Today 01 Jul 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

দুঃসাহসী শাহীন (পর্ব-২১)

লিখেছেন: কাউছার আলম | তারিখ: ০৫/০৮/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1298বার পড়া হয়েছে।

॥ পেয়ে গেলো ক্লোরোফরম ॥

পরদিন সকালে একরাশ চিন্তা মাথায় নিয়ে বিছানায় বসে ভাবতে থাকে শাহীন। শ্যামলী নাস্তা নিয়ে রুমে ঢুকে। শাহীনকে ডেকে নাস্তা খেতে বসায়। নাস্তায় মন বসে না শাহীনের। শ্যামলী তার এ অবস্থা দেখে মনে করে, হয়তো রাতে কোনো খারাপ স্বপ্ন-টপ্ন দেখেছে। যা এ মুহূর্তে খুবই স্বাভাবিক। এছাড়া শ্যামলী নিজেও শাহীনের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিঘœ। এ মুহূর্তে শাহীনকে শান্ত্বনা দেয়ার কোনো ভাষাও খুঁজে পায় না শ্যামলী। নীরবেই থালাবাটি নিয়ে চলে যায় রান্নাঘরে। কিছুক্ষণ পরই শ্যামলী ফিরে এসে সিন্দুকটা খোলে। সিন্দুকের ভিতর থেকে অনেকগুলো কাগজপত্র নামিয়ে ভাঁজ করছিল শ্যামলী। এমন সময় শাহীন শ্যামলীর একেবারে কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে শ্যামলীর কাজ এবং সিন্দুকের ভিতরের জিনিসপত্র দেখছিল। শাহীনের চোখ পড়ে, সিন্দুকের ভিতরের ছোট্ট একটি কাচের বোতলের দিকে। ভাবতে থাকে, এই ছোট্ট বোতলটি সিন্দুকের ভিতরে কেনো? কী থাকতে পারে এতে? তখনই মনে পড়ে, রাতে স্বপ্নে দেখা ক্লোরোফরমের কথা। প্রশ্ন জাগে, এগুলোও সেই ক্লোরোফরম না তো? তার কৌতূহল আরো তীব্রতর হয়। কিছুক্ষণ সে গভীরভাবে চিন্তা করে, কিভাবে জানা যায়। এরপর কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বোতলটির প্রতি ইশারা করে, শ্যামলীকে জিজ্ঞেস করে,
– খালা, ঐ ছোট বোতলটায় কি? কোনো মিষ্টি ওষুধ না কি? আমাকে একটু দিবা?
– শ্যামলী বোতলটার দিকে আড় চোখে দৃষ্টি দিয়ে জিজ্ঞেস করে, এইডার দিকে আবার তোর নজর গেল কেমনে?
– কেমনে আবার, আমি কি কানা না কি?
– দূর  পোলা, আমি কি তোরে কানা কইছি?
– তাইলে তুমি রাগ কর কে?
– আরে, রাগ নারে – রাগ না। এইগুলি তোর খাওনের মিষ্টি ওষুধ না। এইগুলি  অইলো গিয়া মরার ওষুধ।
– মরার ওষুধ আবার কেমন? শাহীন জিজ্ঞেস করে।
– হ, মরারঅইতো, এইডার গন্ধেই মানুষ মরার মতো হইয়া যায় – বুঝলি?
– শাহীন কিছুই না বুঝার ভান করে বিস্ময়ের স্বরে বলে, ও মাগো! কি কও তুমি?
– দূর পোলা, কামের সময় আইছস প্যাচাল পারতি। এইগুলি অইলো গিয়া কোলোফরম, বুঝলি? মনে কর  এই বোতলডার ছিপি খুইলা কেউর নাকে-মুখের সামনে ধরলেই বা একটা কাপড়ে এইডা থেকে একটু লাগাইয়া নাকে-মুখে চাপ দিলেই বাস, হের দফা রফা। এক্কেবারে অজ্ঞান।

