Today 14 Aug 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

তোমার হৃদয়ে আমি গরু হয়ে ঘাস খাই-১ (ছন্দ প্রকরণ)

লিখেছেন: শাহ্‌ আলম বাদশা | তারিখ: ১৮/০৬/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1500বার পড়া হয়েছে।

তোমার হৃদয়ে আমি গরু হয়ে ঘাস খাই

ল্যাম্পোস্টকে জড়িয়ে বলি- ডার্লিং !!!!

download

মুক্তছন্দ ও গদ্যকবিতা

ওপরের লাইন দুটো উচ্চাংগের আধুনিক গদ্যকবিতা, যা মুক্তছন্দে লেখা। এটি মুক্তছন্দে লেখা হলেও ছন্দোবদ্ধ দুটো পঙক্তি বা লাইন। এখানে ছন্দ আছে কিন্তু অন্তমিল নেই। অল্পকথায় এই হলো মুক্তছন্দে লেখা গদ্যকবিতার বৈশিষ্ট্য। আমরা যখন ছড়া-কবিতা লিখতাম সেই ৭০ এর দশকে; জাতীয় পত্রিকায় আমার প্রথম ছড়া ছাপা হয় ১৯৭৭ সালে। আমার ছড়া/কবিতা, গল্প,রম্য, গান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ব্যতীত এদেশের দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদ, দৈনিক বাংলা, সংগ্রাম, আজাদ, দেশ, নব অভিযান, জনতাসহ সব জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত ছাপা হতো। ছন্দের জাদুকর রুকুনুজ্জামান খান দাদাভাই আমার ছড়া প্রথম ছাপেন ইত্তেফাকে।

তখন অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত ইত্যাদি ছন্দই ছিলো প্রতিষ্ঠিত এবং প্রচলিত। কিন্তু মুক্তছন্দের নামে পরে আস্তে আস্তে যা এসেছে—তাতেও কিন্তু ছন্দ ছিলোই এবং এখনো আছে। কবিতার নামের সাথে গদ্য শব্দটা থাকায় অনেকেরই ধারণা গদ্যকবিতায় ছন্দ নেই। তাহলে গদ্য আর পদ্যের মাঝে কী ফারাক, তা তারা  আদৌ ভাবেন না। কিন্তু যারা মুক্তছন্দে লেখেন তাদেরও অনেকেই এমন সব কবিতা লেখেন, যা দেখে-পড়ে ছন্দই খুঁজে পাওয়া যায়না। কবিতার নামে এসবও আমার কাছে একপ্রকার গদ্যই। ছন্দছাড়া ছড়া-কবিতা, গান হয়, তা ইদানিং শুনছি আমি।

ছন্দের ধারণা আসলে ছন্দ হলো ছড়া-কবিতা-গানের প্রাণ। সুলিখিত ও উপযুক্ত উপমা, তাল, লয় এবং শব্দ-বাক্যে গঠিত ছড়া-কবিতা-গানকে আবৃত্তি বা পাঠের সময় যে রিদম ও দ্যোতনার ঢেউ সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের হৃদয়-মনকে উদ্বেলিত-আন্দোলিত করে, তাইতো ছন্দ। ছন্দের আকর্ষণেই ছড়া-কবিতা পড়তে মজা পাওয়া যায়। অথচ অন্তমিলবিহীন মুক্তছন্দের নামে গদ্যলেখক অনেকেই আজকাল রাতারাতি কবি বনে যাচ্ছেন দেখে আমার মাঝে মাঝে হাসিও পায়। আবার যারা শুধু পাশাপাশি একাধিক পঙক্তির শেষের পদের মিলন বা অন্তমিলকেই ছন্দ মনে করেন–কবি মধুসুদনের ভাষায় অন্তমিলের নামে ”শব্দে শব্দে বিয়ে দিলেই কবিতা হয়না”, তারাও বোকামী করেন। এদের উচিৎ আধুনিক কবিতা বা গদ্যকবিতা বা মুক্তছন্দের কবিতা কী বা কাকে বলে, তা মধুকবির লেখা থেকে শিখে নেয়া। তার অন্তমিলবিহীন অনেক সনেট অথবা অমিত্রাক্ষর ছন্দের কবিতা পড়লেই তারা বুঝবেন যে, অন্তমিল ছাড়াও দারুণ ছন্দের মানোত্তী্র্ণ কবিতা-ছড়া হয়।

আসলে ছন্দছাড়া ছড়া-কবিতা ও গানের অস্তিত্বই যে নেই-এটা অনেকেই জানেন না, তবু কবিতা লেখেন। ছন্দছাড়া আর যা হয়–তা পদ্য নয় স্রেফ গদ্যই হয়ে যায়। তাকে কবিতার আকারে বা পত্রিকার কলামের মতোন সাজালেই কবিতা হয়ে যায়না। তাই যারা ভাবেন–পত্রিকার কলামের মতো কিছু লাইন কবিতার আকারে সাজিয়ে লিখলেই আধুনিক মুক্তছন্দের গদ্যকবিতা হয়ে গেলো, তারা ভুল করেন!

