Today 02 Dec 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

একটি প্রেমের অপ্রেমের কবিতা

লিখেছেন: শ্যাম পুলক | তারিখ: ১৯/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1137বার পড়া হয়েছে।

মেয়ে প্রেমে পড়েছে বলে
মা রাগ, বাবা বেজায় অখুশি;
মেয়ে ভীত পায়ে দাঁড়ায় গিয়ে জানালার পাশে
কখন সে এসে দাঁড়ায় বাড়ির পাশে হাস্নাহেনার তলায়।
অথবা ক্লাশরুম হতে অদূরে যেখানে আছে বৃদ্ধ করই গাছটি
সেখানে ছুটে যায় মন দেখে সে তাকিয়ে গাছের বাজপাখির বাসায়।
বাবা মাকে বলে এভাবে আর কতদিন মান ইজ্জত তো গেল!
মা বলে পাখি আর উড়বে কয়দিন, দুইদিন বাদেই
পুরবো খাঁচায় বারান্দায় টানানো ময়নাটির মত!
তা দেখ যেন পাখি আবার যায় না পালিয়ে?
বাবা ভয়ে ভয়ে বলে আশ্বাসের আশায়।
সে আমার মেয়েকে আমি চিনিনা!
সে তেমন করবেনা কোনদিন।
মেয়ে ভয়ে থাকে। মাঝে মাঝে তার
কোন কোন বান্ধবী এসে জানায় মা নাকি
তার মাকে বলেছে তার কোন এক সমন্ধের কথা।
কিন্তু মেয়েকে কিছু বলে না কেউ। সবে উড়তে শেখা
পাখির ছানার মত উড়ে সে ভীত হয়ে কিন্তু চঞ্চল গতিতে,
কখনও বা সবে পাহাড় হতে উৎপন্ন হওয়া ঝর্ণার মত ছূটে সে
ঝর্ণার মত তারও জানা নেই কোথায় শেষ হবে ছুটে চলার পথ।
বাবা চিন্তিত কিভাবে বলা যায় মেয়েকে সে কথা! মা বলে,
সে আর চিন্তার কি, সে আমি বলব নে কোন এক দিন।
মেয়ে যখন জানতে পারে আর কটা দিন বাদেই বিয়ে,
সে ছুটে যায় তার কাছে বলে, কি করব এবার?
চলো চলে যাই দূরে, বহুদূরে; যেখানে
আর কেউ আসবেনা বাঁধা দিতে,
যেখানে চৈত্রের দুপুরে উরন্ত চড়ই
এসে বসবে উঠানে, বর্ষার ভেজা কাক,
অথবা পাশের ডোবায় শরতে থাকবে ফুটন্ত পদ্ম।
আর যখন বারান্দায় এসে বসবে পায়রার ঝাঁক তখন
তোমার খুশি দেখে নাচবে প্রজাপ্রতির ছায়া। মেয়ে বলে উঠে
সেকি কি সম্ভব তুমি আমি চলে যাব দূর-বহুদূরে; যেখানে আসবে
উত্তরের তুফান বাঁশঝার কাঁপিয়ে, দূরে যাওয়া পাখি বাড়ি ফিরবে
পাখার শব্দ করে! সেখানে কি রাতের শিশির ঘাসের উপর
রেখে যাবে বিদায়ের অশ্রু! আর সে অশ্রু বিন্দু মুক্তা
হয়ে দেখা দেবে বলে সূর্যের আলোয়, ভোরের
দোয়েল ঘুরে ঘুরে বেড়াবে যেখানে!

