Today 14 Aug 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কার জন্য বাঁচা

লিখেছেন: আজিম | তারিখ: ১২/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1355বার পড়া হয়েছে।

নাইটজার্নি আমার ভাল লাগে। ফাঁকা রাস্তায় বাতাস কেটে শোঁ শোঁ শব্দ করে বাসটা যখন ক্রমেই গন্তব্যে এগিয়ে চলে, জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থেকে বাইরের আলো-আঁধারীর রুপ দেখতে থাকা অনেক মধুর লাগে আমার। চাঁদ থাকলে তো কথাই নেই, আর না থাকলেও আলো-আঁধারীর মাঝে গাছগাছালি, মাঠ-প্রন্তর ছাড়িয়ে চলতে থাকা বাসের মধ্যে বসে নানা স্বপ্নের কথা মনে হয়।

ঢাকা হতে যানজট কেটে বেরিয়ে গিয়ে বাস যখন জোরে চলতে শুরু করে, স্বপ্নগুলো বিরাট হয়ে তখন সামনে চলে আসে। জানালা দিয়ে গাছগাছালির ফাঁক দিয়ে খোলা প্রান্তরের দিকে তাকিয়ে প্রথ্রমই যে কথাটা মনে হয়, তা হলো, কে আমি আর কেন আমি? ‘কে আমি’-র উত্তর আমার জানা, শুধু ’কেন আমি’, এটা-ই বেশী মূল্যবান আমার কাছে। পৃথিবীর বাংলাদেশ নামক একটি দেশের এক ব্যক্তি আমি, কেন আমি বেঁচে আছি! সেটা কী কারো প্রয়োজনে, না-কি আমারই প্রয়োজনে আমি বেঁচে আছি! দ্বিতীয়টি যদি হয়, অর্থাৎ আমারই প্রয়োজনে আমি বেঁচে আছি, সেটা যদি হয়, তবে আমি যদি মারা যাই, তাহলে তো কিছুই হয়না। তাতে কারো কোন লাভ অথবা ক্ষতি, কিছুই তো হয়না। না-কি কিছু হয়! অর্থাৎ আমি মারা গেলে প্রাথমিকভাবে কেউ হয়তো সাফার করবে অথবা করতে পারে, কিন্তু এটা সাময়িক। আস্তে আস্তে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, হয়ে যেতে হয়। কারন কোনকিছুই শুন্য হয়ে থাকেনা। একজনের যায়গা দখল হয়ে যায় আরেকজন কর্তৃক। মানুষ বিশেষের জন্য কিছুই আঁটকে থাকেনা আসলে। এটাই জগতের নিয়ম, এই নিয়মেই চলে আসছে জগৎ হাজার-লক্ষ-কোটি বছর হতে। তাই আমি আমার জন্যই শুধু বাঁচতে চাইনা। এ-বাঁচায় আসলে কোন মনোতুষ্টি হয়না । শুধু শুধু নেয়ে-খেয়ে বেঁচে থাকার কোন মূল্য নেই আমার কাছে।

অনেকদিন ’চলন্তিকা’-য় কোন পোষ্ট দেয়া হয়না। পবিত্র ঈদ এবং শারিরীক অসুস্থতার কারনেই প্রধানত: এটা হয়েছে। আজ “চলন্তিকা”-য় ৪টি ষ্টিকী করা পোষ্ট দেখলাম, পোষ্টগুলি দেখে খুবই ভাল লাগল।

“আমিরাতে দুই হাজার বছর” লিখাটা আমার মনে হলো হয়তো লেখক স্বয়ং ভূক্তোভূগী অথবা এরকম ভুক্তোভূগী তাঁর কাছের কোন আত্মীয় হতে পারেন অথবা অতি কাছের কেউ, যে দুরাবস্থা তিনি অতি কাছ থেকে দেখেছেন। হোক বা না হোক, ঘটনাগুলো অবশ্যই অতি সত্য। বিশেষত: বৈদেশিক নিয়োগকর্তাগন শুনেছি অতি নির্দয়। আসলেই লেখকের সাথে অতি সহমত প্রকাশ করি, ওরা মানুষের উপর এতো নির্দয় কেন! মানবতা ওখানে কাঁদে কেন? লেখক বলেছেন এইসব ভিনদেশীদেরকে ওরা মানুষ মনে করেনা আর তাই ছত্রিশটা বছর ওখানে প্রচন্ড শ্রম দিয়েও তিনি মোটেই সুখী তো ননই, বরং আরেকস্থানে তিনি বলেছেন, এরকম জীবনের চেয়ে ’বনবাস’-ই অনেক শ্রেয়। দেশে কোন কাজ নেই, আবার  দেশের সব সম্পদ বেচে দেশান্তরী হয়ে যাওয়া মানুষের এর চেয়ে আর কোন দু:খ-বেদনা-হতাশা থাকতে পারেনা। আর তাই বুকের উপর কঠোর কঠিন পাথরের চাপ নিয়ে তাঁরা প্রবাসে থাকতে বাধ্য হয়ে প্রড়ন।