তাইতো দেখি–এখন কবিতার নামে পত্রিকার পাতা আজকাল ভরেই যায়; যেনো দেশের সবাই কবি এবং কবিতা লেখা কতোই না সহজ?? এসব লেখায় না থাকে ছন্দ না থাকে পড়ার আকর্ষণ আর না থাকে মুন্সিয়ানা। পড়তে চরম বিরক্তি লাগে। সংশ্লিষ্ট কবিছাড়া এসব লেখা আজকাল কেউ পড়ে বলে আমার মনে হয়না। তবে এর ফাকে কিছু কিছু ভাল কবির ভাল কবিতাও যে ছাপা হয়না, তা কিন্তু নয়। আমি নিজেই সেসব পড়ে রসাস্বাদন করি।

আমাদের সময় পত্রিকায় সাহিত্যপাতা বা শিশুপাতা দেখতেন একজন করে প্রকৃত সাহিত্যিক এবং অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে তবে সেসব পত্রিকায় আমাদের লেখা ছাপা হতো। ডাকে পাঠানো ছড়া-কবিতা দিনের পর দিন ছাপা হতোনা, আমাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হতো যে, আমরা প্রকৃতই লেখাখোর নাকি লেখাচোর! দু’বাংলার লিটলম্যাগে আমাদের প্রচুর লেখা ছাপা হতো এবং অন্য পত্রিকায় লেখা ছাপানো দেখেই তারা আস্থা পেতেন এবং লেখা ছাপতে শুরু করতেন। 

তখন দৈনিক ইত্তেফাকের শিশুতোষ পাতা দেখতেন রুকুনুজ্জামান খান দাদাভাই আর সাহিত্যপাতা আল মুজাহিদী, দৈনিক বাংলার শিশুপাতা দেখতেন কবি আফলাতুন, দৈনিক আজাদ দেখতেন আবু নসরত মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, সংগ্রাম দেখতেন জয়নুল আবেদীন আজাদ ও ছড়াকার সাজ্জাদ হোসাইন খান প্রমুখ। কিন্তু এখন তার আর তেমন বালাই নেই। শিশু বা সাহিত্যপাতার বিভাগীয় সম্পাদক কবি-সাহিত্যিক না হলেও সমস্যা নেই।/strong>

মুক্তছন্দের নামে তথাকথিত গদ্যকবির যেমন অভাব নেই তেমনই প্রকৃত সাহিত্যিকরূপী বিভাগীয় সম্পাদক না থাকলেও সমস্যা হয়না। সেই পাতাগুলো চালানোর লোকের অভাব এখন নেই। বরং ভালোভাবেই তা চালিয়ে নেয়া হয়।

আমি মনে করি, মুক্তছন্দের নামে গদ্যকবিতার ছদ্মাবরণে যারা পত্রিকার কলামের মতো ছন্দহীন কিছু লাইন সাজিয়ে কবিতা বানান, তারা কোনোদিনই ভালো কবি হতে পারবেন না। আর তা পত্রিকায় ছাপা হলেই কিন্তু খুশি হবারও কারণ নেই। তাই কবিতা লিখতে হলে ছন্দ শিখতেই হবে। নতুবা কবি কবি ভাব, ছন্দের অভাব, থেকেই যাবে?? (চলবে)

