Today 30 Nov 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

খানভবন হরর (পঞ্চম পর্ব )

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ২০/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1435বার পড়া হয়েছে।

পরের দিন খুব সকাল উঠে ভদ্রলোকের গাড়ি জায়গা থেকে পিক করল।

এ আশ্চর্য্য গাড়ি যেভাবে রেখে গেছি সেরকম ই আছে। এমনকি ভিতরে আমার দামী কোট টা পর্য্যন্ত পড়ে আছে।
তার অর্থ এখানে আসলে কোন জনপ্রাণী নাই ,ভদ্রলোক টি বলে উঠলেন।

তাতো আমি ও মনে করেছিলাম নয়ন সহসাই বলে উঠে।

এর অর্থ কি ? এখন কি ভাবছেন ?কেও কি এখানে আছে? লোকটি জিজ্ঞাসা করে।

ঠিক বুঝতে পারছিনা দোদুল্যমান নয়ন বলে উঠে।

কোন ধরনের বাধা বিঘ্ন ছাড়া তারা পৌছে গেল কর্মস্থলে আবার বিকাল এ নির্বিঘ্নে ফিরে ও এলো।

ওই দম্পতিদের একসপ্তাহের জন্য অতিথী হওয়ার অফার দিল। তারা ও সানন্দে রাজি হয়ে গেল। একমাসের হোটেল খরচ তাদের জন্য একটু খরচের। বিকালে তারা পাচটার আগে ই ফিরে এলো।

দুই পরিবার সামনের বড় খোলা মাঠে ঘুরতে ফিরতে লাগল। নয়নাভিরাম দৃশ্য , আশেপাশের সবুজ গাছপালা আপাতত তাদের এই কয়দিনের ভয়ভীতি দূর করে দিল।

নয়ন লজ্জা পেয়ে গেল মনে মনে বোকার মত এই বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিল বলে। সামান্য জিনিস কে অতিরঞ্জিত করে ভেবেছিল । আসলে জনমানবশূন্য এলাকা বলে সম্ভবত মনের মধ্যে একটা আশংকা ঢুকে গিয়েছিল। আমরা অনেকের মধ্যে থাকতে অভ্যস্ত সমাজবদ্ধ মানুষ , মনে মনে এখন সে হাসছে উফ কয়দিন যে কি ভয় টাই না পেল ,তাও অশরীরী প্রেতের ভয়।

হেসে উঠল জোরে এখন প্রায়।

তার হাসিতে বাকিরা ও হেসে উঠল যদিও বলে উঠল

ব্যাপার কি এত উত্ফুল্য হওয়ার মত কি হলো নীলিমা জিজ্ঞাসা করে.

নীলিমা ও এতদিন পরে আজ নুতুন বাড়ির চারপাশ নুতুন মেয়েটি সহ দেখছে। এখন যাই দেখছে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছে সে।

ঘরের পিছনে ব্যাড মিন্টন খেলার কোর্ট কেটে ফেলল। দুইপক্ষ খেলল খানিকক্ষণ।

দুইদিন বেশ আনন্দে , নির্বিঘ্নে কাটল দুই দম্পতির। তবে দুইদিন পরে আজ ঘটল এক বিচিত্র ঘটনা যাতে আবার তাদের মনে সংশয় দানা বেধে উঠেছে।

ঘরের সামনে বেশ কিছু খালি জায়গা  আছে নয়ন এবং ভদ্রলোক মিলে করল  কিছু সব্জী বাগান করবে। যে কারণে মাটি খুড়ে বীজ লাগাচ্ছিল। পিছনের জায়গা খুড়তে খুড়তে একপর্যায়ে শাবল এর বাড়ি খেল যেন ধাতব কিছুর সঙ্গে যার আওয়াজ হল ঠন করে।

দুজনে দমে গেল প্রথমে। প্রথমে ভাবলো পুরানো বাড়ি কি জানি সাপ খোপ কি আছে।

দুজনে আবার হেসে ফেলল এতে ভয়ের কি আছে।

শেষ পর্যন্ত মাটি খুড়ে যা পেল অবাক হয়ে গেল তার জন্য ঠিক প্রস্তুত ছিলনা তারা।

অনেক জীর্ণ পুরান একটি টিনের ট্রান্ক জাতীয় সুটকেস পেল তারা।

হেসে পেলল প্রথমে। ময়লার বাক্স মনে করে ফেলতে গিয়ে মনে করে মানুষের স্বাভাবিক কৌতুহল থেকে না খুলে দেখা যাক কি আছে এতে।

ঘরেরে ভিতরে চলে আসল অনেক ক্লান্ত বোধ করায়। নীলিমা আর মেয়েটি মিলে হরেক রকমের নাস্তা ভাজাভুজি বানাল। চা খেয়ে খোলার চেষ্টা করল অনেকক্ষণ। এত শক্ত পুরানো তালা কিছুতে ভাঙ্গা যাচ্ছিলনা।

বার কয়েক হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দেওয়ার পর অবশেষে তালা টি ভেঙ্গে গেল।

তেমন কোনো মূল্যবান জিনিস পাওয়া না গেলে ও কিছু বিচিত্র কাগজ পাওয়া গেল। পাওয়া গেল অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া হাতের লেখা চিঠি। একটা ম্যাপ এর মত নকশা জাতীয় কাপড় ,একটা বোতল পারফিউম এর মত ভিতরে নীল পানির মত কিছু।

