Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

এর শেষ অধ্যায় কোথায়?

লিখেছেন: মুহাম্মদ দিদারুল আলম | তারিখ: ০৫/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1188বার পড়া হয়েছে।

সেদিনও সে বের হয়েছিলো জীবিকার উদ্দেশ্যে। অর্ডারটা দিতে পারলে কিছু টাকা আসবে এই আশা বুকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলো। সকালের খাবারটাও খাওয়া হয়নি তার,ফেরা হয়নি আর বাসায়। যাওয়া হয়নি মায়ের শান্ত কোলে। শরীয়তপুরের ভজেশ্বর থেকে ২০০৬ সালে ঢাকার শাঁখারীবাজার। ৯ ডিসেম্বর ২০১২ মৃত্যুকে চোখের দেখা। মৃত্যুটা তার হয়তো এভাবে লেখাছিলো। অপ্রত্যাশিত মৃত্যু।
বলছিলাম একজন বিশ্বজিতের কথা। কি করুণ মৃত্যু। অনেক গুলো চোখের সামনে নিজেকে বাঁচানোর আকুল আবেদন।‘আমি বিশ্বজিৎ,আমি হিন্দু,আমি কোন দল করিনা’। সন্ত্রসীদের একজনের পা ধরে প্রাণ ভিক্ষা চাইলেও ওই আবেদন ঠাঁই পায়নি নরপশুদের কাছে। তার মৃত্যুর নীরব দর্শক ছিলো অনেক। হয়তো তাদের মনেও বিশ্বজিতের পরিণতিটা ভর করেছিলো। কিন্তু দেশের আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব যাদের হাতে তারাও সেদিন ছিলো হাত কয়েক দূরে, তারাও দর্শক ছিলো সে ঘটনার। ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় রক্তাক্ত অবস্থায় বিশ্বজিৎ দাসের নিস্তেজ দেহখানি রাস্তায় পড়ে থাকলেও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। মনে করেনি অন্য অনেকেই, শুধু বিবেকের তাগিদ অনুভব করেছিলেন একজন রিকসা চালক। আজ পুলিশ বলছে মামলায় সব আসামী অজ্ঞাত! মিডিয়ায় যেখানে সনাক্ত করে দিয়েছে ওরা কারা, দেশের হাজার কোটি মানুষ পত্রিকার পাতায়, টেলিভিশনের পর্দায় যাদের চেহারা দেখলো-চিনলো সেখানে পুলিশ বলছে আসামীরা অজ্ঞাত। ব্যাপারটা সত্যিই দুঃখজনক, সত্যিই আর্শ্চযজনক! এটা কি মেনে নেয়ার মত? হয়তো আমাদের বাংলাদেশের জন্য এটা এখন মেনে নেয়ার বিষয় হয়ে গেছে। মেনে না নিলেও আমাকে-আপনাকে জোর করা হবে মেনে নিতে।
ছাত্রদলকর্মী সন্দেহে বিশ্বজিৎ ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের আক্রমণের শিকার হন পুলিশের চোখের সামনে। ওখানে কি সব ছাত্রলীগ নেতারা ছিলো বিবেকহীন-মনুষ্যত্বহীন। তা না হলে, কিভাবে লাঠিপেটা-রডপেটার মাধ্যমে বিশ্বজিতের মৃত্যু নিশ্চিত করে। বিশ্বজিৎ যদিও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালকারীদেরও একজন হন, তাকে কি এইভাবে হত্যা করার অধিকার ছাত্রলীগের আছে কি? বিশ্বজিতের জায়গায় একাত্তরের একজন যুদ্ধাপরাধী হলেও তো একজন মানুষকে বিনাবিচারে প্রকাশ্য দিবালোকে এইভাবে হত্যার অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি। দেয় কি? তাহলে কি তফাৎ থাকলো একাত্তরের নরপিশাচ আলবদর-আলশামসের সাথে আজকের ছাত্রলীগের? এটাকে আমাদের মানবতা কী বলবে? কী বলবে আমাদের মানবাধিকার?
আমাদের ভুলে গেলে কি চলবে? যে আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ-বিএনপি-ছাত্রদল- জামায়াত-শিবির নয়,পথচারী ওই বিশ্বজিতরাই বাংলাদেশের মানচিত্র। বিশ্বজিতরা না বাঁচলে বাংলাদেশ কি করে বাঁচবে?

