Today 02 Dec 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

একটি শব্দের জন্য এখনো

লিখেছেন: দ্বীপ সরকার | তারিখ: ০৩/১২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1357বার পড়া হয়েছে।

একটি শব্দের জন্য এখনো
আমার কবিতা প্রাণহীন
একটি শব্দের জন্য এখনো
আমি কবিহীন।
স্বাধিনতা!
তেতাল্লিশ বৎসর পরেও
আমার অযাচিত প্রশ্ন সবুজ তৃনগুল্ম
শাপলা শালুকের গায়ে খিঁচিয়ে তোলে।
সান্ধ্য পথে
মুসাফিরের থলের স্বাধিনতা নেই,
নারীর অসহায়ত্বের স্বাধিনতা নেই
হাটে বাজারে মার্কেটে,
হিজরাদের সমাজে মাথা উঁচু করে
দাঁড়াবার স্বাধিনতা নেই,
সপিং মলে থেরাপি নেয়া সেই ল্যাংড়া
ভিখিরিটার চিৎকারের স্বাধিনতা নেই,
পুব পাড়ার সেই প্রতিবন্ধি
কিশোরি আছি পাগলীর স্বপ্ন দেখার স্বাধিনতা নেই
বিনোদন পার্কে খুনসুটির স্বাধিনতা নেই প্রেমাস্পদের
স্বাধিনতা নেই মুক্ত চিন্তার
স্বাধিনতা নেই দুর্বার সাহসের
স্বাধিনতা নেই অবাধ গনতন্ত্রের
স্বাধিনতা নেই একাত্তরের ইতিহাসের
স্বাধিনতা দেখেন কোথায়?
আমি তো স্বাধিনতা শব্দটা
খুঁজছি অভিধান ছেঁকে ছেঁকে বহুকাল
ও আমার প্রাণের কবিতা! 
আজও পাইনি স্বাধিনতার পরম সত্যের দেখা
তোকে বুনাবো কোন শব্দ ভান্ডারের আঁচরে।

একটি স্বাধিনতার কবিতা বানাবো বলে
সন্ধ্যায় আধো জঙ্গলের শেয়াল
বিনয়ী চিৎকারে বলে গেলো
” আমাদেরও স্বাধিনতা নেই বেরোবার,
যান্ত্রিকতায় আবর্তে সংকোচিত বনাঞ্চল”
বনাঞ্চল কেটে সাবাড় করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত
পশু পাখিদের স্বাধিনতা নেই লুকিয়ে বসবাসের
বৃক্ষরাজিরও স্বাধিনতা নেই
আয়ু অব্দি মাথা উঁচু করে টিকে থেকে
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার।
হায় আমার স্বাধিনতা!
একটি শব্দের জন্য এখনো
আমার কবিতা প্রাণহীন
একটি শব্দের জন্য
আমি কবিহীন।
——————————–

