Today 28 Sep 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ফাঁদ

লিখেছেন: আমির ইশতিয়াক | তারিখ: ১২/০৮/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1086বার পড়া হয়েছে।

আজ অফিস থেকে বের হতে শাহিনের অনেক দেরি হয়ে গেছে। সারাদিন তার উপর ধকল গেছে। তাছাড়া বাসার বাজার সদাই করতেও অনেক সময় ব্যয় হয়ে গেল। রাত আনুমানিক দশটা বাজে। মতিঝিল শাপলা চত্বরের পাশে রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে আছে শাহিন। কিছুক্ষণ পর একটি খালি রিক্সা আসল।
– এই যাবেন ভাই?
– কোথায় যাবেন?
– শাহবাগ।
– যাব। উঠেন।
শাহিন রিক্সায় উঠতেই অচেনা এক বোরকা পড়া মেয়ে এসে বলল, ভাই আমি বড় বিপদে আছি। ছিনতাইকারী আমার সব কিছু নিয়ে গেছে। আমার কাছে কোন ভাড়া নেই। আমিও শাহবাগ যাব। আপনার সঙ্গে আমাকে নিলে খুব উপকার হতো।
শাহিন বলল, শাহবাগ কোথায় আপনার বাসা?
– শিশু পার্কের পাশেই।
– আমি ভাড়া দিয়ে দিই আপনি চলে যান।
– না আমি একা যেতে পারব না।
– তাহলে আমি কি করব?
– আমাকে আপনার সাথে নিবেন।
– আমি কেন আপনাকে নিব? তাছাড়া আমিতো আপনাকে চিনি না। জানি না।
– ভাই বিপদে পড়েছি। আমি মেয়ে মানুষ একা যেতে পারব না। ভয় করছে। এই উপকারটুকু করেন।
– না আমি নিতে পারব না। আপনি আসতে পারেন।
মেয়েটি এবার শাহিনের হাত ধরে বলল, প্লিজ ভাই। আপনারতো বাড়ীতে মা বোন আছে। তারা বিপদে পড়লে কি এভাবে রেখে যেতেন?
শাহিন পড়ল মহাবিপদে। কি করবে এখন? শাহিন মেয়েটির কথায় চিন্তায় পড়ে গেল। তাইতো একটি অসহায় মেয়ে বিপদে পড়ে আমার সাথে যেতে চাচ্ছে। আমি নিয়ে গেলে অসুবিধা কোথায়? এত রাতে একজন অসহায় মেয়ের আকুতি শুনে শাহিনের মায়া লেগে গেল। প্রথমে শাহিন মেয়েটিকে না করলেও পরে তাকে বলল, ওঠেন।
দুজন একসাথে রিক্সায় উঠল। দুজনেই রিক্সায় উঠে খোশগল্পে মেতে উঠল। রিক্সা যখন শিশু পার্কের কাছাকাছি আসল তখনই মুখোশধারী মেয়েটি শাহিনের গলায় ছুরি ধরে বলল, যা কিছু আছে দিয়ে দিন।
শাহিন হঠাৎ মহিলার পরিবর্তন লক্ষ করে ভয় পেয়ে গেল। তারপরও বুকে সাহস নিয়ে বলল, কি ব্যাপার আপনি এমন করছেন কেন? আপনি কে?
– পরিচয় জানার দরকার নেই।
– জলদি দিয়ে দিন।
– যদি না দিই।
– তাহলে আমি চিৎকার করে বলব, আপনি আমার ইজ্জত নিয়েছেন। আর তখন বুঝবেন পাবলিকের মাইর কারে কয়। পাবলিক সবসময় মেয়েদের পক্ষে থাকে।
শাহিন ভাবতে লাগল। তাতো ঠিকই। এখন কি করা যায়। সেতো আমাকে বিরাট ফাঁদে ফেলে দিল। কিভাবে নিজেকে সেভ করে তার কাছ থেকে বাঁচা যায় সেই চিন্তা করতে লাগল।
– কি হলো দেরি করা যাবে না। চিৎকার করলেও কোন কাজ হবে না। উল্টো গণপিটুনি আপনিই খাবেন। এত রাতে অপরিচিত মহিলার সঙ্গে রিক্সায় উঠেন আবার পাবলিক ডাকবেন। তা হবে না।
শাহিন নিরুপায় হয়ে তার সব কিছু ছিনতাইকারী মেয়েটির হাতে দিয়ে দিল। মেয়েটি সবকিছু নিয়ে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করল।
শাহিন তখন রিক্সা থেকে নেমে আশে পাশের সবাইকে বলতে লাগল, এই যে ভাই, ঐ মেয়েকে ধরেন। ও ছিনতাইকারী। ও আমার সব কিছু নিয়ে চলে যাচ্ছে। তার কথায় আশে পাশের লোকজন দৌঁড়াতে লাগল ঐ বোরকা পড়া মেয়ের পিছনে। মেয়েটিও সর্বশক্তি দিয়ে দৌঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু পুরুষের কাছে মেয়েটি দৌঁড়াতে না পেরে ধরা পড়ল।
অনেকেই তাকে মারার জন্য হাত তুলল। একজন লোক বলতে লাগল, ভাই মেয়ে মানুষ। গায়ে হাত দিবেন না। উল্টো আপনারা ফেসে যাবেন। আগে কি হয়েছে সেটা জানার চেষ্টা করুন।
আরেকজন বলল, হ ভাই ঠিকই কইছেন।
অন্যজন শাহিনকে দেখিয়ে মহিলাকে জিজ্ঞেস করল, ওনাকে আপনি কি করেছেন?
মেয়েটি ভয়ে থতমত খেয়ে বলতে লাগল, আমি ওনাকে কিছু করেনি।
শাহিন বলল, ভাই ওনি আমার মোবাইল, টাকা সবকিছু নিয়ে গেছে।
আরেকজন বলল, সত্যি কথা বলুন। তা না হলে পুলিশের কাছে দিয়ে দিব।
তখন মেয়েটি নমনীয় হয়ে বলল, প্লিজ আমাকে পুলিশে দিবেন না। আমি সব সত্যি কথা বলে দিব। আমি ওনাকে মিথ্যা কথা বলে আমার সাথে রিক্সায় করে নিয়ে আসছি। তারপর ওনার সব কিছু ছিনতাই করছি। তার জিনিস তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি বলেই সবকিছু শাহীনকে দিয়ে দিল।
শাহিন তার সবকিছু বুঝে পেয়ে ফিরে গেল। আর ছিনতাইকারী মেয়েটিও জানে বেঁচে গেল।
রচনাকাল: ০৯/০৮/২০১৫ খ্রি:

১,০৮৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমির ইশতিয়াক ১৯৮০ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার ধরাভাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শরীফ হোসেন এবং মা আনোয়ারা বেগম এর বড় সন্তান তিনি। স্ত্রী ইয়াছমিন আমির। এক সন্তান আফরিন সুলতানা আনিকা। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন মায়ের কাছ থেকে। মা-ই তার প্রথম পাঠশালা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করেন মাদ্রাসা থেকে আর শেষ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। তিনি লেখালেখির প্রেরণা পেয়েছেন বই পড়ে। তিনি গল্প লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও সাহিত্যের সবগুলো শাখায় তাঁর বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। তাঁর বেশ কয়েকটি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো- এ জীবন শুধু তোমার জন্য ও প্রাণের প্রিয়তমা। তাছাড়া বেশ কিছু সম্মিলিত সংকলনেও তাঁর গল্প ছাপা হয়েছে। তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় গল্প, কবিতা, ছড়া ও কলাম লিখে যাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্লগে নিজের লেখা শেয়ার করছেন। তিনি লেখালেখি করে বেশ কয়েটি পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি প্রথমে আমির হোসেন নামে লিখতেন। বর্তমানে আমির ইশতিয়াক নামে লিখছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীতে ব্যবসা করছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা একজন সফল লেখক হওয়া।
সর্বমোট পোস্ট: ২৪১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৭০৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-০৫ ০৭:৪৪:৩৯ মিনিটে
Visit আমির ইশতিয়াক Website.
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    nice

    ভালো লাগলো পড়ে
    শুভ কামনা

  2. দ্বীপ সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লিখেছেন ইশতিয়াক ভাই।

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে ঢাকায়

    সুন্দর লিখছেন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top