দুই.
এবার চোখ ফেরাই শহর থেকে মফস্বলে-নানা ঘটনার মাঝে একটি ঘটনা। সংবাদপত্র আর সাংবাদিক একটা ছাড়া আরেকটার অস্তিত্ব কল্পনায় আসে না। সংবাদপত্র হলো জাতির দর্পণ আর সাংবাদিক হলো অনেকগুলো জাতির একটাই কন্ঠস্বর। সংবাদপত্র বন্ধ হলে জাতি তার নিজের চেহারা দেখেনা। সাংবাদিকের কলম ভাঙ্গলে, সাংবাদিককে পঙ্গু করলে জাতির কন্ঠ রোধ হয়ে যায়। কন্ঠে ভাষা না থাকলে তাকেতো বোবাই বলা হয়।
মফস্বল সাংবাদিকতার কষ্ট একজন মফস্বল সাংবাদিকেই বুঝেন। অনেক কষ্ট করে অনেক ঝুঁকি ঝামেলা নিয়েই একজন মফস্বল সাংবাদিকের জীবন,একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কষ্টের বিনিময় সে কি পায় সে হিসাবের খাতাটার ফলাফল না হয় নাইবা শুনালাম।
এম আনোয়ার হোসেন। একজন মফস্বল সাংবাদিক, বয়সের তরুণ। আমার খুব প্রিয় সাংবাদিকদের একজন। মিরসরাই উপজেলার প্রতিনিধিত্ব করেণ ‘দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন’ পত্রিকার। যিনি সংবাদ তৈরী করেণ, সংবাদ তৈরীতে তার কষ্ট আমি দেখেছি, দেখেছি তার জীবন-যাপন। তার লেখার আর ছবি তোলার হাত খুব সুনিপুণ।
৯ ডিসেম্বর ২০১২ সকালে ঘর থেকে বের হয়েছেন পেশাগত কারণে। ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচীতে সচিত্র প্রতিবেদন তৈরী জন্য মিরসরাই উপজেলা সদরে ছাত্রলীগের মিছিলের ছবি তুলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। একটু পরে মিছিলকারীরা যখন বিএনপি কার্যালয় ভাংচুর চালাচ্ছে তাদের থেকে কিছু দূরে ছবি তোলায় ব্যস্ত আনোয়ার হোসেন। ছাত্রলীগের ক্যাডারদের চোখ এড়িয়ে যায়নি আনোয়ারের দিক থেকে। ক্যাডাররা চিৎকার করে বলছে ‘যারা ছবি তুলবে তাদের মাথা কেটে ফেলবে’। আনোয়ার হোসেন ওইসবে কর্ণপাত না করে ছবি তুলছিলো। কিন্তু এম আনোয়ার হোসেন ওই সন্ত্রাসীদের রামদার আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও রক্ষা করতে পারেনি নিজেকে রড আর লাঠির আঘাত থেকে। নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে, পরিচয়পত্র দেখিয়েও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাত থেকে সেদিন রক্ষা পেলনা একজন মফস্বল সাংবাদিক এম আনোয়ার হোসেন। তার ডান হাতের ব্যাথা এখনো তাকে কষ্ট দেয়। জীবনে রক্ষা পেলেন তিনি ওপরওলা তার সহায় আছেন বলেই। কিন্তু যদি সেই রামদার আঘাতটা  লাগতো তাহলে আরো অনেক বড় কিছু হয়ে যেত।

