Today 14 Aug 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

প্রাণের প্রিয়তমা(পর্ব-৭)

লিখেছেন: আমির ইশতিয়াক | তারিখ: ১৮/০৬/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1541বার পড়া হয়েছে।

(পূর্বে প্রকাশের পর)
ঈদুল আযহার আর মাত্র পাঁচ দিন বাকী। হারিছ সাহেবের মৃত্যুর পর রহিছ মিয়া কোন ঈদে কোনবানী দিতে পারেনি। এবার হারিছ মিয়া ভাবছে পালের লাল গরুটা বিক্রি করে কোরবানীতে শরীক হবে।
দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর রহিছ মিয়া ও আছিয়া বেগম তাদের শয়ন কক্ষে বসলেন। রহিছ মিয়া বালিশটা টেনে হেলান দিয়ে বসলেন। আছিয়া বেগম একটি পান মুখে দিয়ে বলল, কি ব্যাপার আজ তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়বেন নাকি?
রহিছ মিয়া বলল, নাহ্। তোমার সাথে কিছু কথা আছে। তার আগে আমাকে এক খিলি পান দাও।
আছিয়া বেগম সুপারি, জর্দা, খয়ার ও চুন দিয়ে পান বানিয়ে স্বামীর নিকট এসে বলল, নেন আপনার পান।
রহিছ মিয়া পানটি হাতে নিয়ে মুখে দিল।
আছিয়া বেগম এবার বলল, এবার বলেন, কি বলবেন?
রহিছ মিয়া আছিয়া বেগমকে সোহাগ ভরা কন্ঠে ডাক দিল। আছিয়া।
স্বামীর ডাকে প্রিয়তমা স্ত্রী একেবারে কাছে এসে বসলেন। আছিয়া বেগম কাছে আসতেই রহিছ মিয়া ওকে দু’হাতে ঝাপটে ধরে বললেন, ভাইয়া মারা যাবার পর এ পর্যন্ত কোনদিন কোরবানি দিতে পারিনি। প্রতিবছরই তো মাংসের জন্য বাবুল মানুষের বাড়িতে গিয়ে বসে থাকে। তাই এ বছর আমি কোরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন তুমি কি বল।
আছিয়া বেগম বললেন, কোরবানি দিবেন টাকা কোথায় পেলেন?
টাকা কোথায় পাইনি। ভাবছি লাল গরুটা বিক্রি করে কোরবানিতে শরীক হবো। আল্লাহর রহমতে আমাদের গরুতো এখন চারটা। সামনের বছরটা গেলেইতো বাছুরটা বড় হয়ে যাবে।
আমারও তো ইচ্ছে করে কোরবানি দিতে। কিন্তু আপনার সামর্থের কথা চিন্তা করে কিছুই বলতে পারিনা। বাবুল তো প্রতি বছরই কোরবানির ঈদ এলে কেঁদে বেড়ায়। এখন আমার কোন আপত্তি নেই। নিঃসন্দেহে আপনি গরু বিক্রি করতে পারেন।
স্ত্রীর সম্মতি পেয়ে রহিছ মিয়া খুশি হলেন। তাহলে আজ আর কোথাও যাচ্ছি না নিঃচিন্তে এখন ঘুমিয়ে পড়ি। এবার বাতিটা নিভিয়ে আস।
আছিয়া বেগম বাতি নিভিয়ে স্বামীকে নিয়ে শুয়ে পড়লেন। মুয়াজ্জিনের আযানের সুরে স্বামী স্ত্রীর দুজনের ঘুম ভাঙ্গল। রহিছ মিয়া যথারীতি মসজিদে নামায পড়তে গেলেন। চাঁন মিয়াও নামায পড়তে গেলেন।
চাঁন মিয়া এখন দিন দিন দুর্বল হয়ে যাচ্ছেন। মসজিদটা বাড়ির কাছে বলে সেখানে কোন মতে যেতে পারেন। স্ত্রী মারা যাবার পর থেকেই তিনি নার্ভাস হয়ে গেলেন। এখন ওনার বয়স ৯২ বছর চলছে। মনে হয় না যে আর বেশি দিন তিনি বাঁচবেন। নামায পড়ে এসে চাঁন মিয়া খাটে শুয়ে আছেন। রহিছ মিয়া তাঁর পাশে গিয়ে বসল। চাঁন মিয়া রহিছ মিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, কিছু বলবি বাবা?
