Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

এইলোক অন্যলোক (ভৌতিক গল্প)

লিখেছেন: তাপসকিরণ রায় | তারিখ: ১১/০১/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1317বার পড়া হয়েছে।

images

৩য় অংশ…

উনি বললেন, আমি কি করে বলি বলুন ? আমার অস্তিত্ব তখন ছিল না !

আমি তাড়াতাড়ি প্রশ্ন করে উঠি, তার মানে ভয়ে আপনি জ্ঞান হারিয়ে ছিলেন ?

উনি আবার উদাস হয়ে বলে উঠলেন, না, আমি অন্য হয়ে গিয়েছিলাম ! আমার সত্তা হারিয়ে গিয়ে ছিল।

–তার মানে? অবাক হই আমি।

–তার মানে আমার স্মৃতি শক্তি হারিয়ে গিয়েছিল।ওই সময়কার বেশ কটি দিনের কথা আমি কিছুই জানি না।চেষ্টা করেও মনে করতে পারি না! কেশব প্রত্যক্ষদর্শী, সে আপনাকে বাকি ঘটনা বলবে।

আমি কেশবের অপেক্ষা করতে লাগলাম।ওর দোকানের কাজ এখনও শেষ হয় নি।পাঁচ মিনিট বলে পঁচিশ মিনিট কাটিয়ে দিয়েছে।

কেশবের পৌঁছতে আরও দশ মিনিট লেগে গেল। আমি হাত ঘড়ির দিকে তাকালাম।রাত নটার কাছাকাছি হয়ে গেছে।আর রাত হলেই আমার স্ত্রী কোন স্টুডেন্টকে দিয়ে আমার খোঁজ করতে পাঠাবেন।তবু গল্প শোনার আগ্রহ আমায় পেয়ে বসলো।কেশবকে বললাম, কেশব, তোমার স্যারের অবশিষ্ট ঘটনাটুকু তুমিই বল।

এবার কেশব বলতে লাগলো।ঐ দিন তো আমরা স্যারের আগে আগে হেঁটে চলে এলাম।স্যার ঘরে ফেরেন নি– এটা আমাদের ভাবনার কিছু ছিল না।আর জানতাম পাঁচ দশ মিনিট পরে হলেও স্যার ঠিক ঘরে চলে আসবেন।

ওই দিন তো আমি আমার ঘরে চলে এলাম।মাখন আর মৈনাক সন্ধ্যের পর স্যারের ঘরে প্রায় রাত নটা পর্যন্ত রোজ থাকে।স্যারের রান্না করে, তারপর পড়াশুনা করে রাতে চলে আসে।আর আমি ঘরে রাতের খাওয়া খেয়ে স্যারের ঘরে যাই শুতে।পড়ার কিছু বোঝার থাকলে স্যারের কাছ থেকে রাতেই সব বুঝে নিই।স্যার খাটে, আমি নীচে বিছানা করে শুয়ে পরি ।

সেই দিন রাতের কথা।রাত তখন কত হবে, বেশী হলে রাত নটা।মাখন আর মৈনাক প্রায় ছুটতে ছুটতে আমার কাছে এলো।ওরা হাঁপাচ্ছিল।তাড়াতাড়ি কথা বলার মত ওদের অবস্থা ছিল না।

ভয় পেয়ে আমি বললাম, কি হল রে ? মৈনাক বলল, ভূত !–বাকী কথা ওর মুখ থেকে সরছিল না।

মাখন বলল, স্যারেরে ভূতে ধরছে।একবারে বেশী কথা ওদের মুখ থেকে বের হচ্ছিলো না।

আমি বললাম, তোরা বসে নে একটু, শান্ত হ।

মাখন বলল, না, না, শান্ত কেমনে হমু, যা ঘটনা!

