Today 01 Dec 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

একজন ইমানুয়েলের কথা

লিখেছেন: মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক খান | তারিখ: ০৫/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1374বার পড়া হয়েছে।

১ – ছোট্ট ইমানুয়েলের স্বপ্ন

সন্ধ্যা নামলে যখন আকাশের শেষ রক্তিমাভাব দূর হয়ে গিয় ধীরে ধীরে আবছা অন্ধকার নেমে আসতে থাকে তখন ইমানুয়েল তার বন্ধুদের সাথে বসতিতে ফিরে আসে। মা তাকে আদর করে রাতের খাবার খাইয়ে ঘুমুবার বিছানা করে দেন।

বসতিতে অযথা বাতি জ্বালিয়ে জ্বালানী খরচ করতে কেউ চায় না। ছোট্ট ইমানুয়েল এতসব বুঝতে পারে না। তার বয়স মাত্র ছয়। এই ক্ষুদ্র জীবনে সে এটুকুই জানে যে সন্ধ্যা নামলেই খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হয়। তাই প্রতিদিনকার মতো যখন ইমানুয়েল শুয়ে পড়ে, তখন অভ্যাসমতো তার মা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকেন তখন স্বভাবমত ইমানুয়েল আবদার করে, একটা গল্প বলো-না।

মা কপট রাগ দেখিয়ে বলেন, প্রতিদিন শুধু গল্প আর গল্প। আমি না থাকলে তোকে কে প্রতিদিন গল্প শোনাবে?

ইমানুয়েল বুঝতে পারে না মা কি বুঝাতে চাইছেন, তবুও সে বলে, কেন? তুমি কোথায় যাবে? আমিও যাব তোমার সাথে।

অন্ধকারে মা ইমানুয়েলের পরিস্কার অবয়ব দেখতে পারেন না, তবুও তিনি প্রতিদিনকার অভ্যাসমতো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ইমানুয়েলের কপালে চুমু একেঁ দেন। তারপর তিনি গল্প বলা শুরু করেন।

এক বসতিতে ছিল এক যুবক, সে প্রতিদিন কেন্দ্রীয় চত্তরে যেত কাজ করতে। কাজ করতে করতে বিকেল হয়ে যেত। সূর্য যখন পশ্চিমআকাশে ঢলে পড়ত তখন একসময় হটাত করেই দূর পাহাড়ের আড়ালে ঢাকা পড়ে যেত। প্রতিদিন এভাবে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে একদিন তার ইচ্ছা জাগে পাহাড়ের উপরে উঠবে, ওপাশে কী আছে সে দেখবে। যদিও সে জানে ঐদিকে স্বর্গ, আশ্চর্য সুন্দর এলাকা। স্রস্টা যাকে আশীর্বাদ করেন শুধুমাত্র তারাই সেখানে থাকতে পারে। পাহাড়ের চূড়ায় ওঠা দণ্ডনীয় অপরাধ জেনেও যুবকটি সেদিকে যায়।

ছোট্ট ইমানুয়েল বুঝতে পারে মা তাকে বাবার গল্প করছেন। এই ছোট্ট বয়সে সে তার মায়ের কাছ থেকে এ গল্প বহুবার শুনেছে। বসতির লোকেরাও তাকে বহুবার বাবার গল্প করেছে। বাবা বসতির সবচেয়ে কর্মক্ষম আর বুদ্ধিমান মানুষ ছিলেন। তবুও তিনি কেন পাহাড়ে চড়েছিলেন? তিনিতো জানতেন এতে স্রষ্টা অসন্তুষ্ট হয়, স্রষ্টা বিমুখ হন। তিনিতো কাউকেই পাহাড়ে চড়ার অনুমতি দেননি। সে তার মাকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করে, মা, বাবা কি সত্যিই স্বর্গ দেখেছিলেন কিংবা স্রষ্টাকে?