রহিছ মিয়া বলল, হ্যাঁ বাবা।
বল্।
রহিছ মিয়া পিতার কাছে কোরবানির কথা বলতে চাইলেই চাঁন মিয়া বললেন, আমার কিছু বলার নেই। আমার সময় ফুরিয়ে আসছে। এখন তুই যা ভাল মনে করছ তাই কর।
আপনার কোন আপত্তি নেই তো?
না।
রহিছ মিয়া আর কোন কথা না বাড়িয়ে এখান থেকে চলে গেলেন। সকালে খাওয়ার পর বাবুল, আছিয়া বেগমও এক সাথে বসল। কোন প্রসঙ্গ ছাড়াই বাবুল বলে উঠল, আব্বা গরু বেইচ্ছা আমার জন্য কি আনবা?
রহিছ মিয়া বললেন, বল্ তোর জন্য কি আনব?
আমার জন্য একটা লাল গেঞ্জি ও কালা হাফপ্যান্ট আনবা। আর একটা কাগজের টুপি।
আর কিছু লাগবে না?
না।
তোর আম্মার জন্য কি আনব?
শাড়ী।
দাদার জন্য?
পাঞ্জাবী আর পায়জামা।
তারপর রহিছ মিয়া আর বাবুলকে কোন জিজ্ঞেস করল না। বাবুল তখন বলে উঠল, সাকিব ভায়ের জন্য কি আনবা আব্বা?
এবার রহিছ মিয়ার মুখে কোন জবাব নেই। ওর নামটা শুনলেই রহিছ মিয়ার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
আছিয়া বেগম বললেন, বাবুল চুপ কর।
বাবুল রাগে বলল, ক্যান চুপ করব? ভায়ের নাম কইলেই তোমরা এমন হয়ে যাও ক্যান? কি করছে ভাইয়া? ক্যান তোমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছে?
আছিয়া বেগম বললেন, তোর জেনে কোন লাভ নেই।
তারা বাবুলের কোন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেনা। তাই বাবুল রাগ করে এখান থেকে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর আছিয়া বেগম এসে বাবুলকে বললেন, আয়, রাগ করিস না। তোর ভাই আমাকে ছেড়ে চলে গিয়ে যে কষ্ট দিচ্ছে তাতো সহ্য করতে পারছিনা। তাই রাগ করে আবার আমাকে কষ্ট দিস্ না। আস্ বাবা মায়ের সাথে রাগ করতে নেই।
মায়ের এ সমস্ত কথায় বাবুলের চোখে পানি এসে গেল। পরে বাবুল মা বলে আছিয়া বেগমকে ঝাপটে ধরল। আছিয়া বেগম তখন ওকে আদর করে বুকে টেনে নিল।
আজ শুক্রবার। পাশের বাড়ীর কয়েকজন মুরুব্বি এসে রহিছ মিয়াকে বলল, কিরে রহিছ, তোর লাল গরুটা নাকি বিক্রি করবি।
রহিছ বললেন, হ চাচা। ভাবছি এটা বিক্রি করে শরীক হব।
মুরুব্বীদের মধ্যে একজন বললেন, তা ভাল কথা আমরা ছয়জন আছি। একজন লোক খুঁজছি। তুই যদি হস তাহলে তো আমাদের সাথে হতে পারস। তোর গরুটা দাম দর করে কোরবানি দিয়ে দেই। বাজারে কষ্ট করে গিয়ে কী লাভ?
আপনারা মুরুব্বী মানুষ। আপনারা যা ভাল মনে করেন তাই করেন।
অন্য একজন মুরুব্বী বললেন, তো কত দিতে হবে দাম?
আমি কি কমু চাচা। কতর মাল আছে তা আন্দাজ করে দিয়ে দেন।
অন্য একজন বললেন, চৌদ্দ হাজার টাকা দিব। তোর কোন আপত্তি আছে?
