Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

এন্ড পয়েন্ট (৪র্থ পর্ব)

লিখেছেন: কল্পদেহী সুমন | তারিখ: ০৩/০৪/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1476বার পড়া হয়েছে।

-তোমার তো একজন আছে তাহলে আবার আমার কি প্রয়োজন বলবে?
-অনেক প্রয়োজন
-কিসের জন্য? সময় কাটানোর জন্য?
-হ্যাঁ, এই বুঝলে তুমি
-আমি তো আর কোন কারণ দেখছিনা
-কেন?
-তুমি বলছো তোমার একজন আছে তাহলে আমি তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে কেন থাকবো তোমাদের মাঝে?
-তুমি আমাকে একটুও বুঝোনা
-কি করে বুঝবো? তোমার সবকিছুই আমার কাছে অস্পষ্ট।
-আমি গেলাম
-যাও
-বাড়ি চলে যাচ্ছি, আর হয়তো ঢাকা আসা হবেনা আমার
-কেন?
-অকারণে আসতে দিবেনা আমাকে
-তাহলে
-তাহলে আর কি? তোমার সাথে মোবাইলে কথা হবে।
-হুমম……বাড়ি যেয়ে ফোন দিও।
-হুমম

পুতুল কিছু একটা লুকিয়ে যাচ্ছে বারবার। অর্ণব বুঝেও যেন কিছু বুঝতেছে না।

হয়তো কিছু কিছু মানুষের জীবন কখনও কখনও এমন অবস্থায় চলে আসে যেখান থেকে স্পষ্ট করে অনেক কথাই বলা সম্ভব হয়না। কখনও হারানোর ভয় করে, কখনও হয়তো বা না পাওয়ার আশঙ্কায় থেকে আর বলাই হয়না। এ কি কেবলই ভালোবাসার কথা নাকি অন্য কোন কথাও হতে পারে।

অনেকদিন হলো মেঘার সাথে অর্ণবের যোগাযোগ হচ্ছেনা। আজ হঠাৎ মেঘার ফোন আসলো। কয়েকবার কল বাজার পর অর্ণব মেঘার ফোন ধরলো।

-হ্যালো
-ফোন ধরিসনি কেন এতক্ষণ?
-কেন ধরবো?
-ফোন দিছি তাই
-না
-না কি?
-ফোন ধরবোনা তোর কোন?
-কেন রে? একটা দরকার ছিলো?
-দেখ, আমি তোর কোন দরকারে নেই এখন। আমার ঠেকা পড়েনি তোর জন্য।
-মানে
-মানে আমি তোর আগেও নাই পাছেও নাই
-এই তোর বন্ধুত্ব!
-জী এই। আমার বন্ধুত্বের সুযোগ থেকে তুই অনেক কিছু আদায় করে নিলি। আমার কোন দরকারে তুই ছিলি? শুধু দরকারের সময় আমার কথা মনে পড়ে আর ঘুরতে ইচ্ছে হলে, মজা করার সময় আমার দরকার পড়েনা। তাইতো?
-দেখ আমার দরকার পড়ছে তোকে খুবই
-সরি

অর্ণব ফোনের লাইন কেটে দিলো।

এরপর থেকে হয়তো অর্ণবের সাথে আর মেঘার কথা হবেনা। জীবনের কিছু অসংজ্ঞায়িত বিষয়.থাকে, এ বিষয়গুলো জীবনকে কিছুই দেয়না। শুধু কিছু দাগ এঁকে যায় জীবন নামক ডায়রির পাতায়।

অর্ণব রাগ করেই মাঝেমধ্যে এমন সব কাজ করে, স্বাভাবিক অবস্থায় যা কখনও সম্ভব নয়। আর মেঘার সাথে তাই করে বসলো। এক নিমিষেই বন্ধুত্ব শেষ করে দিলো। অর্ণব একবার যে কাজ করে ফেলে তা ভুল হোক বা শুদ্ধ হোক সে আর তা সংশোধন করতে চায়না কখনও।

হয়তো মেঘার সাথে বন্ধুত্ব শেষ করে দেওয়া তখন খুব প্রয়োজন ছিলো, নয়তো জীবনের নতুন জোয়ারে সে কি করে গা ভাসাবে।

আজ বহুদিন পর অর্ণবের সাথে হৃদিতার দেখা। একসময় হৃদিতার সাথে অর্ণবের অনেক কথা হতো। ইদানিং আর তেমন কথা হয়না।

-কি খবর ভাই আপনার?
-হুমম, ভালো। তোমার?
-এইতো
-তো কি অবস্থা?
-কিসের?
-তোমার?
-বললামই তো।
-তাই
-তো তোমার?
-আমার আর কি হবে?
-মেঘার খবর কি?
-ওর নাম আর নিবেনা। ওর সাথে সব সম্পর্ক আমার শেষ
-খুবই ভালো একটা কাজ করছো
-হুমম
-আরও আগে করার দরকার ছিলো।
-ঠিক বলছো
-হুম
-আগে বললেনা কেন তাহলে?
– এমনই, দেখলাম কি করো?
-তো কি দেখলে?
-দেখলাম ঠিক কাজটাই করছো তবে অনেকদিন পর
-হ্যাঁ

হয়তো মানুষ একসময় ঠিক পথটির সন্ধান পায়। কিন্তু যে সময় হারিয়ে যায় জীবন থেকে তা তো আর কখনও ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়না।

