Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বেদে পাড়ার কথা,দুঃখ যাদের নিত্য সঙ্গী

লিখেছেন: মুহাম্মদ দিদারুল আলম | তারিখ: ২০/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1220বার পড়া হয়েছে।

পূর্বপুরুষেরা ছিলেন যাযাবর। তারা জীবিকার সন্ধানে একস্থান থেকে অন্যস্থানে ঘুরে বেড়াতেন। আর এদের ছোট ছোট জনগোষ্ঠীকে বলা হতো ‘বেদুঈন’। সভ্যতার ক্রমবিকাশে তারা আজ অতীত। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার এ সময়ও কিছু কিছু মানুষ যাযাবরি জীবন কাটাচ্ছে। আমাদের দেশে তারা বেদে সম্প্রদায় বলে পরিচিত।
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে রয়েছে একটি বেদে পাড়া, যারা পূর্বপুরুষদের ঘানি টানতে টানতে ক্লান্ত। সমাজের অবহেলায় তারা পুনর্বাসনের জন্য সুযোগ পাচ্ছে না।১২০ থেকে ১৩০ বছর আগে মুন্সিগঞ্জ এবং যশোর জেলা থেকে আসা চার পাঁচটি সাপুড়ে ও মালবৈদ্য সম্প্রদায়ের পরিবার মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ সোনাপাহাড় গ্রামের অনাবাদি এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় বসতি গড়েন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অনাবাদি জমিকে আবাদযোগ্য করে তোলেন তারা।
ধীরে ধীরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন এখানে স্থায়ী আবাস গড়ে তোলে। বর্তমানে বেদে পাড়ায় পরিবার রয়েছে ২৬০ টি। লোকজন প্রায় তিন হাজার।
বেদে পাড়ার সর্দার জাফর আহাম্মদ জানান,মাত্র দু’একর জায়গায় একসঙ্গে বাস করছে তিন হাজার লোকজন।শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানিসহ হাজারো সঙ্কটে তারা দিন যাপন করছে।
৮০ বছরের এক বৃদ্ধ বললেন,“আমি যখন এখানে এসেছি তখন আমার বয়স ছিল সাত বছর।দেশে কত কিছু হলো কিন্তু আমাদের সমস্যা সমাধানে কোনোদিন কেউ এগিয়ে আসেনি।”
জোরারগঞ্জ বেদে পাড়ার বাসিন্দারা বানরী, মালবৈদ্য, ও সাপুড়ে এ তিন সম্প্রদায়ে বিভক্ত। বানরীদের কাজ হচ্ছে বানর ধরা,বানরের খেলা দেখানো। মালবৈদ্যরা সাপে কাটা মানুষদের চিকিৎসা করেন, সিঙ্গা লাগান এবং ঝাড় ফুঁক করেন। সাপুড়েরা সাপ ধরে ও খেলা দেখায়।
বেদে পাড়ার সর্দার জাফর আহাম্মদ আরো জানান, একসময় সকলে পূর্বপুরুষদের পেশায় নিয়োজিত থাকলেও বর্তমানে অর্ধেকের বেশি পেশা পরিবর্তন করেছে। এ পেশায় আগে যা রোজগার হতো তা কমে গেছে। তাই পৈতৃক পেশা ছেড়ে কেউ মাঠে বদলা হিসেবে কাজ করছে আবার কেউ রিকসা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষদের কটুক্তি আর ঘৃণার কারণে অন্যরাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
জানা যায়,ঝাড়-ফুঁক ও সিঙ্গা লাগানোর কাজে মহিলারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। যার চাহিদা বর্তমানে কমে গেছে। তাদের আয় সম্পর্কে জানা যায়, বানর গণনা করে দিনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা আর মহিলারা সিঙ্গা লাগিয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা আয় করে।এ রোজগারে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকতে তাদের হিমশিম খেতে হয়।
বেদে পাড়ার বাসিন্দা মানিক মিয়া(৭০)তাদের পেশার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন,“আমরা বর্তামানে চাই আমাদের সন্তানেরা স্কুল কলেজে লেখাপড়া করুক, কারণ আজকের যুগে এই পেশাকে সবাই তুচ্ছ করে।
দশ বছর ধরে এখানকার ছেলে মেয়েরা পড়ালেখা করছে। কিন্তু এসএসসি ও এইচএসসি পাস করার পর তারা যখন চাকরি পায় না তখন অন্যরাও পড়ালেখার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।”
নান্টু নামের এক ছেলে জানায়,পড়ালেখা করে কি হবে পড়ালেখা করলে চাকরিও জুটে না আবার পূর্বপুরুষদের পেশায়ও যাওয়া যায় না।
কোনো সরকারি বেসরকারি সহযোগিতা না পেলেও সামাজিকভাবে তারা খুবই সংগঠিত। নিজেদের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে তারা নিজেরাই সমাধান করেন। তারা দু’টি সমিতি করেছে যার মাধ্যমে তারা সঞ্চয় করে সংগঠিত হচ্ছে।
বেদে পাড়ার সর্দার জানান, বিভিন্ন এনজিও সংস্থা দরিদ্র এলাকায় কাজ করলেও বেদে পাড়ায় কোনো এনজিও সহায়তা করছে না। তিনি স্যানিটেশন, শিক্ষা, এবং জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে জানান।
স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মকছুদ আহমদ জানান, বেদে পাড়ার লোকজন ভিন্ন সম্প্রদায়ের বলে এদের আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। এদেও প্রতি যেন বৈষম্যমূলক আচরণ করা না হয়।

bade-polli-

১,২৮১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৮ ১১:৫৮:৪৮ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. খাদিজাতুল কোবরা লুবনা মন্তব্যে বলেছেন:

    সত্যিই একটা ভালো লেখা লিখেছেন লেখক। এরকম একটা লেখা উপহার দেয়ার জন্য ধন্যবাদ লেখকে।

  2. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর ছবি সম্বলিত বেদে দের আর্থিক সামজিক অবস্থা নিয়ে বেশ মানবিক একটা লিখা লিখেছেন।ধন্যবাদ দিদারুল ভাই ।অনেক ভাল লিখা।

  3. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর ভাবে তুলে ধরলেন
    বেদে সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দিক গুলো
    অনেক অনেক ভাল লাগা।

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল একটা পোস্ট।

  5. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    বেদে সম্প্রদায়ের প্রতি আমিও সহমর্মিতা পোষণ করছি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top