না চাচা আপনাদের উপর কি কিছু কইতে পারি।
আর শোন তোর দুইহাজার টাকা বাদে বাকী বারো হাজার টাকা আগামী কাল দিব।
ঠিক আছে?
আচ্ছা চাচা।
আছিয়া বেগম মুড়ি, চানাচুর নিয়ে আসলেন। নেন মুড়ি, চানাচুর খান।
একজন মুরুব্বী বললেন, আরে বৌমা তা আবার আনলে কেন?
রহিছ মিয়া বলল, গরিবের বাড়িতে আসছেন আর কি দিব। এতে সামান্য কিছু দিলাম।
আরে এত গলা শুকাচ্ছিস ক্যান?
চানাচুর, মুড়ি খাওয়ার পর লোকমান সাহেব বলল, এখন যাইরে রহিছ। কাল সকালেই তোর টাকাটা দিয়ে দিব।
তাই করবেন চাচা। কাল শনিবার তো বাজার সদাই করতে হবে।
ঠিক আছে। এই বলেই লোকমান ও তাঁর সাথের লোকজন চলে গেল।
রাত আনুমানিক একটা বাজে। সবাই ঘুমিয়ে আছে। এ মুহূর্তে গ্রামবাসী সবাই যার যার ঘরে গভীর ঘুমে অচেতন। রহিছ মিয়া স্বপ্ন দেখছে এবারের ঈদটা একটু আনন্দে কাটাবে। আল্লাহ যার ভাগ্যে আনন্দ দেয় না সে কি করে আনন্দ করতে পারবে? বাবুল স্বপ্ন দেখছে লাল জামা পড়ে ঈদ করবে। তার স্বপ্ন হয়তো আর পূরণ হবে না। কারণ এইতো গোয়াল ঘরে কয়েকজন চোর ঢুকল। কোন সারা শব্দ নেই। একটি চোর টর্চ লাইট দিয়ে গরুটি দেখে নিল। আর একজন একটা গামছা দিয়ে গরুটির মুখ বেঁধে ফেলল। যাতে গরুটি কোন শব্দ করতে না পারে। অন্য একজন গরুর রশিটি খুলে গরুটিকে বের করে নিল। চোরগুলোর দূরের নয়। তারই প্রতিবেশী। রহিছের সাথে পূর্ব শত্রুতার লেশ ধরে আজকের এমন একটা সময় এ কাজটি করল। হায়রে নিষ্ঠুর নিয়তি!
ফযরের আযান দিতেই আছিয়া বেগমের ঘুম ভাঙ্গল। নামায পড়ে তিনি গোয়াল ঘরে গেলেন। গোবর ফালানের জন্যে। গোয়াল ঘরে ঢুকতেই দেখে লালু নেই। হয় আল্লাহ! একি করলা তুমি? বলেই আছিয়া বেগম চীৎকার দিয়ে উঠলেন। রহিছ স্ত্রীর চীৎকার শুনে দ্রুত আসলেন। লালুকে না দেখে স্তদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু বলতে পারছে না। স্ত্রী কাঁদছেন। হে খোদা কি অপরাধ করেছিল আমার স্বামী? কি অপরাধ করেছিল আমার নিষ্পাপ সন্তান। যার জন্যে তুমি আমাদের প্রতি এমন অবিচার করছ?
বাবুল তখন ও ঘুমাচ্ছিল। মায়ের চীৎকার শুনে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল। তাড়াতাড়ি মায়ের কাছে আসল। মাগো আপনী কাঁদছে ক্যান।
বাবারে তোর লালুরে চোরে নিয়া গেছে।
কি কও আম্মা!
বাবুল ঘোয়াল ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখে সত্যি লালু নেই। তারপর জোরে জোরে কাঁদতে লাগল। তাইলে আম্মা আমার আর লাল জামা কিনা হইব না।
আছিয়া ও বাবুলের কান্নায় বাড়ীর আশে পাশের লোকজন এসে ভিড় জমালো। সবাই গরুটার জন্যে আফসোস করতে লাগল।
বাবুল চান মিয়ার কাছে গিয়ে কেঁদে কেঁদে বলে, দাদা আমি আর নতুন জামা পড়ে ঈদে যেতে পারব না।
