Today 28 Sep 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ধারাবাহিক উপন্যাস “নিয়োগ পত্র”-ত্রয়োদশ পর্ব

লিখেছেন: মিলন বনিক | তারিখ: ১৮/১১/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 883বার পড়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ পর্ব
(চৌদ্দ)
গত রাতে ভালো ঘুম হয়নি।
বুকের ব্যাথাটা খুব কষ্ট দিচ্ছে। কাউকে বলতে ইচ্ছে করে না। পাশের ফার্মেসী থেকে ঔষুধ কেনা হয়। কুঁকড়ে বুক চেপে ধরে মাগো বলে আর্তনাদ করে উঠে। কেউ জিজ্ঞাসা করলে প্রতারকের মত জবাব দিতে হয়। কিছু না। আজই একজন ভালো ডাক্তার দেখানো দরকার।
মাঝে মধ্যে দুঃস্বপ্নের ঘোর লাগে। আর বুঝি বেশীদিন বাঁচবো না। মৃত্য ভয়। নিছক মনের দুর্বলতা। জীবনে বাঁচার আশাও কম নয়। অনেকগুলো কাজই বাকী পরে আছে। তা তো শেষ করতে হবে। হিসাব করে দেখতে ইচ্ছে করে জীবনের আর ক’টা দিনই বা বাকী। তা তো কেউ বলতে পারে না।
চৌরঙ্গীর মোড়ে এসে দাাঁড়ায় তিমির। বাসের অপেক্ষা। শম্পার কথা মনে হয়। বাবা বলেছিল-ভগবানের উপর ভরসা রাখ। একটা কিছু নিশ্চয় হয়ে যাবে। অমাবস্যার দিন গভীর রাতে জন্ম হয়েছিল বলে দাদু নাম রেখেছিল তিমির। বলেছিল এই তিমিরই ঘর আলোকিত করবে। সেই জন্মের অন্ধকার এখনও কাটেনি। এই ক’দিনে বাড়ী থেকে ফিরে টিউশানিগুলোর খোঁজ নিয়েছে। নয়তো নতুন মাষ্টার রেখে দেবে। দু’টো টিউশানিতে ফেব্রুয়ারী থেকে যেতে বলেছে। আজ মাত্র বাইশ তারিখ। আট দিন বড় দীর্ঘ সময়। তাও এভাবে। হাতে তেমন টাকা পয়সাও নেয়।
সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই করছে।
সামনে একটা ট্যাক্সি এসে দাঁড়ায়। মফিজই ড্রাইবারকে গাড়ী থামাতে ইশারা করেছে। ট্যাক্সির একপাশ থেকে গলা বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল মফিজ।
– কি রে, দাঁড়িয়ে আছিস কেন।
– বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। তুই কোত্থেকে।
– এই ঘুরা ফেরা আর কি। উঠে বস। সামনে নামিয়ে দেবো।
তিমির এড়াতে গিয়েও কেন জানি সামনের সীটে বসে পরল।
– কি ভাই, টিউশানির বাজার কেমন। মামুন যেন অনেকটা ব্যাঙ্গ করে জিজ্ঞাসা করল কথাটা। তিমির হাসল। অভাগার হাসি। বলল- আজকাল টিউশানিতেও কমপিটিশন।
– শালার সব জায়গাতেই একই অবস্থা। বলল সোহেল। আমাদের দিনকালও ভালো যাচ্ছে না।
আপনাদের তো মুলধন নেই। শুধু ঝুঁকিটা একটু বেশী। তিমির হাসল। তারপর পিছনে ফিরে মফিজের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, কি বন্ধু কোন প্ল্যান টø্যান আছে নাকি।
– বনের বাঘকে কখনও শিকার করতে দেখেছিস।
– না।
– ছবিতে।
– মন পরছে না।
– বয়স কত।
– তোর সমান। কিন্তু এসব কেন।
– তাহলে।
– তাহলে আবার কি।
– বাঘ এক জায়গায় ঘাপটি মেরে বসে থাকে। যেই শিকার সামনে আসে অমনি ঝাঁপিয়ে পরে। ব্যাস..কেল্লা ফতে।
ট্যাক্সি চলছে। এদিকের রাস্তাটা একটু অন্ধকার। লোকজনের ব্যাস্ততা তেমন নেই। আবাসিক এলাকা। দু’ধারে ছোট খাট উঁচু নীচু পাহাড়ের সারি। সোসাইটি রোড। বড় রাস্তাটা সোজা চিড়িয়াখানা পর্যন্ত চলে গেছে। তিমির হাতঘড়ি দেখে। রাত আটটা। মফিজকে জিজ্ঞাসা করে-চিড়িয়াখানায় যাবি নাকি।
– না। বল্লামতো। একটু ঘুরছি। তোর তাড়া আছে নাকি।
– না। ১লা ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু।
– তবে ঘড়ি দেখছিস যে।
– হাতে ঘড়ি আছে তাই। আমাকে নামিয়ে দে।
– আমিও চকবাজারের দিকে ফিরে যাবো। যাবার সময় নামিয়ে দেবো।
ট্যাক্সিটা ধীরে চলছে। আরও কিছুদুর এগিয়ে গেলো সামনে। পেছন থেকে কার ইশারায় ট্যাক্সি থেমে গেল। ওরা তিনজন নেমে এলো রাস্তায়। মফিজের কঠোর হুসিয়ারী। চুপ করে পেছনের সীটে বসে থাক। মফিজের এরকম কঠিন আদেশ আর কখনও শোনেনি তিমির। ইচ্ছা হচ্ছে এক দৌড়ে পালিয়ে যেতে। কিংবা কাউকে চিৎকার করে বলতে। মাঝে মাঝে দু’একজর পথচারী। তাদের এসব কিছুই খেয়াল নেই। হাতে গোনা গুটিকয়েক গাড়ী কেবল এদিক ওদিক ছুটছে। স্টার্ট বন্ধ হওয়ায় গাড়ীর হেড লাইটও জ্বলছে না। স্ট্রীট লাইটগুলো শুধু স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আলো নেয়। দালানের ফাঁক গলে যেটুকু আলো রাস্তায় পরছে তাতে চোখের ব্যামো না থাকলে স্পষ্ট বুঝা যাবে কে কি করছে। বা কি করতে যাচ্ছে।