১৯৪৭-এ ভাগ হয়ে পড়া পাক-ভারতের একটা অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের বতর্মান এই দেশ বাংলাদেশ, প্রতি বগর্কিলোমিটারে যার হাজারের উপরে মানুষের বাস। তাছাড়াও আমাদের নেই কোন উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। পরম করূনাময় আল্লাহ তা’লার ইচ্ছাতেই হয়েছে এসব। আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করছেন। কিন্তু আমরা পরীক্ষায পাশ করছি কী? দেশের বতর্মান প্রেক্ষাপট থেকেই উত্তরটা আসবে। প্রায় সকলের মতোই আমারও উত্তর হবে “না”। আল্লাহ তা”লা বলেছেন, “যে জাতি নিজেরা নিজেদের উন্নতির জন্য চেষ্টা না করে, আমি তাদের উন্নতি করে দেইনা”। আমরা আমাদের উন্নতির জন্য চেষ্টা করছিনা মোটেই, নতুবা মহান আল্লাহ কেন আমাদের উন্নতি করে দিচ্ছেননা? আমাদের বিরাট অন্যায়-অপরাধ হচ্ছে, সেজন্য-ই দেশের কিচ্ছু হচ্ছেনা আসলে। জনাব আযাহা সুলতান, আপনাদের এহেন দুরবস্থার জন্য আমরা-ই দায়ী। আপনার কাছে সেজন্য যথাযথভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, ক্ষমা করবেন আমাদের। আপনার এই পোষ্ট আমাকে অপরাধী করে তোলে।

বাচ্চারা লেখাপড়া করবে, খুব স্বাভাবিক। তবে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে ওদের মধ্যে। স্বাভাবিকভাবে একজন শিশু যদি ভাল ফলাফল করে প্রথম হয়, তবে সেটা এক কথা। আর যদি বাবা-মার চোখ রাঙ্গানী, অতিরিক্ত টিউটর দিয়ে যদি তাকে চাপ দিয়ে সফলতায় নিয়ে আসা হয়, তবে তার মনে একটা ভয়-ভীতির ভাব সবসময় বিরাজ করাটাই স্বাভাবিক। আর অন্য শিশুরা, যারা প্রথম-দ্বিতীয় হতে পারেনা, তাদের মনে যে হীনমন্যতার সৃষ্টি হয়, তার দায়ভার নেবে কে? জনাব রাজিব সরকার লিখিত “আমরা একটা অসুস্থতার মধ্যে বড় হচ্ছি” শিরোনামীয় পোষ্টটায় আজকালকার কোমলমতি শিশুরা কীরকম অবণর্নীয় অস্থিরতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে, তার বিবরণ রয়েছে।

দু’টো সংক্ষিপ্ত ঘটনা বলবো এপ্রসঙ্গে। বাবা-মা ডাক্তার এক পরিবারে। বিশেষত: বাবার চোখ-রাঙ্গানী ছিল মেয়ের উপর প্রথম হওয়ার জন্য। আদরের মাধ্যমেই চাপ দিত বাবা। মেয়ে আজ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, লেখাপড়ায় তো মনযোগ নেই-ই, উপরোন্ত বাবাকে বের করে দিয়েছে বাড়ী থেকে। বলেছে, বাবা এই বাড়ীতে থাকলে আমি থাকবোনা। হয়তো বা আত্মহত্যার কথাও বলে থাকতে পারে।

দ্বিতীয় ঘটনাটিও একইরকম প্রায়। তবে পরিবারটি ভাড়া বাসায় বাস করে বলে বাবাকে বিদায় হতে হয়নি। তবে বাবা আর মেয়ের মধ্যে কথা বলা বন্দ্ব। এই মেয়ে নিজে আজ  ডাক্তার হয়েও বাবার উপর ছোটবেলার চাপ দেয়ার ঘটনায় আজও সে অতিরিক্ত অসন্তুষ্ট।

জনাব রাজিবের সাথে আমি সম্পূর্ন একমত যে, আমাদের বাচ্চারা, সাথে আমরাও অসুস্থ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই বড় হচ্ছি।

প্রতিকারকল্পে আমাদের নিজের জন্যই শুধু নয়, অন্যের জন্যও বাঁচতে হবে।

১,৩৪৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৩৭ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-১১-১৭ ০৭:২৪:৪৩ মিনিটে
banner

১১ টি মন্তব্য

  1. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    আলোচনা মূলক লেখাটি ভাল লাগল । শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

  2. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল । শুভ কামনা ।

  3. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    নাইটজার্নি আমার ও ভাল লাগে

    আজিম ভাই । চমত্কার পোস্ট টির জন্য অনেক ধন্যবাদ। …শুভেচ্ছা রইল।

  4. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনাকেও শুভেচ্ছা আরজু আপা।

  5. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    শুভ কামনা জানবেন ।

  6. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক শুভকামনা আপনিও জানবেন জসীম ভাই।

  7. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার গঠনমূলক আলোচনা পড়ে অনেক কিছু জানলাম।
    আমারও মাঝে মাঝে মনে হয়
    এই সুন্দর দুনিয়ায় আমরা কেন এসেছি?
    আমদের উপর অর্পিত মহান আল্লাহের নির্দেশনামূলক কাজ গুলো ঠিক মত আদায় করতে পারছিনা। কেন জানি মনে হচ্ছে এই দুনিয়ায় কিছু করতে পারি নাই।
    আমরা মানুষ হিসাবে এই দুনিয়ায় আমাের অনেক করণীয় আছে।
    আর রাতের ভ্রমনে আমার ভয় হয়।সব মিলে অসাধারন লিখেছেন।ধন্যবাদ।

  8. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    জন্মসূত্রে আমাদের এদেশের প্রতি একধরনের ঋণ আছে। এই ঋণ আমাদের শোধ করে যাওয়ার কথা; কমপক্ষে শোধ করার একটা চেষ্টা করে যাওয়া উচিৎ আমাদের। নিদেনপক্ষে শোধ করার চিন্তাটা মনের মধ্যে সর্বদা শক্তভাবে লালন করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।
    অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।

  9. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Valo laglo sundor ekti alochona
    dhonyobad
    valo thakben

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top