Today 01 Dec 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

দি ওল্ড ম্যান এন্ড দি সী – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে – ৫

লিখেছেন: হামি্দ | তারিখ: ০৭/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1284বার পড়া হয়েছে।

‘আমি সারডিন পোনা মারতে গেলাম। এখন সবগুলো পোনা একসাথে বরফ দিয়ে রেখে দিব। সকালে আমরা ভাগ করে নিব। এখন যাই। আবার এসে তোমার কাছে বেসবলের খবর শুনব’- একটানা বলে যায় বালকটি।

‘দেখে নিস, আমেরিকানরা হারতে পারে না।’

‘কিন্তু আমি ক্লিভল্যান্ড দলের ভারতীয়দের ভয় পাচ্ছি।’

‘আমেরিকানদের উপর বিশ্বাস রাখিস বাপ! ডি ম্যাগিও’র মত তারকা আমাদের আছে।’

‘কেবল ক্লিভল্যান্ডের ভারতীয়ইদেরই নয়, ডিটরয়েট দলের বাঘা বাঘা খেলোয়ারদের নিয়েও আমার ভয় আছে।’

‘এতো ভয় পেলে কি চলবে? দেখিস শেষে আবার সিনসিনাটির দল রেডস আর ঐ কীযে বলে সিকাগুর হোয়াইট সক্স দলকেও ভয় পেতে শুরু করিস নে যেন আবার।’

‘তুমি পেপারটা ভালো করে পড়তে থাকো। আমি এসে সব খবরাখবর শুনবো তোমার কাছে।’

‘আমরা কি পঁচাশি সংখ্যাটা দিয়ে লটারীর টিকেট কিনে একটা বাজি ধরতে পারি না? তুই কী মনে করিস, কিনবো একটা? কাল কিন্তু পঁচাশি দিন পূর্ণ হচ্ছে’ – বলল সান্তিয়াগো।

‘তা করা যায়। কিন্তু তোমার সাতাশি দিনের বিশাল রেকর্ডটা ভাঙ্গার ব্যপারে কী ভাবছো?’ জিজ্ঞেস করে বালকটি।

‘এরকম ঘটনা দু’বার ঘটে না। আচ্ছা পঁচাশি নাম্বারের লটারিটা পাওয়া যাবে তো?’

‘আমি একটার জন্য ফরমাশ দিতে পারি।’

‘একটা কাগজের টুকরা। তার জন্য লাগবে আড়াই ডলার। কার কাছ থেকে ধার করতে পারি?’

‘অনেক সোজা। আড়াই ডলার ধার করা কোনো ব্যাপারই না।’

‘সেটা ঠিক আছে। আমিও পারবো। কিন্তু আমি যতটা সম্ভব ধার-কর্জ আর ঋণ করা এড়িয়ে চলতে চাই। কারণ আজকে যদি তুই ধার দেনা করা শুরু করবি তো কাল ভিক্ষাও করতেও তোর আটকাবে না’ – একটানা বলে যায় বুড়ো।

‘চাঙ্গা থাকো, কোন সমস্যা নাই। কিন্তু মনে থাকে যেন এটা সেপ্টেম্বর মাস’, বলল বালকটি।

‘এমাসেই বোঝা যায় কে কত পটু মাছ মারায়! আরে মে মাসে তো যে কেউ মাছ ধরতে পারে!’

‘ঠিক আছে, এখন আমি সারডিন পোনা মারতে গেলাম,’ বলে বেগিয়ে গেল বালকটি।

বালকটি যখন ফিরে এলো বুড়ো তখন কেদারায় বসে ঘুমুচ্ছে। সূর্য ঢলে পরেছে। বালকটি বুড়োর বিছানা থেকে সেনাবাহিনীর পুরনো কম্বলটা নামিয়ে কেদারার পিছন থেকে বুড়োর কাঁধের উপর দিয়ে ঢেকে দিল। অদ্ভূত দুটো কাঁধ বুড়োর। এবয়সেও অনেক শক্ত। গলাটাও অনেক মজবুত আর এখন ঘুমন্ত অবস্থায় মাথাটা ঝুঁকে থাকায় বলিরেখাগুলোও তেমন চোখে পরছে না। পরনের কাপড়ে অনেকগুলো তালি দেয়া যা তার নৌকার পালের কথাই মনে করিয়ে দেয়। সূর্যের আলো পরে নানা আকৃতির তালিগুলো আরও বিবর্ণ লাগছিল। বয়সের ভারে নুয়ে পরা মাথায় দু’টি ঘুমন্ত চোখ। এ অবস্থায় চেহারায় কোনো প্রাণ আছে বলে মনে হচ্ছে না। সংবাদপত্রটি হাটুঁর উপর পরে আছে। একটি হাত চাপা দিয়ে রেখেছে সেটি । তাই বিকেলের বাতাসে উড়ে যাচ্ছে না। পা দু’টি তার খালি।

সান্তিয়াগোকে এ অবস্থায় রেখে চলে আসে বালকটি। তারপর আবার যখন সে ফিরে এলো বুড়ো তখনও ঘুমুচ্ছে।

‘ওঠো’ বলে বালকটি তার হাঁটু ধরে ঝাকানি দিল। বুড়ো চোখ খুলল। কিছুক্ষণের জন্য মনে হচ্ছিল বুড়ো তাকিয়ে আছে কোনো সুদূর থেকে । কিন্তু পরক্ষণেই হাসলো সে। তারপর জিজ্ঞেস করলো, ‘কী নিয়ে এলি?’