মা তার ছেলেকে বুকে চেপে ধরে বলেন, কেন বাবা?
ইমানুয়েল মায়ের বুক থেকে মুখখানা বের করে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে, তাহলে আমিও পাহাড়ে যাব, স্রষ্টাকে দেখব।
মা বলেন, স্রষ্টাকে দেখার জন্যতো পাহাড়ে যেতে হয় না। প্রার্থনার দিন স্রষ্টাতো বসতিতে আসেন তখন তাকে দেখবে।
কিন্তু তখনতো স্রষ্টার দিকে তাকানোর নিয়ম নেই – ইমানুয়েল বলে ওঠে।
কিন্তু তুমিতো তখন তার অস্তিত্ব অনুভব করতে পারবে।
আমি আমার বাবার মত স্রষ্টাকে দেখতে চাই।
স্রষ্টাকে তখনই দেখা যায় যখন তিনি অনুমতি দেন।
কিন্তু বাবাতো দেখেছিল?
তোমার বাবা স্রষ্টাকে দেখেননি।
দেখেনি!, ইমানুয়েল অবাক হলো, তাহলে বাবা কেন মারা গিয়েছিল? – ইমানুয়েলের কাছে তার বাবার মৃত্যু রহস্যে ঘেরা বলে মনে হয়। মা আর কোন কথা না বাড়িয়ে বলেন, এবার ঘুমাও বাবা, এত জটিল কথা তুমি বুঝতে পারবে না।

ইমানুয়েল সত্যিই বুঝতে পারে না, এর মধ্যে জটিলতার কী আছে? মায়ের কথামত সে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে, সে একটি দীর্ঘ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে। উঠতে উঠতে একসময় তার পা আর চলতে চায় না। আর তখন সে দেখে অনেক উপরে এক যুবক দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমে মনে হল সে তাকে চেনে না। কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে হলো তাকে যেন সে কোথায় দেখেছে। যদিও ইমানুয়েল কোনদিন তার বাবাকে দেখেনি, তবুও সে বুঝতে পারে ঐ যুবকটিই তার বাবা। সে দেখতে পায় তার বাবা দুহাত বাড়িয়ে তাকে ডাকছে। ইমানুয়েল সর্বশক্তি দিয়ে উপরে উঠে বাবার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আর তখনই সে দেখতে পায় সে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। একপাশে সে তাদের বসতি অন্যপাশে স্রষ্টার স্বর্গ দেখতে পায়। শক্ত করে সে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে। (চলবে)

বি দ্রঃ বেশকিছু বিজ্ঞান কল্পকাহিনী উপন্যাস লিখেছি বহু আগেই। টাইপ করতে খুব বিরক্তি লাগে তাই প্রতিটি লেখাই কিছুদূর লেখার পর আর আপনারা দেখতে পান না। আপনারা যারা আমাকে অনেকদিন ধরেই চিনেন তারা আমার এই বদঅভ্যাসটা ভালভাবেই জানেন। এবার ঠিক করেছি অল্প অল্প করে হলেও কিছু কিছু টাইপ করে প্রকাশ করব। “একজন ইমানুয়েলের কথা” দিয়েই শুরু করলাম। দেখি কতদূর কি লিখতে পারি।