কি হয়েছে, কিছু বলবি তো ? ব্যস্ত হয়ে বললাম।

মৈনাক একটু দম নিয়ে বলল, আমরা রান্না করছি, মাত্র ভাতের চাল বসিয়েছি, এমনি সময় স্যার বাইরে থেকে আসল।দেখি, মাটির হাঁড়ির জিয়ল মাছগুলি মাটিতে ঢালল।

এবার মাখন বলতে থাকলো, আমি জিজ্ঞেস করলাম, স্যার, রাইতে মাছ রানতে হৈবো ? দেখি স্যারে লাল লাল চোখে একবার আমাগ দিগে তাকাইল, তারপর জ্যান্ত মাছগুলি তুইলা মুখে ভরতে লাগল।এ কি দৃশ্য গো! আর ভাবার সময় পাইলাম না।ততক্ষণে আট দশটা মাছ তার খাওয়া হইয়া গেছে ! আমরা পালামু কি না ভাবতাছি।মুহূর্তের মইধ্যে দেখি স্যার আমাদের কাছে আইয়া হাজির।

মৈনাক বলে ওঠে, স্যার তখন অনেকটা অন্যরকম স্বরে, কেমন নাকি নাকি মেয়ে মানুষের ভাঙা ভাঙাগলায় বলে ওঠেন, নামা ভাতের হাঁড়ি!

মৈনাকের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে এবার মাখন বলে ওঠে, আমি ভয়ে ভয়ে কই, এখনো ভাত হয় নাই, স্যার ! আমাগ দিকে লাল চোখে একবার চাইলেন স্যার।আমরা ত ভয় পাইলাম।আমরা কি ভাবে ঘর ছাইড়া পালামু ভাবতাছি।ততক্ষণে দেখি, স্যার গরম হাঁড়ির সব ভাত সস্পেনে ঢালল।তখনও ভাত হইতে অনেক দেরী ছিল।আধ ফোঁটা চাল স্যার কড়মড় কইরা খাইতে লাগল !

কেশব বলে, ওদের কথা শুনে আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম।

এ নির্ঘাত ভৌতিক ব্যাপার কিছু ! কিন্তু স্যারকে তো বাঁচাইতে হবে।তিনজন ছুটলাম অন্য স্যারদের ঘরে।তাঁদের ডেকে নিয়ে অমরেশ স্যারের ঘরে পৌঁছলাম।দেখলাম ঘর অন্ধকার, বাতি নিভানো। সবার মধ্যে সাহু স্যার সাহসী ছিলেন।তিনি একা ঘরের মধ্যে ঢুকে গেলেন।অমরেশ বাবু, অমরেশ বাবু, বলে ডাকতে লাগলেন।

কিছু সময় সাড়া শব্দ কিছু নেই।হঠাৎ নাকি মেয়ে ছেলের গলায় চীৎকার শোনা গেলো, কে রে ? বলে।আর কিছু সময় পর সাহু স্যারের চীৎকার।কেশব ওরা কাউকে দেখতে পেল না, কেবল সাহু স্যারকে মনে হল কেউ যেন তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের দরজার বাইরে ফেলে দিলো।

সাহসী সাহু স্যার ভয় পেয়ে ছিলেন খুব।তাঁর গলা দিয়ে বেরিয়ে এলো, ওরে বাবা রে, অমরেশ বাবুর গায়ে কি শক্তি রে!

ঘরের ভিতর থেকে গোঙানির শব্দ আসছিল।যেন কোন ভয়ঙ্কর জন্তু রাগে শব্দ করছে !

এভাবে রাত এগারোটা বেজে গেছে।স্যারের ঘরের সামনে ক্যাম্পের লোকের ভিড় পড়ে গেছে।সবাই শুনছে তাঁর তর্জন গর্জন।ঘর থেকে মাঝে মাঝে হি, হি, হা, হা নানা রকম হাসির শব্দ ভেসে আসছে।সহকর্মীরা আর নিকট ছাত্ররা ভাবছিলেন কি করা যায় ? ঘরের দরজা দিয়ে একজন মাত্র একবারে প্রবেশ করতে পারে।যদি লাইন দিয়েও যাওয়া যায় তবে প্রথম কে থাকবে ?

