন চল কোন রেস্টুরেন্টে, ক্ষুধা লাগছে
-চল
তিনজন একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকল। খাবার শেষ করার পর বেড়িয়ে আসল। প্রায়ই সাড়ে আটটার মতো বেজে যাচ্ছে।
-এই প্লাবন চল বাসাই চলে যাই
-আমাদের বাসায় চল
-নাহ, আজ না
-কবে?
-পরে
-জয়
-মামা সবুজকে বল
-আরে এখন কেন যাব? অন্যদিন যাব সময় করে।
তিনজন একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিল। তিনজন তিনদিকে চলে গেল।

৮.

পড়ন্ত বিকেল। সূর্যটা অস্তগামী। প্লাবন বসে আছে একটি পার্কের এক কোনে। চুপচাপ একা একা বসে আছে। প্রায়ই বিকেল বেলা প্লাবন পার্কের ঠিক এ স্থানটিতে বসে থাকে। অনেকদিন হলো পুতুলের সাথে কথা হচ্ছে না প্লাবনের। তাই বসে বসে পুতুলের কথাই ভাবছিল। অদেখার সবচেয়ে কাছের একটি মানুষ হলো পুতুল। প্লাবন পুতুলকে কখনও দেখেনি। ফেসবুকের প্রোফাইলেও নিজের ছবি নেই। তাই পরিচয়টা আর একটু ভালো করে হওয়ার জন্য প্লাবন পুতুলকে একবার একটা ছবি দিতে বলেছিল। কিন্তু পুতুল রাগ করে দেখে এরপর আর চায়নি।
হঠাৎ রিং বাজলো প্লাবনের মোবাইলে ।
-হ্যালো
-কি? কি খবর তোমার?
-এইতো ভালোই, তুমি?
-ভালো না
-কেন?
-এমনি
-এমনি কারও মন খারাপ থাকে নাকি? বলো কি হইছে।
-বাদ দেও তো!
-আচ্ছা বাদ। ভয় কমছে এখন
-কিসের ভয়?
-বলছিলা যে
-ও ঐ কথা। ভয়ই তো পাইনি
-ওহ!! কি সাহস!
-হুম তোমার চেয়ে অনেক সাহসী
-কইছে
-হুম কইছে
-কি কর এখন?
-কিছুনা বসে আছি
-বাসায়
-হুম
-পুতুল
-কি? কিছু বলবা বোকু
-বোকু কি আবার?
-বোকা
-আমাকে কি এখনও বোকা মনে হয়?
-না। ট্রেনিং দিছিনা আমি
-বোকা থাকলেই ভালো ছিল
-কেন?
-তাহলে …….থাক
-কি?
-আচ্ছা বাদ দাও। আমার মাথায় একটা চিন্তা বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে
-কি?
-যদি হঠাৎ তুমি হারিয়ে যাও, তাহলে আমাকে উপদেশ দিবে কে?
-কেন? তুমি তো অনেক শক্ত হয়ে গেছ। তোমার তো ফিলিংস কমে গেছে। এখন আর আমার উপদেশ লাগবে না।
-লাগবে। কারণ আমি উপরে উপরেই শক্ত ভিতরে ঠিকই নরম।
-তাই!!
-হুম, সত্যি
-হুম
-আমাকে বিশ্বাস হয়না?
-হয়
-আচ্ছা হঠাৎ কি সব ভাবছি আমি
-কি ভাবছ?
-তুমি হারাবে কেন শুধু শুধু
-হুম
-আচ্ছা আমার মোবাইল নম্বর আর ইমেইল এ্যাড্রেস লিখে রেখ যদি কোনদিন তোমার মোবাইল বা ফেসবুক আইডি নষ্ট হয়ে যায় তখন কাজে লাগবে।
-যাক। নো প্রবলেম
-কি
-নষ্ট হোক। তাতে প্রবলেম নেই।
-তুমি এমন কেন?
-কি রকম?
-থাক
-নিসার কি খবর?
-জানিনা। ওকে ভুলে গেছি। কেন ওর নাম নেও!
-দেখছি নিসাকে আসলে ভুলেছ কিনা?
-সত্যি ভুলে গেছি। আমার মোবাইল থেকে ওর নাম্বার, মেসেজ সব ডিলিট করছি, আবার ফেসবুকেও আনফ্রেন্ড করে দিছি।
-হুম। অনেক কাজ করছ তুমি
-থ্যাঙ্কস
-কেন?
-এমনি
-অনেক কথা হইছে এবার রাখি
-কেন?
-আর তো কথা খুঁজে পাচ্ছি না। যাই এখন, পরে কথা হবে।
-ওকে
ফোনটা পকেটে ঢুকালো প্লাবন। প্রায় রাত হয়ে গেছে। চারিদিক আধার হয়ে আসছে। তখনই আবার প্লাবনের মা তাকে ফোন করল জলদি ঘরে ফিরার জন্য।

৯.

-কি করলাম আমি আবার?