বাংলাদেশের সংবাদপত্র গুলোর প্রতিনিধিত্ব করা মিরসরাই উপজেলার মধ্যে মাত্র কয়েকজন সাংবাদিকের একজন এম আনোয়ার হোসেন। যে মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের দুঃখ-সুখ শেয়ার করিয়ে দেন দেশ বিদেশে। তার অপরাধ সেদিন সে ওইসব সসস্ত্র ক্যাডারদের ছবি তুলতেছিলো, বাংলার সোনার ছেলেদের কুকৃর্তিগুলো তুলতেছিলো।
নিজের সাহসিকতার পরিচয় এম আনোয়ার হোসেন আরেকবার দিয়েছেন। আমার জানা মতে মিরসরাইয়ে এটা প্রথম কোন দলের ক্যাডার বাহিনীর হাতে কোন সাংবাদিক লাঞ্চিত হওয়া। যেটা সত্যিই দুঃখজনক এবং নিন্দার বিষয়। আশা করবো আনোয়ার হোসেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার কলম ধরবে সত্যের পক্ষে,অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আশা করবো এম আনোয়ার হোসেন বুঝিয়ে দেবেন সন্ত্রাসীদের, রামদার চেয়ে একজন সাংবাদিকের কলমের ধার কতটা। আর ওইসব সন্ত্রাসীদেরকে তাদের দল বা তারা যাদের দ্বারা লালিত তারাই তাদের বিচার করবেন বলে আমার মত সাধারণ মানুষের আশা।

তিন.
একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মানে একজন মেধাবী মুখ। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি হতে হলে মেধাবী হতে হয়। একথা সম্পূর্ণ না হলেও অনেকটা সত্যিই কথা। মেধাবী হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যে ছাত্র বখে যায় সন্ত্রাসী পথ বেচে নেয় এরকম ছাত্রের সংখ্যার আমাদের দেশে অনেক রয়েছে। যারা এধরণে পথ বেচে নেয়, নির্দয় ভাবে একটা মানুষকে হত্যা করে, কোন নারীকে নির্যাতন করে, ছিনতাই করে,মাদককে বন্ধু হিসাবে নেয় তখন তারা আর মানুষ হিসাবে থাকে না। বিশ্বজিতের খুনিরা তাদের দলের। ধিক্কার জানাই তাদের শিক্ষা,তাদের জন্মকে। আপসোস ওইসব কলংকিত পিতা-মাতার জন্য।
আমরা যারা সাধারণ মানুষ সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করতে চাই তারা এমন সমাজ চাইনা। আমরা চাইনা আর কোন বিশ্বজিৎ যেন অকালে প্রাণ দিক, চাইনা এম আনোয়ার হোসেনের মত সৎ ও মেধাবী সাংবাদিকরা সন্ত্রাসীদের হাতে বার বার লাঞ্চিত হোক। সুন্দর বাংলাদেশ চাই,সুন্দর আগামী চাই।

১,২৭৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৮ ১১:৫৮:৪৮ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. আলামগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি তো ভাই ধরনের লেখা এই ব্লগে দিই কারণ রাজনৈতিক হয়ে যাওয়ার ভয়ে। তবে আপনার লেখাটা ভাল হয়েছে।

  2. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো
    চালিয়ে যান

  3. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    লেখায় জীবন ও বাস্তবতা দুটোই চমত্কার ভাবে ফুঁটে ওঠেছে

  4. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    জীবনের এসব করুন কাহিনী আমাদের ব্যথিত করে।

  5. মুহাম্মদ দিদারুল আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সবাইকে…

  6. খাদিজাতুল কোবরা লুবনা মন্তব্যে বলেছেন:

    লেখকের মত আমারো প্রশ্ন এর শেষ অধ্যায় কোথায়?

  7. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    জীবনের গল্প চমৎকার হয়েছে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top