Today 01 Dec 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

দ্যা ব্লাড ক্যাভ

লিখেছেন: এম আর মিজান | তারিখ: ০১/০৭/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1079বার পড়া হয়েছে।

পূর্ব প্রকাশের পর……….

এবেল তার মেশ পালকে ভালোবাসে।ভালোবাসে নিজেকে।তার চেয়েও ভালোবাসে পিতা আদাম এবং মা ইভকে ও তাদের আদর্শ কে।সবার চেয়ে এবং সর্বাপেক্ষা ভালোবাসে তার মহান প্রভুকে।মহান স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহ্‌ কে।এবেল ভালোভাবে স্থির দৃষ্টে তার মেশ পালের দিকে তাকিয়ে আছে।দেখছে এক এক করে।কোন মেশটা সর্বাপেক্ষা শ্রেয় আমার রবের জন্য। আমি অবশ্যই চাই আমার রব আমার প্রতি সন্তুষ্ট হোক।আকলিমাকে বিয়ে করাটাই আমার উদ্দেশ্য হতে পারেনা।আমার প্রতিপালক সন্তুষ্ট হয়ে যদি আমায় দেন তবেই আমি সুখী। হ্যা, মনে হচ্ছে ঐ মেশটা! নাহ,ঐতো ঐ মেশটা বেশ সবল মনে হচ্ছে! এভাবে এবেল এক এক করে বাছাই করতে থাকে।সমস্ত মেশ পাল তন্য তন্য করে সবচেয়ে সেরা মেশ খানাকে নিয়ে এবেল হাজির হয় পিতা আদামের সামনে।অপরদিকে কেন সামান্য কিছু জব নিয়ে আসে আটি বেধে।যা ছিল তার ক্ষেতের সর্ব নিকৃষ্টতম। পিতার উপস্থিতিতেই সুদূরে রাখা হলো উৎসর্গের উদ্দেশ্যে।তিনজনই অপেক্ষমাণ। সবার দৃষ্টি একই দিকে।উৎসর্গ কিভাবে গ্রহন করা হবে সেটা দেখার আগ্রহে একে অন্যের মুখ চাইছে।সবার মনেই নিজস্ব চিন্তা। কার উৎসর্গ গৃহিত হবে।এবেলের নাকি কেনের।এবেল চিন্তিত তার রবের সন্তুষ্টি চিন্তায়।কেন ভাবছে ভিন্ন কিছু।কিছুক্ষণ পরে যা ঘটলো তার জন্য অপ্রস্তুত ছিল সবাই।মহাবিশ্বের মহাপতির মহাবিস্ময় সাধিত হয়।পলকের অগোচরে অথচ সবাই তাকিয়ে ছিলো! উর্ধ্ব আকাশ হতে একটি জ্বলন্ত আগুনের কুন্ডলী এগিয়ে এলো!ঘোরের বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে পিতা আর পুত্রদ্বয়। আগুনের কুন্ডলী পাশাপাশি রাখা মেশ এবং যবের মধ্য হতে মেশের উপর পতিত হলো।মহান রবের মহিমায় আগুন মেশকে ভস্মীভূত করে চলে গেল।যবের অবস্থায় যব পড়ে রইল।কেনের মুখে আধার নেমে ঘিরে ফেলেছে।সে আধারের ছাঁপ হৃদয় অব্দিও পৌছে যায়।পিতা আদাম এবং এবেল রবের প্রতি প্রচলিত ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।হাস্যোজ্জল মুখে পিতা আদাম কেনের দিকে এগিয়ে আসে।”বৎস কেন, এবার তুমি ফয়সালা মেনে নাও।”কেন ক্রোধে অগ্নিসর্মা।সে নিজের শরীর থেকে পিতা আদামের হাত ছিটিকে সরিয়ে দেয়।”নাহ অবশ্যই আমি এ ফয়সালা মেনে নিবোনা।এটা অবশ্যই আমাকে ঠকানো হচ্ছে।আমি এই সব কিচ্ছুই মানিনা।আমি ছাড়া আকলিমাকে এবেল বিয়ে করতে পারেনা।আমি অবশ্যই তোমায় হত্যা করবো এবেল।”এবেল কে উদ্দেশ্য করে কেনেরএই ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা পিতা পুত্রকে হতমান করে দেয়।উত্তেজিত অবস্থায় কেন প্রস্থান করে।সিদ্ধান্ত স্থিরকরণ হয় আদামের।বোন আকলিমার সাথেই বিয়ে হবে বড় ভাই এবেলের।সময় তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলে।এর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক মহান স্রষ্টা। কিন্তু মানুষের নিয়ন্ত্রক করা হয়েছে নিজেকেই।কেন তার বাহিরে নয়।তার ঘুমন্ত বাসনা জাগ্রত সর্বদাই এখন।এবেল কবেই ভুলেছে সব।কেন শুধু তার মাহেন্দ্রক্ষণ খুঁজে ফিরেছে।বিরান পাহাড়ের উন্মুক্ত প্রান্তর। এবেলের উপর কেনের আক্রোশ আজ আচরে পড়ে।হাতে সুমজবুত পাথর।উদ্দেশ্য এবেল।”আমি সমস্ত অন্যায় আর অবাধ্যতার ব্যাপারে মহান প্রতিপালকের ভয় করি কেন।তোমারও অবশ্যই তাকে ভয় করা উচিত।”কেনের কর্নকুহরে ভাই এবেলের অসহায় অথচ সুদৃঢ় সত্য কথাগুলো পৌঁছে।তবে পৌঁছেনা বিবেক পর্যন্ত। পৌঁছেনা তার ইমান পর্যন্ত। তীব্র আঘাতে কর্নে রক্তের নহর ছুটে যায়।চোখের কোটর হতেও বের হয় রক্তের ধারা।আবারো আঘাত! সাড়া পাওয়া যায়না এবেলের।দেহটা কিছুক্ষনে ছটফট করে নিথর হয়ে যায়।রচে যায় সৃষ্টির একটি বিকৃত ইতিহাস! খুনের ইতিহাস!হত্যার ইতিহাস!রক্তের ইতিহাস!আরাফা হয়ে যায় ইতিহাস!যুগে যুগে ইতিহাসের সাক্ষ্যি হয়ে রয়”দ্যা ব্লাড ক্যাভ”নামে।সৃষ্টির প্রথম প্রজন্মের প্রথম ইতিহাস হয়, “দ্যা ব্লাড ক্যাভ।”