-এর আগে যা বলছো তা মনে করে দেখ
-কই তেমন কিছু তো বলিনি
-ভালো
-কি হলো? সত্যিই কি তোমার সাথে আর কথা বলতে পারব না।
-না
-কিন্তু আমার অপরাধ কি?
-অনেক বড় অপরাধ
-তুমি হঠাৎ এভাবে হারিয়ে যাবে ভাবিনি কখনও। তাও তোমাকে অনেক ধন্যবাদ, আমাকে অনেক উপদেশ দেওয়ার জন্য। তুমি যা চাও তাই হবে। আর কথা বলব না।
-তো তুমি ড্রিংকস করবা বলছো কেন? তুমি তো আধুনিক ছেলে তাইনা, যাও ড্রিংকস কর যাও যাও
-সরি, মজা করে বলছি। তুমি কি সত্যিই মনে করছিলা
-এটা কেমন ফাজলামি
-আমি সিগারেটের গন্ধই সহ্য করতে পারিনা ড্রিংকস করব কি করে।
-তো বললা কেন?
-আর বলব না
-মনে থাকবে তো
-হুম
প্লাবনের মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেছিল। ও ভাবছিল সত্যিই কি পুতুল তার সাথে আর কথা বলবে না। বিশ্বাসও হচ্ছিল না।
সকালে পুতুল একটা মেসেজ পাঠাল
-রাতে আমার মেজাজ অনেক খারাপ হয়ে ছিল আর তোমার ড্রিংকস এর কথা শুনে আরও খারাপ হয়ে গেছিল।
-আর বলব না তো
-প্রমিজ
-প্রমিজ
প্লাবন নিজেও কখনও ভাবেনি যে পুতুল তার এতোটাই ভালো চায়।
-জানো
-কি?
-ভালো লাগছে না
-কেন?
-এমনি
-কি হলো?
-কাঁদতে ইচ্ছে করছে
-যাও ওয়াশরুমে যেয়ে ইচ্ছে মতো কান্না করে আস এরপর খেয়ে ঘুমাও
-না
-আবার কি হলো
-কি?
-তোমার কি হইছে বলোতো
-সত্যিই ভালো লাগে না কিছু
-কি হলো তোমার?
-আমার বন্ধুরা বলে নিসা নাকি আমার দিকে তাকিয়ে থাকে ভার্সিটিতে। আমি ভুলেও তাকাই না।
-ও তাই
-ওর এক বন্ধু আমাকে এসে জিজ্ঞেস করছিল আমি হার্ট থেকে এখনও ওকে ভালোবাসি কিনা?
-তুমি কি বলছ?
-না বলছি। আমি সবাইকে ওর কথা বলতে মানা করছি
-হুম
-ভালো লাগছে না
-তোমাকে নিয়ে আর পারা যাচ্ছে না। তুমি সবার সাথে বেশি করে কথা বল, দেখবে ভালো লাগবে।
-না
-কেন?
-কথা বলতে ভালো লাগেনা আর
-আমার কথা শুনে এর আগে কাজ হইছে না?
-হুম
-তাহলে যা বলি তা কর
-চেষ্টা করব
প্লাবনের সত্যিই আজ অনেক খারাপ লাগছিল। জানেনা কেন এতো খারাপ লাগছে।
মানুষের জীবনটাই রহস্যময়। কখন কেন খারাপ লাগে সে নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারেনা। মনের বিচিত্র ধরনের কল্পনা কখন যে তাকে কোন জটিলতায় নিয়ে যায় তা কেউ বলতে পারে না। হয়তো এই বৈচিত্র্য না থাকলে জীবনটাই একঘেয়ে হয়ে যেত।

১০.

জীবন কখনও থেমে থাকেনা। জীবন চলবে জীবনের গতিতেই। হয়তো অনেক কিছুই ঘটে যায় জীবনের পরতে পরতে। মনের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হয় এই একটা ছোট্ট জীবনেই বহুবার বহু জানা অজানা কারণে। যেমনটি পরিবর্তন হয়ে গেছে প্লাবন। এখন আর আগের মতো প্লাবনকে আবেগ চেপে বসে না। আগের মতো করে কাউকে ভালোবাসতেও ইচ্ছে করে না। আই লাভ ইউ বাক্যটি প্লাবনের কাছে খুব বিষাদ লাগে। তবে প্লাবন যে কারও ভালোবাসা চায় না তা নয়। সে এখন এমন একজন মানুষকে চাচ্ছে যে তার অগোছালো জীবন গুছিয়ে দিবে, শাসন করবে, তার সাথে অভিমান করবে, শত বিপদেও হাত ধরে রাখবে আর সত্যিকারার্থে যে তাকে ভালোবাসবে। যার ভালোবাসা প্লাবনের অস্তিত্বকে স্পর্শ করবে হয়তো তাকেই সে ভালোবাসতে পারবে।
আজ প্লাবন খুব আনমনা। কি হচ্ছে না হচ্ছে কিছুই সে বুঝতে পারছেনা।
-কি খবর
হঠাৎ চমকে উঠে প্লাবন। প্লাবন পার্কের এক কোনে নিরিবিলি বসে ছিল। খুশির আগমন সে বুঝে উঠতে পারেনি।
-এইতো, তোর
খুশি প্লাবনের পাশে বসল। হাসছে!!!
-হুম ভালো
-কোথাও গেছিলি নাকি
-হুম
-কোথায়?
-এইতো বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে
-ও, ভালো
-হুম
-তো তোর কি অবস্থা?
-আমার আর কি অবস্থা!
-প্রেম ট্রেম করলি নাকি
-নারে, আর ভাল্লাগেনা
-ছ্যাঁকা খাইলি নাকি
-না, এসবের প্রতি ইন্টারেস্ট পাইনা আর
-একটা ঘটনা দিয়ে জীবন হিসাব করলে তো আর হবে নারে।
-কেউ কি আমাকে এতোটাই ভালোবাসতে পারবে যাতে করে আমার মনের বদ্ধ জানালা খুলে যাবে। ভালোবাসাময় হয়ে উঠবে আমার জীবন।
-অবশ্যই আছে, পেয়ে যাবি তুই।
-ছাই
-আরে না, দেখবি তুই ঠিক তোকে কেউ একজন অনেক ভালোবাসবে
-হুম
-কি?
-স্বপ্ন মনে হচ্ছে সবকিছু
-তুই তো
-কি?
-আস্ত একটা ছাগল
-কেন?
-বুঝিসনা সোজা কথাটাও
-কইছে তোরে
-হুম কইছে
-কি কইছে?
-ছাগলু তুই একটা তা
-কে
-তোর বউ
-তাই
-হুম, আমি যাইরে
-যাবি, যা
-কেন কিছু বলবি
-যাবি যদি উড়ে ঐ দূর অজানাতে …….
-কিরে গান গাওয়া শুরু করলি কবে থেকে?
-তুই না যাবি, তাই গানটা তোরে শুনাইলাম
-যা তাইলে চলেই যাচ্ছি
-ওকে, গুডবাই
-গুডবাই
খুশি চলে যাওয়ার পরপরই প্লাবন কি যেন ভেবে না ভেবে অগত্যা হাটা শুরু করল। শেষ পর্যন্ত হয়তো দূরের কোন এক শূন্য রাস্তার পাশে যাত্রীছাউনির নিচে বসে থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু আর কিইবা সে করবে।

১১.