ওরা একটা রিক্সার গতিরোধ করল। মামুন পকেট থেকে পিস্তল উঁচিয়ে ধরল। মুহুর্তেই একটা মেয়েলী কন্ঠের আর্তনাদ শোনা গেল। মেয়েটির পাশে আধবয়সী এক ভদ্রলোক। প্রচন্ড ঘুষিতে শরীরটা এলিয়ে পরেছে মেয়েটির কাঁধে। ট্যাক্সির কাছ থেকে মাত্র দশ বার হাতের দুরত্ব। হালকা আলোয় মেয়েটিকে চিনতে কষ্ট হচ্ছেনা। শেলী বলে চিৎকার দিতেই তিমির নিজেকে আড়াল করল। গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। ততক্ষনে সব শেষ। মেয়েটি নিঃস্ব হয়ে গেছে। কান থেকে রক্ত ঝরছে।
চারদিক থেকে হৈ চৈ উঠল। ট্যাক্সির গতি মোড় নিল অন্যদিকে। খুব দ্রুত। যেখানে গিয়ে ট্যাক্সি থামল দেখল তিমির প্রায়ই অজ্ঞান অবস্থায় পরে আছে। মুখে রা শব্দটি নেয়। শুধু হা করে তাকিয়ে আছে। ভয় হচ্ছ শেলী যদি একপলক দেখে থাকে কিংবা চিনতে পারে।
সবাই একটা পরিত্যক্ত ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। একটা মাত্র রুম। আসবাবপত্র তেমন নেই। চার দেয়ালে স্যাঁত স্যাঁতে শেওলা জমে আছে। মাকড়সা আর ধুলি ময়লা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সর্বত্র। পাশে কোন বস্তি এলাকা আছে হয়তো। অনেকগুলো বিভিন্ন বয়সী মানুষের শোরগোল শোনা যাচ্ছে। অশ্রাব্য ভাষায় কি সব কথাবার্তা হচ্ছে। একজন পুরুষকে উদ্দ্যেশ্য করে একটা মেয়েলী কণ্ঠ বলছে-খালি হাতে আইছস ক্যান। খামু কি। খালি সোহাগ দিয়া পেট ভরবো না। আগে ট্যাহা লইয়া আয়, তারপর সোহাগ দিমু। যেমনে কস তেমনে খুশী কইরা দিমুনে। তয় মাগার আগে ট্যাহা দিতে হইবো।
তিমির একটা খাটে শুয়ে আছে। বিছানার উপর একটা মাদুর পাতা। ঘরে অন্য কাউকে দেখা যাচ্ছে না। খুব তৃষ্ণা পেয়েছে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না কাকে বলবে। অগত্যা মফিজকে বলল-এক গ্লাস পানি দিবি। মফিজ ডাকল- ভাবী—ও ভাবী। মফিজের গলায় মিষ্টি আহবান। বাইরে যে আর একটা ঘর আছে তিমির তা খেয়াল করেনি। বোধ হয় রান্না ঘর। ভাবী ছুটে আসে। জিজ্ঞাসা করে- কি হইছে।
ভাবী এ তোমার নতুন দেওর। পানি খাইবার চাই। শালা প্রথম দিনেই বেহুশ হয়ে গেছে। বলল মামুন। শালা কথাটা তিমিরের মনে খুব লাগল। একেতো ক’দিনের পরিচয়। সম্বোধনটা বড় বিশ্রি লাগছে। ভাবী জল নিয়ে আসে। তিমিরের হাতে দেয়। আংগুলের মৃদু স্পর্শ লাগে। মিষ্টি করে হাসল ভাবী। শ্যামলা রং। পরিপাটি স্বচ্ছ দু’পাটি দাত। হাসিটা বেশ লেগেছে। শরীরের ভাঁজে টান টান পেশী। কোথায় যেন একটা রহস্য লুকিয়ে আছে। নারীর রহস্য প্রকৃতির মতোই রহস্যাবৃত।
গ্লাস হাতে চলে যাচ্ছিল ভাবী। সোহেল পেছন থেকে ডেকে বলল-এই টাকাটা হাবিব ভাইরে দিও। ভাবী টাকাটা ব্লাউজের ভিতর গুঁজে নিল। মফিজ দু’টো পাঁচশো টাকার নোট তিমিরের হাতে দিয়ে বলল-এটা রাখ। হাত খরচ। বাকীটা পরে।
প্রত্যাখান করল তিমির। আমার লাগবে না। তোদের কিন্তু কাজটা মোটেও ভালো হয়নি। ঐ মেয়েটা আমার ছাত্রী শেলী। ইস্ বড্ড বোকামী করে ফেলেছি। আফসোস করল মফিজ। তোর ছাত্রী তা আগে বলিসনি কেন। তারপর হিং¯্র বাঘের মত তিমিরের কলার চেপে ধরে মফিজ। মামুন পকেট থেকে ধারালো ছুরিটার ট্রিগার চাপে। ছুরিটা গলার কাছ পর্যন্ত নিতেই গলা নামিয়ে মফিজ বলল-এ লাইনে কারও নাম বলতে নেই। চোখ কান বন্ধ রাখতে হয়। যেন কিছুই দেখিসনি, কিছুই শুনিসনি। আবার হিং¯্র গর্জন। কাউকে আমাদের নাম বলেছিস তো দ্বীতিয়বার মায়ের কোলে ফিরে যেতে পারবি না।
তিমির কাঁপছে। বন্ধু ভাবতে কষ্ট হচ্ছে মফিজকে। কলেজ জীবনে মফিজই একমাত্র বন্ধু যে তিমিরকে ছাড়া কখনও ক্যান্টিনেও যেত না। আজ একি চিত্র। বড় বিচিত্র মানুষের চরিত্র। কে শত্রু আর কে বন্ধু বুঝা মুশকিল।
চলবে——————–