শ্যামলীর মুখে ‘কোলোফরম’ শুনেই শাহীন এবার নিশ্চিত বুঝে নেয় এই সেই ক্লোরোফরম, যার জন্য সে পাগলপাড়া। সাথে সাথে তার দেহ-মনে তীব্র শিহরণ জাগে। তারপরও নিজেকে স্বাভাবিক করার করার চেষ্টা করে। মনে মনে “ইউরেকা” বলতে বলতে এবার সে ভাবে, কি করে এ জিনিস লুকানো যায়। অমনি এক বুদ্ধি আসে তার মাথায়। বুদ্ধি মতো দ্রুত একটা পরিকল্পনা করে ফেলে। পরিকল্পনা মতো সে এক হাতে টেবিল থেকে পানি ভর্তি জগটি এবং অপর হাতে নেয় পানি পান করার গ্লাস। এরপর পানি পান করার ভান করে সিন্দুকের কাছে যায়। শ্যামলী তার কাজ শেষ করে সিন্দুকটি বন্ধ করবে, এমন সময় শাহীন হাত থেকে মেঝের ওপর ফেলে দেয় পানিভর্তি প্লাস্টিকের জগটি। সাথে সাথে একি করলি! বলে শ্যামলী সিন্দুকের ঢাকনাটা বন্ধ না করেই দৌড়ে বারান্দায় যায়, ঝাড়ু আনতে। সে সুযোগে শাহীন দ্রুত ক্লোরোফরমের বোতলটি তুলে সিন্দুকের পিছনে লুকিয়ে ফেলে। এরপর পা দিয়ে মেঝের পানি বাইরের দিকে ঠেলতে ঠেলতে শ্যামলীর হাত থেকে ঝাড়ৃটি কেড়ে নেয়। পাকা কাজের ছেলের মতো পানি পরিষ্কার করে আর বলে, “খালা, তুমি তাড়াতাড়ি সিন্দুকের ঢাকনাটি লাগিয়ে চলে যাও, তোমার কাজে।” শ্যামলী শাহীনের কাজের দিকে খেয়াল করতে করতে সিন্দুকের ঢাকনা বন্ধ করে তালা লাগিয়ে চলে যায় বাইরে।

শ্যামলী বাইরে যাওয়ার পর থেকে শাহীনের দেহ-মনে শুরু হয় নতুন তোলপাড়। ভয় এবং উত্তেজনায় কাঁপতে থাকে সে। একবার সে ভাবে মুক্তির চাবিকাঠি এখন তার হাতে। এ চাবি দিয়ে সে অচিরেই মুক্ত হবে এ বন্দীশালা থেকে। মুক্ত করবে তার সাথীদেরকেও। এরপর ধরিয়ে দেবে সব আজরাইল নামের নরপশুদেরকে। আবার ভাবে, যদি এর আগেই কোনো অবস্থায় ক্লোরোফরমের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় ; তাহলে কী ভয়াবহ পরিস্থিতিই না সৃষ্টি হবে। কালকের পরিবর্তে আজকেই শুরু হবে আরো নতুন কিছু ঝামেলা। সব মিলিয়ে যদি এ জাহান্নাম থেকে বের হতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কালকেই তাদেরকে পাঠিয়ে দেয়া হবে ভিনদেশী জল্লাদদের কাছে। নিভে যাবে জীবনের আশার বাতি। হারিয়ে যাবে ওরা সবাই অনন্ত আঁধারে। ওদের মা-বাবা, ভাই-বোন কেউ জানবেও না – ওরা দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস এক অন্ধার বাড়িতে বন্দী ছিলো। ষষ্ঠ মাসে – ওদেরকে পাচার করে দেয়ার পূর্বমুহূর্তে ওরা হাতে পেয়ে গিয়েছিলো মুক্তির বাতি। কিন্তু সে বাতি জ্বালানোর মুহূর্তে হঠাৎ ধমকা হাওয়ার ঝাপটায় আবারও নিভে যায় সে বাতি। এরপর ওরা হারিয়ে যায় অনন্ত আঁধারে। এমনি হাজারো ভাবনার পর সে সিদ্ধান্ত নেয়, যে কোনো কৌশলে আজকের সারাটা দিনই শ্যামলীর দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফিরিয়ে রাখবে।

