Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কিছু কথা বাকি এখন ও

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ২৪/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1333বার পড়া হয়েছে।

রুমাঝুম রুমাঝুম
রুম ঝুম নুপুর পায়ে
আসিল রে প্রিয়
আসিল রে।

আসিফ এর বাসার পাশে এই নাচের স্কুল। তিনটার পর থেকে তবলা নুপুরের বাচ্চাদের কলকাকলির আওয়াজ। প্রতি দুপুরের ভাত ঘুম মাটি তার। তবু বিরক্ত হয়না সে। কান খাড়া করে গান তবলা নুপুরের আওয়াজ শোনে। তার নৈশব্দের জগতে এই শব্দ ই শুধু আপন। আপনজন সবাইকে ছেড়ে নিরিবিলি জীবনের শেষ কটা দিন কাটাতে সে চলে এসেছে এই স্থান একটু দুরে তার সব আপনজনের কাছে থেকে।

মজা পাচ্ছে সে এইভেবে এই গানের সাথে বাচ্চার নাচ করাচ্ছে দেখে। তার রুম এর জানালা থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মেয়েটিকে যে নাচ শিখাচ্ছে। বেশ দেখতে মেয়েটি মায়াবী ঢল ঢলে চেহারা। অপলক নয়নে দেখে আসিফ মেয়েটিকে। মেয়েটির সাথে কচি কিছু মেয়ে নাচের প্র্যাকটিস করছে।

বাচ্চা মেয়েটিকে দেখতে দেখতে চমকে কিছুটা আগের সময়ে চলে যায় ,কিছুটা অতীতে। সিঁথির ভাই এর মেয়েটির মত দেখতে একেবারে গুটলু গুটলু।

সিঁথি আহ সিঁথি। হটাৎ যেন বিস্মৃতির আড়াল থেকে বেড়িয়ে এল সে । দীর্ঘ আট মাস সিথিকে দেখেনা সে। ভাবলে ও অবাক হয়ে যায়। যে একসময় শরীর স্পন্দন এর মত ছিল । একসাথে লেপ্টে থাকত তারা সারাদিন ।

সে নিজে ছেড়ে এসেছিল সিঁথি কে স্বেচ্ছায়। না ছেড়ে বা কি করে। ডাক্তার রা তার সময় বেধে দিয়েছে একবছর। তার লিউকিমিয়া। কাওকে না জানিয়ে বলা যায় একরকম পালিয়ে এসেছে। একরকম সিথিকে বলা যায় অপমান করে সে এখানে এসেছে। যেদিন ঘর ছেড়ে চলে এসেছিল বলা যায় সিঁথির হতভম্ভ মুখের উপর রুড কথা বলে সে চলে এসেছিল। বড় অন্যায় হয়েছে। তারপর ও কিছু করার ছিলনা। সে চাচ্ছিল সিঁথির মন থেকে সে দূর হয়ে যাক একেবারে।

২বিকাল এর এই সময় টা খুব নিঃসঙ্গ কাটে। বুকের ভিতর টা থেকে থেকে হু হু করতে থাকে। আজ আবার আকাশে মেঘ করেছে। এরকম আবহাওয়ায় চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছে হয়। আপন মানুষের অনুপস্থিতি র বোধ তীব্র হয়। আশেপাশের জায়গা জনশূন্য হয়ে গিয়েছে এর মধ্যে। বড় ঝড়ের পূর্বাভাস দেখে মানুষ প্রাণী এমনকি পাখি রা ফিরে গিয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। তার ঘরের নিরাপদ আশ্রয় এখন বেশি অসহনীয়। এইভাবে অপঘাতে মরে যাইনা একদিন ভাবে সে।

হুইসেল বাঝিয়ে ট্রেন থামল। ট্রেন থেকে কেও একজন নামল দূর থেকে দেখা যাছে। মেয়ে শাড়ি পরা। বাতাসে শাড়ির আচল উড়ছে। তাকিয়ে আছে সে অভিভূতের মত।

মেয়েটি কাছে প্রকৃতি আলো করে হেসে দিয়ে বলল

যাক তোমাকে পেলাম অবশেষে “কেমন আছ “?