১,৫৭১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
৮০ দশকের কবি, ছড়াকার, গীতিকার বিশেষত; শিশুসাহিত্যিক। ৬টি প্রবন্ধ সংকলন, ৩টি গল্প সংকলন, ১টি শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ, ৭টি অডিও-ভিডিও এলবাম প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৭৭ সাল থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রেডিও বাংলাদেশ রংপুর কর্তৃক ‘‘উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ ছড়াকার’’ হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। ১৯৮৬ সালে সিলেট ছড়া পরিষদ কর্তৃক ছড়ায় অবদান রাখার জন্য পুরস্কৃত। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত জাতীয় বিভিন্ন দৈনিকে সাংবাদিকতাছাড়াও বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা যেমন; লালমনিরহাট থেকে ত্রৈমাসিক চলমান, ত্রৈমাসিক ব্যতিক্রম, ত্রৈমাসিক দারুচিনি, ত্রৈমাসিক কিশোরকন্ঠ, ত্রৈমাসিক প্রজাপতিসহ (অধুনালুপ্ত) বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক এবং লালমনিরহাটের প্রথম প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক জানাজানি’র প্রতিষ্ঠাতা সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। শাহ আলমা বাদশা’র প্রকাশিত অডিও-ভিডিও এলবাম এবং গ্রন্থসমূহঃ ১। ভোরের পাখিরা [অডিও-ভিডিও এলবাম-১৯৮৯] ২। শিহরণ ১ ও ২ [অডিও এলবাম-১৯৯৩] ৩। শিহরণ ২ [অডিও এলবাম-১৯৯৩] ৪। প্রত্যয় [অডিও এলবাম-১৯৯৪] ৫। প্যারোডি গান [অডিও এলবাম-১৯৯৫] ৬। তথ্য পেলেন কাশেম চাচা [নাটিকার ডিভিডি-২০০১৪] ৭। তথ্য কমিশনের বিচারিক কার্যক্রম [প্রামাণ্যচিত্রের ডিভিডি-২০১৪] ৮। কিশোকন্ঠ গল্প সমগ্র-১ [যৌথ গল্পগ্রন্থ-২০০১] ৯। মা ও শিশু [যৌথ প্রবন্ধগ্রন্থ [১খণ্ড)-২০০৬] ১০। মা ও শিশু [যৌথ প্রবন্ধগ্রন্থ [২খণ্ড-২০০৭] ১১। মা ও শিশু [যৌথ প্রবন্ধগ্রন্থ [৩খণ্ড-২০০৮] ১২। মা ও শিশু [যৌথ প্রবন্ধগ্রন্থ [৪খণ্ড-২০০৯] ১৩। স্বপ্ন দিয়ে বোনা [যৌথ গল্পগ্রন্থ-২০১৩] ১৪। মুক্তিযুদ্ধ এবং অন্যান্য গল্প [যৌথ গল্পগ্রন্থ-২০১৫] ১৫। দুরছাই ধুত্তোরী ছাই [শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ-২০১৫] শাহ আলম বাদশা’র প্রকাশিতব্য গ্রন্থসমুহঃ ১। ইষ্টিপাখি মিষ্টিপাখি [শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ] ২। ষড়ঋতুর দেশে [শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ] ৩। লিন্তামনির চিন্তা [শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ] ৪। ফুল-পাখি-নদী [কিশোর কবিতাগ্রন্থ] ৫। ফুলবনে হই-চই [কিশোর উপন্যাস] ৬। সানিনে অভিযান [[কিশোর উপন্যাস] ৭। কালো মুরগি [শিশুতোষ গল্প] ৮। বেওয়ারিশ লাশ [শিশুতোষ গল্প] ৯। কবিকবি ভাব ছন্দের অভাব [ছন্দপ্রকরণ-প্রবন্ধগ্রন্থ] ১০। বাংলাবানান এবং শব্দগঠনঃ ভুল শুধু ভুল [প্রবন্ধগ্রন্থ] ১১। আমাদের মুসলমানিত্ব এবং কামড়াকামড়ির রকমফের তিনি বিসিএস তথ্য ক্যাডারের সদস্য এবং এলএলবি'র ছাত্র। তথ্যমন্ত্রণালয়ে কর্মরত। ফোনঃ ০১৮১৭১১৭৯২৯/০১৫৫২৩৪২৪৪৯ Website: http://mediamaster1.blogspot.com/
সর্বমোট পোস্ট: ৪৪ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২২৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-২৬ ১৫:০৭:৪২ মিনিটে
Visit শাহ্‌ আলম বাদশা Website.
banner

১৫ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর পোষ্ট অনেককিছু শিখা যাবে

  2. শাহ্‌ আলম বাদশা মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ, বন্ধুব্লগে আপনার কবিতার সমালোচনা লিখেছি; কিন্তু আপন লাজবাব–

  3. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    তোমার হৃদয়ে আমি গরু হয়ে ঘাস খাই

    ল্যাম্পোস্টকে জড়িয়ে বলি- ডার্লিং !!!!

    আপনার মুক্ত ছন্দ বিষয়ক এই লিখা টি আসলে ভালো লিখেছেন। আমি সেভ করে রেখেছি আমার ডকুমেন্টস এ। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। শুভেচ্ছা জানবেন।

  4. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনিও অনেক ভাল লেখক।

  5. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুণ একটি পোস্টের জন্য হাজারো ধন্যবাদ। আমাদের মতো লিখিয়েদের জন্য খুবই জরুরি একটি বিষয়।

  6. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Ektu deri holo
    tobe porhlam
    darun
    mene cholar chesta korbo

  7. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    তোমার হৃদয়ে আমি গরু হয়ে ঘাস খাই

    প্রেমে পড়লে মানুষ অনেক কিছুই পারে।
    ধন্যবাদ আপনাকে।

  8. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    সরস, আগেও কোথায় যেন পড়েছি বলে মনে হচ্ছে

  9. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার লেখাটি খুব ভাল লেগেছে – একেবারে ঠি আমার মনের কথাগুলোই লিখেছেন।
    প্রিয় কবিকে শুভেচ্ছা রইল। ভাল থাকুন, ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top