সাহু স্যার আগেই ধাক্কা খেয়ে ব্যাপার বুঝে গেছেন, তিনি বলে উঠলেন, নিশ্চয় কোন অশরীরী আত্মা ওঁর শরীরে প্রবেশ করেছে, না হলে আমায় হাওয়ায় তুলে এনে ঘরের বাইরে ফেলে দিতে পারে!

শেষে ঠিক হল সবাই দরজা দিয়ে তাড়াতাড়ি করে ঘরে ঢুকে অমরেশ বাবুকে ধরবেন।সঙ্গে হ্যারিকেন, টর্চ, লাঠি, মোটা লম্বা দড়ি থাকলো।কিছু করার নেই, স্যার হলেও এখন স্যার নন তিনি, তাঁর মধ্যে প্রবেশ করেছে কোন দুষ্ট আত্মা!

দশ বারো জন এক সাথে ঘরে ঢুকে পড়ল।অমরেশকে দেখা গেল ঘরের এক কোণে–উন্মাদের মত তাঁর চেহারা।চার পাঁচজন মিলে ওঁকে জাপটে ধরল।অমরেশ তখন গোঙাতে গোঙাতে ওদের ছাড়াতে চেষ্টা করছেন।ততক্ষণে তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়া হল ঘরের মাঝখানের মোটা খুঁটির কাছে আর তাঁকে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হল সেই খুঁটির সঙ্গে।অসম্ভব গায়ে জোর অমরেশের, নানা ভাবে সুর তুলে মেয়েদের গলায় চীৎকার করছেন, গালাগাল দিচ্ছেন, পাঁচ সাতজন লোক তাকে ধরে রাখতে পার ছিল না।বাঁধা অবস্থায় তাঁর তর্জন গর্জন চলতে লাগলো।

এরপর তিন দিন হয়ে গেল, ঘরের খুঁটিতে বাঁধা থাকলেন অমরেশ।সহকর্মী আর ছাত্ররা এসে তাঁকে খাইয়ে যেত।খাবারের থালা দেখলেই চীৎকার করতেন অমরেশ, আমায় খেতে দে, খেতে দে আমায়, ভীষণ খিদে পেটে।খাবার জন্যে ছটফট করতেন।মিনিটের মধ্যে এক থালা ভাত রাক্ষসের মত খেয়ে ফেলতেন।তারপর আরও চাই তাঁর, ভাঙা গলায় চীৎকার করে উঠতেন, মাছ কোই ? মাংস কোই ? মাছ মাংস ইচ্ছে করে তাকে দেওয়া হতো না।তা হলে না কি ভূত পেত্নীর তাকত আরও বেড়ে যায় ! আরও উৎপাত করতে থাকে ওরা।

ক্রমশ…

১,২৮৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নাম :তাপসকিরণ রায়। পিতার নাম : স্বর্গীয় শৈলেশ চন্দ্র রায়। জন্ম স্থান: ঢাকা , বাংলা দেশ। জন্ম তারিখ:১৫ই এপ্রিল,১৯৫০. অর্থশাস্ত্রে এম.এ.ও বি.এড. পাস করি। বর্তমানে বিভিন্ন পত্র পত্রিকাতে নিয়মিত লিখছি। কোলকাতা থেকে আমার প্রকাশিত বইগুলির নামঃ (১) চৈত্রের নগ্নতায় বাঁশির আলাপ (কাব্যগ্রন্থ) (২) তবু বগলে তোমার বুনো ঘ্রাণ (কাব্যগ্রন্থ) (৩) গোপাল ও অন্য গোপালেরা (শিশু ও কিশোর গল্প সঙ্কলন) (৪) রাতের ভূত ও ভূতুড়ে গল্প (ভৌতিক গল্প সঙ্কলন) (৫) গুলাবী তার নাম (গল্প সঙ্কলন)
সর্বমোট পোস্ট: ১১২ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৬৬৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-১১ ১৫:৪৩:৫৪ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো আপনার ভৌতিক গল্প, ভালো থাকুন

  2. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ,ভাই!

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    কি ভয়ংকর অবস্থা

    ভাল লাগতেছে

    পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায়…..

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top