চান মিয়া নাতীর দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন কিছু বলতে পারেন না। নাতীর কান্না দেখে বৃদ্ধ দাদার চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা জল খসে পড়ল।
রহিছ মিয়ার কত স্বপ্ন ছিল গরু বিক্রির টাকা দিয়ে নতুন জামা আনবে। কোরবানীতে শরীক হবে। আনন্দে ঈদ করবে কিন্তু তার সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে আজ চুরমার হয়ে গেল। যারা গরুর দাম ঠিক করছিল তারাও আসলেন। রহিছ মিয়াকে শুধু সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারলেন না তারা। আজ সারাদিন রহিছ মিয়া মনমরা হয়ে বসে আছেন। কারো সাথে কোন কথা বলেননি। কত লোকজন বাজারে গিয়ে ঈদের কেনাকাটা করল। কোরবানীর গরু কিনল। কিন্তু রহিছ মিয়া কিছুই কিনতে পারল না। পাশের বাড়ীর বিশিষ্ট শিল্পপতি এম.এ.হালিম সাহেব ষাট হাজার টাকা দিয়ে মোটা তাজা দেখে একটি গরু কিনে আনলেন। বাড়ীর যুবক-যবতী, শিশু কিশোর সবাই গরু দেখতে গেল। বাবুলও তাদের দেখাদেখি গরু দেখতে গেল।
আজ ঈদ। বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে আনন্দের বার্তা বইছে। সবাই আজ ঈদের আনন্দে মাতোয়ারা। কিন্তু রহিছ মিয়ার পরিবারে নেই কোন আনন্দ। নেই কোন ঈদ। এদিকে চান মিয়ার অবস্থা খুবই খারাপ। তিনি এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। আছিয়া বেগম ও বাবুল তাঁর পাশে বসে চোখের পানি ফেলছেন। যে শ্বশুর কোনদিন আছিয়াকে কোন কটু কথা বলেননি। সারাক্ষণ তাকে শধু বউমা বলেই ডেকেছেন, সে শ্বশুর আজ মৃত্য পথের যাত্রী। তা আছিয়া বেগম ভাবতেই চোখের জল এসে যায়। সকাল ৭টায় চাঁন মিয়া এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরদিনের জন্য পরদেশে চলে গেলেন। যিনি আর এই অশান্তিময় কোলাহল মুখরিত পৃথিবীতে আসবেন না। চাঁন মিয়ার মৃত্যুতে কান্নার রুল পড়ে গেল। এমন একটা ঈদের দিনে, খুশির দিনে চাঁন মিয়ার মৃত্যু হল। বাবুল দাদা…দাদা বলে চীৎকার করছে। এ চীৎকার প্রকৃতির সাথে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। পিতার মৃত্যুতে রহিছ মিয়া একেবারে বোবা হয়ে গেছেন। কথায় আছে- ’অভাগা যেদিকে চায় সাগর শুকায়ে যায়।’ বাড়ীর আশে পাশে শোকের ছায়া পড়ে গেল। ইমাম সাহেব এসে বললেন, ঈদের নামাযের পর ঈদগাহের মাঠে জানাযার নামায সম্পূর্ণ করবেন। তাই তাড়াতাড়ি গোসল করানোর জন্য বললেন। ঈদের দিন বিধায় দূরের আত্নীয় স্বজনরা কেউ আসতে পারে নি। নয়টায় ঈদের জামাত হবে। মাত্র দুই ঘন্টা ব্যবধানে তাকে দাফন করানোর জন্য ঈদগাহের দিকে রওয়ানা হল। ঈদের নামাযের পর জানাযা অনুষ্ঠিত হল। হাজার হাজার গ্রামবাসী জানাযায় অংশ গ্রহণ করল। কিন্তু হতভাগ্য সাকিবের ভাগ্যে জুটেনি তার দাদার জানাযার নামায পড়ার। পারেনি তার দাদার কবরে এক মুঠো মাটি দিতে। বাবুল কালো একটা হাফপ্যান্ট ও শার্ট পড়ে ঈদগাহে আসে। হাফ প্যান্টের ছেইনটা ছেঁড়া ছিল। নামায শেষে চাঁন মিয়াকে কবর দিয়ে রহিছ মিয়া বাবুলকে নিয়ে বাড়ী ফিরলেন।