প্লাবন দিনকে দিন ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। খুবই ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে তার জীবন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হয় তাকে। ভার্সিটিতে কতক্ষণ নিজের পড়া নিয়ে থাকে আবার বাসায় ফিরে ছাত্রীদের পড়া নিয়ে থাকে কতক্ষণ। আর এরপর রাতে ফেসবুকিং আর লেখালেখি করে সময় পাড় হয়ে যায়। এখন প্রেম ট্রেম করার সময় তার নাই।
-হ্যালো মামা
-কি খবর মামা
-এইতো, তুমি?
-ভালো মামা
-তো কই আছ?
-মামা আইডিবিতে আস, আমি আসতেছি
-মামা কখন
-এই ধর চারটা পাঁচটার দিকে
-ঠিক আছে মামা আস
-ওকে
প্লাবন বন্ধুদের ডাকে কখনও সাড়া না দিয়ে পারে না। ডাকলে যে ভাবেই হোক যাবে। প্লাবন জয়ের সাথে মোবাইলের কথা বলার পর রেডি হওয়া শুরু করল। জয়ের আগেই আইডিবিতে যেয়ে হাজির হলো।
-হ্যালো
-হুম
-কই তুমি, আমি চলে আসছি
-একটু দাড়াও মামা
-আচ্ছা
প্রায় আধঘণ্টা পর জয় আসল
-কি খবর?
-হুম ভালো, তো আইডিবিতে কি বুঝে আসলা
-মামা এমনিই একটু ঘুরবো, ভালো লাগলে কিছু কিনবো আরকি
-তো মামা চল
-চল
দুইজন আইডিবিতে ঢুকলো। বিভিন্ন স্টলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দুইজন হাটছে আর বিভিন্ন কিছু নিয়ে কথা বলছে।
-মামা
-হুম
-নিসার সাথে কথা হয়না তোমার এখন
-না
-ওর সাথে কাল তোমাকে নিয়ে ঝগড়া করছি
-কেন?
-আমি বলছি তোমার কবিতাই বেস্ট, ও কি বলে জান
-কি?
-ফালতু
-কি বললা
প্লাবনের মাথা পুরোপুরি গরম হয়ে গেছে।
-ওর কি যোগ্যতা আছে আমাকে নিয়ে কমেন্ট করার! এরকম একটা লোজ কেরেক্টার আমাকে কি করে ফালতু বলে!
-কি করছে মামা ও
-কি না করছে তা কও
-ও কি করে সবাইকে মুখ দেখায়, ওর লুইচ্ছামী ধরা খাওয়ার পরেও
-কি মামা
-ও ওর প্রেমিকের সাথে কি ধরনের কথা বলে জান
-কি মামা
-কিস দিতে চায় ও, হট হয়ে আছে আর শুধু কিসের ইমো দেয়
-তারপর
-কিভাবে বলে ও এইসব ছি!!! ব্লিডিং সহ আরও কতো কি?
-কি বল!
-এর আগে আরও দুইটা প্রেম করছে বলে ও। ওদের সাথেও তো একই রকম করছে। আমার সন্দেহ ও অসংখ্য প্রেম করছে, ওর আইডি ঘাটলে মনে হয়। ওর বড় ভাইয়ের অভাব নেই। ওর ছবিতে কমেন্টগুলো পড়?
-না.
-দেখ একটু, নেগেটিভ কথা বললে ও বেশি খুশি হয়
-মামা আমি তো পুরাই অবাক
-আরও আছে মামা, ফেসবুকে যে ওরে কতজন মিস করে, ও কতজনরে মিস করে তার হিসাব নাই। শুনছি ও নাকি ওর আগের বয়ফ্রেন্ডকে নিজের উল্টাপাল্টা ছবি পাঠাত।
-এত খারাপ ও, ছি!!
-আরও আছে মামা ও এসব বললে ওর বয়ফ্রেন্ড কি বলে জান
-হট হয়ে যাচ্ছে ও। জিনিস নষ্ট করছে কেন!
-মামা, এই মেয়ে এরকম
-হুম মামা। দেখলে মনে হবে খুব ভদ্র, বোরকা পড়ে শুধু ভার্সিটিতেই। বাহিরে যে ড্রেস পড়ে তাতে ওকে চিনতে পারবা না তুমি।
-অনেক নীচু মনের ও
-বেশ্যাও ওর চেয়ে ভালো মামা
-হুম মামা
-তাইতো ওরে ফেসবুকে ব্লক করছি, ফোনে ওর নাম্বারও ব্লক করে রাখছি
-ভালো করছো
-মাথাটাই গরম হয়ে গেছে মামা
-কুল মামা কুল হও
-হুম
প্রায়ই আটটা বেজে যাচ্ছে। দুইজন আইডিবি থেকে বেড় হলো।
-মামা তাইলে আজ আসি
-আচ্ছা মামা
-ফেসবুকে কথা হবে
-ওকে
যে যার পথে চলে গেল।
প্লাবন বাসায় এসে নিসার বান্ধবীর কাছে একটা জরুরি মেসেজ পাঠালো। মেসেজটি অনেকটা এরকম – নিসাকে কি খুব ভালো মেয়ে মনে হয় তোর কাছে। ওর মতো লুইচ্চা আমি আজ পর্যন্ত দেখিনি। ওর বড় ভাইয়ের অভাব নেই। ফেসবুকে বয়ফ্রেন্ড নামক খ্যাত লোকটির সাথে কি ধরনের কথা বলে তা আমি জানি। ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে লুইচ্চামীর কথা না বলতে পারলে ঘুম ধরে না। এমন কথা ও বলে যা বিয়ের পর মেয়েরা তার স্মামীকে বলতেও লজ্জা পাওয়ার কথা। ওর কোন যোগ্যতা আছে আমার সামনে দাড়ানোর। ওর স্ট্যান্ডার্ড লেভেল আমার স্ট্যান্ডার্ড লেভেল থেকে আকাশ পাতাল তফাৎ। ও নিজেকে খুব সুন্দরী রূপসী ভাবে অথচ ও এতো নামকরা সুন্দরীও না। ওর কি গুণ আছে যা নিয়ে ওর এতো বড়াই। আমার ভুল ছিল ওর মতো নীচু শ্রেণীর মানুষকে জাত কুল না ভেবে ভালোবেসে ফেলা। তুই ওকে বলে দিস পরবর্তীতে আমার কোন বিষয়ে যেন ও সামান্য টু শব্দটাও না করে। কেউ একজন ওকে বলছিল আমার কবিতার কথা ও বলছে ফালতু। তুই বল আমি কি ফালতু? ওর মতো মেয়ে আমাকে নিয়ে কথা বলার যোগ্যতাইতো রাখে না। ওর সব পরীক্ষার সবকিছু আমি রেডি করে দিতাম। কতো বড় স্বার্থপর ও তা আমার জানা আছে। তুই বলে দিস আমার সাথে সম্পর্কিত কোন ধরনের কথা যেন ও না বলে।
মেসেজটি পাঠিয়ে প্লাবন ঘুমিয়ে পড়ল।

