Today 14 Aug 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

তবে কি মধ্যবিত্ত পরিবারই আদর্শের দিকে আছে ?

লিখেছেন: সাঈদ চৌধুরী | তারিখ: ২৩/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1004বার পড়া হয়েছে।

আজ কিন্তু একটি প্রশ্ন এসেই যাচ্ছে ।কোন পরিবারের সন্তানেরা বেশী পরিমানে আদর্শবান, কর্মঠ, জয় করার স্পৃহা এবং নিজেকে জানার প্রবনতা বেশী দেখায় ।  মানবিক বিপর্যয় আর নৈতিকতার অবক্ষয় যখন আমাদের পরিবেশকে দিন দিনই খারাপের আবহ তৈরী করে দিচ্ছে তখন এই প্রশ্নটা আসাটাই সাভাবিক ।পরিবার প্রথা গড়ে ওঠার প্রধানতম শর্ত দুইজন নারী পুরুষ যৌন জীবন উপভোগ করে সন্তান উৎপাদন এবং তাদের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব পালন পূর্বক একটি সুন্দর সামাজিক প্রতিষ্ঠান (পরিবার) উপহার দেওয়া ।এখন এই শর্তগুলো শুধু এই টুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না । পরিবারকে সুগঠিত করার জন্য প্রয়োজন অর্থনৈতিক চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা, একসাথে থাকার মানুষিকতা এবং সন্তান উৎপাদনের পর তাদের যথাযথ পরিচর্যা ।

 

দিন যাচ্ছে মানুষ গতিশীল হচ্ছে । প্রযুক্তির সাথে নিজেদেরকে আরো বেশী গতিশীল করার জন্য মানুষ কেমনই যেন লাগাম হারাভাবে নিজেদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে । এই যে প্রযুক্তি আর মানুষের দৌড়ানো এর মধ্যেই সামাজিকভাবে তফাৎ সৃষ্টি হচ্ছে পরিবারে পরিবারে ।এই আধুনিকতার ছোয়া যে শুধু বর্তমানেই বহমান তা নয় প্রাচীন কাল থেকেই পরিবার মূলত তিনটি ভাগেই বিভক্ত ছিলো । তিনটি ভাগের মধ্যে যাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা সবচেয়ে বেশী এবং শিক্ষিত মানুষের হার বেশী তারাই উচ্চবিত্ত পরিবার নামধারন করে আছে । এই কথার পৃষ্ঠে নিম্নবিত্তের সঙ্গা না বললেও চলে ।

 

এই দুই পরিবারের কথা বিবেচনা করলে দেখা যায় উচ্চ বিত্তে সুখে থাকতে ভুতে কিলায় টাইপ আর নিম্ন বিত্তে হা-ভাত না-ভাতের দ্বন্দ করতে করতেই পরিবারের সদস্যরা যার যার মত চলতে শুরু করে ।এই যার যার মত চলতে শুরু করা মানেই আজকের সমাজ ! বিস্মিত অবক্ষয়ের বেড়াজাল ।

 

যুবকদের কথা আগেই না এনে শিশুদের দিয়ে শুরু করলে দেখা যায় উভয় পরিবারেই শিশুরা উপেক্ষিত থাকতে বাধ্য হচ্ছে । কারন উভয় পারিবারিক কাঠামো এমন যে প্রয়োজনীয়তাই পরিবারের প্রধানদের বাইরে থাকতে বাধ্য করছে এবং এই ফাঁকে পারিবারিক বন্ধন থেকে ছিটকে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা । নিম্ন বিত্তের শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বাবা মা কাছে না থাকার সময় এরা হয়ত ঐ এলাকার বা মহল্লার ছন্নছাড়া যুবকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নেশাগ্রস্থ হচ্ছে বা যদি মেয়ে সন্তান হয় তবে অবাক করা হলেও সত্য যে, শিশুকালেই ধর্ষনের শিকার হয়ে নিজের জীবনের স্বাদই হারিয়ে ফেলে (যদিও সবার ক্ষেত্রে নয়)।

 