সবাইতো আজ ঈদের আনন্দে ব্যস্ত। দু’একজন হয়তো তাদের শোকে শোকাহত। হতভাগা রহিছ মিয়ার জীবনে এমন করুণ পরিণতি আসবে তা সে ভাবতেও পারেনা। জীবনের প্রতিটি পদে পদে তাকে আল্লাহ কষ্টে ফেলেছেন। তিনি যখন জন্ম গ্রহণ করেন তখন তার বাবা চাকুরী হারান। তখন থেকে তাদের সংসারে অভাব দেখা দেয়। যখন লেখাপড়া করে ভাল একটি চাকুরী করার স্বপ্ন দেখছিল, তখন তিনি ভাই হারিছ মিয়াকে হারান। তারপর আসে তার জীবনে করুণ পরিণতি। জীবনের মোড় ঘুড়িয়ে ভাবীকে বিয়ে করে সংসারি হতে হয়েছে তাকে। ভাবছিল ভাতিজা বুঝি বড় হয়ে সুখ দিবে কিন্তু সেই ভাতিজাও অভিমানে তাকে ছেড়ে চলে গেল। অভাবের তাড়নায় নিজের ছেলেকেও লেখাপড়া করাতে পারেন নি। আজ এমন খুশীর দিনেও খোদা তার সুখ সইল না। গরু চুরি হল। বাবা মারা গেল। একি খোদার ইনসাফ! কেন এত বড় শাস্তি দিলেন তাকে? কেউ কি দিতে পারবে তার উত্তর? আসলে বিপদ যখন আসে তখন চতুর দিক দিয়ে আসে। আজ যেন রহিছ মিয়ার সেই অবস্থাই হল।
আছিয়া বেগমের চোখ বেয়ে জল পড়ছে আর মনে মনে বলছে, হায়রে পোড়া কপাইল্লা ছেলে, তুই তোর দাদাকে শেষ দেখাটাও দেখতে পারলি না। যেই দাদা তোকে নিয়ে বেশি চিন্তা করত, সেই দাদার কথা একবারও মনে পড়ল না। তোর কি একবারও মনে পড়ে হতভাগিনি মায়ের কথা। তোকে তো আমি দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করেছিলাম। আড়াই বছর দুধ পান করাইছিলাম। শীতের দিনে কষ্ট করে আগলে রেখেছিলাম। আজ কি সবই ভুলে গেলি?
ভাবতে পারে না আর আছিয়া বেগম। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বাঁধভাঙ্গা নদীর জলের মত অশ্রু তার চোখ বেয়ে পড়ছে। বার বার আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছে নেন।
ইতোমধ্যে গ্রামবাসীরা সবাই যার যার পশু কোরবানী করে নিল। অন্যান্য ঈদের মত বাবুল এবার আর অন্যদের গরু জবেহ করা দেখতে যায় না। কারণ আজ যে সে দাদার মৃত্যু শোকে শোকাহত। দুপুর গড়িয়ে বিকেল এল। সবার ঘরে ঘরে মাংস রান্না হচ্ছে। মাংসের গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। আছিয়া বেগম রান্না ঘরে বাঁশের খুটি ধরে দাঁড়িয়ে আছেন।
বাবুল এসে বললো, আম্মা আমরা কি গোস্ত খেতে পারবো না?
আছিয়া বেগম নিরুত্তর।
বাবুল আবার রহিছ মিয়াকে বলল, আব্বা আপনি হালিম সাবের বাড়ী থেকে গোস্ত নিয়ে আসেন।
হারিছ মিয়া বললেন, বাবারে একথা বলে আমারে আর কাঁদাসনে। আমাদের ভাগ্যে আজ গোস্ত জুটবে না।
চলবে…