১২.

বড্ড রাগ করতে পারে মেয়েটা। কেউ তার কথায় একটু অবাধ্য হলেই গাল ফুলিয়ে বসে থাকে। বেশ ভালোই লাগে তখন পুতুলটাকে। রাগ না করলে হয়তো আর পুতুলের নামের সার্থকতা আসত না।
-ঐ হলো কি?
পুতুলের কোন রিপ্লাই আসছে না। ঐ যে এক ঘন্টা আগে কি জন্য যেন রাগ করে গেল এখনও আসছে না।
-ঐ
প্লাবন বারবার নক করছে পুতুলকে। প্লাবনটাও কেমন যেন যতক্ষণ পুতুলের রাগ না ভাঙবে ততক্ষণ নক করতেই থাকবে। কারণ প্লাবনের মনে একটা ভয় থাকে যদি পুতুল সত্যি সত্যি কথা না বলে।
-এতো নক কর কেন? বললাম না তোমার সাথে কোন কথা নাই আর
-কি করলাম আমি?
-না কিছু করনি, তুমি তো ধোয়া তুলসী পাতা
-এভাবে বলছ কেন তুমি?
-তো কিভাবে বলব তোমাকে?
-আশ্চর্য তো তুমি, এতো পরিবর্তন কি করে হয় মানুষ এত তাড়াতাড়ি!
আবার পুতুল চলে গেল। প্লাবন তো খুবই অস্থির হয়ে পড়ল। বুঝতে পারছেনা কি করবে। ফেসবুক থেকে লগ আওট করে শুয়ে রইল কিছুক্ষণ। কি যেন ভেবে ফেসবুকে আবার ঢুকলো।
-ঐ……কান্না কাটি করা শুরু করছ নাকি। এই যে কি হলো!!
প্লাবনকে পুতুল মেসেজ করল। তখন প্লাবনের অস্থিরতা কিছুটা কমলো।
-আমি কান্না করলে তোমার কি?
-কিছু না, কিন্তু তুমি তো ছোট্ট বাবু তাই কাঁদলে সমস্যা
-আমি ছোট্ট বাবু না, তুমি কি খুকি
-না, কারণ আমি তোমার ট্রেইনার
-আসছে ম্যাডাম!
-হুম
-এরকম করলে কেন তখন?
-তুমি এতো ভাব নেও কেন?
-কই?
-তোমাকে বলছি না একটা রিলেশন কর! করছ না কেন?
-রিলেশনের প্রতি আমার আগ্রহ নাই আর।
-আবার অহংকার দেখাচ্ছ
-কই?
-তুমি না বললা কয়েকটা মেয়ে তোমাকে পছন্দ করে!
-তাহলে কি করব
-রিলেশন করবা আর কি
-ভালো লাগেনা রিলেশন করতে
-আবার
পুতুল চলে গেল আবার। কতক্ষণ পর আবার আসল
-প্লিজ একটা রিলেশন কর তুমি
-কিন্তু কেন?
-তা বলতে পারবনা। তবে রিলেশন কর এটা আমার অনুরোধ
-তুমি না একটা
-কি
-দুষ্টু
-হুম
-কেন?
-শুধু রিলেশন করতে বলো
-আমি তো ক্ষণিকের অতিথি, তোমার পথপ্রদর্শক
-কি বললা?
খুব রাগ উঠে যাচ্ছে প্লাবনের। একদম চুপ হয়ে রইল।
-কি হলো?
-চুপ কেন তাইলে
-এমনি
-হুম
-তুমি কি সত্যি হারিয়ে যাবে?
-জানি না। হারালেই বা কি?
-তুমি না
-কি?
-থাক কথা বাড়িয়ে লাভ নেই তোমার সাথে, যত কথা বাড়াব ততই উল্টাপাল্টা বলবা
-তাই
-হুম
পুতুলকে বুঝা খুব কঠিন বিষয়। আসলে প্রতিটি মেয়েই যেন আলাদা। হাজারটা মেয়ের সাথে মিশলে হাজার রকম মনে হবে। তবে প্লাবনের কাছে পুতুল হলো অসাধারণ একটি মেয়ে। হয়তো পুতুলের সাথে কথা না আজও নিসা নামক চরিত্রহীনার জন্য অপেক্ষা করত। পুতুল প্লাবনকে অসম্ভব রকম ভাবে প্রভাবিত করতে পারে। প্লাবন আর কারও কথা এরকম অক্ষরে অক্ষরে শুনেনি কোনদিন। পুতুলের প্রতি প্লাবন খুব কৃতজ্ঞ। এতো জ্বালায় মেয়েটাকে প্লাবন কিন্তু কখনও বিরক্ত হয়নি প্লাবনের উপর। হয়তো পুতুল বুঝতে পারে প্লাবন কারও অবহেলা সহ্য করতে পারেনা, কেউ কঠিন হয়ে কথা বললে প্লাবনের মন খারাপ হবে। হয়তো প্লাবনকে নিয়ে পুতুলের সবচেয়ে বড় ভয় হলো তার কান্নাকাটি করা।
-এই যে মিস
-হুম
-আচ্ছা বলতো আমার প্রিয় শব্দ কি?
-কি?
-জানো তুমি
-কি? জানিনা তো