উচ্চবিত্তেও সন্তানেরা বাবা মায়ের কাছ থেকে সময় পায় না চাহিদামত । এখানেই প্রযুক্তি ঢুকে গেছে বাবা মায়ের সময় দেওয়ার বিপরীত নাম হিসাবে । সন্তানের মন যোগানোর জন্য বাবা মায়েরা হয় ভিডিও গেমস বা ইন্টারনেটকে সন্তানের জন্য অবাধ বিচরনের মাধ্যম হিসেবে খুলে দিচ্ছেন । যে ইন্টারনেট দুনিয়ার সব জ্ঞানকে হাতের মুঠোয় এনে দিতে পারে সেই ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে পর্ণ ছবি আনার মাধ্যম হিসেবে । একটি শিশু বারো বছর বয়সে যদি মানুষের জৈবিক আচরনের অন্যতম আনন্দমাধ্যম যৌনতা প্রাকটিক্যাল করতে চায় আমার দৃঢ় বিশ্বাস তার এই জৈবিকতার যৌন আনন্দ আঠারো বছরের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে আর তখনই হতাশা ঠেকাতে ঝুকে পড়ছে এই নেশা নামক মরনাস্ত্রের দিকে যার ফলে সে একসাথে ধ্বংশ করছে নিজের পরবিবারকে এর সাথেই ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে পরিবার গঠনের ইচ্ছাশক্তির বহিঃপ্রকাশীয় ম্যাধম ।

 

এরকম না হয়ে একাকিত্বতা, পারিবারিক কলহ, যৌথ পরিবার বিচ্ছিন্নতা থেকেও অনেক শিশুই এভাবে নিজেদের শেষ করে দিতে চাইছে আর একারনেই নেশার মত ঘুমের জগৎ এদের কাছে এত প্রিয় হয়ে উঠছে । উচ্চ বিত্তের ঘুমের জগৎ আর নিম্নবিত্তের না পাওয়ার আবর্তন এই শিশুদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা বলতে জন্মায় আজকের দিনটি কিভাবে আনন্দে কাটানো যায় এই ধারনা ।আর আনন্দে কাটানোর মাধ্যম হয় নেশা না হয় বন্ধুদের নিয়ে উগ্রভাবে সময় কাটানোর নামে নিজের জীবনের খেই হারিয়ে ফেলা !

 

উচ্চ বিত্ত, নিম্ন বিত্ত উপাখ্যানের মধ্যেই আরেকটি শ্রেনী আমাদের সমাজে পরিবার নামক প্রতিষ্ঠান হয়ে দাড়িয়েঁ রয়েছে । এই পরিবারগুলোর ধরন এমন যে, একজন উপার্জন করবে পরিবারের সবাই ঐ উপার্জনক্ষম ব্যক্তির বেতনের দিনের আশায় বসে থাকবে আর আশা করবে বাবা অথবা মা বেতন পেলে আজ অনেক মজা হবে ! সবার আশার ঐ স্বপ্নময় বেতনের দিনটি সারা মাসের প্রাপ্তির মত মনে হয় । এই ছোট্ট বেতনেই ছেলে মেয়ের পড়ার খরচ থেকে শুরু করে সারা পরিবারের খাবার, পোষাক, চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করতে হয় ।তারপরও সবার মিলে থাকা, একদিনের প্রাপ্তির আনন্দ, এক টুকরো মিষ্টি ভাগ করে খাওয়া সবই যেন পারিবারিক আনন্দের উৎসই হয়ে সারাটি জীবন সন্তানদের মধ্যে দাগ কেটে যায় । আর এই অর্থনৈতিক পেয়ে পেয়ে না পাওয়াই মধ্যবিত্ত সন্তানদের গড়ে তোলে আত্ন প্রত্যয়ী এবং উদ্যমী মানুষ হিসাবে । বাবা মায়ের একসাথে থেকে সন্তানকে মানুষ করা, বাবার পক্ষে সন্তানদের সব চাহিদা মেটানোর জন্য আপ্রান চেষ্টা দেখে বড় হওয়া সন্তানেরা নিজেদের কাছে দায়বদ্ধ হয়ে পড়ে আর এই দায়বদ্ধতাই তাদেরকে দায়িত্বশীল সন্তান হতে বাধ্য করে । সবসময় বা সব ক্ষেত্রেই এমনটা না হলেও বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই মধ্যবিত্তরাই আজ শীর্ষে উঠে যাচ্ছে এবং নিজেদেরকে আদর্শবান করে রাখার আমরন চেষ্টা করে যাচ্ছে ।