অর্ণব ছো মেরে বোতল টা নিয়ে দৌড় দিল।

জনৈক ব্যক্তি জমিদার এর চিঠি তার পুত্রকে লেখা।

বাবা আমার অন্তিম সময় ঘনাইয়া আসিয়াছে। তোমাদের সঙ্গে দেখা হইবে কিনা সেই সন্দেহ হইতেছে। একটা কথা বলি মনোযোগ দিয়ে পালন কর।

এই ট্রান্ক দেখা মাত্র ই গভীর মাটিতে পুতিয়া ফেলিবে। বোতল এর মুখ খোলার চেষ্টা করিওনা কোনদিন।বোতলের ভিতরের ভিতরে শক্ত দোয়ায় শয়তান পিশাচ কে বাধিয়া রাখিয়াছি। চাইলে নকশা শুধু রাখিতে পার সাথে।

নকশায় হাত দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাইবে তবে তা শুধু বিপদে পড়িলে। আল্লাহ না করুক তোমরা যেন এই বিপদে না পড়। বোতলের মুখ শক্ত দোয়ায় বাধিয়া দিয়াছি।

আমার মৃত্যু ঘনাইয়া আসিয়াছে। আর কথা বলার সময় নাই

আল্লাহ তোমাদের হেফাজত করুক।

চিঠির মাথামুন্ডু কিছু বুঝলনা। দুজনে মুখ চাওয়া চাওয়ী করতে লাগল।

হটাত্ উপরে অর্ণব এর আত্মচিত্কারে লাপ দিয়ে উঠে দাড়াল। উপরের ঘরে এসে যা দেখল তাতে তাদের মূর্ছা যাওয়ার মত অবস্থা হল।

ছেলে অর্ণব দাড়িয়ে আছে ভাঙ্গা বোতলের পাশে। কাছের একংশে পা কেটে গিয়েছে। রক্ত বের হচ্ছে তাতে দরদর করে।

সারা ঘরে নীলাভ ধোয়ার কুন্ডলী। ধোয়ার ভিতরে দেখা যাছে অমানসিক শিং ওয়ালা পশু চেহারার মানুষ এর মুখ।

একি!! আতকে চিত্কার দিয়ে উঠল প্রথমে। পরে মনে হল নয়নের প্রজেক্টর এ কোন হরর মুভির দৃশ্য। কিন্তু আশেপাশে কোন কম্পিউটার দেখতে পেলনা।

তার সাথে বাতাসে এক অপার্থিব সুর ভেসে আসতে লাগল।

(পরবর্তীতে)

১,৪১৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১৩ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ওরে বাপরে কি ভয়ংকর রে বাবা…

    লিখে যাও আপি সাথেই আছি

  2. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়েছ আপু। অনেক খুশি হলাম। ভাল থাক। শুভেচ্ছা রইল।

  3. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    হেসে পেলল প্রথমে

    হেসে ফেলল

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      হেসে ফেলল প্রথমে। ভূল শব্দ চলে গেছে। ধন্যবাদ ছাইফুল ভাই। শুভেচ্ছা রইল।

      • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

        অমানষিক, অমানবিক , অপার্থিব (ষ এর জায়গায় স চলে গেছে ) অর্থাৎ স্বাভাবিক মানুষের মুখ নয় (ঘরের চারজন মানুষ যেভাবে দেখছে ,আসলে এই শব্দটায় আমি ও কিছুটা কনফিউসড

        লেখার সময়ে বাচ্চা আর তার বাবা এত ডিস্টার্ব করছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম কালকে পোস্ট করব। তারপর দেখেননা আবার দিয়ে দিলাম। অবশ্য সব লেখায় একই অজুহাত। দুঃখিত।

  4. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    ধোয়ার ভিতরে দেখা যাছে অমানসিক শিং ওয়ালা পশু চেহারার মানুষ এর মুখ।
    অমানসিক শব্দটি ঠিক যাচ্ছেনা অন্য কোন শব্দ ?
    ভয় পেলাম।পুরোটা পড়লাম।পরের পর্বের অপেক্ষায়।

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      অমানষিক, অমানবিক , অপার্থিব (ষ এর জায়গায় স চলে গেছে ) অর্থাৎ স্বাভাবিক মানুষের মুখ নয় (ঘরের চারজন মানুষ যেভাবে দেখছে ,আসলে এই শব্দটায় আমি ও কিছুটা কনফিউসড

  5. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    বরাবরের মতই ভাল লাগল । শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

  6. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম মুন —– আজ তোমার ভাবীর সিজার । দোয়া করো । রাত সাড়ে দশটায় ।

    • আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

      ওআল্লাহ তাই নাকি। অনেক খুশির খবর। আমি তো ভাবছি তুমি বাচ্ছা ছেলে। এখন ও বিয়ে করনি।

      চিন্তা করনা সব ভালভাবে হবে। সন্তানের মুখ দেখে মন ভরে যাবে। তোমার আগাম সন্তানের জন্য অনেক আদর। ভাল থেক কেমন।

  7. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    অসাধারণ।ভালো লাগা রইলো।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top