১,৩৪৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
জন্মঃ প্রকৃত নাম সরকার শহিদুর রহমান। ছদ্ম নাম দ্বীপ সরকার। জন্ম ১৯৮১ইং, ১লা মার্চ। মুসলিম পরিবারে। বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানাধীন গয়নাকুড়ি গ্রামে। পিতা,মৃত হাবিবুর রহমান। দশ/বারো বৎসরে পিতাকে হারাই।  মাতা মোছাঃ আছিয়া বেওয়া। চার ভাই। পাঁচ বোন। ভাইদের মধ্যে ৩য়। শিক্ষাঃ গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শিক্ষায় হাতে খড়ি। তারপর ওখান থেকে একই এলাকার দাড়িগাছা দারুসসালাম দাখিল মাদ্রাসায় ৩য় শ্রেণীতে ভর্তি করে দেয়া হয় । এখানেই শিক্ষার মুল ধারা শুরু।  ৪র্থ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বরাবরই ক্লাস ফার্স্ট এবং গোটা স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নাম্বার অর্জন করি। দিন রাত সমান করে পড়ার টান ছিলো। পড়া থেকে উঠিনি কোন সময়।স্কুল থেকে এসেই বই হাতে।শতবার ডেকে ডেকে ভাত খাওয়ানো। সেজন্য অনেকের বকা খেয়েছি। মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত একটানা রাত জেগে পড়েছি। এরকম কত রাত কাটিয়েছি বইয়ের ওপরে  তার গননা করা মুশকিল। তকে খেলাধুলার প্রতি কোন আকর্ষন ছিলোনা এখনো নেই। স্কুলের সকল ছাত্র ছাত্রী,শিক্ষক,এলাকার সকলেই মেধাবি ছাত্র ভাবতো, এবং সম্মান করতো। একবার ৯৯% ভোট পেয়ে এজিএস নির্বাচিত  হয়েছিলাম। এদিকে গান গজল হামদ নাত গাইতাম, কবিতা লিখতাম বলে সকলে শিল্পী এবং কবি বলে ডাকতো। গান গেয়ে মন জয় করতাম সকলের । বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাকে দিয়ে গান,হামদ নাত গেয়ে নিতো স্যারেরা। ৬ষ্ট/ ৭ম শ্রেণী থেকে কবিতা, গান, গজল রচনা করে অনুষ্ঠানে বলতাম। এখান থেকেই ১৯৯৫ ইং সালে ১ম বিভাগে দাখিল ( মেট্রিক) পাশ করি। আশানুরুপ রেজাল্ট হয়নি বলে স্কুলের শিক্ষকগন মন ভিজাতে পারেনি। আরো বড় স্বপ্ন ছিলো তাদের। প্রতি বৎসরে আমাকে চারটি করে পুরস্কার দিতো। ক্লাসের প্রথম,সমগ্র স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর, গান গাওয়া, রেগুলার স্কুলের জন্য। এর পর নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রী কলেজ থেকে ১৯৮৭ইং সালে জেনারেল সেকশনে ৩য় বিভাগে এইচ এস সি পাশ করি। কিন্ত কাঙ্খিত ফলাফল না হওয়ায় চলমান স্বপ্নের ছন্দপতন ঘটলো। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে গেলো। তারপর সংসারে কিছুটা অর্থের দ্বৈন্যতা দেখা দিলো সংসারের ঝামেলা মাথা নিয়ে গাইবান্ধা জেলার কামদিয়া নুরুল হক ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হই এবং ১৯৯৯ইং সালে এখান থেকে ২য় বিভাগে গ্রাজুয়েশন সম্পুন্ন করি। এর পর আর পড়াশোনার দিকে যেতে পারিনি। অদম্য সাহস এবং মেধা থাকার পরেও অর্থ দ্বৈন্যতা আর সামনের দিকে এগুতে দেয়নি। তার পর ২০০১ ইং সালে একই গ্রামের তহমিনা খাতুনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই । বর্তমানে এক মেয়ে এক ছেলে। মেয়ে,শান্তা মারিয়া শানু এবং ছেলে, মেশকাত। সাহিত্যে আগমনঃ ছোটবেলা থেকে একটু একটু করে লিখলেও তা বড়সড়ো করে রুপ নেয় বগুড়া লেখক চক্রের সাথে যোগ দিয়ে। মুলত এখানেই অনেকের সঙ্গে পরিচয় ঘটে এবং স্থানীয় পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লেখা বের হতে থাকে। এসময় " কুয়াশা" নামে এক লিটিল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছিলাম। কবিতার ফোল্ডারও বের করেছিলাম দুটি। এর পর ধীরে ধীরে ব্লগ ফেসবুক,অনলাইন অনেক সাইটে পদচারনা। অভিজ্ঞতাঃ গ্রাজুয়েশন শেষ করে ২০০৫ ইং সালে একটি বেসরকারী সংস্থায় মনিটরিং এবং অডিট অফিসার পদে চাকুরিতে যোগদান করি। এখানে প্রায় আট বৎসর চাকুরি করার পর শারিরিক অসুস্থতার কারনে আর চাকুরিতে যেতে পারিনি। এই দীর্ঘ আট বৎসর চাকুরির চাপে সাহিত্য থেকে দুরে ছিলাম। কিন্ত সয়নে স্বপনে জাগরনে তিলে তিলে কবিতাকে ভালবেসেছি এবং মাথা থেকে তাড়িয়ে দিতে পারিনি একেবারে। প্রকট ইচ্ছা শক্তি আমাকে দীর্ঘ আট বৎসর পর হলেও কবিতার কাছে নিয়ে এসেছে। চাকুরির সুবাদে দেশের প্রায় ৬০টি জেলাসহ অনেক থানা,গ্রাম,ঐতিহাসিক স্থান,পর্যটন এলাকা ভ্রমন করার সুযোগ হয়েছে।
সর্বমোট পোস্ট: ১৪৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৭১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৯-৩০ ১৫:১৩:৩৮ মিনিটে
Visit দ্বীপ সরকার Website.
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    একটি স্বাধিনতার কবিতা বানাবো বলে
    সন্ধ্যায় আধো জঙ্গলের শেয়াল
    বিনয়ী চিৎকারে বলে গেলো
    ” আমাদেরও স্বাধিনতা নেই বেরোবার,

    হায়রে কপাল শিয়ালেরও স্বাধিনতা নেই!
    হা–হা–হা–
    তবে যাই হোক কবিতা ভালো হয়েছে।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    স্বাধীনতার কবিতা সুন্দর হয়েছ

    অনেক ভাল লাগা রইল কবিতা । শুভকামনা

  3. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব সুন্দর
    ভাল লাগল

  4. দ্বীপ সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    সকলকেই শুঁভেচ্ছা

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top