-হুম
-কি?
-হুম ই আমার প্রিয় শব্দ
-ও তাই
-হুম…..জানো
-নিসা নাকি রাত বিকাল ঘুরে বেড়ায় আমাদের ক্লাসের এক ছেলের সাথে
-হুম, ভালো
-তাহলে ও যাকে নিজের স্মামী বানালো ওর কি হবে!
-আমি কি জানি?
-আমার মনে হয় ওর পড়াশোনা দেখিয়ে দেওয়ার জন্য ঐ ছেলের সাথে ঘুরতেছে। ও নিজের স্বার্থ ছাড়া একচুলও নড়ে না।
-হুম
-একটা আর্টিকেল লিখছি, দেখবা
-হুম
– মানুষ আজ খুব অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। সমাজ ব্যবস্থা কেমন যেন হয়ে গেছে। তাদের মাঝে সব সময় অনুকরণ বিষয়টি কাজ করে। নিজেরও যে বুদ্ধি বিবেচনা আছে সে তা ভুলে যায়। নিজেকে খুব বেশি বুদ্ধিমান ভাবে। বর্তমানে যে বিষয়টি প্রকট আকারে দেখা যাচ্ছে তা হলো রিলেশন নামক উদ্ভট শব্দটি। অনেকেই হয়তো ভাবছে কথাটা ঠিক নয়। তবে আমি যেসব কারণে এই শব্দটিকে উদ্ভট বলছি তার কারন হলো : এই রিলেশনে ভালোবাসা নামক সত্ত্বাকে অস্বীকার করা হয়। ভালোবাসা হয় অজান্তে যা মানুষ নিজেও বুঝতে পারে না। আর রিলেশন করে মানুষ বাছাই করে। যার মাঝে কেবল সাময়িক আনন্দই পাওয়া যায় বাস্তবে সুখ নামক শব্দটি অচেনাই থেকে যায়। কখনও কাউকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসলে তাকে যতই ভুলে যাবেন বলেন ঠিক ততটাই বিষাক্ত শূল হৃদয়কে বিদীর্ণ করে। আর রিলেশন করে ব্রেক আপ হওয়ার পর যখন মানুষ অন্য কোন রিলেশন করে তখন সে আগের রিলেশনকে ভুলে যায়। আর যদি ব্রেক আপ হওয়ার পর নতুন কাউকে খুজে না পায় তখন খুব একাকী অনুভব করে। এই রিলেশন নামক বিষয়টি নিছক একটি ট্রেডিশন বইকি আর কিছু নয়। যে একবার রিলেশন নামক গল্পে প্রবেশ করে সে রিলেশন গড়া আর ভাঙার জটিলতায় ডুবে থাকে। বাস্তবে ভালোবাসার নৌকাটিকে তারা ঘাটেই বেঁধে রাখে। আর তাই বলি আশেপাশের মানুষগুলো রিলেশন করছে দেখে নিজেও যে করতে হবে তা ঠিক নয়। আর সত্যিকারের ভালোবাসা এক সময় না এক সময় আসবে যা কোন সময়ের বা বয়সের সীমারেখায় বন্দী নয়। আমাদের প্রতেককেই এই সত্যিকারের ভালোবাসার জন্য অপেক্ষা করা উচিৎ নয়তো হারাতে হতে পারে জীবনের বাস্তব ও স্থায়ী সুখটিকে।
-হুম
-কেমন হইছে?
-ভালো
-হুম
-তোমার সময় কাটানোর জন্য হলেও একটা রিলেশন করা উচিৎ
-আমি সময় কাটানোর জন্য রিলেশন করব না
পুতুল ফেসবুক থেকে চলে গেল। প্লাবনের মাথায় একটা কবিতা চাপলো।
-ঐ
-একটা কবিতা লিখছি,শুনবে
-হুম
– ভেবেছিলাম হারিয়েছি তোমায়
আশ্রয়ের আকাশ ভেঙে পড়ল
ছিনিয়ে নিল ভরসা কি আমার
নির্ভরতা তাই শূণ্য হয়ে বাঁচল।
অস্পষ্ট ছিল সম্পর্ক বটে
স্পষ্ট তবুও আবদ্ধ বন্ধনে
মায়া ছিল অপরিমেয় মোটে
দুঃখ ছিল না দূরত্বের অনুসন্ধানে।
অযথা ভুলের দোহাই ছিল
কষ্টটুকু তাই ডুবে ডুবে মরল
ফিরে এসেছে অগ্নি অনল
শুদ্ধ করল ছিল যত বিকল।
হাফছেড়ে বাঁচা জীবন গল্পে
শুরু দৃঢ় প্রত্যয়ের অঙ্গীকার
শেষবিন্দু হোক না বিরল
তবুও থাকনা কটাদিন সরল।
-ঢং
-সত্য এটা
-বুঝছি তাইতো বলছি ঢং
-হুম
আসলেই প্লাবনের কাছে নিজের জীবনটা অস্পষ্ট মনে হচ্ছে। সব সময় দ্বিধান্বিতায় ডুবে থাকে।

১৩.