এমনিতেই ঐ দিন শ্যামলীর কাজের প্রচণ্ড চাপ। সিন্দুকের পিছনে দৃষ্টি দেয়ার সুযোগ এবং সম্ভাবনা কোনোটাই নেই। তারপরও শ্যামলী যাতে রুমে এসে অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দিতে না পারে, সেজন্যে শাহীন এটাসেটা বলে তাকে ব্যস্ত রাখে। তবুও শাহীনের প্যাঁচালে শ্যামলী কোনো রকম বিরক্ত বোধ করে না। বরং শাহীন চিরদিনের জন্যে তার কাছ থেকে চলে যাচ্ছে এবং নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে ভেবে সে শত ব্যস্ততার মাঝেও শোকানুভব করছে। তবে শাহীনকে কিছু না বললেও, তার প্যাঁচাল শুনে শ্যামলী মনে মনে ভাবে – “হায়রে কপাল, পোলাডায় যদি জানতো, আগামীকাল তারে কোথায় নিয়া যাইবো ; তাইলে কি আর এইসব প্যাঁচাল পারতো?” ওদিকে শাহীন শ্যামলীর হাবভাব দেখে মনে মনে বলে, হায়রে শ্যামলী খালা, এই জাহান্নামের মাঝেও তুমি আমার কাছে ফুলবাগানের মালীর মতো। আমাকে তুমি ফুলের মতোই পরিচর্যা করছো। কিন্তু এ জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্যে না জানি তোমাকেও অজ্ঞান করতে হয়।

শ্যামলীকে অজ্ঞান করার কথা মনে হতেই, শাহীন আবার পড়ে যায় মারাত্মক দুদোল্যমানতায়। তার এক মন বলে, তিনি তোমার মা না হলেও মায়ের জাতি। মায়ের মতোই তোমার পরিচর্যা করছেন। মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন এ বন্দীশালায় তোমাকে তিনি আদর-সোহাগে ভুলিয়ে রাখছেন। তুমিও তাকে খালা বলে ডাকছো। তাঁর সাথে সন্তানের মতো আচরণ করছো। এতোকিছুর পরও কিভাবে তুকি তাঁকে অজ্ঞান করার কথা ভাবতে পারো? এটা কি তোমার চরম বিশ্বাসঘাতকতা নয়? আবার তার মনই তাকে প্রশ্ন করে, এ আজরাইলদের হাত থেকে তুমি যে কোনো উপায়ে মুক্ত হও ; তা কি তোমার এ শ্যামলী খালা কামনা করেন? অথবা এ জাহান্নাম থেকে মুক্তির যে পরিকল্পনা তুমি করেছো, তোমার মাতৃসম শ্যামলী যদি তা জানতে পারেন, তাহলে তিনি কি তোমাকে বেরিয়ে যেতে সহযোগিতা করবেন? না কি ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন? উত্তর আসে, ধরিয়ে না দিলেও ; অন্তত সহযোগিতা তিনি একটুও করবেন না। তাহলে শ্যামলী কি চায় না যে, তোমাকে আন্তর্জাতিক কসাইদের ছুরির নিচেই পাঠিয়ে দেয়া হোক? যদি এই চায়, তাহলে কী করে সে তোমার মায়ের মতো হতে পারে? কোনো মা কি সন্তানের এমন পরিণতি চিন্তা করতে পারেন? অথবা সন্তানের এমন পরিণতির কথা শোনার পর কোনো মা কি স্বাভাবিক থাকতে পারেন? এসব চিন্তার এক ফাঁকে শাহীন লক্ষ্য করে, শ্যামলীর চেহারায় কেমন যেনো চিন্তার একটা ভাঁজ উঠানামা করছে। এমতাবস্থায় শ্যামলীকে কেন্দ্র করে তার এ ভাবনা অমীমাংসিতই থেকে যায়।

১,৩৯৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি একজন ছাত্র। কম্পিউটার আমার একটা প্রিয় বিষয়। ব্লগিং করতে আমার ভাল লাগে, ব্লগিং করে অনেক কিছু শেখা যায়।
সর্বমোট পোস্ট: ৩৫ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৬২১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-৩০ ১৫:২৫:১৫ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    দুঃসাহসী শাহিন বেশ জমে উঠেছে। পড়তেও খুব মজা লাগছে।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    কাউছার ভাই ভাল লাগছে। সাথে আছি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top