দিন যায়, হয়ে যায়
চলে যাবার পুরো আয়োজন;
স্বপ্নে বিভোর হয় মেয়ে, চলে যাবে
তার সাথে হাতে হাত রেখে প্রজাপতির মেলায়।
বাবা বলে বলছো তো মেয়েকে? মা হাসে বলব তো,
না বলে তো বিয়ে হবে না। যেভাবে পারো রাজি করিও
না হলে থাকবেনা আর মান ইজ্জত। মা আসে মেয়ের ঘরে বলে,
দুখিনি বাবা মা তোর, যখন গর্জে উঠেছিল বৈশাখী ঝর বিকট শব্দে
চারদিক ভয়ানক অবস্থা। তুইও চিৎকার করে উঠলি, মার বুকে এসে
থামল কান্না। অথবা ভয়ংকর কালা জ্বরে তোর মরার মত অবস্থা,
তোর বাবার সেকি তোকে হারানোর ভয়, বার বার কেঁদে উঠত
তোকে বুকে নিয়ে। আর এখন তোকে চলে যেতে হবে বলে
আমার বেরেছে তোর বাবার হার্ট এটাকের ভয়।
তুই কিছু করে বসিছ না মা। যাতে তুই
হয়তো ভাল থাকবি তোর বাবা
মরবে ইলিশ মাছের মত।
না, মা চিন্তা কর না কোন;
এমন কিছু করব না আমি যাতে
ব্যাথা পাবে বাবা। রক্তের বন্ধন কি
ছোট করা যায় অন্য কোন কিছু দিয়ে!
তাই  কিভাবে ব্যাথা দেব আমি তোমাদের?
শেষে মা বিদায় নেয় হাসি মুখে, ব্যাথায় ডুবে থাকে
মেয়ে। না, সে পারবে না এভাবে কষ্ট দিতে পিতা মাতাকে
সে কল্পনায় সাজানো বাসর থাক চিরকাল স্বপ্নের মত ক্ষনিকের।
দিন যায়, আকস্মাৎ জলোচ্ছাসে সমুদ্রে গঠিত হয় নতুন দ্বীপ।
আর ভেঙ্গে যায় পুরোনো সব কিছু। চলে দিন সেভাবে,
যেভাবে নতুন দ্বীপে শুরু হয় নতুন জীবন।
আর যেমনি নতুন দ্বীপে চলে ঝরের
আঘাত, ঝর বয় প্রতিনিয়ত।

তার পরও যায় দিন।
ধীরে ধীরে চারদিক মানিয়ে
নেয় জীবন নতুন তৈরি বাস্তুতন্ত্রে।
একদিন মেয়ে যখন তাকিয়ে আছে দুরের
রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়া তারের দিকে দেখল,
জোড়া ঘুঘু বসে আছে আকাশের দিকে চেয়ে, যেন তারা
তন্ময় দেখছে মেঘের রুপ অথবা মেঘলা বেলা পাড় করছে তারা
যেন প্রিয় স্মৃতি হয়ে থাকে তা। এমন সময় দেখল কারা যেন
চলে যাচ্ছে হাতে হাত রেখে, তার মনে হল এ সে যার
রচিত স্বপ্ন বাসর আজ শুন্য আকাশে শুধু ভাসে,
যার সাথে দূরে চলে যাওয়ার কথপকথন
বাতাসে বতাসে ধবনিত হয়
ব্যাথার কোন গান হয়ে।
সে কথা, সেই হাসি আজ
অন্য কোনখানে, অন্য কারো সাথে;
চলে যায় তারা হাতে হাত রেখে দূর হতে দূরে,
মেয়ে তাকায় শুন্যে, দেখে জোড়া ঘুঘুও উড়ে চলেছে।
শুধু তার দাঁড়িয়ে থাকা, শুধু তার দূর হতে দেখা।
আসে কাল বৈশাখীর ঝর, এসে বদ্ধ ঘরে
বসে থাকে সে একা একা।
রাত আসে, অন্ধকারে জ্বলে না
দ্বীপশিখা কোন। অগ্নিগিরির লাভার মত
ব্যাথাভরা অনল বহে হৃদয়ে তার;
শান্ত শীতল ঝর্ণা কবে
বহিবে আবার?
আর কতকাল রবে
মিথ্যে ভালবাসা জড়িয়ে
বাঁচা। আর কতকাল মিথ্যে
সম্পর্কের মায়াজালে পাড় করে দেয়া
পুরোটা জীবন ধুকবে চিতার আগুনে জ্বলা
স্বতী লক্ষীর মত। ভাবে মেয়ে এভাবে
বাঁচার মুল্য কোথায় হীন মানবতার
বন্ধনে বাঁচিয়ে রাখা দেহটারে
মেরে আমার হৃদয়।
তাই আমার শাড়ির
আচল সবচেয়ে প্রিয় হোক।
মৃত্যু এসে নিয়ে যাক
সব কষ্ট সুখ।
০৪.০৬.১৩, ঢাকা।