সত্যিকারের কিছু কথা থাকে যা মানুষ অনেক সময় বলতে পারেনা। অদ্ভুত রকমের একটা ভয় কাজ করে। কোন ভাবেই সে তার মনের আঙিনায় গড়ে উঠা ফুল বাগানটি নষ্ট করতে চায় না। হয়তো মনের ফুল বাগান মনেই থেকে যায় শতাব্দীর পর শতাব্দী কখনও বাস্তবে কারও দৃষ্টিগোচর হতে পারেনা।

-এই সারাদিন ফেসবুকে কি? আর কোন কাজ নাই!
প্লাবন পুতুলের হঠাৎ করে এমন কথা বলাতে চমকে গেল। পুতুল এরকম করে কখনও শাসন করেনি।
-তো কি করব?
-ডিম পাড়!!
-না
-কি করবা তাহলে?
-সবার সাথে চ্যাট করব
-কর? এখন কোথায়?
-লাইব্রেরীতে, একটু পর CT আছে একটা
-তো ফেসবুকে কি?
-পড়তে ভালো লাগছেনা! ভয় লাগছে
-ফেসবুক কি তোমার শশুর বাড়ি মিনিটে মিনিটে আসা লাগে
-হুম
-ভালো, এখন ঘুম দেও
-তা ছাড়া উপায়ও নেই
প্লাবন পরীক্ষার হলে প্রশ্ন দেখে ভাবল এত সোজা প্রশ্ন, একটু পড়ে আসলেই ফাটাফাটি হতো। খুব আফসোস করতে থাকে প্লাবন। আসলেই মানুষের জীবনটাই এরকম সময় চলে গেলেই আফসোস করে, সময়ের কাজ সময়ে করতে জানে না।

প্লাবনের জীবনটা খুব অগোছালো হয়ে গেছে। তার কোন রুটিনই নেই। কোন সময় কি করে না করে তার কোন খবরই থাকে না। নিজেও ঠিক বুঝে না কখন কি করতে হবে। যখন একা থাকে তখন খুব দ্বিধায় পড়ে যায়। তার মাথায় আজকাল কিছুই কাজ করছে না। হয়তো এই জন্যই পুতুলকে সারাদিন নক করে, কখন কি করা উচিৎ তা জানার জন্য। পুতুল প্লাবনকে কখনোই এড়িয়ে চলেনা। বলবেনা বিরক্ত না করতে। আর প্লাবনও মনের সুখে পুতুলের সাথে সব শেয়ার করে। বিশ্বাস আর আস্থা যদি রাখতে হয় প্লাবন পুতুলের উপরই রাখে।

প্লাবনের মনটা কেমন যেন হয়ে গেছে না পারছে কাউকে মনে ঠাই দিতে না পারছে কাউকে গ্রহন করতে। তবে তা বললে ভুল হবে যে সে কাউকে চাইছে না। নিজ থেকে হয়তো ভালোবাসি কাউকে বলবে না কিন্তু কারও কাছ থেকে শুনতে ঠিকই ইচ্ছে হয় তবে সে মানুষটিকে হতে হবে প্লাবনের পছন্দের কেউ।

প্লাবনকে সবুজের হঠাৎ ফোন।
-হ্যালো
-হুম, কি খবর?
-এইতো, তোমার?
-ভালোই, তো কেমন চলছে?
-ভালো না
-কেন?
-ভালো লাগেনা রিলেশন করতে।
-কি বলো!
-যাকে নিয়ে সন্দেহ হয়, যার সাথে আমার মিল হচ্ছে না। তুমিই বলো সারাদিন ভালোবাসি ভালোবাসি বললেই কি ভালোবাসা হয়, মন থেকে তো একটা আগ্রহ থাকতে হবে।
-তাহলে কি করবা এখন?
-দেখি ভাবছি
-হুম ভাবতে থাক
-তোমার জন্মদিন উপলক্ষে একটা কবিতা লিখছি, ফেসবুকে দেখ-
ঘড়ির কাটা বলল আমায়
জন্মদিন তোমার আজ
সেই খুশিতে দিলেম তোমায়
শুভ জন্মদিন আওয়াজ।
শুভ শুভ হোক
আগামী তোমার জীবন
সুখের সাগরে ধন্য হোক
জয় হোক তোমার আমরন ।
ভুলে যাও আছে যত ব্যথা
আছে যত অতীতের গ্লানি
এগিয়ে চল সম্মুখ পানে
পিছপা হবেনা পিছনের টানে।
স্মৃতির পাতাকে আকড়ে রেখ
ভুলগুলো সব মুছে নিও
হারানো অনুভূতিকে স্মরণে রেখ
মনে রেখ আমায় চিরদিনি।।
-ধন্যবাদ
-হুম
-আচ্ছা তাহলে রাখি এখন
-ঠিক আছে
প্লাবনের ফেসবুক ছাড়া যেন কোন কাজ নেই। সারাদিন ফেসবুকেই পরে থাকে। কখনও কবিতা, কখনও গল্প লিখে চলে আর কখনও দেদারছে চ্যাটিং করে সময় পাড়।
-ঐ
-কি?
-ব্রেক আপ করে ফেলছি
-কেন?
-ওকে নিয়ে সন্দেহ হয় অনেক!
-হুম
-আর ওকে তো মন থেকে ভালোবাসতেও পারছিনা, অনেক চেষ্টা করছি ওকে ভালোবাসতে।
-পারলে না
-না, তাইতো আগে আগে বলে দিছি
-কি বলছো?
-আমি ওকে ভালোবাসতে পারছিনা
-ও কি বলছে
-ও কি বলছে তা নাইবা শুনলে। আমি আর হয়তো কারও সাথেই কোন সম্পর্কে জড়াতে পারব না।
-কেন?
-এসব ভালো লাগেনা। আমাকে দিয়ে রিলেশন হবে না।
-তুমি এতো হতাশ কেন তাইতো বুঝিনা
-হতাশ না। আসলে ওর সাথে আমার এডজাস্টও হচ্ছিল না।
-কিন্তু ও যে অনেক কষ্ট পাবে এখন
-ওর সাথে সম্পর্ক রাখলে আরও কষ্ট পেত পরে
-হুম
-মন থেকে ভালোবাসতে না পারলে মিছে মিছে কেন একজনকে স্বপ্ন দেখাব। হয়তো সম্পর্ক চালিয়ে নেয়া যেতে কিন্তু তাতে ভালোবাসা বলে কিছু থাকতো না।
-ওকে এক্সেপ্ট করাটা তোমার ভুল হইছে
-আসলে ওর অবস্থা খুব খারাপ দেখে এক্সেপ্ট করছিলাম
-তাও না করলেই ভালো ছিল, যখন ওকে ভালোবাসতেই পারছিলে না তখন ওর সাথে সম্পর্কে জড়ানো উচিৎ হয়নি তোমার।
-বুঝতে পারিনি তখন, তোমাকে তাই মনে মনে অনেক খুঁজেছিলাম কিন্তু তোমাকে খুঁজেই পাচ্ছিলাম না তখন
-হুম, কি আর করবা এখন। চুপ করে বসে থাকো।
-পুতুল, আমি কি কাউকে ভালোবাসতে পারব না । কোনদিন
-তা কি করে বলব
-আমার মনে হয় কি জান, আমি হয়তো কাউকে ভালোবাসি সত্যিই কিন্তু সে চেনা আবার অচেনা বহুরূপী।
-কি বলছ, তোমার এই কঠিন ভাষা আমি বুঝিনা
-বললাম স্বপ্নে কাউকে ভালোবাসি, যাকে কোনদিন বাস্তবে দেখব না জানব না।
-তোমার কোন কবিতা আমি এ জন্যই বুঝিনা
-কেন?
-কঠিন শব্দ ব্যবহার কর আর কোন প্যারা কর না
-তাই
-জী
-কি কর এখন
-তেমন কিছুনা, তুমি?
-এইতো বসে আছি।
-নিসার কি কোন খবর রাখ
-না
-কেন? এক সময়তো ওকেই পাগলের মতো ভালোবাসতে
-তুমি কেন ওর নাম নিচ্ছ আজ, ভালো লাগে না
-তাও ওর খবর তো একটু রাখতে পার
-কি রাখব?
-ওকেমন আছে, কি করছে এসব
-জানি ও ভালো নেই
-কেন?
-লুইচ্চামী করার ফল কি ভালো হয়, পাপিষ্ঠার শাস্তি হইছে
-কি হইছে?
-শুনলাম ওর এবারের প্রেমিকও নাকি ওকে ছ্যাকা দিয়ে চলে গেছে
-তাতে কি নতুন কাউকে ঠিক খুঁজে নিবে
-ওর এসব কীর্তিকলাপ ভার্সিটি থেকে শুরু করে ওর পরিবার আত্বীয় স্বজন সবাই জেনে গেছে
-তাতে কি?
-ঘরে বন্দী হয়ে গেছে ও এখন
-এখন তো তাইলে রিলেশন করতে পারবেনা কারও সাথে
-হুম এটাইতো ওর দুঃখ
-ভালো হইছে
-কেন?
-আর এসব করতে পারবে না
-কি জানি! ও এসব ছাড়া বেঁচে আছে কেমনে আল্লাহই জানে
-হুম