১,৪৫৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
খন্দকার মো: আকতার উজ জামান সুমন পিতা: মো: আবু সাদেক খন্দকার মাতা: ঝরনা বেগম বর্তমান ঠিকনা: মিরপুর, ঢাকা স্থায়ী ঠকানা: কুমিল্লা জন্ম তারিখ: ৩ ফেব্রুয়ারী, ১৯৯৪ ধর্ম: ইসলাম জাতীয়তা: বংলাদেশী বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত শিক্ষা: বাংলাদেশ নৌবাহিনা কলেজ, ঢাকা থেকে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি উভয়টিতে জি.পি.এ ৫ পেয়ে উত্তীর্ন। বর্তমানে মানারত ইন্টার্ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী ডিপার্টমেন্টে অধ্যয়নরত। আমি যে রকম : কথা বেশি একটা বলিনা চুপচাপ থাকতে পছন্দ করি। সব সময় কল্পনা করি। কল্পনায় আমি সবসময় নিজের সাথে কথা বলি। আর সব সময় অন্যমনষ্ক থাকি। আমার আশেপাশে কে কি করছে না করছে তার দিকে আমার তেমন খেয়াল থাকে না। অনেক সময় কাউকে খুজতে যেয়ে নিজেই হারিয়ে যাই। আর একটা কথা হলো আমার পথ মনে থাকে না তাই আমি একা হাটতে গেলে প্রায়শই পথ ভুল করি। পথে হাটাহাটি করার সময় কত জনের সাথে ধাক্কা খেয়েছি এ পর্যন্ত, তার হিসাব নেই। আমার সমস্ত জীবনটাকে কল্পনা মনে হয় কারণ সব কিছুই যাই ঘটে আমার সাথে তাই আমার কাছে কল্পনা মনে হয়। যদি কোন অঘটন ঘটে তাহলে ভাবি কল্পনা ভেঙ্গে গেলাই সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার এই অসম্ভব রকম কল্পনাসক্ত দিনকে দিন বেড়েই চলছে। নিজেকেই কখনও হারিয়ে ফেলি আমি। জানিনা জীবনের অনেক কিছুই হয়তো তবে যতটুকু আমি অর্জন করেছি তার সবটুকুই সত্য। মিথ্যা কিছু নিয়ে আমার বড়াই নেই। এক অদ্ভুত বিষয় সর্বদাই আমাকে ভাবিয়ে তুলে তাহল কেন যেন অন্য আট দশটা মানুষের মতো সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারিনা। কিছু বিষয় আমাকে বারবার স্পর্শ করে যাবেই। আমি যা বলি তার সবটাই গভীর অনুভূতি থেকে বলি তাই হয়তো আমার কথার জবাব অর্থপূর্ণ না হলে এক ধরনের অপমানবোধ কাজ করে। আমি ভাবনার অতলে প্রবেশ করে জটিল বিন্যাসে অনেক ছক আঁকি যার ফলে স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ হতে আমার বিষয়গুলো ভাবলে মানানসই হবে না। আমাকে ঠিক বুঝে উঠতে পারে এরকম খুব কম মানুষই আছে। আমিও নিজেকে কখনও কখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা, তাই হয়তো আমার মন খারাপের কারণ, রাগ করার কারণ অনেক সময় আমার অজানাই থাকে। আমি খুব বেশি একটা কথা বলা পছন্দ করিনা যদিও আমার ফেসবুকে পোস্ট দেখলে তা অনেকের বিশ্বাস হবেনা। বাস্তবে আমি বন্ধুদের আড্ডা, পরিবারের আলোচনায় কথা তেমন বলিনা বললেই চলে। আমি সব সময় বিভিন্ন ধরনের ভাবনায় নিমগ্ন থাকতে পছন্দ করি তাই হয়তো বাস্তব জীবনের সাথে আমার সম্পর্কটাও নড়বড়ে। আমি সহজেই মানুষকে অনুভব করে ফেলি যার ফলে খুব সহজেই কাউকে মনের গভীরতায় ঠাই দিয়ে বসি। আর এটাই কখনও কখনও আমার দুঃখের কারণ হয়ে বসে। আমি জানিনা আমার বর্তমান, জানিনা আমার ভবিষ্যৎ তবে এটুকুই বলতে পারি এক সময় সুখ আর দুঃখ দুটোই একই মনে হবে আমার কারণ আমার অনুভূতির জগতটি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। আর আমার অনুভূতি নিস্তেজ হয়ে যাওয়া মানে আমার কবিতা, গল্প বিলুপ্ত হয়ে যাবে আমার সৃজনশীল কর্মের তালিকা হতে। তবে আমি থাকব একজন অবাধ্য বন্ধু হয়ে সবার মাঝেই। প্রকাশিত বইঃ (১)সমন্বয়(কাব্য গ্রন্থ-সম্মিলিত সংকলন)
সর্বমোট পোস্ট: ২৯২ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৯৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৮-২৯ ১৬:৩০:৩০ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    ধারাবাহিক ভালই চলছে, চালিয়ে যান। সাথে আছি।

  2. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    বুলবুল ভাইয়ের সাথে আমিও আছি
    আমার বেশ ভাল লেগেছে
    চলুক ………………..

  3. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    ধারাবাহিকতা রেখে একের পর এক লিখে যাচ্ছেন । পড়তেও ভালোই লাগছে ।
    চলতে থাকুক । শুভ কামনা ।

  4. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ ভালই তো

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top