Today 25 Sep 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

বোম্বে মিঠাই—হারিয়ে যাওয়া এক রূপকথা

লিখেছেন: গোলাম মাওলা আকাশ | তারিখ: ০৫/০৫/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1412বার পড়া হয়েছে।

বোম্বে মিঠাই—হারিয়ে যাওয়া এক রূপকথা
দ্দ

আর দশটা ছেলের মত আমার শৈশব কেটেছে গ্রামের প্রকৃতির নিবিড় সংস্পর্শে। দুরন্ত সেই সব স্মৃতি মনে হলে এখনো মন আনন্দে ভরে উঠে। সেই গ্রামের একটা আনন্দের মধুর স্মৃতি মিঠাইওয়ালা। আহ চাতক পাখির মত অপেক্ষা করতাম কখন শুনবো টুং টুং ঘণ্টাড় আওয়াজ । আর আসলেই মাকে পটিয়ে টাকা/চাল দিয়ে কিনে নিতাম প্রিয় মিঠাই।অন্যের টা জানিনা আমার শৈশবের দূরন্ত জীবনে এই মিঠাইওয়ালা বড় একটা জায়গা দখল করে আছে। হাওয়ায় মিঠায় এর পাশাপাশি এই মিঠায় ওয়ালা আমার কাছে খুব প্রিয় ছিল।আমরা একে বলতাম “বোম্বে মিঠাইওয়ালা”। কালের পরিক্রমায় এই পেশাত মানুষ গুলি প্রায় হারিয়ে গেছে। তবুও কেও কেও অতি কষ্টে টিকিয়ে রেখেছে তাদের এই পেশা।কারণ হঠাত হঠাত দেখা মেলে এই পেশার মানুষ গুলির।
এই মিঠাইওয়ালারা ছিল শিল্পিমনা। তারা এই মিঠায় দিয়ে আমাদের পছন্দ মত ফুল,পাখি, দোয়েল, গোলাপ, শাপলা, ফণা তোলা সাপ, হাতপাখা, হুঁকা, মালার বা নানান নকশা **– ইত্যাদির আদলে মিঠাই তৈরি করে দিত মিঠাইওয়ালা । এই মিঠাই নানা রঙের চিনির সরু নলা দিয়ে বানানো হত বলে দেখতেও ভীষণ ভাল লাগত। মিঠাই তৈরিতে সময় লাগে আধা মিনিট থেকে ১ মিনিট। বোম্বে মিঠাই নামের এসব চোখ জুড়ানো শিল্পকর্ম খেতে ভারি মজা।আর আমরা এই মিঠাই নকশা/পাতা/সাপ খুব মজা করে চুষে খেতাম। আর অনেক্ষন চুষে খাওয়া যেত বলে সবার কাছে ছিল প্রিয়।আর দামেও ছিল সস্তা।
আজ(০৫-০৫-১৫) ঢাকা শহরে দেখা পেলাম এই পেশার একজনের। আর দেরি সয়। বানিয়ে নিলাম আমার প্রিয় পাখি মিঠাই।

দ্দ

>>কিভাবে বানাতে হয়ঃ
এই জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ গুলি হল—চিনি, খাবার রং, পানি।
এবার পাতিলে চিনি ও পানি আগুনে উত্তপ্ত করে চিনির রস কে রুটির ময়দার মত করে ঘন করে নিতে হয়। এবার সেই চিনির গলিত ঘন রসে লাল, গোলাপি— বিভিন্ন রং আলাদা আলাদা করে মিশিয়ে আলাদা রঙের চিনির লেই তৈরি করা হয়। সেই লেইকে আলাদা আলাদা সাপের ন্যায় লম্বা করে বাঁশের মাথায় পেচিয়ে নেওয়া হয় বিক্রির জন্য।

>>বাঁশ প্রস্তুতঃ
৫-৬ ফুট লম্বা মোটা বাঁশের মাথা ভাল করে ছেঁচে নিয়ে ভাল ভাবে ধুয়ে নিতে হবে। শুকিয়ে গেলে মাথায় আলতো করে তেল দিয়ে মালিশ করে পিচ্ছিল করে নিতে হবে। এবার নানা রঙের চিনির লেই তাতে পেচিয়ে নেবার উপযুক্ত হয়। তবে অনেকের কাছে এই বাঁশের আকার বিচিত্র রকমের হতে দেখা যায়।

>>দরদামঃ

২০ টাকায় গোলাপ ফুল, ৫ টাকায় হাতপাখা, ১০ টাকায় দোয়েল পাখি, ৫ টাকায় ফণা তোলা সাপ, ৫ টাকায় গলার হারের মিঠাই বিক্রি হয়’।
সব তৈরি হলে পলিব্যাগ দিয়ে মুড়ে তাকে আবার রঙিন কাপড় দ্বারা ঢেকে নেওয়া হয়। এর পর হাটে ঘণ্টা বাজিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো আর বিক্রয়।

সদ্দ

দ্দদ

দ্দদ

১,৩৮৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি খুব সাধারণ।
সর্বমোট পোস্ট: ১৩৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৯৭৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৮-২২ ১৬:৩০:৪৭ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. মাজেদ হোসেইন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ দুরন্ত সেই সব স্মৃতি গুলি দুলে ধরার জন্য। বোম্বে মিঠাই,বায়স্কোপ এখনো আমার শৈশবের প্রিয় দুটি জিনিস।

  2. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ সুন্দর বিষয় তুলে ধরেছেন তো!
    ভাল লাগল। শুভেচ্ছা জানবেন।

  3. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল বিষয়
    ভাল লাগল

  4. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    বিষয়টা আমার কাছে বেশ ভালো লাগলো
    সুন্দর লিখনী

  5. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুণ শেখার মতো বিষয় ! আশা করছি নিজেই তৈরি করতে পারবো !
    ধন্যবাদ আপনাকে । নতুন কিছু শেখালেন যে ! :)

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top