 

আমি উচ্চবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারকে খাটো করা বা পারিবারিক দোষ ধরার জন্য আমার লেখাটি অবতাড়না করিনি । আমার গবেষনা এবং নিজ জীবনের কিছু অভিজ্ঞতার বিশ্লেষন করতে গিয়ে দেখেছি অধিক অর্থ যেমন সন্তান বা মানুষকে নষ্ট করে তেমনি অর্থের না পাওয়াও শিশুদের নষ্ট করে দেয় । তবে মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্রে একদিকে পাওয়ার আকাঙ্খা কম থাকে অন্য দিকে যতটুকু পাওয়া যায় তাকেই অনেক বলে মনে করাই মধ্যবিত্ত সন্তানদের অসততা থেকে মুক্ত রাখে ।

 

আজ যেভাবে শিশুদের অবক্ষয়, শিক্ষকদের আচরন এবং স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের বিকৃতির খবর পাই সেটা কোন স্বাভাবিকতা নয় । আস্তে আস্তে সামাজিকভাবে এগুলো ঢুকে যাচ্ছে আর আমরা সহনশীল হয়ে যেতেও বাধ্য হচ্ছি ! এগুলোকি তবে মানব সভ্যতা ধ্বংশের কোন চিহ্ন ?

 

এই চিহ্নগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং এগুলো বন্ধে পদক্ষেপ নিতে গেলে যে প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বেশী ক্রিয়াশীলতা দরকার সেটা হল পরিবার । উচ্চবিত্ত, নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্ত নয় সব পরিবার মিলে একটি সুস্থ সমাজ উপহার দিতে হলে আমাদের সন্তানদের যত্ন নিতে হবে তাদের মাঝে লক্ষ্য স্থির করে দিতে হবে এবং একটি চাড়া গাছের মত করে যত্ন করে বড় করতে হবে । তবেই তিন শ্রেনীর পরিবার একই সমতলে থেকে আমাদের দৈণ্যদশা দূর করবে আশা রাখি ।

১,০৯৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করে যেতে চাই ।
সর্বমোট পোস্ট: ১৯০ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৬৯২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-১৭ ১২:১২:৫১ মিনিটে
banner

১১ টি মন্তব্য

  1. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর ভাবনা। ভালো লাগলো খুব।

    • সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

      আপনার মন্তব্যের জন্য ধণ্যবাদ । জবাব দিতে দেরী হয়ে গেছে অনেক । আন্তরিক ভাবে দুঃখিত । আশা করি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । ভালো থাকুন সবসময় ।

  2. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    আজের পরিবার নিয়ে আপনার বক্তব্য বেশ উপযোগী বলে মনে হল।

    • সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

      শুভেচ্ছঅ জাননে । পরিবার প্রথা আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় এবং উল্লেখযোগ্য সামাজিক প্রতিষ্ঠান । তাই একে নিয়ে ভাবনাও বাড়াতে হবে বিস্তর । ভালো থাকুন সবসময় ।

  3. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার ভাবনা
    অনেক ভাল লাগা।

  4. তুষার আহসান মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লিখেছেন তাই ভাল লাগা।

  5. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব চমত্‍কার লিখেছেন !
    অসংখ্য ভাল লাগা রইল ।

    • সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

      আপনাদের মন্তব্যই আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্পৃহা । লেখালেখিই হচ্ছে মনের ভাব প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম । এই মাধ্যমকে বাচিয়েঁ রাখতে হলে আমাদের কাজ করে যেতে হবে নিরন্তর । ভালো থাকুন সবসময় ।

  6. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    কোন পরিবারের সন্তানেরা বেশী পরিমানে আদর্শবান?_________________ মধ্যবিত্ত পরিবার।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top