আসিফ এর অভিভূতের ভাবটা এখন ও সরেনি।

সিঁথি অনেক দিন পরে।

তার শৈশব থেকে কৈশোর ,কৈশোর থেকে যৌবন ,সংসার তার জীবনে একমাত্র নারী।

হাতে অনেক ব্যাগ। সামলাতে সে হিমশিম খাচ্ছে।

কয়েকটা ব্যাগ হাত থেকে নিয়ে নিল আসিফ।

আবেগে ভেসে যাচ্ছে তার হৃদয়।

৩। ঘরে এসে দরজা জানালা সব বন্ধ করে দিয়েছে। দুনিয়া প্রলয়ের মত করে বৃষ্টি হচ্ছে। গত তিন বছরে এরকম বৃষ্টি আর হয়নি। সিঁথি বসে আছে আসিফ এর হাত ধরে। সে এসেছে বিশেষ সংকল্প নিয়ে। যে করে হোক আসিফকে এই স্থান থেকে নিয়ে যাবে পূর্বের স্থানে।

কি দিয়ে যে তোমায় আপ্যায়ন করি। বলে কয়ে আসবেনা নীরবতা ভেঙ্গে এতক্ষণে বলে উঠে আসিফ।

বললে কি আর তুমি থাকতে, পালাতে। সিঁথি হেসে উঠে বলে।

আমি আজকের খাওয়ার আর কিছু বাজার নিয়ে একসপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।

আসিফ এখন ও অভিভূত হয়ে আছে। তুমি কি এখানে থাকবে নাকি ? অবাক হয়ে বলে।

হ্যা তুমি যেখানে আমি সেখানে সেকি জাননা। জেদের স্বরে বলে। ফাকি দিয়ে চলে আসছ আগে। থামাতে পারিনি ওইসময়।

খাওয়া দাওয়া আনন্দে কাটল অনেকটা সময় আগের মত। রাতে শুতে এসে দেখে সিঁথি সেই আগের মত রাতের পোশাকে বিছানায় বসা। অস্বস্তি বোধ করে ঘর থেকে বের হতে দৌড়ে পথ আগলালো তার।

ব্যাপার কি ? এইভাবে চলে যাচ্ছ কেন ?আমি তোমার স্ত্রী।

আসিফ সত্যি অসহায় বোধ করছে এইধরনের পরিস্থিতি তে।

আমি আগের সেই বোধ আবেগে ফিরে যেতে চাইনা সিঁথি। মাপ কর আমাকে। কাতর গলায় বলে।

আমার অপরাধ ?,চোখে জ্বল আসে তার।

সিঁথিকে চমকে সেই কথা বলে ফেলে। আমার লিউকিমিয়া। জীবনের শেষ কয়টা দিন কোন আসক্তি ছাড়া পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চাই। আমাকে দয়া কর। তোমার সাথে আবার ইনভলব হলে পৃথিবী ছেড়ে যেতে অনেক কষ্ট হবে।

অনেকদিন পরে বাধভাঙ্গা উচ্বাসে সে কেদে উঠে জোরে।

প্রবল আবেগে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে সিঁথি। আমি সেইজন্য ই এসেছি তোমার কাছে আসিফ। তোমার ডাক্তার এর কাছে গিয়ে সব জেনেছি ,এই ঠিকানা পেয়েছি।

প্রথমে ভেবেছিলাম বোকার মত আমাকে ছেড়ে বুঝি কাওকে বিয়ে করেছ বলে হেসে উঠে ।

তোমাকে বাহিরে নিয়ে যাব। টিকিট নিয়ে এসেছি। ব্যাগ থেকে টিকিট বের করে দেখাল।

গাল ফুলিয়ে বসে থাকে আসিফ। সে সিথিকে এইমুহুর্তে কষ্ট দিতে চায়না। কিন্তু আবার এই আশ্রয় ছেড়ে কোথাও যেতে চায়না। নিজের শরীর বুঝে নিয়েছে। আর বেশিদিন ভার বহন করার মত নেই শরীর।

একসপ্তাহ পার হয়ে একমাস। একসন্ধায় আসিফের শরীর অসুস্থ হয়ে বলা যায় জোর করে হাসপাতাল এ ফোন করে বসল। সংজ্ঞাহীন আসিফকে অবশেষে নিয়ে আসা হল হসপিটাল এ। তার দেখা শোনা করছে একজন বিদেশী ডাক্তার।