৯২৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
একজন চাকরিজীবি। অবসরে লেখালেখি। সামাজিক দায়বদ্ধতাও আছে অনেকটা। তারই মধ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ভাবনার যোগফল এই প্রচেষ্টা। ভ্রমন, বই পড়া, গান শোনা প্রিয় শখগুলোর অন্যতম। আপনাদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা, পরামর্শ, গঠনমূলক সমালোচনা সবই মন্তব্য হিসাবে পেতে ভালো লাগে। মন্তব্য পেলে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো অনেক বেশী।
সর্বমোট পোস্ট: ৭০ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৬৯১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-২৮ ০৩:৪৬:৩৪ মিনিটে
banner

৯ টি মন্তব্য

  1. ওয়াহিদ উদ্দিন মন্তব্যে বলেছেন:

    ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়, কিন্তু মানুষকে চেনা কঠিন।
    ভাল লাগল।

  2. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    মানুষ চিনতে হয় স্বভাবে

    অনেক ভাল লাগা।

  3. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ ভাল লাগছে আপনার এই উপন্যাস পড়তে।আগের কিছু পর্ব বাদ পড়েছে।এখন সময় করে পড়ে নিব ইনশাআল্লাহ। আপনি ভাল থাকবেন।

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়ছি একটু একটু করে।

  5. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    কাশেম ভাইয়ের সাথে একমত ।

  6. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভয়ংকর চিত্র ফুটে উঠেছে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top