মানুষ তার পাপের সাজা পাবেই। নিসা সমাজের মানদন্ডে অনেক পাপ করেছে। সমাজকে আজ এদের মত মানুষগুলোই কলুষিত করছে। ধিক্কার জানানো উচিৎ এসব মানুষের দিকে।

নিজের করা পাপাচারে নিসাকে হয়তো আজ চার দেয়ালের মাঝে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। প্রচন্ড মানসিক যন্ত্রনা তাকে সর্বক্ষণ জ্বালাচ্ছে। অস্থিরতা হয়তো তাকে বারবার ডুবিয়ে দিচ্ছে। পরিবারের সবাই যখন তার অপকর্ম ও হীন মানসিকতার জন্য লজ্জাবোধ করে তখন নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়া ছাড়া তার আর কিইবা করার থাকতে পারে।

এদিকে অদ্ভুত অগোছালো হয়ে যাচ্ছে প্লাবনের জীবন। কিছুই তার আজকাল ভালো লাগছেনা। জীবনের কোন মানে সে খুঁজে পাচ্ছে না। অর্থহীন আধারে ডুবে যাচ্ছে সে।

মানুষের জীবন হয়তো এরকমই হয়। আধার যখন পেয়ে বসে আলোর মুখ সহজে পেতে চায়না তখন। যদিও এই আলোদের সাথেই মানুষের বসবাস। চারদিকে আলোক মাঝখানেতে আধারে আচ্ছন্ন একটি হৃদয়। যার অনুভূতি হারিয়ে গেছে অমানিষার কাল ছোবল

প্লাবনের ভবিষ্যৎ খুব অস্পষ্ট। কেউ ভাবতেও পারছেনা তা। তার মনে কি আছে কারও প্রতি বিন্দু ভালোবাসা, যা সে বিলিয়ে দিয়ে জীবনের স্বার্থকতা পেতে চেয়েছে। কেউ কি কখনও বুঝতে পেরেছে তাকে? তার এ নিরব অভিমানটুকু। তবে প্লাবন আজ অসুখী নয়। সে দিব্যি কবিতা আর গল্প লিখে নিজের অস্তিত্বের মাঝে লুকিয়ে থাকা সুখকে সে উপভোগ করছে।

কোন একদিন প্লাবন খবর পেল নিসা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। ভালো একটা বিয়েও নাকি হয়েছিল কিন্তু সংসার করতে পারেনি বেশিদিন। ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছে তার স্মামী তাকে। তাই আজ নিসা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে মা বাবার বোঝা হয়ে জীবন পাড় করছে।