১,২৩০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমার উপর হয়তো অনেকেই রাগ করেন। কারন আমি মাঝে মাঝে কবিতা পোস্ট ঠিকই করি কিন্তু কারোটা তেমন পড়ি না বা মন্তব্য করি না। ------------------------------------------------------------------------------ এ নিয়ে আমারও রাগ আছে আমার উপর। আমি যদি সব বাদ দিয়ে শুধু কবিতা লিখতে পারতাম আর আপনাদের লেখা পড়তে পারতাম তাহলেই আমার ভালো লাগতো।----------------------------------------------------------- ------------------------------------------------------------------------------------------------------------------- আসলে আমার সব চেয়ে বড় সমস্যা হল আমি যখন যা করি তাই করি অন্য কিছু পারি না। যখন কবিতা লেখি তখন শুধু কবিতা। আর কিছু পারি না। রাত দিন বসে বসে কবিতা। আবার যখন তা বাদ দিয়ে অন্য কিছু করি তখন আর আবার কবিতা নেই।-------------------------------------------------------------------------------- দেখা যায় মাঝে মাঝে এত কবিতা লেখি যে কোনখানে পোস্ট করার সময় পাই না। আবার মাঝে মাঝে সেচ্ছায় নির্বাসন নিয়ে নেই শুধু লেখালেখির জন্য। শহর থেকে দূরে কোথাও চলে যাই। সুতরাং নেট এ বসা সম্ভব হয় না। ------------------------------------------------------------------------------------------------------------------ আমার সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না বলেও অভিযোগ আছে। ---------------------------------------------------- আমি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ি। এবার ফোর্থ ইয়ার এ উঠেছি। মানে আমাকে আরও এক বছর পড়তে হবে। গত পনের বছর ধরে স্কুলে পড়তে পড়তে আমি হতাশায় জর্জরিত। আরও পড়তে হবে। কত বছর তা জানি না।--------------------------------------------------------- ---------------------------------------------------------------------------------------------------------------- মজার বিষয় হল প্রায় দশ বছর ধরে আমি লেখালেখির চেষ্টা করছি। কবি হব বলে লেখে যাচ্ছি কবিতা কিন্তু কোন প্রিন্ট মিডিয়ায় আমার লেখা প্রকাশ করতে পারি নি। আসলে পাঠাইতেই পারি নি। ---------------------- ----------------------------------------------------------------------------------------------------------------- আসলে আমার ছন্নছাড়া জীবন ভাল লাগে। রীতিনীতির ঊর্ধ্বের জীবন ভাল লাগে। এ জন্য মজা করে প্রায়ই আমি বলে।-------------------------------------------------------------------------------------------------------------- ** মহামানবেরা কোন নিয়ম মানে না, তাঁরা নিয়ম তৈরি করে। ------------------------------------------------- আসলে মজা করে বলা। আমি মহা মানব হতে চাই না। আমি শুধু হারিয়ে যেতে চাই। যেই মানুষগুলোকে আজ কেউ মনে রাখে না তাদের মত।---------------------------------------------------------------------------------- -------------------------------------------------------------------------------------------------------------------- ভাল থাকবেন। শুভকামনা সবার জন্য।
সর্বমোট পোস্ট: ১০৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৫৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১১ ১২:১৬:২৩ মিনিটে
banner

১১ টি মন্তব্য

  1. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাই অনেক বড় কবিতা। তবে ভাল হয়েছে।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    বড় কবিতা। ভাল হয়েছে।

  3. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক বড় কবিতা, তার উপর মোটা চিকন নকশা

  4. সপ্নিল রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    পুলক ভাই
    আপনার কাছ থেকে আরও ভাল কিছু আশা করি । কারন আপনি অনেক দিন থেকে লেখেন । কবিতাটি একটি পারিবারিক কাহিনী যার সম্পূর্ণটা আপনি বলার চেষ্টা করেছেন ফলে পাঠকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেননি ।

    • আহমেদ ফয়েজ মন্তব্যে বলেছেন:

      আমি একমত পোষণ করি। আমরা এটাকে বলি ঝুলে যাওয়া। কবিতা বা কোন লেখা যদি মাঝপথে ঝুলে যায় তাহলে তা পাঠককে বিব্রত করে।

  5. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    কবিতাটির ডিজাইনটি খুব ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ।

  6. আহমেদ ফয়েজ মন্তব্যে বলেছেন:

    ডিজাইনটি ভালো হয়েছে।

  7. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর সাজানো আঙ্গিকে অপ্রেমের কবিতা
    অনেক ভাল লাগা……………

  8. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লেগেছে খুব । ধন্যবাদ আপনাকে ।

  9. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    সব কষ্ট সুখ ……………অসাধারণ
    মুগ্ধতা জানাচ্ছি…………….

  10. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়েছেন কবিতা

    সুখ এবং দু:খগুলো কবিতায় উপছে পড়েছে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top