প্রাণের প্রিয়তমা(পর্ব-১)পড়ুন।
প্রাণের প্রিয়তমা(পর্ব-২)পড়ুন।
প্রাণের প্রিয়তমা(পর্ব-৩)পড়ুন।
প্রাণের প্রিয়তমা(পর্ব-৪)পড়ুন।
প্রাণের প্রিয়তমা(পর্ব-৫)পড়ুন।
প্রাণের প্রিয়তমা(পর্ব-৬)পড়ুন।

১,৭২০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমির ইশতিয়াক ১৯৮০ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার ধরাভাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শরীফ হোসেন এবং মা আনোয়ারা বেগম এর বড় সন্তান তিনি। স্ত্রী ইয়াছমিন আমির। এক সন্তান আফরিন সুলতানা আনিকা। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন মায়ের কাছ থেকে। মা-ই তার প্রথম পাঠশালা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করেন মাদ্রাসা থেকে আর শেষ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। তিনি লেখালেখির প্রেরণা পেয়েছেন বই পড়ে। তিনি গল্প লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও সাহিত্যের সবগুলো শাখায় তাঁর বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। তাঁর বেশ কয়েকটি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো- এ জীবন শুধু তোমার জন্য ও প্রাণের প্রিয়তমা। তাছাড়া বেশ কিছু সম্মিলিত সংকলনেও তাঁর গল্প ছাপা হয়েছে। তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় গল্প, কবিতা, ছড়া ও কলাম লিখে যাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্লগে নিজের লেখা শেয়ার করছেন। তিনি লেখালেখি করে বেশ কয়েটি পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি প্রথমে আমির হোসেন নামে লিখতেন। বর্তমানে আমির ইশতিয়াক নামে লিখছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীতে ব্যবসা করছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা একজন সফল লেখক হওয়া।
সর্বমোট পোস্ট: ২৪১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৭০৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-০৫ ০৭:৪৪:৩৯ মিনিটে
Visit আমির ইশতিয়াক Website.
banner

১৬ টি মন্তব্য

  1. মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক খান মন্তব্যে বলেছেন:

    আমির ভাই
    ধন্যবাদ এই পর্বের জন্য। আজ রাতেই পড়ব। আপনার লেখাতে আমি প্রথম মন্তব্য করতে চাই, তাই লিখলাম। আমাকে ক্ষমা করবেন।

  2. আজিম হোসেন আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    চলুক…..

  3. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    ৭ম পর্বটি আগের গুলোর চেয়েও ভাল লাগল।

  4. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভালো লাগল আপনার এই গল্পটি ।

  5. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    পর্ব কি এখানে শেষ নাকি আরো আছে।

  6. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    বাহ্ চমত্‍কার লিখেছেন !
    অসংখ্য ভাল লাগা জানালাম । এগিয়ে যান ।
    ভাল থাকবেন প্রত্যাশা রইল ।

  7. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার কথা বললেন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top