১,৪১৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমার জন্ম পিরোজপুরে নানা বাড়িতে। দাদা বাড়িও পিরোজপুরে। পিরোজপুর শহরের সার্কিট হাউজ – ফায়ার সার্ভিস এর মাঝখানে আমাদের বাড়ি। পিরোজপুর আমার কাছে স্বপ্নের শহর। যদিও ক্লাস থ্রী থেকে আমি ঢাকাতে মানুষ। এসএসসি ১৯৯৬ সালে। পড়াশুনা করেছি ফার্মেসিতে, পরে এমবিএ করেছি আন্তর্জাতিক বিপননে। জুলাই ১৫, ২০১১ থেকে সব ধরনের রাজনৈতিক আলোচনা থেকে অবসর নিয়েছি। বিশেষ ব্যক্তিত্বঃ নবিজী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যে ব্যক্তিত্ব আমাকে টানেঃ ডঃ মুহম্মদ ইউনুস প্রিয় লেখকঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল, হুমায়ুন আহমেদ, হেনরি রাইডার, জুল ভান প্রিয় টিভি সিরিয়ালঃ Spellbinder, Spellbinder 2: Land of the Dragon Lord, The girl from tomorrow, Tomorrows end, Time Trax, MacGyver, Alice in Wonderland, The Chronicles of Narnia প্রিয় টিভি নাটকঃ কোথাও কেউ নেই, অয়োময়, রুপনগর, বহুব্রিহী, বার রকম মানুষ প্রিয় টিভি শোঃ ইত্যাদি, সিসিমপুর, Pumpkin Patch Show লেখালেখি আমার শুধু শখই না, মনে হয় যেন রক্তের টান। বিশেষ করে বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি। বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি আমার কাছে রঙ্গিন ঘুড়ির মত। কল্পনার সীমানা পেরিয়ে যে ছুটে চলে মহাজগতিক পরিমণ্ডলে। এ যেন সময়টাকে স্থির করে দিয়ে এর আদি-অন্ত দেখার মত। তারপরও এ ঘুড়ি যেমন ইচ্ছে তেমন উড়তে পারে না, সুতোয়ে টান পড়ে বলে। এ টান যুক্তির টান। যৌক্তিক কল্পনা বললে ভুল হয় না। তারপরও নিজ ইচ্ছেয়ে সুতোটাকে ছিঁড়ে দিতে ভাল লাগে মাঝে মাঝে। আমি যেমন নিজে স্বপ্ন দেখি তেমনি সবাইকে স্বপ্ন দেখাতে চাই। অঞ্জন দত্তের ভাষায় বলতে হয়, ‘মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যখন-তখন কান্না পায়, তবু স্বপ্ন দেখার এই প্রবল ইচ্ছাটা কিছুতেই মরবার নয়।’ কনফুসিয়াসের এই লাইন টা আমাকে খুব টানে … journey of a thousand miles begins with a single step। আমার প্রথম লেখা প্রকাশ হয় ১৯৯৬ সালে আধুনালুপ্ত বিজ্ঞান সাপ্তাহিক আহরহ তে। আমার নিজের একটা ব্লগ আছে, mahkbd.blogspot.com। আমার ইমেইল mahkbd@gmail.com।
সর্বমোট পোস্ট: ৯৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৫৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-১১ ০৩:১৪:৫৫ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    খুবই ভালো লাগছে। আপনার সাথে আছি। আশাকরি এবার হারিয়ে যাবেন না।

  2. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    বসতিতে অযথা বাতি জ্বালিয়ে জ্বালানী খরচ করতে কেউ চায় না। ছোট্ট ইমানুয়েল এতসব বুঝতে পারে না। তার বয়স মাত্র ছয়। এই ক্ষুদ্র জীবনে সে এটুকুই জানে যে সন্ধ্যা নামলেই খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হয়। তাই প্রতিদিনকার মতো যখন ইমানুয়েল শুয়ে পড়ে, তখন অভ্যাসমতো তার মা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকেন তখন স্বভাবমত ইমানুয়েল আবদার করে, একটা গল্প বলো-না।

    চমত্কার একটি গল্প লিখেছেন। আপনার কিছু চমত্কার গল্প পড়েছি ফেস বুক এ। যেসব গল্প আপনি অন্য কোন ব্লগ লিখেন নি। অনেক হয়ত পড়েনি। পড়লে সবাই পছন্দ করত কিন্তু। পড়ছি। …পড়ে আবার কমেন্টস করব।

  3. প্রহেলিকা মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রকাশ করুন ভাল লেখা পড়ার অধিকার সবার রয়েছে, আজকাল একই লেখার মাঝে নূতনত্বতার অভাবে পাঠক কমে যাচ্ছে, চলুক পাঠক হয়ে সাথেই রয়েছি। শুভ কামনা।

  4. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    মা বলেন, স্রষ্টাকে দেখার জন্যতো পাহাড়ে যেতে হয় না। প্রার্থনার দিন স্রষ্টাতো বসতিতে আসেন তখন তাকে দেখবে।
    কিন্তু তখনতো স্রষ্টার দিকে তাকানোর নিয়ম নেই – ইমানুয়েল বলে ওঠে।
    কিন্তু তুমিতো তখন তার অস্তিত্ব অনুভব করতে পারবে।
    আমি আমার বাবার মত স্রষ্টাকে দেখতে চাই।
    স্রষ্টাকে তখনই দেখা যায় যখন তিনি অনুমতি দেন।
    কিন্তু বাবাতো দেখেছিল?
    তোমার বাবা স্রষ্টাকে দেখেননি।

    চমত্কার বর্ণনা এই অংশ এর।

  5. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার।আপনার জীবনী দেখলাম।অনেক কিছুর সাথে আমার মিল আছে।আপনি কি ১৯৯৬ সালে এসএসসি পাশ?তাহলে আমার একবছরের সিনিয়র।

  6. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    শুরুটা ভাল লাগল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top