‘রাতের খাবার নিয়ে এসেছি। আমরা এখন রাতের খাবার খাবো।’

‘আমার তো তেমন খিধে পায় নি’ – বলে বুড়ো।

‘ আসো খেয়ে নেই। না খেলে তো তুমি মাছ ধরতে যেতে পারবে না।’

‘তা আমি পারবো।’ উঠে দাঁড়িয়ে পত্রিকাটি ভাঁজ করতে করতে বলে বুড়ো। তারপর সে কম্বলটি ভাঁজ করেত যায়।

‘কম্বলটি গায়েই থাক। আর আমি বেঁচে থাকতে তোমাকে না খেয়ে মাছ ধরতে যেতে দিব না’ – বলল বালকটি।

‘তাহলে অনেক দিন বেঁচে থাক আর নিজের যত্ন নে’- বলে বুড়ো। তারপর জিজ্ঞেস করে তাহলে এখন আমরা কী খাচ্ছি?’

‘কালো মটরশুটি এবং কাঁচকলা ভাজি আর ভাত। সাথে অল্প কিছু মাংসের ঝুলও আছে।’

দুই বাটি ওয়ালা একটি টিফিনক্যারিয়ারে করে বালকটি চত্বর থেকে খাবার নিয়ে এসেছে। পকেটে করে রুমাল দিয়ে পেঁচিয়ে দুই সেট চামচও নিয়ে এসেছে। টেবিল চামচ, কাটা চামচ আর চা চামচও সবই এনেছে।

‘এই খাবার কে দিলো?’

‘রেস্টুরেন্টের মালিক মরটিন দিয়েছে। ‘

‘আমার তাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিৎ’

‘তোমার আর ধন্যবাদ দিতে হবে না। ধন্যবাদ আমি তাকে দিয়েই এসেছি’ – বলে বালকটি।

‘সে আরও অনেক বার এভাবে আমাদের খাবার দিয়েছে। বড় একটা মাছ ধরতে পারলে পেটির টুকরাটা তাকে দিতে হবে’ – বলল বুড়ো।

‘হা, তা দেওয়া উচিৎ।’

‘কেবল মাছের পেটি না, তাকে আমার আরও অনেক কিছুই দেওয়া উচিৎ। সে সবসময় আমাদের কথা ভাবে’ বলল বুড়ো।

‘সে দুটো বিয়ারও পাঠিয়েছে। ‘

‘টিনের কৌটার বিয়ার আমার খুব প্রিয়।’

‘আমি জানি । কিন্তু এখন বোতলের বিয়ারই খেতে হবে। বোতলগুলো আবার ফেরত দিয়ে আসতে হবে।’

‘তুই আমার জন্য অনেক কিছু করিস। যাক এখন কি খাওয়া শুরু করবো? ‘ জিজ্ঞেস করলো বুড়ো।

‘আমিও সেটাই জিজ্ঞেস করছি। তুমি না বসা পর্যন্ত খাবারের বাটি খুলবো না’ – বলল বালকটি।

‘এইতো আসছি। হাতমুখ ধুতে আর কতক্ষণ লাগবে’ – বলল বুড়ো।

চলবে……………..

১,৩৩৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
ভবের এই খেলাঘরে খেলে সব পুতুল খেলা/ জানি না এমন খেলা ভাঙে কখন কে জানে................. খেলা ভাঙার অপেক্ষায় এই আমি এক অদক্ষ খেলোয়ার ............
সর্বমোট পোস্ট: ৫০ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২২৭ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-১০-২৯ ০৯:২৩:৫৯ মিনিটে
banner

৮ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    অনুবাদ গল্প ভাল লাগল

  2. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার।চলুক লেখা।

  3. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    বালকটি যখন ফিরে এলো বুড়ো তখন কেদারায় বসে ঘুমুচ্ছে। সূর্য ঢলে পরেছে। বালকটি বুড়োর বিছানা থেকে সেনাবাহিনীর পুরনো কম্বলটা নামিয়ে কেদারার পিছন থেকে বুড়োর কাঁধের উপর দিয়ে ঢেকে দিল। অদ্ভূত দুটো কাঁধ বুড়োর। এবয়সেও অনেক শক্ত। গলাটাও অনেক মজবুত আর এখন ঘুমন্ত অবস্থায় মাথাটা ঝুঁকে থাকায় বলিরেখাগুলোও তেমন চোখে পরছে না। পরনের কাপড়ে অনেকগুলো তালি দেয়া যা তার নৌকার পালের কথাই মনে করিয়ে দেয়। সূর্যের আলো পরে নানা আকৃতির তালিগুলো আরও বিবর্ণ লাগছিল। বয়সের ভারে নুয়ে পরা মাথায় দু’টি ঘুমন্ত চোখ। এ অবস্থায় চেহারায় কোনো প্রাণ আছে বলে মনে হচ্ছে না। সংবাদপত্রটি হাটুঁর উপর পরে আছে। একটি হাত চাপা দিয়ে রেখেছে সেটি । তাই বিকেলের বাতাসে উড়ে যাচ্ছে না। পা দু’টি তার খালি।++++++++++++++

    চমত্কার বর্ণনা হামিদ ভাই । ধন্যবাদ । শুভেচ্ছা জানবেন।

  4. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগছে। চলুক ….

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top