সমাপ্ত

১,০৫৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
এম আর মিজান।শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানায় জন্ম।১৯৮৯ সালের ০৫ ই ফেব্রুয়ারি। লেখালেখিতে হাতে খড়ি ক্লাস সেভেন থেকে।আশাহত হওয়াতে ছোট বেলার কোন লেখাই অবশিষ্ট নেই।গান লিখাই ছিল প্রধান। গাইতে চাইতাম, সুযোগ হয়ে ওঠেনি। বিভিন্ন নাট্যদল ছিল প্রিয় সংগ।মনের তাড়নায় লিখি।প্রিয় স্থান :বরিশাল। প্রিয় সৃতি:জান্নাতুল ফেরদৌস। দু:খময় সৃতি:জান্নাতুল ফেরদৌস। প্রিয় ডাক:নানুর নিঝু ডাক।প্রিয় বন্ধু:আতিকুর রহমান। প্রিয় উক্তি:নিজের"পৃথিবীর সবাই তোমাকে কোন না কোন কারনেই ভালো বাসে,তুমিই তোমাকে কারনে অকারনে বোঝ এবং ভালো বাস।প্রিয় প্রত্যাশা :মৃত্যুর অপেক্ষা....
সর্বমোট পোস্ট: ৫৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৬-১২ ১৪:০৬:৩১ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল শেষ পর্যন্ত

    ধন্যবাদ সুন্দর ঘটনাটি আমাদের সামনে তুলে ধরার জন্য।

  2. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    nice

    ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,বেশ
    ভালো লাগলো পড়ে

    শুভ কামনা থাকলো

  3. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    ধারাবাহিকভাবে খুব সুন্দর করে মানব সৃষ্টির আদি রহস্য উপস্থাপন করেছেন । প্রতিটা পর্বেই ভালোলাগা ছিল ! এ পর্বেও ব্যতিক্রম নয় ! শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানবেন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top