Today 02 Aug 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

নিকৃষ্ট বৈধ কাজ বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ ও প্রতিকার

লিখেছেন: আমির ইশতিয়াক | তারিখ: ০১/১১/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1199বার পড়া হয়েছে।

বিবাহ বিচ্ছেদের সাথে সাথে একটি দাম্পত্য সর্ম্পকের অবসান ঘটে। এর মাধ্যমে শুধু স্বামী-স্ত্রীর সর্ম্পকেরই অবসান ঘটে না, দুটি পরিবারের সমস্ত আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে সর্ম্পকের অবসান ঘটে। আমাদের সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ যদিও কোন অপরাধমূলক কাজ নয় এবং এর পেছনে ধর্মীয় সমর্থন আছে তথাপি এটা একটা নিকৃষ্ট বৈধ কাজ। তাই যতটা সম্ভব এই নিকৃষ্ট বৈধ কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়েই সমস্যার সম্মুখীন হয়। তবে বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে পুরুষের চেয়ে নারী সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়ে। কেননা যে নারী স্বামীর আয়ের উপর নির্ভরশীল, সে নারী যখন তালাকপ্রাপ্ত হয় তখন সে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? হয়তো বা তার বাবা-মা এখন বেঁচে নেই বা বৃদ্ধ। আর অনেকের হয়তো ভাই নেই বা যাদের ভাই আছে তারা যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। এ মূহূর্তে যদি ভাইয়েরা তাকে আশ্রয় দেয় তাহলে তাদের করুণার উপর বেঁচে থাকতে হবে। বাবা-মা, ভাইয়েরা তার অন্যত্র বিয়ে দিতে গিয়েও সমস্যার সম্মুখীন হয়। এমন অবস্থায় একজন তালাকপ্রাপ্ত নারী কত যে অসহায় তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবে না। অন্যদিকে পুরুষ কিন্তু তেমন সমস্যার সম্মুখীন হয় না। তারা ইচ্ছে করলে অন্য জায়গায় বিয়ে করতে পারে। আবার না করেও সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারে। কেননা পুরুষ কারো উপর নির্ভরশীল নয়। বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে সমাজ স্বামী-স্ত্রী উভয়কে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে। বিশেষ করে নারীরা হয় সমাজের উপহাসের পাত্র। অনেক তালাকপ্রাপ্ত নারীকে কটুক্তি করে বলে, কপাল পোড়া, কুলক্ষে, পোড়ামুখী ইত্যাদি। খুব কমক্ষেত্রেই পুরুষকে দোষারুপ করতে দেখা যায়। বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটি হচ্ছে সন্তান-সন্তুতি লালন-পালন, অভিভাবকত্ব, সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে। অনেক সময় এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আলাদলতের শরণাপন্ন হতে হয়। যার ফলে সন্তানরা অবহেলিত হয়। তারা মাতা-পিতার আদর, স্নেহ, ভালোবাসা ও জন্মগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এ কারণে এসব অবহেলিত সন্তানরা সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। যেমন- সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত দু’টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা তুলে ধরা যেতে পারে।
১.    বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ ও গুলতেকিন।
২.    সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেন মুহাম্মদ এরশাদ ও বিদিশা।
বিবাহ বিচ্ছেদের একাধিক কারণ আছে। সেই কারণগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তারপর কিভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ রোধ করা যায় সে চেষ্টা করতে হবে। তা না হলে আমাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হবে না। যেমন-
১.    যৌতুক: বিবাহ বিচ্ছেদের কারণগুলোর মধ্যে প্রথম যে কারণটির কথা উল্লেখ করা যায় তা হলো যৌতুক। যৌতুকের কারণে কত সংসার যে পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে তার কোন হিসাব নেই। অনেক কন্যা দায়গ্রস্থ পিতা-মাতা যৌতুক প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কন্যাকে বিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু পরবর্তীতে যারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যৌতুক প্রদান করতে পারেনি তাদের কন্যারা ঐসব যৌতুক লোভী স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হন।
২.    যৌন অসামঞ্জস্যতা: তারপর যে কারণে তালাকপ্রাপ্ত হতে পারে তা হলো যৌন অসামঞ্জস্যতা। অনেক অক্ষম পুরুষ আছে যারা যৌন মিলনে নারীকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিতে পারে না। অসৎ পথে চলে ও বিভিন্ন পতিতালয়ে গমন করে যৌন ব্যাধিতে ভুগছে। যার ফলে নারী স্বেচ্ছায় ঐসব পুরুষদেরকে ডির্ভোস দিতে বাধ্য হয়।
৩.    পরকীয়া প্রেম: পরকীয়া প্রেম নারী-পুরুষের সংসার ভাঙ্গনের অন্যতম একটি কারণ। পরকীয়া প্রেম ও বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যৌন অসামঞ্জস্যতার কারণেও হতে পারে। আবার মতের অমিল বা ভুল বুঝাবুঝির কারণে হতে পারে। বিশেষ করে ঐ সব সংসারে পরকীয়া প্রেম বেশী ঘটে যেসব সংসারে স্বামী-স্ত্রীর পৃথক বসবাস করে। যেমন বর্তমানে যারা সদ্য বিবাহ করে প্রবাসে চলে যায় তাদের ক্ষেত্রেই বেশির ভাগই দেখা যায় তার স্ত্রী অন্য পুরুষের হাত ধরে চলে গেছে। যার ফলে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।
৪.    নেশা: অনেক পুরুষ আছে যারা নেশা করে। দেখা যাচ্ছে তারা নেশা করতে গিয়ে সংসার চালাতে অক্ষম হয়ে পড়ছে। কখনো বা নেশা করে এসে স্ত্রীকে অযথা মারধর বা গালমন্দ করে। যার ফলে সংসারে অশান্তির সৃষ্টি হয়। ক্রমে ক্রমে সংসারে অশান্তি বেড়েই চলে। ফলে এক সময় বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে।
৫.    বহুবিবাহ: এটি বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম একটি কারণ। দেখা যাচ্ছে একজন পুরুষ যখন তার স্ত্রীর অসম্মতিতে অন্য একটি নারীকে বিয়ে করে তখন সংসারে অশান্তির আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। কারণ কোন নারীই চায় না তার স্বামীর সোহাগ অন্য কোন নারী পাক। নারী সব সহ্য করতে পারলেও সতীন সহ্য করতে পারে না। যার ফলে ঐ নারী এক সময় স্বামীকে ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
এভাবে আরো অনেক কারণ আছে যা স্বল্প পরিসরে এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তাই নারী-পুরুষের সকলের উচিত বিবাহ বিচ্ছেদের কারণগুলো চিহ্নিত করে সমঝোতার মাধ্যমে তার সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। কথা আছে, ‘সংসার সুখরে হয় রমণীর গুণে।’ একথাটি পুরোপুরি আমি বিশ্বাস করতে পারি না। কারণ সংসার শুধু রমণীর গুণে সুখের হতে পারে না। যদি পুরুষের গুণ না থাকে। তাই আমি মনে করি সংসার সুখের হয় নারী-পুরুষ উভয়ের গুণে। তবে নারীদেরকে একটু বেশী গুণী হওয়া উচিত। তবেই সংসার সুখের হবে। এক সাথে সংসার করতে গেলে টুকটাক ঝগড়া ঝাটি হবেই। তবে এই ঝগড়াটিকে সংসারের ভিতরেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। আর কোন বিষয়ে মতনৈক্য দেখা দিলে দু’জনে মিলে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আর যৌন মিলনে পুরুষ যদি অক্ষম হয় তাহলে দুজনে পরামর্শ করে ভাল ডাক্তারে মাধ্যমে তা সারিয়ে তুলতে হবে। তাহলে সংসার সতিই সোনার সংসার হিসেবে রূপ নিবে।