সিঁথি প্রতিদিন প্রার্থনা করে আল্লাহ র কাছে অলোকিক কিছু দেখার শোনার আশায়।

ডাক্তার তার পিঠ চাপড়ে বলে

শেষ পর্যন্ত আমি আশা করছি। তুমি আশা রেখো মনে। এখন ও সম্ভাবনা আছে। ক্যান্সার ক্ষত সরিয়ে দিলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে।

তার ব্যাগে আছে সিঙ্গাপুরের যাওয়ার টিকিট। এখানে না হলে বাহিরে যাবে। আসিফকে সুস্থ করতে সে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করবে। তার আর ও অনেক কথা বলার আছে আসিফকে।

সাত আকাশের উপরে বিধাতা হাসেন স্নেহে। তিনি জানেন ফিরিয়ে দিবেন কি আসিফের প্রাণ। ওনার অনেক ক্ষমতা। চাইলে ই তিনি পারেন।

আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখের জ্বল মুছে উঠে দাড়ায় সিঁথি। ভাগ্য জানে তাকে কি খবর শোনাবে। হাসপাতাল থেকে মাত্র ফোন এসেছে।

১,৩১৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১৭ টি মন্তব্য

  1. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লেগেছে আপনার গল্প। আবেগকে যে কোন বন্ধনই আটকাতে পারে না তার একটা ছবি এ গল্প। তবে গল্পের ভাবগত পরিসরের তুলনায় গল্পটি আকারে ছোট মনে হয়েছে। ফলে কোথাও কোথাও খাপছাড়া লেগেছে। বিদেশে চিকিৎসার জন্য এতা টাকা কোথায় পেলো তার ব্যাখ্যা নেই। বিষয়গুলো আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ মাত্র। লেখকের স্বাধীনতাকে আমি সম্মানের চোখে দেখি।

    • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

      আপনি খেয়াল করে পড়েননি ভাই। বিদেশে কোথায় গেল ? সে কি একবার ও বলেছি? হাসপাতাল এ বিদেশী ডাক্তার দেখেছে। হতে পারে এনজিও। ..বা দুরের যে কোন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

      • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

        একটা গল্পে সব বিস্তারিত লেখা যায়না। কিছু প্রকাশিত কথা থাকে কিছু অপ্রকাশিত । উপন্যাসে বিস্তারিত বিবরণ থাকে। খেয়াল রাখতে হয় এই জিনিস যাতে লেখা বেশি বড় না হয়। গল্প সংক্ষিপ্ত হলে পাঠক পড়তে পছন্দ করে। ব্লগ এ আমি একটু ছোট করে লিখি। এখানে বড় লেখা কেও পড়েনা।

    • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

      যাই হোক আপনার বক্তব্যকে সন্মান করা উচিত আমার ও। ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য।

  2. হামি্দ মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার হয়েছে…………………….

  3. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    দ্রুত বলে ফেলুন বাকি কথাটা।

    • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

      দ্রুত বলে ফেলতে পারছিনা রব্বানী ভাই। কম্পিউটার আবার সিক হয়ে গেছে আমার মত।

      • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

        শান্তি আর পাওয়া গেলনা কোথায়। আবার কম্পিউটার নিয়ে দৌড়াতে হবে রিপেয়ার সেন্টার এ। ধন্যবাদ রব্বানী ভাই কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল। ঈদ মোবারক।

  4. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    ওয়াও দুর্দান্ত গল্প ———-!!

  5. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    ওয়াও দুর্দান্ত জসিম ভাই। এক জাদুকরী শব্দে মন ভাল করে দেয়।

  6. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    অতীব সুন্দর । মুগ্ধ হয়ে পড়ে যেতে হয় ।

  7. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    রেবা ভাই আপনার কবিতা পড়ে ও মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। অনেক ধন্যবাদ ভাই। প্রশংসা করে ক্লান্তি দূর করে দিলেন আমার। ভাল থাকবেন ভাই।

  8. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো।
    ঈদের শুভেচ্ছা রইলো

  9. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভালো লিখেছেন আপু , আপনার নিরন্তর শুভো কামনায় ,
    সহিদুল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top