১,২২৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
খন্দকার মো: আকতার উজ জামান সুমন পিতা: মো: আবু সাদেক খন্দকার মাতা: ঝরনা বেগম বর্তমান ঠিকনা: মিরপুর, ঢাকা স্থায়ী ঠকানা: কুমিল্লা জন্ম তারিখ: ৩ ফেব্রুয়ারী, ১৯৯৪ ধর্ম: ইসলাম জাতীয়তা: বংলাদেশী বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত শিক্ষা: বাংলাদেশ নৌবাহিনা কলেজ, ঢাকা থেকে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি উভয়টিতে জি.পি.এ ৫ পেয়ে উত্তীর্ন। বর্তমানে মানারত ইন্টার্ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী ডিপার্টমেন্টে অধ্যয়নরত। আমি যে রকম : কথা বেশি একটা বলিনা চুপচাপ থাকতে পছন্দ করি। সব সময় কল্পনা করি। কল্পনায় আমি সবসময় নিজের সাথে কথা বলি। আর সব সময় অন্যমনষ্ক থাকি। আমার আশেপাশে কে কি করছে না করছে তার দিকে আমার তেমন খেয়াল থাকে না। অনেক সময় কাউকে খুজতে যেয়ে নিজেই হারিয়ে যাই। আর একটা কথা হলো আমার পথ মনে থাকে না তাই আমি একা হাটতে গেলে প্রায়শই পথ ভুল করি। পথে হাটাহাটি করার সময় কত জনের সাথে ধাক্কা খেয়েছি এ পর্যন্ত, তার হিসাব নেই। আমার সমস্ত জীবনটাকে কল্পনা মনে হয় কারণ সব কিছুই যাই ঘটে আমার সাথে তাই আমার কাছে কল্পনা মনে হয়। যদি কোন অঘটন ঘটে তাহলে ভাবি কল্পনা ভেঙ্গে গেলাই সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার এই অসম্ভব রকম কল্পনাসক্ত দিনকে দিন বেড়েই চলছে। নিজেকেই কখনও হারিয়ে ফেলি আমি। জানিনা জীবনের অনেক কিছুই হয়তো তবে যতটুকু আমি অর্জন করেছি তার সবটুকুই সত্য। মিথ্যা কিছু নিয়ে আমার বড়াই নেই। এক অদ্ভুত বিষয় সর্বদাই আমাকে ভাবিয়ে তুলে তাহল কেন যেন অন্য আট দশটা মানুষের মতো সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারিনা। কিছু বিষয় আমাকে বারবার স্পর্শ করে যাবেই। আমি যা বলি তার সবটাই গভীর অনুভূতি থেকে বলি তাই হয়তো আমার কথার জবাব অর্থপূর্ণ না হলে এক ধরনের অপমানবোধ কাজ করে। আমি ভাবনার অতলে প্রবেশ করে জটিল বিন্যাসে অনেক ছক আঁকি যার ফলে স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ হতে আমার বিষয়গুলো ভাবলে মানানসই হবে না। আমাকে ঠিক বুঝে উঠতে পারে এরকম খুব কম মানুষই আছে। আমিও নিজেকে কখনও কখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা, তাই হয়তো আমার মন খারাপের কারণ, রাগ করার কারণ অনেক সময় আমার অজানাই থাকে। আমি খুব বেশি একটা কথা বলা পছন্দ করিনা যদিও আমার ফেসবুকে পোস্ট দেখলে তা অনেকের বিশ্বাস হবেনা। বাস্তবে আমি বন্ধুদের আড্ডা, পরিবারের আলোচনায় কথা তেমন বলিনা বললেই চলে। আমি সব সময় বিভিন্ন ধরনের ভাবনায় নিমগ্ন থাকতে পছন্দ করি তাই হয়তো বাস্তব জীবনের সাথে আমার সম্পর্কটাও নড়বড়ে। আমি সহজেই মানুষকে অনুভব করে ফেলি যার ফলে খুব সহজেই কাউকে মনের গভীরতায় ঠাই দিয়ে বসি। আর এটাই কখনও কখনও আমার দুঃখের কারণ হয়ে বসে। আমি জানিনা আমার বর্তমান, জানিনা আমার ভবিষ্যৎ তবে এটুকুই বলতে পারি এক সময় সুখ আর দুঃখ দুটোই একই মনে হবে আমার কারণ আমার অনুভূতির জগতটি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। আর আমার অনুভূতি নিস্তেজ হয়ে যাওয়া মানে আমার কবিতা, গল্প বিলুপ্ত হয়ে যাবে আমার সৃজনশীল কর্মের তালিকা হতে। তবে আমি থাকব একজন অবাধ্য বন্ধু হয়ে সবার মাঝেই। প্রকাশিত বইঃ (১)সমন্বয়(কাব্য গ্রন্থ-সম্মিলিত সংকলন)
সর্বমোট পোস্ট: ২৯২ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৯৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৮-২৯ ১৬:৩০:৩০ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    জীবন কখনও থেমে থাকেনা। জীবন চলবে জীবনের গতিতেই। হয়তো অনেক কিছুই ঘটে যায় জীবনের পরতে পরতে। মনের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হয় এই একটা ছোট্ট জীবনেই বহুবার বহু জানা অজানা কারণে। +++++++++++++

    অনেক বড় গল্প। আমি শুধু সামারী করে পড়েছি। আমাকে এখন ছুটতে হচ্ছে মেয়ের স্কুল এ। পরে আবার পড়ার আশা রাখি।

    সুন্দর গল্পটি লেখার জন্য ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা রইল।

  2. খন্দকার মোঃ আকতার-উজ-জামান সুমন মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পটি লিখতে আমার প্রায় দুই সময় লেগেছিল। অনেকটাই সত্য কারও না কারও জীবনের সাথে । আপনাকে ধন্যবাদ।

  3. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    খন্দকার মোঃ আকতার-উজ-জামান সুমন ভাই আপনার লেখা প্রথম পড়লাম।
    পুরো শেষ করতে পারিনি।অনেক বড় লেখা একসাথে দিয়েছেন।
    কারো জীবনের কিছু কথোপকতন।পাওয়া না পাওয়া উঠে এসেছে।
    একটা বা দুটো লাইনে ওর BF আছে। BF না লেখে অন্য কোন বাংলা শব্দ লিখুন।
    ধন্যবাদ।

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    এতো বড় গল্প এক সাথে দিবেন না প্লিজ অধৈর্য্য হয়ে গেছি। সময় অল্প সবার পোস্টই পড়তে হয় ছাইফুল ভাইয়ের কথা ঠিক। গল্প ভালই লিখেন।

  5. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক বড় গল্প, ধন্যবাদ ভাই,

    তবে সবটুকু পড়িনাই, পরে এক সময় পড়বো।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top