১,২৫৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমির ইশতিয়াক ১৯৮০ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার ধরাভাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শরীফ হোসেন এবং মা আনোয়ারা বেগম এর বড় সন্তান তিনি। স্ত্রী ইয়াছমিন আমির। এক সন্তান আফরিন সুলতানা আনিকা। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন মায়ের কাছ থেকে। মা-ই তার প্রথম পাঠশালা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করেন মাদ্রাসা থেকে আর শেষ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। তিনি লেখালেখির প্রেরণা পেয়েছেন বই পড়ে। তিনি গল্প লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও সাহিত্যের সবগুলো শাখায় তাঁর বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। তাঁর বেশ কয়েকটি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো- এ জীবন শুধু তোমার জন্য ও প্রাণের প্রিয়তমা। তাছাড়া বেশ কিছু সম্মিলিত সংকলনেও তাঁর গল্প ছাপা হয়েছে। তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় গল্প, কবিতা, ছড়া ও কলাম লিখে যাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্লগে নিজের লেখা শেয়ার করছেন। তিনি লেখালেখি করে বেশ কয়েটি পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি প্রথমে আমির হোসেন নামে লিখতেন। বর্তমানে আমির ইশতিয়াক নামে লিখছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীতে ব্যবসা করছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা একজন সফল লেখক হওয়া।
সর্বমোট পোস্ট: ২৪১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৭০৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-০৫ ০৭:৪৪:৩৯ মিনিটে
Visit আমির ইশতিয়াক Website.
banner

৯ টি মন্তব্য

  1. মিলন বনিক মন্তব্যে বলেছেন:

    আমির ভাই…প্রবন্ধ টাইপ লেখাতে আরো বেশী করে তথ্য উপাত্থ এবং সামাজিক বৈষম্যগুলো সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেণ…ভালো হয়েছে….

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ মিলন ভাই।

  3. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    সামাজিক সমাস্যার উপর সুন্দর আলোচনা
    এবং শিক্ষনীয় বিষয় সহ যৌক্তিক ব্যাখ্যা,

    অনেক ভাল লাগা।

  4. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    বিবাহ বিচ্ছেদ এর কারন এবং রোধে কি করনীয় তা সুন্দরভাবে লিখেছেন আমির ভাই। দেখি আপনার পরামর্শ মত চলার চেষ্টা করি। ঠিক বলেছেন ওয়াইফকে সহনশীল হতে হবে একটু বেশী এটা আমাদের সমাজের চাহিদা।

    ধন্যবাদ যৌক্তিক ব্যাখ্যা সহ এর সমাধান বর্ননায়।

  5. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সুন্দর মতামত দেয়ার জন্য।

  6. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    বর্তমানের একটি প্রধান সমস্যার সুন্দর বিশ্লেষণ ।
    ভাল লাগল ।

  7. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ ভাই।

  8. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার ভাবনার সুন্দর প্রকাশ

    ভালো ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,ভালো

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top